দুর্যোগ/দুর্ঘটনা

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

তিস্তার পানিতে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা

দৃষ্টি নিউজ: তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) সকাল ৯টায় নীলফামারীর ডিমলার ডালিয়া পয়েন্ট তিস্তা নদীর পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ১৪ সেন্টিমিটার, (বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার)। যা বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিস্তার পানি বেড়ে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, খগাখড়িবাড়ী, টেপাখড়িবাড়ী, খালিসা চাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী, গয়াবাড়ী ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা, ডাউয়াবাড়ী ও শৌলমারী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। ডিমলা টেপাখড়িবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম সাহিন বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে নিম্নাঞ্চলে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। পানি বাড়তে থাকলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী বলেন, তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সকাল ৯টায় বিপৎসীমার এক সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। পানি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারেজে ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।

২২ জুলাই ২০২৬

যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

যমুনার গ্রাসে টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক

দৃষ্টি রিপোর্ট: প্রমত্ত্বা যমুনার প্রবল থাবায় আকষ্মিক ভাঙনের মুখে পড়েছে টাঙ্গাইল-ভূঞাপুর-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুরের শাখারিয়া অংশ। সোমবার(২০ জুলাই) রাত থেকে শুরু হওয়া স্রোতের তীব্র গর্জনে মঙ্গলবার(২১ জুলাই) ভোরে আঞ্চলিক মহাসড়কটির একাংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। ফলে মঙ্গলবার সকাল থেকে ওই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে সব ধরনের যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন যাত্রী, পণ্যবাহী ট্রাক ও জরুরি রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সের চালকরা। বর্তমানে সব ধরনের যানবাহনকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরে বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে মূল্যবান সময় এবং দ্বিগুণ যাতায়াত ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। সড়কের একাধিক অংশ নতুন করে ভাঙনের মুখে পড়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের বাসিন্দারা। স্থানীয়রা জানায়, আঞ্চলিক মহাসড়কের শাখারিয়া অংশে সোমবার দিনগত রাতে ভাঙন দেখা দিলে তারা বাঁশ ও গাছ কেটে তীব্র স্রোত ঠেকানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষের অভিযোগ, প্রতি বছর নদী ভাঙলে পানি উন্নয়ন বোর্ড তড়িঘড়ি করে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে। কিন্তু এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। যমুনার ভয়াল গ্রাস থেকে সড়ক ও জনপদ রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগের পরিবর্তে অনতিবিলম্বে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করতে হবে। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) খবর পেয়ে ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে। ভাঙন কবলিত অংশে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। যমুনার তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। জিওব্যাগ ডাম্পিংয়ের মাধ্যমে তারা আঞ্চলিত মহাসড়কের পশ্চিমাংশে জিওব্যাগের সঙ্গে মাটি ফেলে আলাদা বাঁধ তৈরির চেষ্টা করছেন। কিছুটা সফলও হয়েছেন, এখনও ডাম্পিংয়ের কাজ চলছে। স্থানীয় রাকিব হাসান, মোর্শেদুর রহমান, আব্দুর রশিদ সহ অনেকেই জানান, ভাঙন কবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। তবে শ্রমিকদের সঙ্গে তারা মিলে রাতে নদীর প্রবল স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করেছেন। তারা যেটা করেছেন, সেটা শুধু সাময়িক প্রতিরোধ। নদীতীর রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে জিওব্যাগ কোন কাজে আসবে না। প্রতিবছর বন্যায় এ আঞ্চলিক মহাসড়কটি সংকটে পড়ে। অঞ্চলিক মহাসড়কের কয়েকটি অংশে গত বর্ষায়ও একই অবস্থা হয়েছিল। স্থানীয় প্রভাবশালী আব্দুল হালিম তালুকদার জানান, যমুনা নদী বেশ কয়েকদিন ধরেই আগ্রাসী হয়ে ওঠেছে। টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়ক এ এলাকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ মহাসড়কে যমুনার থাবা পড়লে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, সাবেক উপমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম পিন্টু ইতোমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নুরই আলম জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কে গোপালপুর উপজেলার নলিন বাজারের উত্তরে শাখারিয়া এলাকার স্লুইসগেটের দক্ষিণ পাশে ব্লক বসানো বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বেশ কয়েকটি অংশে যমুনার করাল থাবা আঘাত করে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ব্লক সে থাবা সামলাতে না পারায় ভাঙন শুরু হয়। তাৎক্ষণিকভাবে পাউবোর শ্রমিকদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজন ভাঙন প্রতিরোধে গাছ-জিওব্যাগ ডাম্পিং করে। তিনি জানান, এ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে গেলে মুহূর্তে গোপালপুর ও ভূঞাপুরের অন্তত অর্ধশতাধিক গ্রাম সহ বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হতে পারে। এতে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি এবং যোগাযোগ বিচ্ছন্ন হয়ে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে। গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ জানান, টাঙ্গাইল-তারাকান্দি আঞ্চলিক মহাসড়কের নিয়মিত খোঁজখবর রাখছেন। গত দুই দিনই তিনি ওই আঞ্চলিক মহাসড়ক পরিদর্শন করেছেন। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের(পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দীন জানান, স্থানীয়দের কাছে সংবাদ পেয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং জিওব্যাগ ডাম্পিং করে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে। শুষ্ক মৌসুমে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের যে সব জায়গা সংস্কার করা দরকার সেগুলো সংস্কার করলেই আঞ্চলিক মহাসড়ক সড়ক নিরাপদ থাকবে।

