কৃষি

টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবিরের দাফন সম্পন্ন

টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবিরের দাফন সম্পন্ন

দৃষ্টি রিপোর্ট: প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে কৃষক কার্ড গ্রহণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা টাঙ্গাইলের সেই ভাইরাল কৃষক কবির হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার উত্তর তারটিয়া মাদ্রাসা মাঠে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে তারটিয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজা নামাজের আগে উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি মরহুমের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং কবির হোসেনের পরিবারের পাশে থেকে সব সময় সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। একই সাথে তিনি মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। মরহুমের জানাজা নামাজে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, সহ-সভাপতি মীর ফরহাদ আলী, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান, স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশ নেন। পরে তাকে তারটিয়া কেন্দ্রীয় গোরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। দাফন শেষে উপস্থিত সবাই মরহুম কবির হোসেনের রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করেন এবং শোকাহত পরিবারের জন্য ধৈর্য ধারণে দোয়া করেন। তার এই আকষ্মিক মৃত্যুতে এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রকাশ, কৃষক কবির হোসেন মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৩ বছর। তিনি এক ছেলের জনক। কবির হোসেন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারাটিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। টাঙ্গাইলে কৃষক কার্ড উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া তার বক্তব্য সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয় এবং বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দেয়। পরে তাকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ে। কেউ কেউ তাকে প্রকৃত কৃষক নন বলে দাবি করলেও সাংবাদিক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা তার বাড়ি ও কৃষিজমি পরিদর্শন করে তাকে একজন সক্রিয় কৃষক হিসেবে নিশ্চিত করেন।

২৪ জুন ২০২৬

গাড়াইলদহ বাওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

গাড়াইলদহ বাওড়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট: দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখতে এবং মাছের চাহিদা পূরণে টাঙ্গাইলের ৮টি জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। শনিবার(১৩ জুন) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি সদর উপজেলায় গাড়াইলদহ বাওড়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতি মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, দেশীয় জাতের মাছ টিকিয়ে রাখতে ও মাছের উৎপাদন বাড়াতে মৎস্য ও প্রাণি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে সারাদেশে সরকারি জলাশয়, পুকুর, বিল, হাওড়-বাওড় এবং ব্যক্তি পর্যায়ের জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, টেকসই মৎস্য চাষ ও জল ব্যবস্থাপনার কোন বিকল্প নেই। এটি স্থানীয় অর্থনীতি এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এ সময় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, মৎস্য অধিদপ্তরের সদর উপজেলা সিনিয়র কর্মকর্তা আইয়ুব আলী সহ জেলা-উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকাশ, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ৮টি জলাশয়ে আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে ৬৯৪.৪৪ কেজি দেশীয় জাতের রুই, কাতল ও মৃগেল মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।

১৩ জুন ২০২৬

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে :: পানিসম্পদ মন্ত্রী

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে :: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীতীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেন, টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বামতীরে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামি অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন। যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর নদীতীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, আমরা যা বলি তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙন কবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২২ মে ২০২৬

যমুনা সেতু মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট

যমুনা সেতু মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২২ মে) ভোর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্র ন্তের টোলপ্লাজা থেকে কালিহাতী উপজেলার সল্লা পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। জানাগেছে, শুক্রবার ভোরে যমুনা সেতুর ওপর দুটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন সরিয়ে নিতে গিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেতুর ওপর আরও দুটি দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় এবং দ্রুত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে কালিহাতীর সল্লা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

২২ মে ২০২৬

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২১ মে ২০২৬

টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা

টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা

দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কাজ। আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বছরের এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয়ের সুযোগ পান তারা। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে চলছে দা, বটি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করছেন কামাররা। রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকার কামারশালার মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে অধিকাংশ মানুষ নতুন সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতিও মেরামত করাচ্ছেন। তিনি বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি বড় দা বা বঁটি আকার ও ওজনভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কামাররা জানায়, সারা বছর কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তবে কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা।

