খবর আর্কাইভ

ভাইরাসের আক্রমনে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে আখ!

ভাইরাসের আক্রমনে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে আখ!

মু. আবিদ মল্লিক জয়: চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টাঙ্গাইল জেলায় আখের আশাব্যঞ্জক ফলন হয়েছিল। তবে ফসল পরিপক্ক হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ ভাইরাসজনিত রোগের আক্রমণে পাল্টে গেছে চিত্র। অজ্ঞাত ভাইরাসের কারণে ক্ষেতের পর ক্ষেত আখ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম লোকসান ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার আখ চাষিরা। জানা যায়- কৃষি বিভাগের হিসেবে চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। অজ্ঞাত ভাইরাসের কারণে আখের কাণ্ড পচে যাচ্ছে। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোও আশানুরূপ মোটাতাজা হচ্ছে না। বাজারে প্রতি পিস আখ সর্বোচ্চ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রতিটি আখ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। উৎপাদন খরচ না ওঠায় প্রতি পিস আখে কৃষকদের প্রায় ৩০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরেজমিনে জানা যায়- টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় মাঠের পর মাঠ সবুজ আখের ক্ষেত এখন ভাইরাসের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চাষিদের দিন কাটছে চরম হতাশায়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন। দ্রুত কৃষি বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি অনুদান বা ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা জানায়, শুরু থেকেই আখের বৃদ্ধি(গ্রোথ) ভালো ছিল। তারা ভালো উৎপাদনের আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষেতে অজ্ঞাত ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় একের পর এক আখ পচে যেতে থাকে। বিশেষ করে ঈশ্বরদী জাতের পচাদানা আখ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। অনেক জমিতে একটি আখও সুস্থ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সুলতান কবিরের দাবি, সময়মতো রোগ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তেমন সহযোগিতা পাননি। ক্ষতিগ্রস্ত অপর কৃষক রমজান আলী জানান, তিনি এবার ফলন খুব ভালো হওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত ভাইরাসে সব শেষ হয়ে গেছে। অনেকের পুরো ক্ষেত পচে গেছে। আখ বিক্রি করে সংসার চালানোর স্বপ্ন ছিল। এছাড়াও এই ফসল চাষ করতে অনেকের কাছে ধার দেনা করেছেন। এখন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন সেটাই চিন্তার বিষয়। শফিক আহমেদ জানান, ঈশ্বরদী জাতের আখ সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে। তারা কৃষি বিভাগকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে তারা বড় সংকটে পড়বেন। সদর উপজেলার খারজানা গ্রামের কৃষক আবু হানিফ জানান, তিনি ১০ শতাংশ জায়গার উপর এইবার আখ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ফলন যা হয়েছিল যদি মোটা তাজা হতো তাহলে হয়তো খরচের টাকা উঠে আসতো। ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় সবই শেষ। যা আছে সেগুলো বিক্রি করলে হয়তো হাজার দশেক টাকা পাওয়া যেতে পারে। আবার বিক্রি করতেও কিছু খরচ আছে। পাকুল্ল্যা এলাকার দবির উদ্দিন জানান, গত বছর ৩৩ শতাংশে খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা। বাগানে আখের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪০০ পিস। অথচ এবার সেই একই বাগানে ভাইরাস আক্রান্তে আখের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২০০ পিসে। তাহলে সেই আখ বিক্রি করলে কতই আর টাকা আসবে? কৃষক মাহমুদ আলী জানান, প্রায় ১৫০ শতাংশ জায়গার উপর আখের চাষ করেছেন। যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তাতে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা পাবেন কি-না দুশ্চিন্তায় আছেন। আখের শরীরের বেশিরভাগ জায়গায় পচন ধরেছে। বাগানের মাঝ অংশে কিছু আখ ভালো থাকলেও তা মোটাতাজা হয়নি। টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শোয়েব মাহমুদ জানান, কিছু এলাকায় আখে ভাইরাসজনিত সমস্যার তথ্য তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দেখছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়া তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে আক্রান্তের মাত্রা ও কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