২১ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে বাস-বাইক সংঘর্ষে নারী নিহত

টাঙ্গাইল-জামালপুর সড়কে বাস-বাইক সংঘর্ষে নারী নিহত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে ধনবাড়ী উপজেলার নল্যা বাসস্ট্যান্ডের কাছে শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে যাত্রীবাহী বাস ও মোটরবাইকের সংঘর্ষে এক নারী নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় বাইকের অপর দুই আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন। নিহত নারী রিতা আক্তার(৫০) ভূঞাপুর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের স্ত্রী। তিনি স্বামী ও ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলযোগে জামালপুরের দিকে যাচ্ছিলেন। পুলিশ জানায়, ভূঞাপুর থেকে জামালপুরগামী একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে জামালপুর থেকে ঢাকাগামী একটি অজ্ঞাতনামা যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই রিতা আক্তার নিহত হন। এ দুর্ঘটনায় রিতার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন(৬০) ও ছেলে আরিফ(২৫) গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে ধনবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর(রেফার) করেন। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। খবর পেয়ে ধনবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ধনবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) নূরুস সালাম সিদ্দিক জানান, দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দুর্ঘটনায় জড়িত বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

১০ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে বন্যার আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে বন্যার আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে সম্ভাব্য মৌসুমি বন্যার পূর্বাভাস পাওয়ার পর ১০ দিন আগে থেকেই কীভাবে ধাপে ধাপে আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করে জীবন, জীবিকা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি কমানো যায় এবং বন্যাকালে নৌদুর্ঘটনা ঘটলে কীভাবে দ্রুত উদ্ধার ও প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা যায় সে লক্ষ্যে ‘আগাম পূর্বাভাস ভিত্তিক বন্যা প্রস্তুতি মহড়া’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৯ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত মহড়ায় প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ) মো. সেলিম মিঞা। ষ্টার্ট নেটওয়ার্ক সহযোগিতায় ও মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর বাস্তবায়নে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মাহমুদনগর ইউনিয়নের ধলেশ্বরী নদীর তীরে বালিয়াপাড়া এলাকায় ওই প্রস্তুতি মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মাহমুদ নগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শেখ আব্দুস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা ত্রাণ ও পূনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আখতারুজ্জামান, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা(পিআইও) মোহাম্মদ একরামুল হক, মানব মুক্তি সংস্থা (এমএমএস) এর সমন্বয়কারী মিজানুর রহমান, প্রজেক্ট ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমান, ম্যানেজার(এডমিন) রবিউল ইসলাম, মনিটরিং অফিসার সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

০৯ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮

টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮

মু. আবিদ মল্লিক জয়: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও উত্তরবঙ্গের গাড়িচালকদের মাত্রাতিরিক্ত ওভারটেকিং প্রবণতা, সার্ভিসলেন আটকে রাখায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৩০টি তাজা প্রাণ। এই সময়ে ছোট-বড় ১০৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন। একই সময়ে রেল লাইনের টাঙ্গাইল অংশে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৮ জন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। মে মাসেই সর্বোচ্চ ৩৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে গত ২৫ মে দুপুরে কালিহাতী উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যেখানে আহত হন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়িই ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন এবং জুন মাসে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জন করে, এপ্রিলে ১৮ জন এবং জুনে ৬ জন রয়েছেন। অপরদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ছয় মাসে টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২ জন এবং মে মাসে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জুন মাসে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার। এদিকে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে মোট ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রহিম, রাফসান জামিল, আরমান শেখ, সাইফুল্লাহ সহ অনেকেই জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এই মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল। দুই পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা। টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানান, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অদক্ষ চালক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকেন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবেনা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তিনি জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে উঠে অনেক মোটরসাইকেল চালকেরা গাড়ি চালাচ্ছেন। সেটা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতি থেকে সরে আসতে হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষযে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