২১ মে ২০২৬

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

দৃষ্টি ডেস্ক: ব্যস্ত সকাল, ডেস্কে কাজের পাহাড় কিংবা দিনশেষে ক্লান্ত শরীর- এই চক্করে পড়ে জিমের মেম্বারশিপ কার্ডটা হয়তো অনেকেরই ওয়ালেটেই বন্দি হয়ে আছে। প্রতিদিন এক বা দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কথা ভাবলেই যেখানে অলসতা জেঁকে বসে, সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান শোনাল এক দারুণ আশার বাণী। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের ছোটখাটো শারীরিক পরিশ্রমই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। দীর্ঘায়ু বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে জিম বা দীর্ঘ সময়ের ভারী ওয়ার্কআউট করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘায়ু পেতে কিংবা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রমই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো মাঝারি ব্যায়াম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১ জনের অকাল মৃত্যু রোধ করতে পারে। গবেষকদের মতে, যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য এই সামান্য পরিবর্তনও দারুণ উপকারী। পাশাপাশি দৈনিক বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমাতে পারলেই প্রায় ৭% শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘এক্সারসাইজ স্নাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’ বলছেন। অর্থাৎ, সারাদিনে একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া। যেমন- রান্না করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট বা পুশ-আপ দেওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, গন্তব্যের কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে ৫ মিনিট হেঁটে যাওয়া কিংবা ঘরের মেঝে জোরে জোরে মোছা বা নাচ করা। গবেষকদের মতে, এই ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রমগুলো আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে বারবার উদ্দীপিত করে, যা শরীরচর্চা থামানোর পরও কিছুক্ষণ সচল থাকে। এ ছাড়া, ৬০ ও ৭০ এর কোঠায় থাকা মানুষদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যারোবিক ব্যায়ামের সঙ্গে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম যুক্ত করলে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও কমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের ব্যায়ামের পরামর্শ এখনো বহাল থাকলেও, গবেষকরা বলছেন- কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট নড়াচড়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বড় অর্জন। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে জীবনে গতি আনুন, সুস্থ থাকুন দীর্ঘদিন। সূত্র: বিবিসি

২১ মে ২০২৬

নিরাপদ লিচু চেনার উপায়

নিরাপদ লিচু চেনার উপায়

দৃষ্টি ডেস্ক: কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি আর ঝড়-ঝাপ্টার আবহাওয়ার মধ্যে বাজারে এসে গেছে রসালো লিচু। পুষ্টিগুণে ভরা এই লাল টুকটুকে এই ফল দেখলেই জিভে পানি আসে অনেকের। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না- লিচু নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি জরুরি। কারণ অনেক সময় লিচুকে বেশি লাল ও টাটকা দেখাতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। এমনকি অপরিপক্ব লিচুকেও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই বাজার থেকে লিচু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খোসার রং দেখেই অনেকটা বোঝা যায়- লিচু কেনার সময় প্রথমেই খেয়াল করুন এর খোসার রং। বিভিন্ন জাতের লিচুর রং ভিন্ন হতে পারে- কোনোটি গাঢ় লাল, কোনোটি হালকা কমলা বা বাদামি আভাযুক্ত। তবে ভালো ও পরিপক্ব লিচুর রং সাধারণত স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল হয়। অস্বাভাবিক চকচকে বা অতিরিক্ত টকটকে লাল রঙের লিচু দেখলে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে এসব লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। বেশি নরম লিচু এড়িয়ে চলুন- লিচু হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। যদি খুব বেশি নরম লাগে, তাহলে সেটি অতিরিক্ত পাকা বা ভেতর থেকে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভালো লিচু হবে টানটান ও সতেজ। অতিরিক্ত নরম লিচুর ভেতরে অনেক সময় পচা অংশ বা টক গন্ধও থাকতে পারে। গন্ধ বুঝে কিনুন- পাকা লিচুর একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে। নাকের কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ টের পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেমিক্যাল দেওয়া বা অপরিপক্ব লিচুতে সাধারণত সেই স্বাভাবিক সুবাস থাকে না। যদি লিচুতে অদ্ভুত বা কড়া গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। কৃত্রিম রং আছে কি না পরীক্ষা করুন- অনেক সময় কাঁচা লিচুকে পাকা দেখাতে এর গায়ে রং ব্যবহার করা হয়। তাই বাসায় এনে লিচু কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। যদি পানির রং লালচে হয়ে যায় বা হাতে রং লাগে, তাহলে বুঝতে হবে লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। দাগ বা ফাটল আছে কি না দেখুন- ভালো লিচুর খোসা সাধারণত পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। খোসায় বাদামি দাগ, ফাটল বা পচা অংশ থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ডাঁটির অংশ পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে ডালযুক্ত ও টাটকা লিচু কেনাই ভালো। খোসা সহজে ছাড়ালে বুঝবেন পাকা- লিচুর খোসা ছাড়িয়েও এর মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাকা ও মিষ্টি লিচুর খোসা সাধারণত সহজেই খুলে আসে। যদি খোসা শক্তভাবে আটকে থাকে বা ভেতরে বাদামি দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি ভালো নাও হতে পারে। কেনার পর যা করবেন- বাজার থেকে লিচু এনে সরাসরি না খেয়ে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ঘণ্টাখানেক পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ময়লা বা কৃত্রিম রঙের কিছু অংশ দূর হতে পারে। সতর্কভাবে লিচু কিনলে গরমের এই জনপ্রিয় ফল খাওয়ার আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

