শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

শিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

দৃষ্টি রিপোর্ট: এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য ও দুর্যোগের মধ্যে কঠিন পদ্ধতিতে জোরপূর্বক পরীক্ষার নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষামন্ত্রী ড. আনম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগসহ নানা দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে পরীক্ষার্থীরা। এ সময় উত্তরবঙ্গগামী লেনে অন্তত ১০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা। মঙ্গলবার(১৪ জুলাই) দুপুর ১টা ২১ থেকে ২টা ৪২ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের নগরজালফৈ এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে আন্দোলনকারীরা। এ সময় শিক্ষা মন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তার পদত্যাগসহ নানা স্লোগান দেয় আন্দোলনকারীরা। এর আগে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে থেকে পরীক্ষার্থীরা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিরালা মোড়ে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। পরে সেখান থেকে আবারও বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে পরীক্ষার্থীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং মহাসড়ক অবরোধ করেন। আন্দোলনে কুমুদিনী সরকারি মহিলা কলেজ, মাহমুদুল হাসান আদর্শ মহাবিদ্যালয়সহ বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এসময় আন্দোলনকারীরা বক্তব্যে বলেন, দেশজুড়ের ভয়াবহ বন্যা এবং অতিবৃষ্টির কারণে অনেক পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। গতকালের এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে পরীক্ষা স্থগিত না করে উল্টো কঠিন প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষার পাশাপাশি শিক্ষামন্ত্রী নানা মন্তব্য করার এর প্রতিবাদ জানায় আন্দোলনকারীরা। এছাড়া তাদের দাবি মেনে না নিলে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন এবং পরীক্ষা বাতিল করে পুনরায় গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি জানান। এদিকে খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। সেখানে পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা আলোচনা করেন। তারা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেন। পরে শিক্ষার্থীরা তাদের অবরোধ তুলে নেন।

১৪ জুলাই ২০২৬

প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্যের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ

প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্যের ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিলাভ

এলেঙ্গা প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পাওয়ার গৌরব অর্জন করেছে প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্য (বর্ণ)। প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্য (বর্ণ) এলেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫-এ ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে। তার রোল নম্বর ৩০২২৬৫৭। প্রিয়ন্তী এলেঙ্গা জমিদার বাড়ির সন্তান। তার বাবা প্রবাল কমল ভট্টাচার্য্য ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপক এবং মা অনামিকা গোস্বামী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক। বর্তমানে প্রিয়ন্তী টাঙ্গাইল পুলিশ লাইনস আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রিয়ন্তী ভট্টাচার্য্য (বর্ণ) লেখাপড়ার পাশাপাশি সংগীতেও তার উল্লেখযোগ্য সাফল্য রয়েছে। জাতীয় শিশু পুরস্কার প্রতিযোগিতা এবং প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতায় জেলা ও ঢাকা বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিক পুরস্কার অর্জন করেছে। প্রিয়ন্তীর ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জনের খবরে পরিবার, স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে আনন্দের আবহ বিরাজ করছে। প্রিয়ন্তীর বাবা-মা বলেন, সৃষ্টিকর্তার কৃপা এবং শিক্ষকদের আন্তরিক দিকনির্দেশনা, শাসন ও ভালোবাসার ফলেই এ সাফল্য অর্জিত হয়েছে। তারা এলেঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবার কাছে প্রিয়ন্তীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য দোয়া কামনা করেন। এদিকে প্রিয়ন্তীর এ অর্জনে তার দাদা প্রদীপ কমল ভট্টাচার্য্য ও নানা মুক্তিযোদ্ধা অমল কুমার গোস্বামী শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ জানিয়েছেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, প্রিয়ন্তী ভবিষ্যতেও তার মেধার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশ ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।

১৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

দৃষ্টি রিপোর্ট: বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার(৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

০৮ জুলাই ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘জলবায়ু পরিবর্তন: আজকের পদক্ষেপ, আগামির নিরাপত্তা’ প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপন করা হয়েছে। সোমবার(৬ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসআরএম বিভাগ আয়োজিত কর্মসূচির মধ্যে ছিল- বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার, আলোচনা সভা এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ইত্যাদি। এদিন সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে বর্ণাঢ্য একটি র‌্যালি ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে এবং র‌্যালি শেষে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ইএসআরএম বিভাগের সেমিনার হলে ‘Inspired by Nature, For Climate, For Our Future’ শীর্ষক পরিবেশ বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএসআরএম বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, পরিবেশ দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রফেসর ড. মাহমুদা বিনতে লতিফ। সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবু জুবাইর, টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মহসিন হোসেন ও পূবালী ব্যাংক এলপিসির আঞ্চলিক প্রধান ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার মো. বেল্লাল হোসেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। পরে বিজয়ীদের মাঝে পুরষ্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন। বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি এবং টেকসই ভবিষ্যৎ নির্মাণে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের অঙ্গীকারকে আরও সুদৃঢ় করবে বলে আয়োজকরা আশাপ্রকাশ করেন।

০৬ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসছে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষার্থী

টাঙ্গাইলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় বসছে সাড়ে ৩২ হাজার শিক্ষার্থী