০৯ জুলাই ২০২৬

মধুপুরে প্রাইভেটকারের চাপায় ভারসাম্যহীন নারী নিহত

মধুপুরে প্রাইভেটকারের চাপায় ভারসাম্যহীন নারী নিহত

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইল-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুরে রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রাইভেটকারের চাপায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন অজ্ঞাত নারী নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর উপজেলার গোলাবাড়ী ইউনিয়নের নেকিবাড়ি বাসস্ট্যাণ্ডে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এদিন সকালে নেকিবাড়ি বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায় আঞ্চলিক মহাসড়ক পার হচ্ছিলেন ওই নারী। এ সময় দ্রুতগতির একটি প্রাইভেটকার তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান। নিহত নারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে ধারণা করছেন স্থানীয়রা। পরে খবর পেয়ে মধুপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি দল আঙুলের ছাপ ও প্রযুক্তির সহায়তায় নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করছে। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, খবর পেয়ে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

০৭ জুলাই ২০২৬

দেশে জুলাই-আগস্টে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

দেশে জুলাই-আগস্টে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা

দৃষ্টি নিউজ: চলতি বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সারদার উদয় রায়হান গণমাধ্যমকে বলেছেন, জলবায়ুগত কারণে বাংলাদেশে জুলাই ও আগস্ট মাসে সব সময়ই বন্যার ঝুঁকি থাকে। এ সময়ে দেশের প্রধান নদীগুলোর অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যা দেশে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, সে কারণেই চলতি বছরের জুলাই ও আগস্টে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদী অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে বর্ষা মৌসুমের এই মধ্যবর্তী সময়েই দেশে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা হয়েছে। ১৯৮৮ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অতিবৃষ্টির ফলে ভয়াবহ বন্যায় দেশের প্রায় ৮২ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ ভূখণ্ড প্লাবিত হয়েছিল। একইভাবে ১৯৯৮ সালের বন্যা জুলাই ও আগস্টজুড়ে দুই মাসেরও বেশি সময় স্থায়ী হয়। ওই বন্যায় এক হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং প্রায় ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) মানুষ সাময়িকভাবে বাস্তুচ্যুত বা পানিবন্দি হয়ে পড়েন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা- এই দুই বৃহৎ নদী অববাহিকায় একই সময়ে পানির উচ্চপ্রবাহ দেখা দেওয়াই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। ২০০৪ সালে জুলাইয়ের শেষ দিকে ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীর পানির সর্বোচ্চ প্রবাহ একসঙ্গে মিলিত হওয়ায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় এবং শুধু উত্তর-পূর্বাঞ্চলেই প্রায় ৩০ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্লাবিত হয়। ২০২২ সালের মেঘনা অববাহিকার বন্যা এবং ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় সম্মিলিতভাবে এক কোটি ৩০ লাখের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, যা উজানের অতিবৃষ্টির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকির বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে। সারদার উদয় রায়হান বলেন, বর্তমানে এফএফডব্লিউসি দেশের অভ্যন্তরীণ নদী অববাহিকার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন আগেই বন্যার পূর্বাভাস দিতে সক্ষম। তবে, উপকূলীয় নদীগুলোর ক্ষেত্রে তিনদিন আগে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। দেশের নদ-নদীর বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বর্তমানে ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। তবে, আগামী পাঁচ থেকে ছয় দিনের মধ্যে পরিস্থিতি স্থিতিশীল হতে পারে। অববাহিকা ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত না হওয়ায় আগামী কয়েক দিন মেঘনা নদী অববাহিকার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে জানিয়ে এফএফডব্লিউসির এই নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, চলতি মাসে বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলের নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) এফএফডব্লিউসি প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদী ব্যবস্থার পানির স্তর কমেছে। তবে, আগামী চার দিনে পানির স্তর বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পঞ্চম দিনে তা স্থিতিশীল থাকতে পারে। পূর্বাভাসে বলা হয়, আগামী ৪ থেকে ৭ জুলাই (দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন) পর্যন্ত কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলায় ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। এতে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আগামি পাঁচ দিনে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানির স্তর বৃদ্ধি অব্যাহত থাকতে পারে। তবে, তা বিপৎসীমার নিচেই প্রবাহিত হবে। এছাড়া, আগামী ৭২ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা (উচ্চ মেঘনা) নদ-নদীর পানি সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলায় সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে। ফলে সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কিছু এলাকা প্লাবিত থাকতে পারে। বর্তমানে নীলফামারীর ডালিয়া ও লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর তারাপুর পয়েন্ট, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুনামগঞ্জের মারকুলিতে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় সোমেশ্বরী নদীর পানি নিজ নিজ সতর্কসীমায় প্রবাহিত হচ্ছে।