২০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় বুধবার(২০ মে) সকালে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ট্রাক চালক রাসেল মিয়া(২০) ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি যমুনাসেতুমুখী লেনে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া নামকস্থানে পৌঁছলে চালক ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার বিভাজকের(ডিভাইডার) ওপর উঠে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চালক রাসেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা : সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(১৯ মে) সকালে তেজগাঁস্থ ভূমি ভবন থেকে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভূমিসেবা মেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলেও ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং রাজস্ব) মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানু, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে প্রমুখ। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন জনসেবা চত্বরে ১৯ মে থেকে ২১ পর্যন্ত ওই মেলা চলবে।

১৯ মে ২০২৬

এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা

এলেঙ্গায় অসুস্থ গরু জবাইয়ের চেষ্টার দায়ে জরিমানা

এলেঙ্গা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে অসুস্থ ষাঁড় গরু জবাইয়ের প্রস্তুতির দায়ে চাঁন মিয়া (৬০) নামে এক মাংস বিক্রেতাসহ তিন ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (১৮ মে) সকালে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমান আদালত ওই অভিযান চালায়। ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজারে চাঁন মিয়া নামে এক মাংস বিক্রেতা অসুস্থ একটি ষাঁড় জবাইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যাম আদালতের বিচারক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালতের তফসিলভুক্ত ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একইসঙ্গে গরুটি সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত জবাই না করার জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এছাড়া বাজারে অপরিকল্পিতভাবে পোল্ট্রি মুরগি রেখে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি ও দুর্গন্ধ ছড়ানোর দায়ে পোল্ট্রি ব্যবসায়ী হুমায়ুনকে ১০ হাজার টাকা; একই বাজারে মাংসের দোকানের পাশে পশুর চামড়া রেখে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগে মাংস বিক্রেতা রজব আলীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অধিক লাভের আশায় জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি তৈরি করে বাজারে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এতে সাধারণ ক্রেতারা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন। প্রশাসনের এমন অভিযানে বাজারে স্বস্তি ফিরেছে বলে জানান ক্রেতারা। এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সায়েদা খানম লিজা জানান, অসুস্থ পশু জবাই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্য বিক্রি কিংবা পরিবেশ দূষণের মতো অপরাধের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের কাজ করলে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ সময় কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিনসহ কালিহাতী থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১৮ মে ২০২৬

ঘাটাইলের ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইলের ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোবববার(১৮ মে) দিনব্যাপী উপজেলার আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘাটাইল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইজরাত জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন, আনেহলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কেএইচ মোরশেদ আলম, আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি শাহ্ আজিজুল কদর বাবু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছারওয়ার হোসেন তালুকদার প্রমুখ। এ সময় সিংগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ, যোগীহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজা আক্তার, খায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম নুরই আলম, সাইটশৈলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনিয়া খাতুন, গৌরাঙ্গী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুন নাহার খানম, গৌরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোৎস্না খাতুন, হাট কয়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন, মাকেস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফাসহ ৯টি স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালায় ছিলেন, আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল, ছেলে-মেয়েদের ১শ’ মিটার দৌঁড়, হাইজাম্প, লংজাম্প, নৃত্য ও চিত্রাঅংকন প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।