২২ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম জিহাদ এবং দেলদুয়ার উপজেলার বর্ণী গ্রামের সোহরাব হোসেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ জুন ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেদী মোস্তফা রাজীবকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই মামলায় নাজিরুল ইসলাম জিহাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে স্পেশাল জজ আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে হাজেরা বেগম ও তাঁর মেয়ে নাসরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দ্রনা। এ মামলায় সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন।

২২ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি শেখ রবিউল আলম

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি শেখ রবিউল আলম

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অধিবেশনে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শুধু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনই যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। মন্ত্রী পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, শিক্ষা, অর্থ, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ রবিউল আলম। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। অনুলিখন: লাবনী সিদ্দিকী

২২ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে....

সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে....

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল :: গুরু নির্ভর পেশা সাংবাদিকতা, সাংবাদিক তৈরি করা যায়না- যুগে যুগে সময়ে সময়ে সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা জন্ম নেয়। তারা কোনো কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নয় বরং ইতিহাসের গর্ভ থেকে উঠে আসা একেকজন অবাধ্য দ্রোহী। লুইজি পিরানদেল্লোর নাটকের চরিত্রের মতো তারা যেন হঠাৎ করেই ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হয়, সমাজকে তার নিজের আসল মুখচ্ছবি দেখাতে। কিন্তু আজকের পচাগলা সময়ে আমরা চারপাশে কী দেখছি? চারদিকে এক অদ্ভুত ও কুৎসিত অন্ধকার। হাতের মুঠোয় একটা সস্তা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের ডেটা প্যাক থাকলেই রাতারাতি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে জাহির করার এক আত্মঘাতী, উন্মত্ত মহোৎসব চলছে। হাল সময়ে সাংবাদিকতার নামে মোবাইল ফোন হাতে যাদের অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে কিংবা দুর্ঘটনার ভিড়ে দেখা যায়, তাদেরকে ‘মোজো সাংবাদিক’ বা মোবাইল জার্নালিস্ট আখ্যা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে হালাল করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে স্পষ্টাক্ষরে, কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে বলতে চাই- নিশ্চিতভাবেই তারা ‘সাংবাদিক’ নন। সাংবাদিকতা কোনো যান্ত্রিক কসরত বা স্রেফ বোতাম টেপার চাতুর্য নয়, এটি একটি সুদীর্ঘ সাধনা, একটি আজীবন লালিত আদর্শিক তাড়না। বর্তমানের এই নৈরাজ্যিক ও বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা ন্যূনতম মাপকাঠির প্রয়োজন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই নির্মম পটভূমিতেই ‘সাংবাদিক নিবন্ধন’ বিষয়টি আজ সময়ের তীব্র ও অলঙ্ঘনীয় দাবি হিসেবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দাবির সমান্তরালে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কিছু গভীর ক্ষত, সংশয় ও জটিল সমীকরণ- যা নির্মোহভাবে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। একদা যে পেশা ছিল সমাজের বাতিঘর, শোষিতের শেষ আশ্রয়স্থল, আজ তা এক শ্রেণির অপেশাদার, সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলে, এমনকি খোদ রাজধানীর রাজপথেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়টি আজ শ্রদ্ধার চেয়ে ভয়ের এবং আস্থার চেয়ে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাকথিত ‘মোজো সাংবাদিকতা’র নামে ব্যক্তিচরিত্র হনন, ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ ও কতিপয় পোর্টালের মাধ্যমে দিনরাত গুজব ছড়ানো এবং হলুদ সাংবাদিকতার যে নগ্ন বিস্তার আমরা দেখছি, তা রুখতে একটি রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রকৃত সাংবাদিকরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, খেয়ে না-খেয়ে, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্যের সন্ধান করেন, তাদের মর্যাদা আজ ভূলুণ্ঠিত। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আসল এবং নকলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা আজ সময়ের দাবি। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবীর যেমন একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও লাইসেন্স লাগে, সাংবাদিকতায়ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভাষা, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকলে সমাজের জটিল ক্ষত নিরূপণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অবাধ স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা বা লম্পট্য চলতে পারে না। নিবন্ধিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট জাতীয় আচরণবিধির (Code of Conduct) আওতায় আনা সম্ভব হবে- যা সাধারণ মানুষকে মিডিয়া ট্রায়াল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষা করবে। সঠিক উপায়ে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত নিরপেক্ষভাবে যদি সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তবে এর সুফল হবে সুদূরপ্রসারী; মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও সৎ সংবাদকর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। পরিচয়পত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার কমলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়বে। নিবন্ধিত সাংবাদিকদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ থাকলে মিডিয়া কর্পোরেট বা মালিকপক্ষের পক্ষে সাংবাদিকদের হুট করে ছাঁটাই করা বা বছরের পর বছর বকেয়া বেতন না দিয়ে পার পাওয়া কঠিন হবে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন তখন আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ও উসকানিমূলক খবরের দৌরাত্ম্য নিমেষেই কমে যাবে। সাধারণ মানুষ সহজে জানতে পারবে কোন উৎসটি দায়িত্বশীল এবং কোনটি সমাজের জন্য বিষাক্ত। যে কোনো ভালো উদ্যোগের পেছনেই আমাদের এই উপমহাদেশে থাকে ক্ষমতার লোভ আর অপব্যবহারের কালো কুৎসিত ছায়া। ‘তবে...’ শব্দের ভেতরের মূল আশঙ্কাটি এখানেই লুকিয়ে আছে। নিবন্ধনের ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে যতটা চমৎকার ও সুরম্য, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই বিপজ্জনক ও নিবর্তনমূলক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকার বা অন্ধ আমলাতন্ত্র যদি এই নিবন্ধনের চাবিকাঠি নিজের হাতে নেয়, তবে তা ভিন্নমত দমনের সবচেয়ে বড় মারণাস্ত্রে পরিণত হবে। সরকারের সমালোচক, প্রগতিশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ‘নিবন্ধন’ বাতিল বা নবায়ন না করার ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি গৃহপালিত বা তোষামোদকারী সংস্থায় পরিণত করার আশঙ্কা প্রবল। সাংবাদিকতা কোনো লাইসেন্সধারী ব্যবসা বা ঠিকাদারি নয়। এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, বিবেক ও মুক্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নিবন্ধনের নামে যদি কঠোর সেন্সরশিপ বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তৈরি করা হয়, তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এ দেশে চিরতরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের মুদ্রার অপর পিঠটিও দেখতে হবে। বাস্তবতার রূঢ় জমিনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই তীব্র জোয়ারে, মোবাইল হাতে ঘুরে বেড়ানো এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে অস্বীকার করারও সুযোগ কিন্তু আমাদের নেই। আধুনিক বিশ্বে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। মূলধারার গণমাধ্যম যখন করপোরেট স্বার্থে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতিতে মুখ বন্ধ রাখে, তখন অনেক সময় এই মোবাইল হাতে থাকা সাধারণ মানুষই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা প্রশাসনের দুর্নীতির চিত্র ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই তাৎক্ষণিক প্রচার অনেক বড় বড় অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করেছে। তাই তাদেরকে সমাজ থেকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সমাধান হলো- তাদেরকে কোনোভাবেই মূলধারার, প্রাতিষ্ঠানিক ‘সাংবাদিক’ হিসেবে স্বীকৃতি বা নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম এবং আলাদা নাম। তাদেরকে ‘নাগরিক