দৃষ্টি রিপোর্ট: সারাদেশের ন্যায় টাঙ্গাইলেও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সকাল ১০টায় বাংলা প্রথমপত্র দিয়ে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। এদিন সকালে জেলা প্রশাসক শরীফা হকসহ সংশ্লিষ্টরা শহরের বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। জেলা প্রশাসক শরীফা হক জানান, জেলায় এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার মোট পরীক্ষার্থী ৩২ হাজার ৮৭০ জন। ৬৫টি কেন্দ্রের ০৭টি ভেন্যুতে পরীক্ষা চলছে। এইচএসসি ২৫ হাজার ৫০৫ জন, আলিম এক হাজার ৬৩৯, এইচএসসি (ভোকেশনাল) ৩৫২ এবং এইচএসসি (বিএমএ) ৫ হাজার ৩৭৫ জন। সকল কেন্দ্র ও ভেন্যুতে শান্তিপূর্ণভাব পরীক্ষা চলছে। এখন পর্যন্ত কোন ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি।

০২ জুলাই ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই গবেষণা বিষয়ক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে এআই গবেষণা বিষয়ক সিম্পোজিয়াম অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাইবার সেন্টারের আয়োজনে ‘International Symposium in AI Research and Graduate Scholarship Pathway (AIRGSP)’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(২৮ জুন) আইসিটি বিভাগের সেমিনার গ্যালারীতে অনুষ্ঠিত সিম্পোজিয়ামে প্রধান অতিথি ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য(ভিসি) প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। সাইবার সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. জিয়াউর রহমানেসর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকার হিসেবে টিনিসি স্টেট ইউনিভার্সিটির(নাশভিল, ইউএসএ) শিক্ষক ড. রুহুল আমিন এবং টেকনিক্যাল টক হিসেবে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির মি. মাহমুদুজ্জামান বক্তব্য রাখেন। প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, মানের দিক দিয়ে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় অনেক উপরে যাচ্ছে, আরও উপরে যেতে হবে- সেটা নির্ভর করছে তোমাদের উপর। বিদেশ যাওয়া বা পড়ালেখা করাটা কঠিন কাজ নয়, এজন্য শর্তগুলো সম্পন্ন করতে হবে। তোমাদের পরিষ্কার লক্ষ্য থাকতে হবে তোমরা কী হতে চাও? এ জন্য ঐকান্তিক প্রচেষ্টাও চালাতে হবে। এসময় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. মো. ফজলুল করিম, আইসিটি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মনির মোর্শেদ, রেজিস্ট্রার ড. সাজ্জাদ ওয়াহিদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা সিম্পোজিয়ামে অংশগ্রহণ করেন।

২৮ জুন ২০২৬

শিশুদের ফল চেনা ও পুষ্টির খোঁজে ফল উৎসব

শিশুদের ফল চেনা ও পুষ্টির খোঁজে ফল উৎসব

দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘নিয়মিত দেশীয় ফল খেলে- সব ধরনের পুষ্টি মেলে’ প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের উদ্যোগে শিশুদের নিয়ে দেশীয় ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে দেশীয় ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিশু শিক্ষার্থী ও পাঠাগারের পাঠকদের সচেতন করতে ওই উৎসবের আয়োজন করা হয়। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি মো. শাহজাহানের সভাপতিত্বে পাঠাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত ফল উৎসবের আলোচনায় অংশ নেন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মো. কামরুজ্জামান, পুষ্টিবিদ মো. আব্দুল হাকিম, কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. হালিমুজ্জামান, পাঠাগারের উপদেষ্টা হাজী মো. কোরবান আলী, সদস্য হুমায়ুুন কবির, রেজোওয়ানা শরীফ, আতাউর রহমান মিন্টু, সদস্য শাকিল আহমেদ, মাহবুব হাসান আদর, সিয়াম হোসেন, পাঠাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক সীমা আক্তার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের মৌসুমী ফলের সাথে বিশ্বের কোন দেশের ফলেরই তুলনা হয় না। দেশীয় ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুণ প্রতিটি ঋতুর সঙ্গে পরিবর্তনশীল। মানব দেহের সুস্থ্যতার জন্য নিয়মিত দেশী ফল খাওয়া উচিত। পাঠাগার কর্তৃপক্ষ জানায়, বই পাঠের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়- এরই ধারাবাহিকতায় ফল উৎসবের আয়োজন করা হয়।