১৮ মে ২০২৬

হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি

হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি

মু. আবিদ মল্লিক জয়: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে কোরবানির পশুর রেকর্ড জোগান তৈরি হয়েছে। চাহিদা মিটিয়েও এবার জেলায় প্রায় ৪০ হাজার গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ, পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জাল টাকার কারবারিদের দৌরাত্ম্য, হাইওয়ে ও হাটে চাঁদাবাজি এবং অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজার হাজার খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় গড়ে ওঠা ২৬ হাজার ৭৫৯টি ছোট-বড় খামারে এবার কোরবানির জন্য মোট দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলায় এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও ৩৯ হাজার ৯৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জানাগেছে, কোরবানির এই বিশাল পশুর সমাগমকে ঘিরে টাঙ্গাইলের পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো এখন অনেকটা উৎসবমুখর। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভূঞাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দাসী গরুর হাট- যা দেশীয় পশুর এক বিশাল সরবরাহ কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত বেবীস্ট্যান্ড পশুর হাট এবং শহরতলির করটিয়া ও রসুলপুর, তোরাপগঞ্জ হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি এবার টাঙ্গাইলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কেনাবেচা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন খামারিদের নিজস্ব উদ্যোগে ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও দামসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। এর ফলে ঘরে বসেই অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনতে পারছেন- যা হাটের বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। জেলার সামগ্রিক উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার পশুর হাটসহ দেশের অন্যান্য জেলার ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে- যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার তারল্য প্রবাহ সৃষ্টি করবে। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, জেলার প্রাণি সম্পদের এই বিপুল সম্ভাবনা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। খামারিদের প্রধান সমস্যা পশুখাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি। চড়া দামে খড়, ভুষি ও খৈল কিনে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পশু লালন-পালন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় গরুর অবৈধ চোরাচালান। খামারিদের দাবি, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর বাজার ধসে পড়বে। এর ফলে জেলার ২৬ হাজারেরও বেশি খামারি তাদের আসল পুঁজি হারিয়ে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন। পাশাপাশি হাটে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়, পকেটমার ও মলম পার্টির উপদ্রব, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হঠাৎ অসুস্থতা এবং জাল টাকার চক্রের সক্রিয়তা মাঠপর্যায়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি। গবাদি পশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- এই সংকট থেকে দেশীয় খামারিদের রক্ষা, ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাবনাময় এই খাতকে বাঁচাতে অবিলম্বে অন্তত ছয়টি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, চিকিৎসা ক্যাম্প ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন, চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি, হাসিল বা টোল আদায়ে সতর্কতা, জাল টাকা রোধে ব্যাংকের বুথ স্থাপন এবং হাইওয়ে ও পশুরহাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চৌ-বাড়িয়ায় রহমান এগ্রো ফার্মের মালিক দেওয়ান সুমন আহমেদ জানান, দিন দিন গো-খাদ্যোর বাড়তি দামে খামারিরা হতাশায় ভুগছেন। গত বছর ঈদে তিনি ৩৮টি ষাড় গরু বিক্রি করেছেন। এবছরও ৩৪টি ষাড় গরু বিক্রির ইচ্ছে রয়েছে। কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিন জানান, এ উপজেলায় এক হাজার ৭০৩টি গরু ও ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। ২০ হাজার ৫৬৯টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৯৭১টি। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে দুই হাজার ৫৯৮টি পশু। খামারিরা কুরবানির ঈদে তাদের পালিত পশু বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছে। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, সদরে প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল আলম জানান, ইতোমধ্যে জেলায় খামারিদের মানসম্পন্ন গরু-ছাগল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে লব্ধ জ্ঞান খামারিরা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান জানান, জেলায় কুরবানির জন্য দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশুর মধ্যে রয়েছে ষাড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশু। এবার কুরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি পশু। উদ্বৃত রয়েছে ৩৯ হাজার ৯৮৩টি। ইতোমধ্যে জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী কুরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খামারি, পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তায় যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।