০৩ জুলাই ২০২৬

ছাগল ছানা উদ্ধারে গিয়ে চার গারো আদিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ছাগল ছানা উদ্ধারে গিয়ে চার গারো আদিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার জলই এলাকায় একটি পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকে পড়ে যাওয়া ছাগল ছানা উদ্ধার করতে গিয়ে একে একে ট্যাংকের ভেতরে ঢুকে চারজন গারো আদিবাসীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মধুপুর উপজেলার টেলকি-জলই এলাকায় এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হচ্ছেন- জলই গ্রামের গ্র্যাব্রিয়েল নকরেক (৪৫), একই গ্রামের রতন নকরেক (২৫), বাবলু হাদিমা (৩৫) এবং নেইমার ম্রং(১০)। তাদের মধ্যে বাবুল হাদিমা-নেইমার ম্রং পিতা-পুত্র। অন্যরা প্রতিবেশি। স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকালে একটি ছাগল ছানা পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যায়। ছাগল ছানাটিকে উদ্ধার করার জন্য প্রথমে গ্র্যাব্রিয়েল নকরেক (৪৫) ট্যাংকের ভেতরে নামেন। কিছুক্ষণ পর তিনি কোনো সাড়া না দিলে তাকে উদ্ধারের জন্য একে একে আরও তিনজন ট্যাংকের ভেতরে নেমে আর ফিরে আসেনি। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করলে তারা মধুপুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর ট্যাংকের ভেতর থেকে চার জনের মরদেহ এবং ছাগল ছানাটি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিত্যক্ত সেফটিক ট্যাংকের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস জমে থাকার কারণে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে প্রকৃত কারণ তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এ মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো টেলকি-জলই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারি হয়ে উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। মধুপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সহকারী স্টেশন কর্মকর্তা লাভলু তরফদার জানান, বাবুল হাদিমার একটি ছাগলছানা টেলকি বাজারের উত্তর-পশ্চিম পাশে জলই গ্রামে মসজিদসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত কূপে পড়ে যায়। ছাগল ছানাটি তুলতে প্রথমে কূপে নামে কিশোর নেইমার। কিছু সময় পার হয়ে গেলেও তার কোনো সাড়া না পেয়ে পরে কূপে নামেন বাবুল হাদিমা। এরপর একে একে কূপে নামা চারজনের কারও সাড়া না পেয়ে স্থানীয়রা ডাকাডাকি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে অক্সিজেনশূন্য পরিত্যক্ত কূপে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে ফায়ার ফাইটার মনিরকে নামিয়ে একে একে চারজনের মরদেহ এবং ছাগল ছানাটির মৃতদেহ উদ্ধার করে। মধুপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, ফায়ার সার্ভিসের কাছ থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