২৬ জুন ২০২৬

বিষাক্ত পানি পানে ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ

বিষাক্ত পানি পানে ৩২ শিক্ষার্থী অসুস্থ

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে নলকূপের পানিতে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। সেই পানি পান করে বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে কমপক্ষে ৩২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। মঙ্গলবার(২৩ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নাগরপুর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নে এ বর্বরোচিত ঘটনা ঘটে। নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা জানায়, মঙ্গলবার সকালে কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপে কৃষি জমিতে ব্যবহারের তরল কীটনাশক ঢেলে দেয়। শিক্ষার্থীরা না জেনে সেই পানি পান করার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়তে থাকে। এতে মোট ৩২ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদেরকে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ৩২ জন শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আাসে। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে। এছাড়া ৬ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে বিশ্রামের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মাহমুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি পান করে একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঘটনার আকষ্মিকতায় তারা অসুস্থ শিক্ষাথীদের হাসপাতালে নেওয়ার কাজে খুবই ব্যস্ত সময় পাড় করছেন। তিনি অসুস্থদের নাম-পরিচয় পরে জানাতে পারবেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক শিক্ষার্থী জানায়, ঝালমুড়ি খাওয়ার পর তারা কয়েকজন স্কুলের পাশের টিউবওয়েলের পানি পান করার পর বমি করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিক্ষকরা পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে তাদেরকে উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওই শিক্ষার্থী আরো জানায়, সবাই ঝরালমুড়ি খায়নি। কেউ কেউ প্রচ- গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পানি পান করে অসুস্থ হয়েছে। মামুদনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জজ কামাল জানান, কে বা কারা বিদ্যালয়ের নলকূপের পানিতে কীটনাশক বা বিষ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করায় শিক্ষার্থীরা একে এক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এটা কোনো নাশকতা কি-না তা তদন্ত করে প্রকৃত দোষী সনাক্ত করা প্রয়োজন। নাগরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নাদীর আহামেদ জানান, এই ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নলকূপের পাশ থেকে পলিথিনে ভরা সাদা পেস্টের মতো ক্রীম উদ্ধার করা হয়েছে। এই পেস্ট নলকূপের পানির মধ্যে মেশানোর কারণে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে তার ব্যক্তিগত ধারণা। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের নলকূপে এমন বিষক্রিয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুল কাদীর জানান, ৩২ জন শিশু-কিশোর শিক্ষার্থী বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে এলে তিনি তাৎক্ষণিক অন্যসব কাজ ফেলে তাদের চিকিৎসায় তৎপর হন। তাদের মধ্যে ২৯ জনকে হাসপাতালে ভর্তি, ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য স্থানান্তর(রেফার) এবং ৬ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, পুলিশ স্কুল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা এখন অনেকটাই সুস্থ। নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. এরফান উদ্দিন জানান, পানিতে কোনো কিছু মেশানো হয়েছে কিনা এটা নিশ্চিত হওয়ার জন্য নলকূপের পানি পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

২৩ জুন ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক সেমিনার

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’ বিষয়ক সেমিনার

দৃষ্টি রিপোর্ট: ‎মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ ও এলামনাই অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে ‘এআই ইন টেক্সটাইল অ্যান্ড ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি' শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় একাডেমিক ভবনে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন, উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহীদুল ইসলাম। বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ও টেক্সটাইল ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মো. আবু বকর সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অমিত সরকার। ‎সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জার্মানির হকশুলে নিডাররাইন ইউনিভার্সিটি অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস-এ টেকনিক্যাল টেক্সটাইলস বিষয়ে অধ্যয়নরত মো. শরিফুর রহমান রাকেশ। প্রবন্ধে তিনি টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং এ খাতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করেন। ‎বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী টেক্সটাইল ও ফ্যাশন শিল্পে দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ঘটছে। উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, মার্চেন্ডাইজিং, মান নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ শৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনা এবং ফ্যাশন ডিজাইনে এআইয়ের ব্যবহার দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শিক্ষার্থীদের আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।

১৩ জুন ২০২৬

ভূঞাপুরে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুযোগ না দিয়ে কেড়ে নেয়া হলো বিদ্যালয়ের চাবি!