তথ্যদাতা’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বা ‘নাগরিক সংবাদকর্মী’ (Citizen Reporter) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। রাষ্ট্র বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাদের জন্য আলাদা একটি নীতিমালার আওতাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ফোরাম থাকতে পারে। এর ফলে তারা তথ্যের অবাধ প্রবাহে অবদান রাখতে পারবে, কিন্তু মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে তাদের গুলিয়ে ফেলে ‘সাংবাদিক’ তকমা হালাল করার আত্মঘাতী অপচেষ্টা বন্ধ হবে। বর্তমানের সবচেয়ে বড় সংকট হলো- বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী বা তদারকি সংস্থাই শেষ পর্যন্ত নগ্ন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির শিকার হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত বোর্ডের মাধ্যমে এই নিবন্ধন দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত পেশাদার, সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা ছিটকে পড়বেন। আর ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক, চাটুকার ও পাতিমাস্তানেরা রাতারাতি ‘স্বীকৃত সাংবাদিক’ বনে গিয়ে কার্ড ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াবে। প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, ব্যাকরণহীন একঝাঁক মানুষকে যদি ¯্রফে সস্তা ভিউ ও জনপ্রিয়তার কারণে নিবন্ধনের আওতায় এনে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে ‘হালাল’ করা হয়- তবে তা হবে এ দেশের সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক। এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পথ কিন্তু সুদূর পরাহত নয়। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রণ বা দমন নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল, প্রাজ্ঞ ও আধুনিক সমন্বয়। যেমন- ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া কমিশন গঠন: সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তদারকির দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারি আমলাদের অধীনে থাকা চলবে না। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন ‘জাতীয় মিডিয়া কমিশন’ গঠন করতে হবে। যেখানে বিচারকের আসনে থাকবেন প্রবীণ সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞরা- কোনো দলীয় আমলা বা সক্রিয় রাজনীতিবিদ নয়। ২. শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা: মূলধারার সাংবাদিকতার নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু ‘মোবাইল, ক্যামেরা আর ইন্টারনেট’ থাকলেই কাউকে সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। ৩. অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি: কোনো নিবন্ধিত সংবাদকর্মী নৈতিক স্খলন বা অপরাধ করলে তার বিচার প্রেস কাউন্সিল বা প্রচলিত আইনেই হবে, কিন্তু তার জন্য ঢালাওভাবে পুরো সাংবাদিক সমাজকে লাইসেন্সিং-এর শিকলে বাঁধা যাবে না। একই সাথে মোজো বা নাগরিক সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্মকেও একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার আচরণবিধির আওতায় আনতে হবে- যেন তারা তথ্যের নামে গুজব ছড়াতে না পারে। সাংবাদিকরা চিরকাল ক্ষমতার অন্ধ দম্ভ ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। আমাদেরও ভাবতে হবে- সাংবাদিকতা কোনো তৈলাক্ত বাঁশ নয় যে, যোগ্যতা ছাড়া যে কেউ এসে তা বেয়ে ওপরে উঠে যাবে। সাংবাদিকতা হলো তপ্ত অঙ্গার- যা বুকে ধারণ করতে প্রজ্ঞা, সততা, নিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকদের ডেটাবেজ বা নিবন্ধন অবশ্যই সময়ের দাবি, তবে তা যেন কোনোভাবেই মুক্ত গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার ‘কালো আইন’ বা স্বৈরাচারী ‘লাইসেন্স রাজ’-এ পরিণত না হয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং মূলধারার সাংবাদিক নেতৃত্বকে এখনই বসে এই আত্মঘাতী ‘মোজো’ সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একই সাথে মোজোদের একটি সুনির্দিষ্ট ও ভিন্ন আইডেন্টিটির ফ্রেমে বেঁধে, মূলধারার সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণœ রেখে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও দায়বদ্ধ গণমাধ্যমের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের আগামি প্রজন্মের কাছে আসামির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে- যার কোনো ক্ষমা নেই।