২০ জুন ২০২৬

পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার সলিল সমাধি

পানিতে ডুবে চাচা-ভাতিজার সলিল সমাধি

দেলদুয়ার প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলায় আটিয়া ইউনিয়নের নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে শুক্রবার (১৯ জুন) দুপুরে পুকুরের পানিতে ডুবে চাচা ভাতিজার মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হচ্ছেন- দেলদুয়ার উপজেলার নাল্লাপাড়া গ্রামের রিপন চৌধুরীর ছেলে আব্দুর রহমান(১২) এবং একই গ্রামের নুর মোহাম্মদের ছেলে ফয়সাল(৭)। সম্পর্কে তারা চাচা-ভাতিজা। দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাখাওয়াত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয়রা জানায়, শুক্রবার সকালে দুই শিশু সাইকেল নিয়ে নাল্লাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে যায়। খেলার একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের পাশের পুকুরে তারা গোসল করতে নামে। গোসলের সময় ভাতিজা ফয়সাল পানিতে ডুবে গেলে চাচা আব্দুর রহমান তাকে বাঁচাতে গিয়ে দুজনেই মারা যায়। পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি দেখতে পেয়ে তাদের উদ্ধার করে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করে। আতিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক জানান, মৃত দুই শিশু সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। তারা সাইকেল নিয়ে বাড়ির পাশে স্কুলের খেলার মাঠে খেলতে যায়। খেলা শেষে দুজনে পাশের একটি দোকানে কলা খেয়ে পুকুরে গোসলে নামে। গোসলের সময় সম্ভবত সাত বছরের ফয়সাল পানিতে ডুবে যায়। তাকে উদ্ধার করতে আব্দুর রহমান যায়। সেখানে উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়ে দুজনেই পানিতে ডুবে মারা যায়। এরপর পথচারীরা একজনকে ভাসতে দেখে ছুটে গিয়ে দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। দেলদুয়ার থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাখাওয়াত হোসেন জানান, এ দুর্ঘটনায় মৃত দুইজনের মরদেহ থানা নিয়ে আসা হয়েছে। আইনী প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

১৯ জুন ২০২৬

সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৪

সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কায় নিহত ৪

সখীপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুর-সাগরদিঘী সড়কের কালিয়া বাজার সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় (আজগরিয়া মাদ্রাসার সামনে) দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকের পেছনে পোল্ট্রি মুরগিবাহী দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় চালক ও হেলপারসহ চারজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৯ জুন) ভোর চারটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দাঁড়িয়ে থাকা ওই ট্রাকের পেছনে সজোড়ে ধাক্কা লাগায় পিকআপ ভ্যানটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই চারজনের মৃত্যু হয়। নিহতরা হচ্ছেন- জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ উপজেলার আবুল হাকিমের ছেলে পিকআপ চালক নূরনবী(৬৪), নওগাঁ জেলার পতœীতলা উপজেলার মো. পলাশের ছেলে পিকআপের হেলপার রফিকুল(১৮), নেত্রকোনা জেলার কেন্দুয়া উপজেলার মো. এরশাদের ছেলে সাগর(২২) এবং ভোলা সদরের বাসিন্দা ও বর্তমানে ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় বসবাসকারী মো. সেলিমের ছেলে সুজন(২৬)। এ সংঘর্ষে ট্রাকে বাঁশ লোড করার দায়িত্বে থাকা কর্মী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম(৪০) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তিনি টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার লক্ষীন্দর গ্রামের আফসার আলী মন্ডলের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে কালিয়া বাজার সংলগ্ন ঘোনারচালা এলাকায় একটি দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাঁশ তোলা হচ্ছিল। এ সময় বড়চওনার দিক থেকে আসা ঢাকাগামী একটি দ্রুতগতির মুরগিবাহী পিকআপ ভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওই ট্রাকের পেছনে সজোড়ে ধাক্কা দেয়। খবর পেয়ে সখীপুর থানা পুলিশ এবং সখীপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিহত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করে। দুর্ঘটনাকবলিত পিকআপ ও ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে। সখীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন এবং উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার ভোর চারটার দিকে উপজেলার কালিয়া ঘোনারচালা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশভর্তি ট্রাকে মুরগিবাহী পিকআপের ধাক্কায় চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মরদেহ সখীপুর থানায় রাখা হয়েছে এবং তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। স্বজনেরা এলে আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। দুর্ঘটনা কবলিত ট্রাক ও পিকআপ ভ্যানটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।

০৯ জুন ২০২৬

কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

কালিহাতীতে ট্রেনে কাটা পড়ে গৃহবধূর মৃত্যু

কালিহাতী প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা উপজেলার সল্লা এলাকায় সোমবার(৮ জুন) সকালে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনে কাটা পড়ে মুক্তা আক্তার (২৭) নামে এক গৃহবধূর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের মীরহামজানি গ্রামের সুজন মিয়ার স্ত্রী। জানা যায়, সোমবার সকালে সল্লা এলাকায় অরক্ষিত রেলক্রসিং পাড় হওয়ার সময় দ্রুতগতির নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মুক্তা আক্তারের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা জানায়, ট্রেন আসার সময় ওই নারী অরক্ষিত রেলক্রসিং পাড় হচ্ছিলেন। এ সময় দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। সল্লা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শামীম প্রামাণিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশকে খবর দিয়েছেন। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। এ দুর্ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