ভূঞাপুরে দায়িত্ব হস্তান্তরের সুযোগ না দিয়ে কেড়ে নেয়া হলো বিদ্যালয়ের চাবি!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাকের কাছ থেকে এক প্রকার জবরদস্তি করে বিদ্যালয়ের চাবি কেড়ে নেওয়া হয়েছে! কর্মজীবনের শেষ দিনে(৩১ মে) ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে গেলে ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, সুবাস পাল, হাবিবুর রহমান সংগ্রাম, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক তাঁর কাছ থেকে জোর করে চাবি ছিনিয়ে নেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক এক রাত সময় চেয়ে সোমবার(১ জুন) সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসানের উপস্থিতিতে চাবি ও দায়িত্ব হস্তান্তরের আবদার করেন। কিন্তু রাতটুকু সময়ও দেননি ক্ষমতালোভী শিক্ষক শহীদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। জানা যায়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ঈদের ছুটি চলছে। ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া ছুটি শেষ হবে ৪ জুন। ৫ ও ৬ জুন শুক্রবার ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ থাকায় বিদ্যালয় খুলবে ৭ জুন। এদিকে গোবিন্দাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খন্দকার মোহাম্মদ আলীর বিদায়ের পর ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পান সহকারী প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকেরও শেষ কর্মদিবস ছিল রোববার (৩১ মে)। এর আগের থেকে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হওয়ার লক্ষ্যে সরকার দলীয় বিভিন্ন নেতার পেছনে দৌড়াতে থাকেন ক্ষমতালোভী ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম। সফল হওয়ার পথেই ছিলেন তিনি। ঈদের ছুটি থাকলেও সার্বিক খোঁজখবর নিতে রোববার বিদ্যালয়ে যান বিনয় কৃষ্ণ বসাক। এসময় সেখানে গিয়ে হাজির হন শিক্ষক শহীদুল ইসলাম, সুবাস পাল, আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাইফুল ইসলামসহ কয়েকজন শিক্ষক। দায়িত্ব ও চাবি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য তারা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে চাপ দেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক অনুরোধ করেন রাতটুকু সময় চান এবং রাত পোহালেই সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু ক্ষমতালোভী ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলাম তার সহযোগীদের নিয়ে বলপ্রয়োগ করে চাবি ছিনিয়ে নেন। এ ঘটনা বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা জানার পর তাদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশ না করে অনেকেই জানান, দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করার পর বিদ্যালয়ে ছুটি থাকায় একটি রাত সময় চাইলে তিনি পেতেই পারেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর হলে সব দিক থেকেই ভালো। এভাবে বলপ্রয়োগ করে চাবি কেড়ে নেওয়ার কোন দরকার ছিলনা। ক্ষমতার লোভ মানুষকে অন্ধ করে দেয়। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। এলাকাবাসী বিতর্কিত ধর্মীয় শিক্ষক শহীদুল ইসলামকে বাদ দিয়ে অন্য কোন সিনিয়র শিক্ষককে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিনয় কৃষ্ণ বসাক বলেন, শেষ সময়ে এমনটা আশা করিনি। কয়েকজন শিক্ষক চাপ দিয়েছে। আমি সকাল পর্যন্ত সময় চেয়েছিলাম। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে চেয়েছি- সেই সময়টুকুও আমাকে দেওয়া হয়নি। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহবুব হাসান জানান, এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে। তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের দায়িত্ব হস্তান্তর এবং আইন অনুযায়ী যোগ্য শিক্ষককে এই পদে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারসহ সংশ্লিষ্টরা কাজ করছেন।

০১ জুন ২০২৬

ঘাটাইলের ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইলের ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

ঘাটাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোবববার(১৮ মে) দিনব্যাপী উপজেলার আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘাটাইল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইজরাত জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন, আনেহলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কেএইচ মোরশেদ আলম, আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি শাহ্ আজিজুল কদর বাবু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছারওয়ার হোসেন তালুকদার প্রমুখ। এ সময় সিংগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ, যোগীহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজা আক্তার, খায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম নুরই আলম, সাইটশৈলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনিয়া খাতুন, গৌরাঙ্গী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুন নাহার খানম, গৌরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোৎস্না খাতুন, হাট কয়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন, মাকেস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফাসহ ৯টি স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালায় ছিলেন, আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল, ছেলে-মেয়েদের ১শ’ মিটার দৌঁড়, হাইজাম্প, লংজাম্প, নৃত্য ও চিত্রাঅংকন প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।

১৮ মে ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা

দৃষ্টি রিপোর্ট: বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আয়োজিত জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ওই প্রতিযোগিতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। শনিবার(১৬ মে) ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির সহযোগী বাস্তবায়নে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইঞ্জিনিয়রিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান, সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। এছাড়া বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসিরসহ অন্যান্য শিক্ষক ও আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসে দেশের মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থীদের এমন একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজনে অংশ নিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঙ্গে পথচলার এক অনুপ্রেরণাময় শুরু। আজ আমি যাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, তোমরাই আগামি দিনের বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং দেশের নেতৃত্বদানকারী নাগরিক। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি। যে জাতি প্রযুক্তিতে দক্ষ, সেই জাতিই বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও সাধারণ জ্ঞানের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশ, প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম), সেকেন্ডারী (৯ম থেকে ১০ম) ও সিনিয়র একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গ্রুপে ২৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কুইজ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম) ও সিনিয়র (একাদশ থেকে দ্বাদশ) শ্রেণির ১০১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ৩টি গ্রুপের বিজয়ী ৮ জনকে এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় ২টি গ্রুপের বিজয়ী ২০জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

১৭ মে ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া উপাচার্য শহিদুল ইসলামের যোগদান

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে নয়া উপাচার্য শহিদুল ইসলামের যোগদান

দৃষ্টি রিপোর্ট: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য(ভাইস-চ্যান্সেলর) হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন। শনিবার(১৬ মে) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পৌঁছে তিনি প্রথমে মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন এবং মাজার জিয়ারত করে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন। এরপর উপাচার্যের (ভাইস-চ্যান্সেলর) কার্যালয়ে বিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ারুল আজীম আখন্দ নতুন উপাচার্যের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্থান্তর করেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর নতুন উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিন, রেজিস্ট্রার, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট ও সকল অফিস প্রধানদের সাথে শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় করেন। উল্লেখ্য, গত ১৪ মে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য(চ্যান্সেলর) এ বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে চার বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করেন। দীর্ঘ ৪০ বছরের শিক্ষকতা, বহুমাত্রিক গবেষণা এবং বর্ণাঢ্য প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই শিক্ষাবিদকে উপাচার্য হিসেবে পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে নতুন উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে।