২২ জুলাই ২০২৬

দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

দেশের ১৭ অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টির আভাস

দৃষ্টি নিউজ: আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে দেশের ১৭টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জনানো হয়েছে। আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবিরের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, ঢাকা, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে এই ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার(২১ জুলাই) রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত সারাদেশের সম্ভাব্য পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এছাড়া সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

২২ জুলাই ২০২৬

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

দৃষ্টি নিউজ: তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

২২ জুলাই ২০২৬

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ল

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ল

দৃষ্টি নিউজ: বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে সোনার দাম আরেক দফা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভরিতে ২ হাজার ৭৪১ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা নির্ধারণ করেছে সংগঠনটি। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।বুধবার (২২ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি সোনার (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের সোনার দাম পড়বে ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য। সোনারঅলঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নিয়ম বহাল থাকবে। সর্বশেষ গত ২১ জুলাই সকালে সোনার দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। সেদিন ভরিতে ১ হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১১ হাজার ৪৬৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। যা কার্যকর হয়েছিল সেদিন সকাল সাড়ে ১০টা থেকেই। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছে সোনার দাম। যেখানে দাম ৪৫ দফা বাড়ানো হয়েছে, কমানো হয়েছে ৪৭ দফা ও ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। আর গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার সোনার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর কমানো হয়েছিল ২৯ বার।

২২ জুলাই ২০২৬

সরকারি খাতায় ‘মৃত’ ইমান আলী দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন

সরকারি খাতায় ‘মৃত’ ইমান আলী দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছেন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার এক জীবিত ব্যক্তিকে সরকারি ভোটার তথ্যভাণ্ডারে ‘মৃত’ দেখানো হয়েছে। ফলে তিনি শুধু ভোটাধিকারই হারাননি, নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে এখন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরতে হচ্ছে। ভুক্তভোগী ইমান আলী শেখ উপজেলা সদরের ফসলান্দি এলাকার মৃত মাজম আলী শেখের ছেলে। তার এমন দুর্ভোগ স্থানীয়দের মধ্যেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকায় ইমান আলী শেখকে মৃত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ তিনি জীবিত এবং পরিবারের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বসবাস করছেন। সরকারি এ ভুলের কারণে গত জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে গিয়েও ভোট দিতে পারেননি তিনি। নির্বাচন কর্মকর্তারা তাকে জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী তিনি মৃত। এরপর থেকেই তথ্য সংশোধনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে বারবার যোগাযোগ করলেও এখনো কোনো সমাধান পাননি। ইমান আলী শেখ বলেন, 'আমি জীবিত, অথচ সরকারি কাগজে আমাকে মৃত বানিয়ে রাখা হয়েছে। নিজের জীবিত থাকার প্রমাণ দিতে অফিসে অফিসে ঘুরছি। ভোট দিতে পারিনি। এখন যেকোনো সরকারি কাজেও সমস্যায় পড়ছি।' স্থানীয়দের দাবি, শুধু ইমান আলী শেখের তথ্য সংশোধন করলেই দায়িত্ব শেষ নয়; কীভাবে একজন জীবিত মানুষকে সরকারি তথ্যভান্ডারে মৃত দেখানো হলো, তা তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নাগরিক এমন ভোগান্তির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা। তারা জানান, একজন জীবিত মানুষকে সরকারি নথিতে মৃত দেখানো চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয়। বিষয়টি দ্রুত সমাধান না হলে ভবিষ্যতে আরও জটিলতার মুখে পড়বেন ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নার্গিস সুলতানা জানান, ভুক্তভোগী অফিসে যোগাযোগ করলে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২২ জুলাই ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী নবীন শিক্ষার্থীদের ‘গ্রুমিং’ সম্পন্ন

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে চার দিনব্যাপী নবীন শিক্ষার্থীদের ‘গ্রুমিং’ সম্পন্ন