০৮ জুন ২০২৬

দেলদুয়ারে বজ্রপাতে বাবা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

দেলদুয়ারে বজ্রপাতে বাবা-মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার ফাজিলহাটি ইউনিয়নের মেরিয়াঘোনা এলাকায় শুক্রবার (৫ জুন) দুপরের দিকে বজ্রপাতে বাবা ও মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বজ্রপাতে আরো দুটি গবাদি পশুর মারাগেছে। দেলদুযার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জোহরা সুলতানা যূথী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত বাবা-মেয়ে হচ্ছেন- দেলদুয়ার উপজেলা সদরের মাদারকোল গ্রামের মো. আয়নাল হকের ছেলে খালিদুল ইসলাম (৩০) ও খালিদুলের মেয়ে খাদিজা আক্তার (৮)। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, শুক্রবার খালিদুল স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শশুরবাড়ি ফাজিলহাটি ইউনিয়নের পুটিয়াজানী গ্রামে যান। এদিন দুপুরে পার্শ্ববর্তী মেরুয়াঘোনা গ্রামে আরেক আত্মীয়ের বাড়িতে দাওয়াত খাওয়ার উদ্দেশে যাত্রা পথে শাহধারীপাড়া নামক স্থানে সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে নামার সময় বজ্রপাত হয়। সেখানে আকাশে মেঘ জমে বৃষ্টি শুরুর আগে ওই এলাকায় ঘন ঘন বজ্রপাত হতে থাকলে পরিবারের অন্য সদস্যরা সবাই আত্মীয়ের বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়েন। এ সময় সিএনজি চালিত অটোরিকশা থেকে বাবা-মেয়ে নেমে পাঁচ গজ এগিয়ে গেলে হঠাৎ তাদের উপর বজ্রপাত আঘাত হানে। এতে বাবা-মেয়ের আকস্মিক মৃত্যু হয়। তাদের মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ওই দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং এলাকাবাসী নিহতদের বাড়িতে ছুটে যান। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্তনা দেন এবং গভীর সমবেদনা জানান। দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার জহুরা সুলতানা যূথি জানান, শুক্রবার দুপুরের পরে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিসহ বজ্রপাত হয়। এরই এক পর্যায়ে উপজেলার খালেদুল এবং তার মেয়ের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহত মেয়ে খাদিজা তার বাবা খালিদুলের কোলে ছিল। খাদিজা দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

০৫ জুন ২০২৬

ফসলি মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পাঁচ গরুর মৃত্যু

ফসলি মাঠে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে পাঁচ গরুর মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বীরবাসিন্দা ইউনিয়নের কস্তুরীপাড়া-ভেংলা গ্রামের ফসলি মাঠে বুধবার (৩ জুন) সকালে অরক্ষিত বিদ্যুৎ লাইনের বাঁশের খুঁটির সংস্পর্শে আসা পাঁচটি গরুর মৃত্যু হয়েছে। স্থানীয়রা জানায়, এলাকায় বিদ্যুৎ লাইনের একটি কাঠের খুঁটি ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে বাঁশের খুঁটি ব্যবহার করা হয়েছিল। সেটিও দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁঁকিপূর্ণ ও অরক্ষিত ছিল। বুধবার সকালে মাঠে ঘাস খেতে যাওয়া কয়েকটি গরু খুঁটির সংস্পর্শে এলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। স্থানীয়দের সতর্কতায় কয়েকটি গরু প্রাণে রক্ষা পায়। বিউবো’র কালিহাতী বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান সুমন জানান, বিষয়টি জানতে পেরে তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছেন। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জেএম তৌফিক আজম জানান, প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

০৩ জুন ২০২৬

ভূঞাপুরে বাস-বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

ভূঞাপুরে বাস-বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

ভূঞাপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বাস-মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে সুরুজ আকন্দ (৪৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে মোটরসাইকেল চালক আলম। রোববার(৩১ মে) দুপুরে উপজেলার পশ্চিম ভূঞাপুর নতুন বাইপাস রোডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ আকন্দ পশ্চিম ভূঞাপুর গ্রামের কালু আকন্দের ছেলে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভূঞাপুর বাজার থেকে আলম ও সুরুজ আকন্দ মোটরসাইকেলযোগে নিজ বাড়ি পশ্চিম ভূঞাপুরে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা তারাকান্দিগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই সুরুজ আকন্দ নিহত হন। আহত হন মোটরসাইকেল চালক আলম। তাকে ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সাব্বির রহমান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরবর্তীতে আইনী প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

৩১ মে ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে বাস খাদে পড়ে আহত ১৫

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনাসেতু মহাসড়কে বাস খাদে পড়ে আহত ১৫