১৬ মে ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উপাচার্য শহিদুল ইসলাম

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়া উপাচার্য শহিদুল ইসলাম

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের সন্তোষস্থ ‎মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন উপাচার্য (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য জানানো হয়। ‎‎প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যের অনুমোদনক্রমে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০০১-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। ‎ড. শহিদুল ইসলাম বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দীর্ঘদিনের শিক্ষকতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা ও একাডেমিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয় সম্পৃক্ততা রয়েছে। ‎‎প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, উপাচার্য হিসেবে তাঁর নিয়োগের মেয়াদ যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বর্তমান পদের সমপরিমাণ বেতন-ভাতা এবং বিধি অনুযায়ী অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। ‎এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাঁকে সার্বক্ষণিকভাবে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রয়োজনবোধে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও আচার্য যেকোনো সময় এ নিয়োগ বাতিল করতে পারবেন। ‎‎নতুন উপাচার্যের নিয়োগে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশা করছেন, নতুন প্রশাসনের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন, গবেষণার পরিবেশ সম্প্রসারণ, সেশনজট নিরসন, আবাসন সংকট সমাধান এবং ক্যাম্পাসের সামগ্রিক উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীবান্ধব প্রশাসন ও স্বচ্ছ একাডেমিক পরিবেশ নিশ্চিত করার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হবে।

১৫ মে ২০২৬

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের তিন বন্ধুর পদোন্নতি

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি বিভাগের তিন বন্ধুর পদোন্নতি

মাভাবিপ্রবি প্রতিনিধি: মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগের ১ম ব্যাচের তিন শিক্ষার্থী এক সঙ্গে সোনালী ব্যাংকে সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত পদোন্নতির ফলাফলে তাঁরা এ সাফল্য অর্জন করেন বলে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) অনুষ্ঠিত বিভাগের অ্যালামনাই সূত্রে জানা যায়। পদোন্নতি প্রাপ্ত কর্মকর্তারা হচ্ছেন- মো. আরিফুল আলম, আতিয়া আক্তার এবং আব্দুল্লাহ আল মামুন। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ও আইসিটি বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁদের এই অর্জনে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় আইসিটি অ্যালামনাই, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ব্যাংকার্স ফোরাম এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। বিভাগের অ্যালামনাই কমিটি জানায়, তাদের এই সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে।

১৫ মে ২০২৬

ইউনূস-নূরজাহানের বিচার দাবি

ইউনূস-নূরজাহানের বিচার দাবি

দৃষ্টি রিপোর্ট: সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে অন্তত তিন শতাধিক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ তুলে এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের বিচারের দাবি জানিয়েছে ছাত্র সংগঠন বিপ্লবী ছাত্রমৈত্রী। একই সঙ্গে হামকে ‘মহামারি’ ঘোষণা করে তা প্রতিরোধে জরুরি ও সর্বাত্মক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বুধবার (৬ মে) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, হামের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে সাবেক প্রশাসনের চরম ব্যর্থতা রয়েছে। বিপুলসংখ্যক শিশুর প্রাণহানির জন্য তত্কালীন সরকারপ্রধান ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে দায়ী করে তাদের বিচারের দাবি জোরালোভাবে উপস্থাপন করেন নেতাকর্মীরা। বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর সাধারণ সম্পাদক জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার নিজেদের মুনাফার জন্য এভাবে শিশুদেরকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছে, এই অপরাদধে তাদের কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার।’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ৬৪টা জেলার মধ্যে ৫৮টা জেলার মধ্যে এই হামের প্রকোপ দেখা দিয়েছে।’ সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘হামকে মহামারি হিসেবে ঘোষণা করে এটিকে সর্বাত্মকভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।

