ছবি
যমুনা সেতু মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট
দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২২ মে) ভোর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্র ন্তের টোলপ্লাজা থেকে কালিহাতী উপজেলার সল্লা পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। জানাগেছে, শুক্রবার ভোরে যমুনা সেতুর ওপর দুটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন সরিয়ে নিতে গিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেতুর ওপর আরও দুটি দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় এবং দ্রুত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে কালিহাতীর সল্লা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।
২২ মে ২০২৬
অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২১ মে ২০২৬
টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা
দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কাজ। আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বছরের এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয়ের সুযোগ পান তারা। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে চলছে দা, বটি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করছেন কামাররা। রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকার কামারশালার মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে অধিকাংশ মানুষ নতুন সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতিও মেরামত করাচ্ছেন। তিনি বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি বড় দা বা বঁটি আকার ও ওজনভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কামাররা জানায়, সারা বছর কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তবে কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা।
২১ মে ২০২৬
মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু
দৃষ্টি ডেস্ক: ব্যস্ত সকাল, ডেস্কে কাজের পাহাড় কিংবা দিনশেষে ক্লান্ত শরীর- এই চক্করে পড়ে জিমের মেম্বারশিপ কার্ডটা হয়তো অনেকেরই ওয়ালেটেই বন্দি হয়ে আছে। প্রতিদিন এক বা দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কথা ভাবলেই যেখানে অলসতা জেঁকে বসে, সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান শোনাল এক দারুণ আশার বাণী। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের ছোটখাটো শারীরিক পরিশ্রমই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। দীর্ঘায়ু বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে জিম বা দীর্ঘ সময়ের ভারী ওয়ার্কআউট করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘায়ু পেতে কিংবা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রমই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো মাঝারি ব্যায়াম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১ জনের অকাল মৃত্যু রোধ করতে পারে। গবেষকদের মতে, যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য এই সামান্য পরিবর্তনও দারুণ উপকারী। পাশাপাশি দৈনিক বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমাতে পারলেই প্রায় ৭% শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘এক্সারসাইজ স্নাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’ বলছেন। অর্থাৎ, সারাদিনে একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া। যেমন- রান্না করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট বা পুশ-আপ দেওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, গন্তব্যের কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে ৫ মিনিট হেঁটে যাওয়া কিংবা ঘরের মেঝে জোরে জোরে মোছা বা নাচ করা। গবেষকদের মতে, এই ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রমগুলো আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে বারবার উদ্দীপিত করে, যা শরীরচর্চা থামানোর পরও কিছুক্ষণ সচল থাকে। এ ছাড়া, ৬০ ও ৭০ এর কোঠায় থাকা মানুষদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যারোবিক ব্যায়ামের সঙ্গে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম যুক্ত করলে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও কমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের ব্যায়ামের পরামর্শ এখনো বহাল থাকলেও, গবেষকরা বলছেন- কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট নড়াচড়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বড় অর্জন। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে জীবনে গতি আনুন, সুস্থ থাকুন দীর্ঘদিন। সূত্র: বিবিসি
২১ মে ২০২৬
জেনে নিন আজকের রাশিফল