১৭ মে ২০২৬

বাসাইলে কৃষক হত্যায় আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

বাসাইলে কৃষক হত্যায় আসামির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে কৃষক আনছের আলী হত্যা মামলার আসামি লাভু মিয়া ওরফে লেবু মেলেটারীর ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) দুপুরে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড চত্বরে নিহতের গ্রাম কলিয়াবাসীর উদ্যোগে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হয়। এরআগে তারা উপজেলার কলিয়া বটতলা এলাকা থেকে মিছিলটি নিয়ে বাসাইল জিরো পয়েন্টে সমবেত হয়। মানববন্ধন শেষে তারা মিছিল নিয়ে থানার ভেতরে প্রবেশ করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য রাখেন, নিহত আনছার আলীর স্ত্রী জরিনা বেগম, তার ছেলে জুয়েল মিয়া, জসিম মিয়া, স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আক্কেল আলী, স্থানীয় বাসিন্দা মিনহাজ মিয়া, ছালমা আক্তার ও আলেয়া বেগম প্রমুখ। বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত লেবু মেলেটারী কৃষি জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে হামলা চালিয়ে কৃষক আনছার আলীকে হত্যা করে। একজন সহজ-সরল মানুষকে এভাবে হত্যা করে তিনি চরম দৃষ্টতা দেখিয়েছেন। লেবু মেলেটারী একজন উচ্ছ্বৃঙ্খল লোক। সম্প্রতি লেবু মেলেটারী গ্রেপ্তার হয়েছে। তিনি প্রভাবশালী হওয়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে কৃষক পরিবারটির অঅরো ক্ষতি করতে পারে। বক্তারা লেবু মেলেটারীর ফাঁসি দাবি করেন। প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি বাসাইল উপজেলার কলিয়া গ্রামে কৃষি জমির আইল কাটাকে কেন্দ্র করে কৃষক আনছার আলীকে হত্যা করেন লেবু মেলেটারী। মামলার পর লেবু মেলেটারী আত্মগোপনে চলে যান। পরে ১০ মে টাঙ্গাইলের র‌্যাব-১৪ টাঙ্গাইল শহরের একটি বাসা থেকে লেবু মেলেটারীকে গ্রেপ্তার করে। বাসাইল থানার অফিসার ইসচার্জ(ওসি) আলমগীর কবির জানান, মানববন্ধন শেষে নিহতের পরিবার থানায় এসেছিল। আসামি গ্রেপ্তার হয়েছে। তদন্ত শেষে মামলাটির চার্জশিট দ্রুতই আদালতে জমা দেওয়া হবে।

১৬ মে ২০২৬

হামে আক্রান্ত শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পুশ!

হামে আক্রান্ত শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পুশ!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী ফাতিহা নামে এক শিশুকে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন(র‌্যাবিক্স) পুশ(প্রয়োগ) করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির পরিবারকে চাপ দিচ্ছে। জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার(১৩ মে) দুপুর ১২ টার দিকে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামে আক্রান্ত ওই শিশুকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। যদিও ভ্যাকসিনটি স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর পুশ(প্রয়োগ) করার নিয়ম। অজ্ঞাত কারণে তাকে দিয়ে পুশ না করিয়ে পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে এনে ভ্যাকসিন পুশ(প্রয়োগ) করার নির্দেশনা দেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। একমাস বয়সী শিশু ফাতিহার মা মৌ আক্তার জানান, তিনি হামে আক্রান্ত শিশু ফাতিহাকে নিয়ে নিয়মিত টিকা দিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিয়মিত ভ্যাকসিন বা টিকা দিয়ে থাকেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু। কিন্তু তিনি উপস্থিত না থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ পিআরএল-এ(অবসর জনিত ছুটি) থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে আনেন। তিনি আরও জানান, হামের ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে মোহাম্মদ কাইয়ুম তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন। নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন(র‌্যাবিক্স) পুশ করায় শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফলতিকে দায়ি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে পিআরএল-এ(অবসর জনিত ছুটি) থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন (র‌্যাবিক্স) পুশের বিষয়টি ভুল বসত হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, এটি অসতর্কতামূলক অনাকাঙ্খিত একটি ভুল। আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। তবে হামের টিকার বদলে এ ভ্যাকসিন(র‌্যাবিক্স) শিশুর কোনো সমস্যা হবেনা। তারপরও পরিবারের সদস্যদেরকে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মাহবুবুল আলম জানান, এক মাস বয়সী একটি শিশুকে ভুল করে অন্য টিকা পুশ করার ঘটনাটি তিনি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে একমাস বয়সে একটি শিশুকে ভুলবশত যে টিকা দেওয়া হয়েছে তাতে কোন ধরনের ক্ষতির অঅশঙ্কা নেই। তারপরও শিশুটিকে তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিষয়টি তিনি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