০৬ মে ২০২৬

কিশোর গ্যাংয়ের আঁতুড়ঘর সমাচার

কিশোর গ্যাংয়ের আঁতুড়ঘর সমাচার

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল:: সময়ের পরিক্রমায় সমাজ বিবর্তিত হয়, কিন্তু সেই বিবর্তন যখন নেতিবাচক বাঁক নেয়, তখন তা জাতির জন্য অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়ায়। একটি জাতির প্রাণশক্তি হলো তার তরুণ প্রজন্ম। সেই তারুণ্য যখন সৃজনশীলতার পথ ছেড়ে ধ্বংসাত্মক ‘গ্যাং কালচার’-এর জালে জড়িয়ে পড়ে, তখন তা কেবল একটি সামাজিক সমস্যা থাকে না বরং জাতীয় অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। বর্তমানে বাংলাদেশে ‘কিশোরগ্যাং’ শব্দটি একটি গভীর ক্ষত ও আতঙ্কের সমার্থক হয়ে উঠেছে। তুচ্ছ ঘটনা থেকে রক্তপাত, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং ইভটিজিংয়ের মতো ভয়াবহ অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া এখন প্রাত্যহিক খবরে পরিণত হয়েছে। পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের করিডোর- সর্বত্রই এদের দাপট। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিশোর অপরাধের মাত্রা ও ধরণ উভয়ই আমূল বদলে গেছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, বর্তমানে রাজধানী ঢাকাতেই অন্তত ৮০টির বেশি কিশোরগ্যাং সক্রিয় রয়েছে। পুলিশি তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর আটটি বিভাগে অন্তত ৫২টি গ্যাং চিহ্নিত করা হয়েছে- যার মধ্যে মিরপুর বিভাগে সবচেয়ে বেশি (১৩টি গ্যাং এবং ১৭২ জন সদস্য) কিশোর অপরাধীর দৌরাত্ম্য বিদ্যমান। ২০২৩ সালে সারা দেশে পুলিশ রেকর্ডভুক্ত সদস্য সংখ্যা ছিল প্রায় ১,৩৮২ জন। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের শুরুর দিকে র‌্যাব ও পুলিশি অভিযানে শত শত কিশোর আটক হলেও অপরাধের গতি থামেনি বরং তা নিত্যনতুন এলাকায় ডালপালা মেলছে। ঢাকা শিশু আদালতের গত ১৫ বছরের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে কেবল কিশোরগ্যাংয়ের দ্বন্দ্বেই সংঘটিত হয়েছে প্রায় ২০০টি হত্যাকাণ্ড। এই তথ্যগুলো প্রমাণ করে সংকটটি এখন আর ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ নয় বরং গভীর এক কাঠামোগত সমস্যা। কিশোরগ্যাং গড়ে ওঠার আঁতুড়ঘর বিশ্লেষণ করলে তিনটি ধারাকে আমরা আনতে পারি। যথা- ১. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান: কিশোরগ্যাং গড়ে ওঠার অন্যতম প্রাথমিক কেন্দ্র হলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের করিডোর ও খেলার মাঠ। বন্ধুত্বের আড়ালে গ্যাংস্টার হওয়ার পাঠ শুরু এখানেই। অনেক ক্ষেত্রে একই স্কুলের সিনিয়র-জুনিয়র দ্বন্দ্ব বা ‘হিরোইজম’ জাহির করার মানসিকতা থেকে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি হয়। পড়াশোনার চেয়ে ‘আধিপত্য বিস্তার’ যেখানে মূখ্য হয়ে দাঁড়ায়- সেখানেই জন্ম নেয় গ্যাং কালচার। পরিসংখ্যান বলছে, গ্যাং সদস্যদের একটি বিশাল অংশই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী- যারা মূলত সহপাঠী বা বড় ভাইদের কুপ্রভাবে বিপথে ধাবিত হয়েছে। অনেক সময় কোচিং সেন্টারের আড্ডাতেও এসব গ্রুপ সক্রিয় হয়ে ওঠে। ২. রাজনৈতিক ছত্রছায়া: কিশোরগ্যাং কালচার ফুলেফেঁপে ওঠার পেছনে সবচেয়ে শক্তিশালী জ্বালানি হলো অপরাজনীতি। স্থানীয় পর্যায়ের ‘বড় ভাই’ বা রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের মিছিলে লোক বাড়ানো, প্রভাব বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে দমানোর হাতিয়ার হিসেবে কিশোরদের ব্যবহার করে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া পাওয়ার কারণে এসব কিশোর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে বলে মনে করে। রাজনৈতিক এই মদদ কিশোর অপরাধীদের মনে ‘দায়মুক্তির’ ধারণা তৈরি করে- যা তাদের বেপরোয়া ও খুনি করে তুলছে। এবং ৩. সামাজিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল অন্ধকার: প্রযুক্তির অবাধ ব্যবহার ও নৈতিক শিক্ষার অভাব কিশোরদের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে। টিকটক, লাইকির মতো প্ল্যাটফর্মে ‘ভাইরাল’ হওয়ার নেশায় কিশোররা বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও উগ্র আচরণ করে। এছাড়া মাদকের সহজলভ্যতা এবং পাড়া-মহল্লায় খেলার মাঠের অভাব তাদের সৃজনশীলতা কেড়ে নিচ্ছে। পরিবারের সাথে দূরত্বের কারণে অনেক কিশোর নিঃসঙ্গতা ঘোচাতে পাড়ার বখাটেদের সাথে মিশে গিয়ে অপরাধের জগতে পা রাখছে। বাংলাদেশে বর্তমানে কিশোর গ্যাং গড়ে ওঠার পেছনে বেশ কিছু সামাজিক, মনস্তাত্ত্বিক এবং পারিপার্শ্বিক কারণ দায়ী বলে গন্য করা হয়। প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে- (ক) সামাজিক ও পারিবারিক অস্থিরতা: মা-বাবার মধ্যে দ্বন্দ্ব, সন্তানদের পর্যাপ্ত সময় না দেওয়া বা অতিরিক্ত শাসন ও উদাসীনতা কিশোরদের বাইরে আশ্রয় খুঁজতে বাধ্য করে। বাবা-মায়ের ব্যস্ততা বা উদাসীনতার কারণে কিশোররা একাকীত্বে ভোগে এবং বাইরের সঙ্গীদের প্রতি বেশি ঝুঁঁকে পড়ে। এছাড়া ঘরে অশান্তি থাকলে কিশোররা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এবং শান্তির খোঁজে বা ক্ষোভ মেটাতে গ্যাং কালচারে জড়িয়ে যায়। (খ) হিরোইজম বা বীরত্ব প্রদর্শনের ইচ্ছা: এই বয়সে কিশোরদের মধ্যে নিজেকে ‘বড়’ বা ‘ক্ষমতাশালী’ দেখানোর একটি প্রবণতা থাকে। গ্যাংয়ের সদস্য হয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা বা অন্যদের ভয় দেখানোকে তারা বীরত্ব মনে করে। (গ) রাজনৈতিক অপব্যবহার: অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় ‘বড় ভাই’ বা রাজনৈতিক নেতারা নিজেদের স্বার্থে কিশোরদের ব্যবহার করেন। তাদের প্রশ্রয় এবং ক্ষমতার দাপট কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে সাহসী করে তোলে। (ঘ) আকাশ সংস্কৃতি ও সোশ্যাল মিডিয়ার প্রভাব: বিভিন্ন মুভি বা ওয়েব সিরিজে গ্যাংস্টার লাইফস্টাইলকে গ্ল্যামারাইজড বা আকর্ষণীয়ভাবে দেখানো