জ্যোতিষ ড. কে সি পাল: আজকের এই দিনে জন্মগ্রহণ করায় পাশ্চাত্য মতে আপনি মিথুন রাশির জাত ব্যক্তি। আপনার ওপর আজ রাশি অধিপতি বুধ, দেবগুরু বৃহস্পতি ও সেনাপতি মঙ্গলের প্রভাব বিদ্যমান। আপনার সঙ্গে মীন রাশির বন্ধুত্ব শুভফল প্রদান করবে। শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি স্মরণীয় হবে। কর্ম ব্যবসায় বাড়তি দায়িত্ব ভার বর্তাবে। পিতামাতা গুরুজনদের পূর্ণ সহযোগিতা পাবেন। নিত্য নতুন প্লান প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হবে। দীর্ঘদিনের আটকে থাকা কাজ সচল হবে। মেষ [২১ মার্চ-২০ এপ্রিল] : কর্মের সুনাম যশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে। ধৈর্য সাহস মনোবল জনবল বাড়বে। গৃহ বাড়িতে মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হবে। বিদেশ গমন ও স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলতে পারে। রাগ জেদ হঠকারী সিদ্ধান্ত ঘাতক বলে প্রমাণিত হবে। বৃষ [২১ এপ্রিল-২০ মে] : শূন্য পকেট পূর্ণ হয়ে উঠবে। গৃহবাড়ি ভূমি সম্পত্তি ও যানবাহন ক্রয়ের স্বপ্ন পূরণ হবে। অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের অভাব ঘুচবে। ব্যাংক ব্যালেন্স ফুলেফেঁপে উঠবে। বিদেশ গমনেচ্ছুদের বিদেশ গমনের পথ খুলবে। দীর্ঘদিনের ধারকর্জ ঋণ মুক্তির পথ প্রশস্ত হবে। মিথুন [২১ মে-২০ জুন] : নিত্যনতুন স্বপ্ন পূরণের সম্ভবনা। ঝটকা উপার্জনের পথ খুলবে। পরিবারে ছোট্ট মুখের আগমন ঘটতে পারে। গৃহবাড়িতে নতুন আসবাবপত্র আসতে পারে। দুর্যোগের মেঘ কাটতে আরম্ভ করবে। প্রেমীযুগলের জন দিনটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। কর্কট [২১ জুন-২০ জুলাই] : ব্যবসা-বাণিজ্যে লোকসান গুনতে হবে। দাম্পত্য সুখ-শান্তি প্রতিষ্ঠা বজায় রাখতে জীবনসাথীর মতামতকে গুরুত্ব দিন। দূর থেকে আসা কোনো অপ্রিয় সংবাদ আসতে পারে। সংকটকালে স্বজনরা দূরে থেকে মজা দেখবে। দ্বিচক্রযান বর্জন করুন। সিংহ [২১ জুলাই-২০ আগস্ট] : সফলতার চাবি হাতের মুঠোয় আসবে। ধারকর্জ ঋণমুক্ত হবে। বিজয়ের বরমাল্য হাত বাড়িয়ে ধরবে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যা বুদ্ধি জ্ঞান গরিমা দিয়ে জীবন গড়বে। পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটতে পারে। বিদেশে অবস্থানরতদের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পথ খুলবে। কন্যা [২২ আগস্ট-২২ সেপ্টেম্বর] : কর্ম অর্থ যশ খ্যাতি প্রতিপত্তি পূর্ণ রাজকীয় দিন উপভোগ করবেন। নিত্যনতুন বাণিজ্যিক স্বপ্ন পূরণ হবে। শিক্ষার্থীরা মৌজমস্তিতে কাটাবে। লৌকিকতা পরিহার করুন। শত্রু ও বিরোধীপক্ষরা পরাস্ত হবে। নেশা মদ্য থেকে দূরে থাকুন। তুলা [২৩ সেপ্টেম্বর-২২ অক্টোবর] : ভাগ্যলক্ষ্মী আপনাদের দ্বারে এসে টোক্কা মারবে। নিত্যনতুন প্ল্যানপ্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হবে। মন ধর্ম ও পরোপকারের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। সন্তানদের ক্যারিয়ার চমকে দেবে। পিতামাতার কাছ থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। প্রেমীযুগলের প্রেম সমাজে স্বীকৃতি পাবে। বৃশ্চিক [২৩ অক্টোবর-২১ নভেম্বর] : সন্তানদের গতিবিধির ওপর নজর দিন। টাকা-পয়সা হাতে আসার আগেই খরচের খাত তৈরি হয়ে যাবে। ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দাভাব বিরাজ করবে। শ্রমিক-কর্মচারী ওপর তীক্ষ্ম নজর রাখুন। অপরিচিত কাউকে আশ্রয় দেওয়া খাল কেটে কুমির আনার সমান হবে। ধনু [২২ নভেম্বর-২০ ডিসেম্বর] : বিবাহযোগ্যদের বিবাহের সানাই বাজবে। প্রতিযোগিতায় জয়ী হবার সম্ভাবনা। পরিবারে ছোট্ট নতুন মুখের আগমন ঘটবে। দীর্ঘদিনের দাম্পত্য কলহবিবাদের মীমাংসা হবে। সঞ্চয়ী ও মিতব্যয়ী হতে হবে। জীবনসঙ্গীরা কর্ম পেতে পারে। মকর [২১ ডিসেম্বর-১৯ জানুয়ারি] : কর্মে অমনোযোগ ও ব্যবসায় মন্দাভাব বিরাজ করবে। আয় উপার্জনের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্যতা রক্ষা করা কঠিন হবে। সিজনাল রোগব্যাধির প্রকোপ বাড়তে পারে। শিক্ষার্থীদের মন ফেসবুক ইউটিউব প্রেম প্রসঙ্গের প্রতি আকৃষ্ট থাকবে। কুম্ভ [২০ জানুয়ারি-১৮ ফেব্রুয়ারি] : গৃহবাড়ি ও যানবাহন বদলের জন্য দিনটি রেকর্ড হয়ে থাকবে। কর্ম ব্যবসায় বাড়তি দায়িত্ব পাবেন। হারানো পিতৃমাতৃ ধন সম্পদ সম্পত্তি প্রাপ্তির সম্ভাবনা। শিক্ষার্থীদের মনোবাসনা পূর্ণ হবে। শত্রুরা পিছু হটবে। গৃহবাড়িতে কোনো না কোনো মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান হবে। মীন [১৯ ফেব্রুয়ারি-২০ মার্চ] : জীবনসাথী ও শ্বশুরালয় থেকে ভরপুর সহযোগিতা পাবেন। হারানো ধন সম্পদ সম্পত্তি পুনরুদ্ধার হবে। গৃহবাড়ি অতিথি সমাগমে মুখর হয়ে থাকবে। দ্বিচক্রযান বর্জনীয়। চতুর্দিক থেকে তরতাজা উন্নতি করবেন। কন্যা সন্তানদের সাফল্যে গৌরবান্বিত হবেন।
২১ মে ২০২৬
মে মাসে জোড়া রাজযোগ- ডাবল ধামাকায় ভাগ্যে ম্যাজিক কোন কোন রাশির?