দৃষ্টি রিপোর্ট: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে সফলভাবে অভিযোজিত হতে সহায়তার লক্ষ্যে আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘স্টুডেন্ট গ্রুমিং অ্যান্ড ইউনিভার্সিটি অ্যাডাপটেশন প্রোগ্রাম’ সম্মন্ন হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামের পৃষ্ঠপোষকতায় ১৮ থেকে ২১ জুলাই অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচি FutureNation Ges UNDP Bangladesh -এর সহযোগিতায় আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ এবং FutureNation, UNDP Bangladesh I Quazi Consultancy -এর বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও দিকনির্দেশনামূলক সেশন পরিচালনা করেন। চার দিনব্যাপী এ কর্মসূচিতে নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন, একাডেমিক পরিবেশ, নেতৃত্ব, ব্যক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ কৌশল, মানসিক স্বাস্থ্য, ক্যারিয়ার পরিকল্পনা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), সাইবার নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, বৃত্তি, ইন্টার্নশিপ এবং বৈশ্বিক সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া কেবল একটি ডিগ্রি অর্জনের যাত্রা নয়; এটি একজন শিক্ষার্থীর ব্যক্তিত্ব, মূল্যবোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা ও নৈতিকতায় সমৃদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে অবদান রাখার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে।’ শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে লাইফ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবু জুবাইর, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. মুছা মিয়া, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. রবিউল ইসলাম লিটন, বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কানিজ মরিয়ম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, শিক্ষক এবং নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

২১ জুলাই ২০২৬

মধুপুরে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ

মধুপুরে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধভাবে পরিচালিত করাতকলের বিরুদ্ধে যৌথভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ। অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল উচ্ছেদ, একজনকে ৩ হাজার টাকা অর্থদ- এবং বিপুল পরিমাণ করাতকলের যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। সোমবার (২১ জুলাই) টাঙ্গাইল বন বিভাগের মধুপুর রেঞ্জের চাড়ালজানি বিট ও মহিষমারা বিট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন, মধুপুর উপজেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. নঈম উদ্দিন। টাঙ্গাইল বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক ও মধুপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা রোকসানা জাহান, ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম, রেঞ্জার ফয়সাল হোসেনসহ বন বিভাগের বিভিন্ন বিটের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অভিযান চালানোকালে উপস্থিত ছিলেন। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহিষমারা বিটের আওতায় কুড়ালিয়া ইউনিয়নের লাউফুলা বাজার সংলগ্ন এলাকা এবং কেওটাই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে একাধিক করাতকল চালানো হচ্ছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ওই অভিযানে ৬টি অবৈধ করাতকল চিহ্নিত করে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে লাউফুলা বাজার এলাকায় পিন্টু ও হাসান আলীর মালিকানাধীন দুটি করাতকলসহ আরও কয়েকটি এবং কেওটাই এলাকায় পরিচালিত অবৈধ করাতকলগুলো ভেঙে দেওয়া হয়। অভিযান চলাকালে কেওটাই এলাকার মো. লিটন মিয়া অবৈধ করাতকল পরিচালনার দায় স্বীকার করলে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে ৩ হাজার টাকা অর্থদ- প্রদান করেন। এ সময় করাতকল পরিচালনায় ব্যবহৃত ৫টি জেনারেটর চালিত ইঞ্জিন, করাতের চেইন, হুইল, প্লেটসহ বিপুল পরিমাণ যন্ত্রপাতি জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মালামাল বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগের ডেপুটি রেঞ্জার সাইফুল ইসলাম জানান, বনাঞ্চল সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ করাতকল পরিচালনার মাধ্যমে বনজ সম্পদ পাচার ও পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এসব অবৈধ কার্যক্রম রোধে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