হয়। টিকটক বা লাইকির মতো প্ল্যাটফর্মে সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার নেশাও তাদের গ্যাং গঠনে উৎসাহিত করে। (ঙ) মাদক, সুস্থ বিনোদনের অভাব ও অর্থলিপ্সা: মাঠের অভাব বা সুস্থ বিনোদনের সুযোগ না থাকায় কিশোররা অলস সময় কাটায়। এই অবসরে তারা মাদকের সংস্পর্শে আসে এবং মাদকের টাকা জোগাড় করতে বা দ্রুত টাকা আয়ের নেশায় তারা ছোটখাটো অপরাধী চক্রে জড়িয়ে পড়ে। ছোট সেই চক্রটিই ছিনতাই বা গ্যাংয়ের কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। এবং (চ) এলাকাভিত্তিক আধিপত্য (Senior-Junior Conflict): এলাকায় নিজেদের সিনিয়র প্রমাণ করা বা জুনিয়রদের ওপর দাপট দেখানোর মানসিকতা থেকেও ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি হয়- যা পরে বড় গ্যাংয়ে রূপ নেয়। মূলত পরিচয় সংকট (Identity Crisis) এবং নিরাপত্তাহীনতা থেকে কিশোররা গ্যাং গড়ে তোলে। যখন তারা পরিবার বা সমাজ থেকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব পায় না, তখন একটি দলের অংশ হয়ে তারা সেই গুরুত্ব বা ‘পাওয়ার’ পাওয়ার চেষ্টা করে। এছাড়া আইনের সঠিক প্রয়োগের অভাব এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি তাদের এই পথে টিকে থাকতে সাহায্য করছে। স্কুল-কলেজে বড় ভাইদের সালাম না দেওয়া বা ‘সম্মান’ না করা নিয়ে ছোটখাটো বিবাদ থেকে স্কুল বা পাড়ার বন্ধুরাই প্রথমে আড্ডা দিতে দিতে ছোট গ্রুপ তৈরি করে এবং সিনিয়রিটি-জুনিয়রিটি দ্বন্দ্ব শুরু হয়- পরে তা বড় গ্যাং- এ রূপান্তর হয়। ফেসবুক বা মেসেঞ্জার গ্রুপে চ্যাট করতে করতে তারা সংঘবদ্ধ হয় এবং পরে বাস্তবে মারামারি বা বিবাদে জড়ায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে আড্ডা দেওয়া তথাকথিত ‘বড় ভাই’রা জুনিয়রদের প্রলোভন দেখিয়ে নিজেদের দলে ভেড়ায়- এভাবেই কিশোরগ্যাং গড়ে ওঠে। কিশোরগ্যাংয়ের কারণে বর্তমানে সাধারণ মানুষের চলাফেরা দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হচ্ছে। ছিনতাই ও শ্লীলতাহানির মতো ঘটনাগুলো সরাসরি এই গ্যাং কালচারের সাথে যুক্ত। এই কিশোররা এক পর্যায়ে বড় মাপের অপরাধী সিন্ডিকেটে রূপান্তরিত হচ্ছে- যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলার ওপর প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করছে। কেবল কঠোর আইন বা জেল দিয়ে কিশোর অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। সন্তানদের বন্ধুদের সম্পর্কে খোঁজ রাখা এবং তাদের সাথে গুণগত সময় কাটানো অভিভাবকদের প্রথম দায়িত্ব। পরিবারের সদস্যদের সাথে নৈতিক শিক্ষার চর্চাও বাড়াতে হবে। এজন্য প্রয়োজন বহুমুখী উদ্যোগ। যেমন- ১. প্রাতিষ্ঠানিক বা স্কুলভিত্তিক পদক্ষেপ (School-based Measures): শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে শুধুমাত্র পাঠদানের বাইরেও নজরদারি ও সচেতনতায় গুরুত্ব দিতে হবে। স্কুল ও কলেজের প্রবেশপথ, করিডোর এবং আশেপাশের আড্ডার জায়গাগুলোতে সিসিটিভি’র নজরদারি জোরদার করতে হবে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পেশাদার কাউন্সেলর বা মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ দিতে হবে- যাতে কিশোরদের রাগ, হতাশা বা আচরণগত সমস্যাগুলো শুরুতেই সমাধান করা যায়। শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং স্কাউটিংয়ের মতো কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের ব্যস্ত রাখতে হবে- এটি তাদের দলবদ্ধ হওয়ার শক্তিকে ইতিবাচক দিকে প্রবাহিত করবে। কোনো গ্যাং বা গ্রুপের বিশেষ চিহ্ন, লোগো বা পোশাক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিষিদ্ধ করতে হবে। ২. সরকারি ও আইনি পদক্ষেপ (Government & Legal Actions): সরকার বর্তমানে কিশোর অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করেছে। বাংলাদেশ পুলিশ বর্তমানে এলাকাভিত্তিক ‘বিট পুলিশিং’ এবং সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে কিশোরগ্যাং-এর ‘গডফাদার’ বা আশ্রয়দাতাদের চিহ্নিত করছে- এটির কার্যক্রম আরো জোরদার করতে হবে। অপরাধে জড়ানো কিশোরদের সাথে শিশুবান্ধব আচরণ করে তাদের মূল ধারায় ফিরিয়ে আনতে প্রতিটি থানায় স্থাপনকৃত চাইল্ড হেল্প ডেস্কের (CADO) কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদকবিরোধী কমিটি গঠন করা হচ্ছে। কারণ কিশোরগ্যাং কালচারের সাথে মাদক ওতপ্রোতভাবে জড়িত- এক্ষেত্রে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। ৩. সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা (Social & Family Awareness): সন্তান কার সাথে মিশছে, অনলাইনে কী করছে এবং কার সাথে বাইরে আড্ডা দিচ্ছে তা নিয়মিত তদারকি করতে অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের সর্বদা সদর্ক থাকতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি মাসে অভিভাবক সমাবেশ করে সচেতনতা বাড়াতে হবে। রাজনৈতিক মিছিল বা শো-ডাউনে অপ্রাপ্তবয়স্কদের ব্যবহার না করার জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিশোররা একটি রাষ্ট্রের স্থপতি। তারা আমাদের জাতীয় সম্পদ- কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তি স্বার্থের হাতিয়ার নয়। তাদের অপরাধের আঁতুড়ঘরগুলো যদি আমরা এখনই চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে না পারি, তবে ভবিষ্যতে এক বুদ্ধিহীন ও অপরাধপ্রবণ প্রজন্মের ভার সইতে হবে। তাদেরকে সুস্থ ধারার শিক্ষায় দীক্ষিত করতে না পারলে আগামির বাংলাদেশ এক মেধাভীতি ও অস্থিরতার সম্মুখীন হবে। সময় এসেছে শিকড় থেকে এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলার। আমাদের সন্তানদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতেই হবে। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবার- সবাইকে এক হয়ে ‘কিশোরগ্যাং’ নামক এই আগুনের লেলিহান শিখা নেভাতে হবে। লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