দৃষ্টি ডেস্ক: জ্যোতিষ বিচার অনুযায়ী মে মাসটি তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। এই মাসে থাকবে বুধাদিত্য রাজযোগ ও মালব্য রাজযোগ। জানুন জোড়া রাজযোগের প্রভাবে মে ২০২৬ কেমন কাটবে বিভিন্ন রাশির জাতকদের। মে মাসের রাশিচক্র বিশ্লেষণ করেছেন ভারতের জ্যোতিষ শ্রমণা গোস্বামী। জ্যোতিষ গণনা অনুযায়ী এই বছরের মে মাস নানা কারণে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মে মাসে নিজের রাশি বৃষতে গোচর করবে শুক্র। বৃষ রাশিতে এসে শুক্রের শক্তি বৃদ্ধি হওয়ার ফলে গঠিত হবে মালব্য রাজযোগ। পাশাপাশি মে মাসে বুধ ও সূর্য মিথুন রাশিতে একত্র অবস্থান করবে। বুধ ও সূর্যের যুতিতে বুধাদিত্য রাজযোগ গঠিত হবে। এই শুভ যোগের প্রভাবে মে ২০২৬ বিভিন্ন রাশির জাতকদের কার কেমন কাটবে তা জেনে নিন। মেষ রাশি: কর্মক্ষেত্রে লাভের যোগ থাকবে। বড় কাজের দায়িত্ব পাবেন। চাকরিজীবীদের পদোন্নতি সম্ভব। পৈতৃক সম্পত্তির অংশ পাবেন। সুখবর পেতে পারেন। বৃষ রাশি: অতিরিক্ত কাজের কারণে স্বাস্থ্য দুর্বল হতে পারে। প্রশানসিক ক্ষেত্রে বড় বিবাদে জড়িয়ে পড়তে পারেন। শত্রু আপনার গতিবিধির ওপর নজর রাখবে। আপনার পেছনে কোনও বড় ষড়যন্ত্র হতে পারে। চাকরিজীবীরা বিপদে পড়তে পারেন। মিথুন রাশি: বড়সড় আর্থিক লোকসান সম্ভব। কারও কথা শুনে অর্থ লগ্নি করবেন না। কর্মক্ষেত্রে ওঠাপড়া থাকবে। চাকরিজীবীদের জন্য সময়টা প্রতিকূল। কোনও মিথ্যা দায়ে অভিযুক্ত করা হতে পারে। কর্কট রাশি: নিজের বিচারবুদ্ধি দিয়ে সমস্যার সমাধান করুন। কাজের চাপের কারণে অসুস্থ হতে পারেন। নতুন কাজে সবার সহযোগিতা পাবেন। আর্থিক দিক দিয়ে সময়টা ভালো। বন্ধু বা শ্বশুরবাড়ির তরফে আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন। সিংহ রাশি: আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হবে। কর্মক্ষেত্রে বড় সাফল্য পেতে পারেন। ব্য়বসায় লাভ হবে। আর্থিক ভাবে উন্নতি হতে পারে। চাকরিতে পদোন্নতি হবে। কন্যা রাশি: কর্মক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন। পরিবারের সঙ্গে ভালো সময় কাটাবেন। স্বাস্থ্য ভালো থাকবে না। মাসের শেষের দিকে লাভের যোগ রয়েছে। তুলা রাশি: জীবনে নানা সমস্যা থাকবে। পরিবারের সদস্যদের শরীর খারাপ হতে পারে। আর্থিক দিক দিয়ে চিন্তিত থাকবেন। ব্যবসায় লোকসান হতে পারে। বন্ধুদের থেকে আর্থিক সাহায্য পেতে পারেন। বৃশ্চিক রাশি: মাসের শুরুতে আটকে থাকা কাজ সম্পন্ন হবে। বিশিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে। কর্মক্ষেত্রে লাভবান হবেন। ব্যবসায়ীদের জন্য এই মাসটি ভালো। আর্থিক দিক দিয়ে লাভ হবে। ধনু রাশি: কর্মক্ষেত্রে লাভের যোগ রয়েছে। বহুদিন ধরে ব্যবসায় থাকা সমস্যা দূর হবে। পরিবারে শুভ অনুষ্ঠান আয়োজিত হবে। চাকরিজীবীদের অধিক দৌঁড়ঝাপ করতে হবে। রাজনীতিবিরা বিশেষ পদ পেতে পারেন। মকর রাশি: সেপ্টেম্বর মাস নানা সমস্যায় ভরপুর। নতুন কাজ শুরু করলে সময় নষ্ট হবে। গোপন কথা ফাঁস হওয়ায় কাজ ভেস্তে যেতে পারে। পরিবারে সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ দেখা দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে আর্থিক সাহায্য নিতে হবে। কুম্ভ রাশি: আর্থিক জীবনে ওঠাপড়া থাকবে। পরিবারের কোনও সদস্যের স্বাস্থ্য খারাপ হতে পারে। কর্মক্ষেত্রে বিরোধীরা সক্রিয় হবেন। মাসের শেষে কেরিয়ারে লাভের যোগ রয়েছে। সন্তানের পড়াশোনার কারণে চিন্তিত থাকবেন। মীন রাশি: মাসের শুরুতে কর্মক্ষেত্রে লাভের যোগ রয়েছে। নিজের ব্যবসা শুরু করতে পারেন। পরিবার ও জীবনসঙ্গীর সহযোগিতা লাভ করবেন। আবহাওয়ার কারণে স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে। পরিবারের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার পরিকল্পনা করতে পারেন।
২১ মে ২০২৬
বাংলাদেশকে রীতিমতো ‘বেচে’ দিয়েছেন ড. ইউনূস!
দৃষ্টি রিপোর্ট: শেখ হাসিনার পতনের ঠিক ৩ দিনের মাথায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন নিজের হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে নিলেন, সবাই ভেবেছিলেন—অবশেষে বেঁচে গেল বাংলাদেশ! এবার শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। কিন্তু মানুষের সেই স্বপ্ন যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকল! বিদায়ের ঠিক কয়েকদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান যা করে গেলেন; বিশ্লেষকদের মতে- বাংলাদেশের ইতিহাসের কোনো শাসক এমনটা করেননি। স্পষ্ট করে বলতে গেলে দেশের এমন সর্বনাশ কেউ করেনি বলেই মত বিশ্লেষকদের। ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে নেওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। চুক্তির শর্ত, ভাষাগত কাঠামো এবং দুই দেশের বাধ্যবাধকতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এতে বাংলাদেশের বাজারে কিছু খাতে শুল্ক ছাড়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে নীতি-স্বাধীনতার ওপর চাপও বাড়তে পারে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তিটির নাম অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)। বাংলায় এর অর্থ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি। ‘রিসিপ্রোকাল’ শব্দটির অর্থ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে সমান আদান-প্রদান। সমতার ভিত্তিতে দেওয়া-নেওয়ার কথা বলা হলেও, ৩২ পৃষ্ঠার দলিলটি হাতে নিয়ে একবার পাতা উল্টালেই চোখ কপালে ওঠার মতো অনেক বিষয় সামনে আসে! দেশে তখন নির্বাচনের হাওয়া। ড. ইউনূসের সরকার বিদায় নিতে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই নিঃশব্দে দেশের ভবিষ্যৎকে একটি চুক্তির ভেতরে বেঁধে দিয়ে যাওয়া হয়। যখন দেশের মানুষ বিষয়টি টের পেল, ততক্ষণে যা হওয়ার, তা হয়ে গেছে! এই চুক্তির ভেতরের বিষয় বুঝতে হলে আগে একটি সহজ ব্যাকরণ বুঝতে হবে। ইংরেজি আইনি ভাষায় ‘শ্যাল’ মানে বাধ্যতামূলক, অর্থাৎ এটি করতেই হবে। আর ‘উইল’ মানে ইচ্ছাধীন, চাইলে করা যাবে, না চাইলে বাধ্যবাধকতা নেই। ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে ‘শ্যাল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে মোট ১৭৯ বার, আর ‘উইল’ এসেছে মাত্র তিনবার। এখন প্রশ্ন হলো, বাধ্যবাধকতার ভার কার কাঁধে বেশি পড়েছে? চুক্তির এই ১৭৯টি ‘শ্যাল’-এর মধ্যে বাংলাদেশের ওপর বাধ্যবাধকতা এসেছে ১৩১ বার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ‘শ্যাল’ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ছয়বার। অর্থাৎ এই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ১৩১টি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে শর্ত মানতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য থাকবে মাত্র ছয়টি ক্ষেত্রে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটাই তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ চুক্তির আসল চেহারা। তাদের মতে, এটি আসলে কোনো সমতার চুক্তি নয়; বরং একটি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দলিলের নমুনা। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, সেই তালিকা এত দীর্ঘ যে পুরোটা বলতে গেলে আলাদা একটি বই হয়ে যাবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজারে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন বা কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চাওয়া যাবে না। এ ছাড়া মার্কিন ডিজিটাল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক কর আরোপ করা যাবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় উৎপাদকদের এমন কোনো ভর্তুকি দিতে পারবে না, যেন মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কমে যায়। এমনকি পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি রড কেনার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন ডিসির পছন্দের বাইরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। আর যদি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে নতুন বড় বাণিজ্য চুক্তি করে এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাহলে ওয়াশিংটন ডিসি পুরো এআরটি চুক্তি বাতিল করে আগের শাস্তিমূলক শুল্ক পুনর্বহালের ক্ষমতা রাখবে। অর্থাৎ চুক্তিটিও এক ধরনের শর্তসাপেক্ষ ‘অনুগ্রহ’ হিসেবেই কার্যকর থাকবে। এত কিছুর বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেল? মূলত পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য বা কম শুল্কে প্রবেশের সুযোগ। তবে সেটিও নিঃশর্ত নয়। এই সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকেই তুলা, কৃত্রিম তন্তু এবং বিভিন্ন বস্ত্র উপকরণ আমদানি করতে হবে। যত বেশি আমদানি করা হবে, তত বেশি সুবিধা মিলবে। অর্থাৎ সুবিধা পেতে হলেও নির্ভর করতে হবে তাদের ওপরই। গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশকে ৭১৩২টি মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রায় পুরোপুরি তুলে দিতে হবে। এর মধ্যে ৪৯২২টি পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। ফলে বড় ধরনের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ। ফলে একদিকে বাংলাদেশকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে, অন্যদিকে নীতিনির্ধারণেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মেনে চলার চাপ তৈরি হবে। এককথায়, লাভ সামান্য হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। একই দিনে অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র ৬০ ঘণ্টা আগে, আরও একটি বড় চুক্তি সই হয়। সেটি হলো বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় চুক্তি করা সরাসরি আইনের লঙ্ঘনের শামিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ মে চুক্তি অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আনুষ্ঠানিকভাবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটির সরবরাহ শুরু হতে পারে ২০৩১ সালের অক্টোবর থেকে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই চুক্তি নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, যখন বাংলাদেশ নিজেই অর্থসংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন এত বড় অঙ্কের চুক্তি বাস্তবতাবিবর্জিত সিদ্ধান্ত বলেই মনে হচ্ছে। অসম বাণিজ্য চুক্তি বা উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ই মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের একমাত্র সমালোচিত অধ্যায় নয়। তার শাসনামলে এমন এক ব্যর্থতার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা সরাসরি শত শত শিশুর জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতায় আসার পর সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে হামের টিকা কেনার পুরনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ইউনিসেফ আগেই সতর্ক করেছিল, এই পথে গেলে টিকা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফল হিসেবে হাম-রুবেলার টিকার মজুদ ফুরিয়ে যায়। সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দিতে হয়, এমনকি একটি কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিলও করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। বাকি ৪১ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। আর এর ভয়াবহ পরিণতি দেশ দেখতে শুরু করে ২০২৬ সালে এসে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে চার শতাধিক শিশু। ঢাকা সংক্রামক রোগ হাসপাতালে শিশু রোগীতে উপচে পড়ছে। বেড না থাকায় অনেককে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরাসরি সতর্ক করে বলেছে, টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কয়েক দশকের অর্জন এখন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। আর আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেছেন, শুধু টিকার ঘাটতিই নয়, এই সংকট দেশের গভীরে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতারও প্রতিফলন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবিও উঠেছে। একসময় যে দেশে হাম সংক্রমণ প্রায় বিরল হয়ে গিয়েছিল, সেখানে মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে পরিস্থিতি আবার মহামারির রূপ নিয়েছে, এমন অভিযোগ তুলছেন সমালোচকরা। এখন প্রশ্ন উঠছে, ড. ইউনূসের এই দেড় বছরের শাসনে বাংলাদেশের প্রকৃত অর্জন কী? সেই প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘ করে দেওয়াও কঠিন। কারণ বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, এই দেড় বছরে উল্লেখ করার মতো বড় কোনো অর্জন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে গেছে, সেই হিসাব দেখেই তারা বিস্মিত হচ্ছেন। তাদের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কোটি মানুষের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পথে হাঁটতে গিয়ে দেশকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগই তুলছেন সমালোচকরা। এখন সবার নজর নতুন সরকারের দিকে। তারা এই সংকট থেকে দেশকে কতটা টেনে তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম
২১ মে ২০২৬
পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ সোবহানের নেতৃত্বে বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে! তারা ধানবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বিনিময় পরিবহনের তিনটি বাসও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ওই দুই নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তারা মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পকেট কমিটি গঠন করে পরিবহন খাত পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জন মালিকের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত ‘বিনিময় পরিবহন’ -এর তিনটি বাসও জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএরনপির সভাপতিদ্বয়। বর্তমানে ওই বাসগুলোর আয়ের পুরো অর্থ তারা নিজেরা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন মালিক দাবি করেন, বাস মালিক শামসুল আলম ও লিটনের উপর হামলা চালিয়ে পড়ে তাদের সান্ত্বনাও দেন। পরিবহন পরিচালনায় অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধা দিলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলার শিকার বাস মালিক শামসুল আলম জানান, প্রতিবাদ করায় তার উপর হামলা করা হয়। আবার বিএনপির কয়েক নেতা শান্তনাও দেন। তারা যৌথভাবে বাস কিনেছেন। এখন বাসের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। সবকিছু জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কখনো ওই তিন বাস দেখেন নাই এবং জানেনও না। তবে মালিকদের মধ্যে একটা সমস্যা হয়েছিল- সেটা মিমাংসা করার জন্য কয়েকবার উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষই আসেননি।
২০ মে ২০২৬
নিরাপদ লিচু চেনার উপায়
দৃষ্টি ডেস্ক: কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি আর ঝড়-ঝাপ্টার আবহাওয়ার মধ্যে বাজারে এসে গেছে রসালো লিচু। পুষ্টিগুণে ভরা এই লাল টুকটুকে এই ফল দেখলেই জিভে পানি আসে অনেকের। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না- লিচু নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি জরুরি। কারণ অনেক সময় লিচুকে বেশি লাল ও টাটকা দেখাতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। এমনকি অপরিপক্ব লিচুকেও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই বাজার থেকে লিচু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খোসার রং দেখেই অনেকটা বোঝা যায়- লিচু কেনার সময় প্রথমেই খেয়াল করুন এর খোসার রং। বিভিন্ন জাতের লিচুর রং ভিন্ন হতে পারে- কোনোটি গাঢ় লাল, কোনোটি হালকা কমলা বা বাদামি আভাযুক্ত। তবে ভালো ও পরিপক্ব লিচুর রং সাধারণত স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল হয়। অস্বাভাবিক চকচকে বা অতিরিক্ত টকটকে লাল রঙের লিচু দেখলে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে এসব লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। বেশি নরম লিচু এড়িয়ে চলুন- লিচু হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। যদি খুব বেশি নরম লাগে, তাহলে সেটি অতিরিক্ত পাকা বা ভেতর থেকে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভালো লিচু হবে টানটান ও সতেজ। অতিরিক্ত নরম লিচুর ভেতরে অনেক সময় পচা অংশ বা টক গন্ধও থাকতে পারে। গন্ধ বুঝে কিনুন- পাকা লিচুর একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে। নাকের কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ টের পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেমিক্যাল দেওয়া বা অপরিপক্ব লিচুতে সাধারণত সেই স্বাভাবিক সুবাস থাকে না। যদি লিচুতে অদ্ভুত বা কড়া গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। কৃত্রিম রং আছে কি না পরীক্ষা করুন- অনেক সময় কাঁচা লিচুকে পাকা দেখাতে এর গায়ে রং ব্যবহার করা হয়। তাই বাসায় এনে লিচু কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। যদি পানির রং লালচে হয়ে যায় বা হাতে রং লাগে, তাহলে বুঝতে হবে লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। দাগ বা ফাটল আছে কি না দেখুন- ভালো লিচুর খোসা সাধারণত পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। খোসায় বাদামি দাগ, ফাটল বা পচা অংশ থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ডাঁটির অংশ পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে ডালযুক্ত ও টাটকা লিচু কেনাই ভালো। খোসা সহজে ছাড়ালে বুঝবেন পাকা- লিচুর খোসা ছাড়িয়েও এর মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাকা ও মিষ্টি লিচুর খোসা সাধারণত সহজেই খুলে আসে। যদি খোসা শক্তভাবে আটকে থাকে বা ভেতরে বাদামি দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি ভালো নাও হতে পারে। কেনার পর যা করবেন- বাজার থেকে লিচু এনে সরাসরি না খেয়ে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ঘণ্টাখানেক পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ময়লা বা কৃত্রিম রঙের কিছু অংশ দূর হতে পারে। সতর্কভাবে লিচু কিনলে গরমের এই জনপ্রিয় ফল খাওয়ার আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
২০ মে ২০২৬
ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল: ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসতেই যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনের চওড়া রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো দ্রুত চলে এলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ মহসড়কে যানজটের আসল নেপথ্য কারণ- যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) যাতায়াত ব্যবস্থা। ফোর লেনের বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ যমুনা সেতুর সরু ওয়ানওয়ে সামলাতে পারেনা। ফলে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও ঈদুল আযহায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে ভোগান্তি বাড়াবে। মহাসড়কে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনাসেতু প্রশস্তকরণ বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি ক্রমশ: জোরদার হচ্ছে। জানাগেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অংশের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮০ শতাংশ। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত। এর ওপর যমুনা সেতুতে দুই দিকে একই সাথে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত লেনের অভাব বা ওয়ানওয়ে যাতায়াতের কারণে ফোর লেনের গতিশীল গাড়িগুলো সেতুর প্রবেশমুখে এসে আটকে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সেতুর না থাকায় পেছনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো তা ৪০ কিমি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবেই এই অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। এদিকে, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে রোববার(১৭ মে) বিকালে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানায়, যমুনা সেতুর ওয়ানওয়ে যাতায়াতের এই ‘বটলনেকে’র কারণে টাঙ্গাইল অংশে প্রতিবছরই যানজট হয়। বরাবরের মতো এবারও নানা কারণে মহাসড়কের ১৩টি নির্দিষ্ট স্পটে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে- যমুনা সেতু, যমুনা সেতু গোলচত্বর, জোকার চর, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, ঘারিন্দা ওভার ব্রিজ, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া বাইপাস, পাকুল্ল্যা, মির্জাপুর শহরের আঞ্চলিক সড়ক, মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যানজট এড়াতে কিছু গাড়িকে ভূঞাপুর হয়ে আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যমুনা সেতু গোল চত্বরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে সেতু পারাপারে বিশেষ ট্রাফিক সমন্বয় এবং হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, তুলা মিয়া, আজমত আলী, রঘুনাথ শীল, পিযুস কান্তি সাহা, হাজী শরিফুল ইসলাম সহ অনেকেই জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন স্পটে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই যমুনাসেতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানো বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জানায়, মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটালে তাৎক্ষণিক মহাসড়কে প্রায় ২০-৩০ বা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। কারণ, মহাসড়ক থেকে ওই গাড়ি সরাতেই অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। ঈদের সময়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে- তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহাসড়কের পাশে বসবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ে- যা যানজট সৃষ্টি করে। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুল লতিফ, রাসেল আহাম্মেদ, হাসু মিয়া, রাকিব হোসেন সহ অনেকেই জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে ছুটি হলে সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একবারে এই মহাসড়কে এসে পড়ে। ঈদের মাত্র দুই-একদিন আগে হঠাৎ সব ছুটি একসঙ্গে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সবার মাঝে আগে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, ঈদযাত্রা উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশেই ফোর লেনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচলের জন্য ফোরলেন সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। তবে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হবে। সেতুর দুই প্রান্তেই ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে দুই প্রান্তেই ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। তবে বর্ধিত জনসংখ্যা ও ফোরলেনের মহাসড়কের গাড়ির চাপ যমুনাসেতুর ওয়ানওয়ে নিতে পারছেনা। ফলে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছেনা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এবার মহাসড়কে যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের পাশে বা আশেপাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফও পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বিএনপি সরকার দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। উত্তরবঙ্গের এবারের ঈদ যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক হয় এবং দুর্ঘটনায় যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে- সেজন্য চালক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, যানজট নিরসনে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে কাজ করবে বিশেষ ‘স্বেচ্ছাসেবী টিম’। মহাসড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু
দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় বুধবার(২০ মে) সকালে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ট্রাক চালক রাসেল মিয়া(২০) ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি যমুনাসেতুমুখী লেনে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া নামকস্থানে পৌঁছলে চালক ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার বিভাজকের(ডিভাইডার) ওপর উঠে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চালক রাসেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
২০ মে ২০২৬
এপ্রিল মাসের পর্যালোচনায় ৬ পুলিশের শ্রেষ্ঠত্ব লাভ