২১ জুলাই ২০২৬

মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন

মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশের অন্য নয়টি জেলার সাথে টাঙ্গাইলেও লিগ্যাল এইড আইনের সংশোধিত বিধান অনুযায়ী কতিপয় ক্ষেত্রে মামলাপূর্ব বাধ্যতামূলক মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে ঢাকায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান টাঙ্গাইলসহ দেশের দশটি জেলায় একসঙ্গে ভার্চুয়ালী এই মধ্যস্থতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অন্য জেলাগুলো হচ্ছে- বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার ও পঞ্চগড়। এ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা ও দায়রা জজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির চেয়ারম্যান সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার তানজিনা চৌধুরী। এ সময় টাঙ্গাইলের শিশু সংহিতা অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. মো. আব্দুল মজিদ (জেলা ও দায়রা জজ), ল্যান্ড সার্ভে আপীল ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোশাররফ হোসাইন (জেলা ও দায়রা জজ), নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাবি্যুনালের বিচারক আ ন ম ইলিয়াছ, টাঙ্গাইলের স্পেশাল মেডিয়েটর কে এম শহীদ আহাম্মেদ (সাবেক জেলা ও দায়রা জজ) এবং জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মো. মিনহাজ উদ্দিন ফরাজিসহ বিভিন্ন আদালতের বিচাররা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোনায়েম হোসেন খান আলমসহ লিগ্যাল এইডের তালিকাভুক্ত আইনজীবীরা এতে অংশ নেন। যে সকল বিষয়ে আদালতে মামলা করার আগে অবশ্যই লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতার জন্য যেতে হবে সেগুলো হচ্ছে- পারিবারিক বিরোধ, বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ, সম্পত্তি বন্টন, অগ্রক্রয় ও পিতা-মাতার ভরণপোষন সংক্রান্ত বিরোধ এবং যৌতুক সম্পর্কিত অভিযোগ। সংশোধিত বিধান অনুযায়ী এসব বিষয়ে লিগ্যাল এইডে মধ্যস্থতা না হলে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট আদালতে মামলা করা যাবে।

২১ জুলাই ২০২৬

যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

দৃষ্টি রিপোর্ট: প্রমত্ত্বা যমুনার প্রবল থাবায় আকষ্মিক ভাঙনের মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুরের শাখারিয়া অংশ। সোমবার(২০ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া স্রোতের তীব্র গর্জনে মঙ্গলবার(২১ জুলাই) ভোরে আঞ্চলিক মহাসড়কটির একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মূল্যবান সময় এবং দ্বিগুণ যাতায়াত ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সড়কের একাধিক অংশ নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া অংশে সোমবার দিনগত রাতে ভাঙন দেখা দিলে তারা বাঁশ ও গাছ কেটে তীব্র স্রোত ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছর নদী ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যমুনার ভয়াল গ্রাস থেকে সড়ক ও জনপদ রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগের পরিবর্তে অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খবর পেয়ে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। ভাঙন কবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিত মহাসড়কের পশ্চিমাংশে জিওব্যাগের সঙ্গে মাটি ফেলে আলাদা বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন। কিছুটা সফলও হয়েছেন, এখনও ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় রাকিব হাসান, মোর্শেদুর রহমান, আব্দুর রশিদ সহ অনেকেই জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা মিলে রাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তারা যেটা করেছেন, সেটা শুধু সাময়িক প্রতিরোধ। নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে জিওব্যাগ কোন কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যায় এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে। অঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি অংশে গত বর্ষায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল হালিম তালুকদার জানান, যমুনা নদী বেশ কয়েকদিন ধরেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেছে। টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক এ এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহাসড়কে যমুনার থাবা পড়লে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, সাবেক উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নুরই আলম জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের উত্তরে শাখারিয়া এলাকার স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি অংশে যমুনার করাল থাবা আঘাত করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্লক সে থাবা সামলাতে না পারায় ভাঙন শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পাউবোর শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ভাঙন প্রতিরোধে গাছ-জিওব্যাগ ডাম্পিং করে। তিনি জানান, এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এবং যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। গত দুই দিনই তিনি ওই আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, স্থানীয়দের কাছে সংবাদ পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যে সব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই আঞ্চলিক মহাসড়ক সড়ক নিরাপদ থাকবে।

২১ জুলাই ২০২৬