দৃষ্টি রিপোর্ট: ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে উত্তরবঙ্গগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (৩০ মে) সকাল ১০টার দিকে মহাসড়কের টাঙ্গাইলের ধলাটেঙ্গর এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আহতদের মধ্যে ১২ জনের পরিচয় জানাগেছে। তারা হচ্ছেন- গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের বগলাবাড়ী গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪৩), তার ছেলে রেজা (১০), কিশোরগঞ্জ সদরের মাগরা গ্রামের ধকমলের ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৮), রংপুরের ছাড়াইগাছ গ্রামের নুর জামাল ইসলামের ছেলে আরিফ (২২), লালমনিরহাটের নবী হোসেনের ছেলে মামুন (২৫), গাজীপুর কোনাবাড়ীর আ. বারেকের ছেলে তারাজুল (৩৮), একই জেলার আমপুর এলাকার তানজে আলীর ছেলে নয়ন (৪০), শুদ্ধিগঞ্জ গ্রামের চানতারার ছেলে মেহেদি হাসান (২৬), বাখিয়া এলাকার নওশের আলীর ছেলে শাহাদাত (৩৮), কাশিমপুর এলাকার আহমদ দেওয়ানের ছেলে কামরুল (৩২), টাঙ্গাইলের কালিহাতীর রতনগঞ্জের রুবেল মিয়ার ছেলে রিয়া (২), বাসাইলের তিরঞ্জনের জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. মোসলেম (৫৫)। প্রত্যক্ষদর্শী শফিকুল ইসলামসহ আরো কয়েকজন জানান, হানিফ পরিবহনের একটি বাস রাজশাহীর দিকে যাচ্ছিল। বাসটি ঢাকার কোনো কাউন্টার থেকে আসেনি। বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে বেপরোয়া গতির বাসটি এলেঙ্গা পার হওয়ার পর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে। এ সময় বাসে ছাদ, দরজা জানালা আলাদা হয়ে যায়। এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ জানান, স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

৩০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক খাদে পড়ে ১৫ জনের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক খাদে পড়ে ১৫ জনের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ভয়াবহ ট্রাক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ১০ জন। সোমবার (২৫ মে) ভোর সাড়ে ৪ টার দিকে উত্তরবঙ্গগামী লেনে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সরাতৈল এলাকায় রডবোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশের খাদে উল্টে পড়লে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় একই সময়ে বালুবোঝাই ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। স্থানীয় এবং পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে আসা রড বোঝাই ট্রাকের ওপর যাত্রীরা ছিলেন। তারা উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। সরাতৈল এলাকায় পৌঁছালে ট্রাকটি(ঢাকা-মেট্রো-ট-১২-৫৪৭১) মহাসড়কের পাশে উল্টে যায়। দুর্ঘটনার সময় অধিকাংশ যাত্রী ঘুমিয়ে থাকায় হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ট্রাকটি খাদে পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে এলেঙ্গা ফায়ার সার্ভিস, যমুনা সেতু পূর্ব থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে ১৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং আহত অন্তত ১০ জনকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। নিহতদের মধ্যে ১২ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার রাজেন্দ্রবাড়ী গ্রামের সাকিম মিয়ার ছেলে মো. সাগর মিয়া (২০), শহিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), আব্দুর রশিদের ছেলে মো. বারিক (২১), রহিমের ছেলে বাদশা(৩২), মো. একাব্বর আলীর ছেলে ইয়াকুব(২০), সুলতানের ছেলে তারেক(২০), একই থানার পাকুরিয়া গ্রামের রশিদের ছেলে গিয়াস(২০) ও তার ভাই মাইনুল(২৮), একই জেলার নিয়ামতপুর থানার মালঞ্চী গ্রামের সাইদুলের ছেলে সারিকুল(২৫), রাজশাহী জেলার তানোর থানার বাতানপুর গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১৯), চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার নজরুল(৬০), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদরের মামুন (৪৫)। অন্যদের নাম-পরিচয় জানার চেষ্টা চলছে। আহতদের মধ্যে ৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হচ্ছেন- নওগাঁ জেলার মান্দা থানার ডেমরা গ্রামের মজিবরের ছেলে বাবু (৩৫), একই থানার হোসেনপুরের আব্দুর রহিমের ছেলে আব্দুল রহমান (৩৫), দশপাড়া গ্রামের নজরুলের ছেলে তুহিন(৩০), পাকুরিয়া গ্রামের সফেদ আলীর ছেলে আলমগীর (৪০), একই গ্রামের ছোরহাব আলীর ছেলে সিদ্দিক আলী (৪০), একই থানার রাজেন্দ্রবাড়ি গ্রামের মৃত সাহেব আলীর ছেলে খোরশেদ (২৬), ডেমরা গ্রামের শহিদুলের ছেলে সমেজ(২৭) এবং নাটোর জেলার মৃত মান্নানের ছেলে নয়ন বিশ্বাস (৩২)। তারা সবাই নোয়াখালীতে বসবাস করে হরেক মালের ব্যবসা করতেন। রডবোঝাই ট্রাকে কম ভাড়ায় ঈদ করতে তারা নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছিলেন। এদিকে উদ্ধার কাজের কারণে ভোর সাড়ে ৪টা থেকে ৫টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল সাময়িক বন্ধ ছিল। পরে সেতু পূর্ব ভূঞাপুর লিংক রোড দিয়ে ঢাকাগামী এবং পুরাতন সড়ক ব্যবহার করে উত্তরবঙ্গগামী যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করা হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এতে বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়নি বলে জানাগেছে। এদিকে, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সেতুগামী স্টক ইয়ার্ড বাইপাস সড়কে এদিন প্রায় একই সময়ে বালুবোঝাই ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে রংপুরের যাওয়ার পথে মোস্তাফিজুর রহমান(৩২) নামে এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা। যমুনা সেতু পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) খন্দকার ফুয়াদ রুহানি জানান, বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল আগের তুলনায় স্বাভাবিক রয়েছে। উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অন্যদিকে এডিদন প্রায় একই সময়ে বালুবাহী ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শামসুল আলম সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করেন। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।