০২ মে ২০২৬

আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল

আলিম পরীক্ষার ফরম পূরণের সময় বাড়ল

দৃষ্টি রিপোর্ট: ২০২৬ সালের আলিম পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের সময় বৃদ্ধি করেছে বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ মে পর্যন্ত ফরম পূরণ করতে পারবেন শিক্ষার্থীরা। ফি জমা দেওয়া যাবে ৭ মে পর্যন্ত। তবে পরিশোধ করতে হবে বিলম্ব ফি। মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন দেশের সব আলিম পর্যায়ের মাদরাসার অধ্যক্ষ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, বর্ধিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যাতে ফরম পূরণ থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে মাদরাসাপ্রধানদের লক্ষ রাখতে বলা হয়েছে।

০২ মে ২০২৬

পানিতে ডুবে কুমুদিনী কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যু

পানিতে ডুবে কুমুদিনী কলেজের শিক্ষার্থীর মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ: টাঙ্গাইল শহরের ঐতিহ্যবাহী সরকারি কুমুদিনী কলেজ ক্যাম্পাসের পুকুরের পানিতে ডুবে সাকিবা ইসলাম স্বর্ণা (১৭) নামে এক শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তিনি কলেজটির উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের ছাত্রী এবং ধনবাড়ী উপজেলার সরদা পাড়ার শফিকুল ইসলামের মেয়ে। কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমান জানান, এদিন বিকালে বৃষ্টিতে ভিজে কলেজের ভেতরের পুকুরে সাকিবা সহ তিন বান্ধবী গোসল করতে নামে। এ সময় দুই বান্ধবী পুকুর থেকে উঠে এলেও অসাবধানতাবশত সাকিবা পানিতে ডুবে যান। সহপাঠীরা বিষয়টি টের পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার, এলাকা ও কলেজ ক্যাম্পাসে শোকের মাতম বইছে। মরদেহ বর্তমানে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গের রয়েছে।

২৬ এপ্রিল ২০২৬