১৩ মে ২০২৬

চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুক এমপি বলছেন, আমরা কাজে বিশ্বাসী। কাজের মধ্য দিয়ে জনগনের আস্থা ও ভালবাসা পুরণ করতে চাই। বিভিন্ন জায়গায় যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছি বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোতে, ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি নিজে নিজেই চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করছি। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে জেলা পরিষদের হলরুমে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, চরাঞ্চলে মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। পশ্চিম টাঙ্গাইলে যমুনার নদীর তীর ঘেষা বেশ কিছু ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নে করার চেষ্টা করব। পাঁচ বছর পর যদি উন্নয়নের তালিকা হয় তাহলে টাঙ্গাইল সদর হবে এক নম্বর। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মাদক। যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন তাদের সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মসজিদ এবং মাদ্রাসাগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মাদক সম্পর্কে কাউন্সেলিং অথবা সচেতনতামূলক কথা বলে যুব সমাজকে সচেতন করতে পারেন। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসিরের সভাপতিত্বে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের ওই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্না, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৪০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

১২ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে দুঃস্থদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান বিতরণ

টাঙ্গাইলে দুঃস্থদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান বিতরণ

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুঃস্থ রোগীর চিকিৎসা ও অসহায় শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৭ মে) জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির ওই অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এউপলক্ষে জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা পরিষদের নিবাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী সাকিব ইবনে মতিন, হিসাব রক্ষক এসএম তারিকুল হাসানাত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১১ লাখ এবং অসহায় ব্যক্তি ও দুঃস্থ রোগীদের মাঝে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী সংগঠনের নেতা, অসহায় দুঃস্থ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সমস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

০৭ মে ২০২৬

নাগরপুরে অবৈধ ড্রেজার চালানোর দায়ে জেল-জরিমানা

নাগরপুরে অবৈধ ড্রেজার চালানোর দায়ে জেল-জরিমানা

নাগরপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সড়ক পরিবহন আইন বাস্তবায়নে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার (৬ মে) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দুই ব্যক্তিকে বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন বিনষ্ট করা হয়েছে। অভিযান পরিচালনা করেন, নাগরপুরের উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দ্বীপ ভৌমিক। জানা যায়, উপজেলার ভাদ্রা বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সড়ক পরিবহন সংরক্ষণ আইন, ২০১৮-এর ৪ ও ৬৬ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে মো. সজীব খানকে ১৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। দণ্ডিত সজীব খান উপজেলার টেংরীপাড়া গ্রামের মো. আকবর হোসেনের ছেলে। একই দিনে দপ্তিয়র এলাকায় অপর এক অভিযানে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করায় লিটন নামে এক ব্যক্তিকে ৩ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। দণ্ডিত লিটন ভূগোলহাট গ্রামের মো. আমির হোসেনের ছেলে। এছাড়া জনস্বার্থ রক্ষায় নিশ্চিন্তপুর এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করে ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করে দেওয়া হয়। অভিযান প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপ ভৌমিক জানান, সরকারি আইন অমান্য করে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও সড়কের শৃঙ্খলা নষ্টকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় নেই। জনস্বার্থে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান আগামিতেও অব্যাহত থাকবে।

০৬ মে ২০২৬

নাগরপুরে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

নাগরপুরে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন

নাগরপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় ‘অভ্যন্তরীণ বোরো ধান ও চাল সংগ্রহ’ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে নাগরপুর খাদ্য গুদাম প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্থানীয় সংসদ সদস্য রবিউল আউয়াল লাভলুর সহধর্মিণী মনোয়ারা বেগম ওই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরফান উদ্দিনের সভাপতিত্বে ওই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম রাশেদুল হাসান, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মুক্তা রানী সাহা, খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম প্রমুখ। খাদ্য বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, চলতি বোরো মৌসুমে নাগরপুর উপজেলায় সরকারিভাবে এক হাজার ৬৯৭ মেট্রিক টন ধান এবং ৬৭৬ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতাকর্মী, খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং কৃষক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

০৫ মে ২০২৬