২৫ মে ২০২৬

বাসাইলে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী নিহত

বাসাইলে সিএনজি-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী নিহত

বাসাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের বাসাইলে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখী সংঘর্ষে তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সকালে বাসাইলের কাশিল ইউনিয়নের বাংড়া কালীমন্দিরের সামনে ওই দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ আলমগীর কবির। নিহত শিক্ষার্থীরা হচ্ছেন- বাসাইল উপজেলার কাশিল ইউনিয়নের বাংড়া গ্রামের প্রবাসী মো. রফিক মিয়ার ছেলে তাকবির মিয়া(১৬), একই এলাকার সোলায়মানের ছেলে লিমন (১৪) এবং মো. শওকত আলীর ছেলে সাইমন(১৪)। তারা সবাই করটিয়াস্থ এইচএম ইনিস্টিটিউশনের শিক্ষার্থী। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, টাঙ্গাইলগামী বেপরোয়া গতির একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা বাসাইলের বাংড়া কালীমন্দিরের সামনে পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা তিন শিক্ষার্থী ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই তাকবির মারা যায় এবং দুজন গুরুতর আহত হয়। আহত দু’জনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। নিহত তিনজনের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে মামলা দায়ের করা হবে।

২৪ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় বুধবার(২০ মে) সকালে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ট্রাক চালক রাসেল মিয়া(২০) ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি যমুনাসেতুমুখী লেনে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া নামকস্থানে পৌঁছলে চালক ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার বিভাজকের(ডিভাইডার) ওপর উঠে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চালক রাসেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে সহোদর দুই ভাইয়ের মৃত্যু

টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে সহোদর দুই ভাইয়ের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে সহোদর দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। রোববার(১৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের পানিয়াবান্দা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে তারা মারা যায়। সহোদর দুই ভাইয়ের নাম মোবাশ্বির হোসেন(১০) ও মোস্তাফিজুর রহমান(৬)। তারা পানিয়াবান্দা গ্রামের বজলুর রহমান মজনুর ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আকবর জানান, কয়েকদিন আগে টাঙ্গাইল শহরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে বজলুর রহমান মজনুর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। দুই ভাই মায়ের সাথে ক্লিনিকেই ছিল। রোববার সকালে তারা ক্লিনিক থেকে বাড়িতে আসেন। এদিন সকাল ১০টার দিকে দুই ভাই বাড়ির পাশেই পকুর পাড়ে খেলতে যায়। এ সময় ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে যায় বড় ভাই মোবাশ্বির। দুইজনেই পানি থেকে আর উঠতে পারেনি। বাড়িতে না পেয়ে অনেক সময় ধরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে। পরে বেলা ১২টার দিকে পুকুরের পানিতে শিশুরদেহ ভাসতে দেখে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাইজ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

১৭ মে ২০২৬