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের এপ্রিল মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সোমবার (১৮ মে) বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ৬ পুলিশ কর্মকর্তাকে শ্রেষ্ঠত্বের সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, ওয়ারেন্ট তামিল এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সফল ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। এপ্রিল মাসের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী। জেলার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে দক্ষ নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি এ স্বীকৃতি অর্জন করেন। একই মাসে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমিন শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। থানার সার্বিক কার্যক্রমে দক্ষতা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের সঙ্গে সু-সম্পর্ক বজায় রাখায় তিনি এ সম্মাননা লাভ করেন। এছাড়া ক্লুলেস মামলার রহস্য উদঘাটনে বিশেষ অবদান রাখায় টাঙ্গাইল সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী, এসআই রাফিউল করিম এবং এসআই মো. আবুল বাসারকে শ্রেষ্ঠ রহস্য উদঘাটনকারী কর্মকর্তা হিসেবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার পরিচয় দেওয়ায় তারা এ স্বীকৃতি পান। অন্যদিকে, অধিক সংখ্যক ওয়ারেন্ট তামিল করে বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করায় টাঙ্গাইল সদর থানার এএসআই মো. বিপুল ইসলামকে এপ্রিল মাসের শ্রেষ্ঠ ওয়ারেন্ট তামিলকারী কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করতে প্রতিমাসে এ ধরনের মূল্যায়ন ও সম্মাননা প্রদান করা হয়ে থাকে। কর্মকর্তাদের এই অর্জনে সহকর্মীদের মধ্যেও ইতিবাচক কর্মস্পৃহা সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
১৯ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা : সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(১৯ মে) সকালে তেজগাঁস্থ ভূমি ভবন থেকে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভূমিসেবা মেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলেও ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং রাজস্ব) মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানু, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে প্রমুখ। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন জনসেবা চত্বরে ১৯ মে থেকে ২১ পর্যন্ত ওই মেলা চলবে।
১৯ মে ২০২৬
“আদর্শের লড়াই হয় বুদ্ধিবৃত্তিক”
:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল :: সভ্যতা ও সংস্কৃতির বিবর্তনের ইতিহাসে আজ আমরা এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। বর্তমান বিশ্ব বাস্তবতায় শক্তির সংজ্ঞায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। পেশিবল কিংবা মারণাস্ত্রের ঝনঝনানি দিয়ে আজ আর কোনো জনপদকে দীর্ঘস্থায়ী শাসন করা সম্ভব নয়। ইতিহাসের পাতায় আমরা দেখেছি, আলেকজান্ডার থেকে শুরু করে চেঙ্গিস খান পর্যন্ত- সবাই তলোয়ারের মাধ্যমে ভূমি জয় করেছিলেন, কিন্তু মানুষের হৃদয় ও চেতনা জয় করতে পারেননি। এখানেই বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের অপরিহার্যতা সামনে আসে। ফরাসি দার্শনিক ভলতেয়ার বলেছিলেন, ‘কলম তলোয়ারের চেয়ে শক্তিশালী’। একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এই উক্তিটি কেবল আলঙ্কারিক নয় বরং এক কঠোর ধ্রুব সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আদর্শের লড়াইটা আর ময়দানে নয় বরং হয়ে উঠেছে গভীরতর বুদ্ধিবৃত্তিক। একটি আদর্শ তখনই সমাজ ও রাষ্ট্রে শিকড় গেড়ে বসে, যখন তা যুক্তির নিক্তিতে উত্তীর্ণ হয়। বুদ্ধিবৃত্তিক এই লড়াইয়ের মূল হাতিয়ার হলো জ্ঞান, তথ্য এবং বিশ্লেষণ। বর্তমান বিশ্বে আমরা দেখছি ‘সফট পাওয়ার’ বা নরম শক্তির জয়জয়কার। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোসেফ নাই এই ধারণার প্রবর্তক। তার মতে, একটি রাষ্ট্র কেবল সামরিক শক্তি দিয়ে নয় বরং তার সংস্কৃতি, রাজনৈতিক আদর্শ এবং পররাষ্ট্রনীতির মাধ্যমে অন্য দেশের মন জয় করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, গত এক দশকে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো তাদের মোট বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয় করছে বুদ্ধিবৃত্তিক প্রসারে। ইউনেস্কোর এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বের উন্নত দেশগুলো তাদের জিডিপির প্রায় ২.৫% থেকে ৪.৫% পর্যন্ত গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D) খাতে ব্যয় করে। এটি প্রমাণ করে তারা জানে, আগামির বিশ্ব শাসন করবে তারাই, যাদের বুদ্ধিবৃত্তিক ভিত মজবুত। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও আদর্শিক সংকট প্রকট হয়ে উঠেছে। আমরা প্রায়ই দেখি, রাজপথে স্লোগান আর পাল্টাপাল্টি হুঙ্কার দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এতে সাময়িক বিজয় এলেও দীর্ঘমেয়াদী কোনো আদর্শিক পরিবর্তন আসে না। আদর্শের লড়াই হওয়া উচিত টেবিল-টক, সেমিনার, পত্রিকার সম্পাদকীয় কলাম এবং সুস্থ বিতর্কের মাধ্যমে। যখন একটি গোষ্ঠী কেবল পেশিশক্তির ওপর নির্ভর করে তাদের মতবাদ চাপিয়ে দিতে চায়, তখন সমাজে অসহিষ্ণুতা ও চরমপন্থা জন্ম নেয়। গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যেসব সমাজে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার অভাব রয়েছে এবং যেখানে মুক্তচিন্তার পথ রুদ্ধ, সেখানেই চরমপন্থা সবচেয়ে দ্রুত বিকশিত হয়েছে। অর্থাৎ, তলোয়ার দিয়ে নয়, ভুল আদর্শকে মোকাবিলা করতে হয় সঠিক যুক্তি ও উন্নততর আদর্শ দিয়ে। একটি আদর্শের জয়যাত্রা অনেকটা প্রবহমান নদীর মতো। নদী যেমন তার চলার পথে পাহাড়-পাথরকে সরিয়ে দেয় না বরং নিজের গতিপথ তৈরি করে নেয়, বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইও ঠিক তেমনি। এখানে প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে নির্মূল করার চেয়ে তার চিন্তাধারাকে যুক্তির মাধ্যমে ভুল প্রমাণ করাটাই আসল বিজয়। ইমাম গাজ্জালি থেকে শুরু করে কার্ল মার্ক্স কিংবা গ্রামশি- সবার দর্শনেই আমরা দেখি, তারা তাদের সমসাময়িক ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য বুদ্ধিবৃত্তিক কাঠামো তৈরি করেছিলেন। আন্তোনিও গ্রামশি তার ‘হেজেমনি’ তত্ত্বে দেখিয়েছেন, শাসক গোষ্ঠী কেবল পুলিশ বা সেনাবাহিনী দিয়ে শাসন করে না বরং তারা শিক্ষা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে জনমানুষের ওপর এক ধরনের বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্য কায়েম করে। তাই যারা বিকল্প আদর্শের কথা বলেন, তাদের প্রথম এবং প্রধান কাজ হলো একটি সবল বুদ্ধিবৃত্তিক প্রতি-কাঠামো গড়ে তোলা। আজকের তথ্যপ্রযুক্তির যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের নতুন ক্ষেত্র হলো ‘সোশ্যাল মিডিয়া’ ও ‘ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম’। স্ট্যাটিস্টার তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ বিলিয়নের বেশি মানুষ ইন্টারনেটে সক্রিয়। এই বিশাল জনগোষ্ঠীর সামনে তথ্য ও অপতথ্যের এক মহাসমুদ্র। এখানে প্রতিটি পোস্ট, প্রতিটি টুইট এবং প্রতিটি লেখা এক একটি আদর্শিক লড়াইয়ের অংশ। দুঃখজনক হলেও সত্য, বর্তমানে যুক্তির চেয়ে আবেগ এবং সত্যের চেয়ে মিথ্যার প্রচার অনেক দ্রুত ঘটছে। এমআইটি-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, সত্য খবরের তুলনায় ভুয়া খবর ৬ গুণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই প্রতিকূল পরিবেশে বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াকুদের দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। কেবল আবেগ দিয়ে নয় বরং গভীর পঠন-পাঠন এবং নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সমাজকে দিকনির্দেশনা দিতে হবে। ২০২৬ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গি এখন আর কেবল আবেগ বা দলীয় আনুগত্যের ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল নয়। তারা এখন ‘ডেটা-ড্রিভেন’ (Data-driven) বা তথ্যভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। এই পরিবর্তনের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের কিছু তত্ত্ব ও উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে- ১. মেরিটক্রেসি বনাম বংশপরম্পরা (তত্ত্ব: Meritocratic Leadership) বর্তমান তরুণরা রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের চেয়ে ব্যক্তিগত যোগ্যতা ও মেধাকে প্রাধান্য দিচ্ছে। যেমন: ২০২৬ সালের নির্বাচনে সোশ্যাল মিডিয়ায় তরুণরা কোনো নেতার পারিবারিক পরিচয়ের চেয়ে তার যোগ্যতা, বিশ্ব রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান এবং সংকটকালীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে বেশি বিতর্ক করছে। তারা ‘যোগ্যতাই শ্রেষ্ঠত্ব’- এই বুদ্ধিবৃত্তিক তত্ত্বে বিশ্বাসী। ২. পলিসি বনাম স্লোগান (তত্ত্ব: Rational Choice Theory) তরুণরা এখন ফাঁকা স্লোগানের বদলে সুনির্দিষ্ট ‘পলিসি’ বা নীতিমালার চুলচেরা বিশ্লেষণ করে। যেমন- কোনো রাজনৈতিক দল ‘বেকারত্ব দূর করার’ সাধারণ প্রতিশ্রুতি দিলে তরুণরা তা গ্রহণ করছে না। বরং তারা প্রশ্ন তুলছে- ‘চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে এআই (AI) মোকাবিলায় আপনাদের রোডম্যাপ কী?’ কিংবা ‘ফ্রিল্যান্সারদের জন্য কর কাঠামো কেমন হবে?’ এই যে যৌক্তিক প্রশ্ন করার ক্ষমতা, এটাই হলো বুদ্ধিবৃত্তিক আদর্শের লড়াই। ৩. ডিজিটাল জননিরাপত্তা ও নৈতিকতা (তত্ত্ব: Digital Sovereignty) ২০২৬-এর তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘স্বাধীনতা’ মানে কেবল ভূখণ্ড নয় বরং তথ্যের সুরক্ষা এবং ইন্টারনেটে মত প্রকাশের স্বাধীনতা। যেমন- সাইবার সিকিউরিটি আইন বা ডেটা প্রাইভেসির মতো জটিল বিষয়গুলো এখন পাড়ার চায়ের দোকানে তরুণদের আলোচনার বিষয়। যারা এই ডিজিটাল অধিকারের পক্ষে শক্তিশালী বুদ্ধিবৃত্তিক যুক্তি দিতে পারছে, তরুণ সমাজ সেই আদর্শের দিকেই ঝুঁঁকছে। ৪. জলবায়ু ও টেকসই উন্নয়ন (তত্ত্ব: Intergenerational Justice) ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষায় তরুণরা এখন আপসহীন। যেমন- কোনো বড় শিল্প প্রকল্প বা নগরায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে তরুণরা বৈজ্ঞানিক তথ্য ও উপাত্ত নিয়ে লড়াই করছে। তারা কেবল উন্নয়ন চায় না, ‘টেকসই উন্নয়ন’ চায়। এটি একটি গভীর বুদ্ধিবৃত্তিক অবস্থান যা প্রচলিত ‘উন্নয়ন মানেই ইট-পাথর’- এই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। তরুণদের এই দৃষ্টিভঙ্গি প্রমাণ করে রাজনীতি এখন আর শুধুমাত্র মাঠের লড়াই নয় বরং এটি ল্যাপটপের কিবোর্ড এবং যুক্তির টেবিলে স্থানান্তরিত হয়েছে। ২০২৬ সালের তরুণরা এমন এক আদর্শ খুঁজছে যা তাদের মেধা ও আধুনিক বিশ্বের চাহিদার সাথে সংগতিপূর্ণ। শিক্ষাব্যবস্থাকে বলা হয় আদর্শিক লড়াইয়ের সূতিকাগার। একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক মানদণ্ড নির্ধারিত হয় তার পাঠ্যপুস্তক ও শ্রেণিকক্ষের আলোচনার মধ্য দিয়ে। আমরা যদি আমাদের তরুণ প্রজন্মকে প্রশ্ন করার সুযোগ না দিই, যদি তাদের সমালোচনামূলক চিন্তা (Critical Thinking) করার দক্ষতা তৈরি না করি, তবে তারা কোনোদিনও সুস্থ বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ে অংশ নিতে পারবে না। বিশ্বের সেরা ১০০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় আজ আমাদের কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম কেন নেই? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের গবেষণার অভাব এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যদশার মধ্যে। পরিসংখ্যান বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় উচ্চশিক্ষায় আমাদের গবেষণার বরাদ্দ এবং মান উভয়ই উদ্বেগজনকভাবে নিচের দিকে। এই শূন্যতা যদি পূর্ণ না হয়, তবে বিজাতীয় আদর্শ বা ক্ষতিকর মতবাদ আমাদের সমাজকে খুব সহজেই গ্রাস করে নেবে। উপমা দিয়ে বললে, একটি গাছ যেমন তার শেকড় থেকে রসদ সংগ্রহ করে টিকে থাকে, আদর্শের লড়াইও তেমনি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের শেকড় থেকে প্রাণশক্তি পায়। যে আদর্শের কোনো শেকড় নেই তা বর্ষার কচুরিপানার মতো ভেসে যায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আমাদের জাতীয় জীবনে এক ধরনের শূন্যতা কাজ করছে। এই শূন্যস্থান পূরণের জন্য তথাকথিত বুদ্ধিজীবী নয় বরং প্রকৃত প্রজ্ঞাবান মানুষের প্রয়োজন। যারা কেবল ক্ষমতার তোষণ করবেন না বরং সত্যের পক্ষে দাঁড়িয়ে ন্যায়ের কথা বলবেন। মনে রাখতে হবে, বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যই হলো একটি জাতির সবচেয়ে বড় পরাজয়। পরিশেষে বলা যায়, আদর্শের লড়াই কোনো ধ্বংসাত্মক প্রক্রিয়া নয় বরং এটি একটি সৃষ্টিশীল বিবর্তন। এই লড়াইয়ে জেতার অর্থ কাউকে রক্তাক্ত করা নয় বরং মানুষের মনের অন্ধকার দূর করে সেখানে জ্ঞানের আলো জ্বালানো। বর্তমানে আমরা যে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, তার টেকসই সমাধান কোনো সাময়িক মেরামতে নেই; আছে মৌলিক বুদ্ধিবৃত্তিক পুনর্জাগরণে। পত্রিকা বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আমরা যখন কোনো একটি মত প্রকাশ করি, তখন সেটি কেবল একটি কলাম বা পোস্ট নয়, সেটি একটি আদর্শিক বীজ। এই বীজ যদি যুক্তিনির্ভর এবং জনকল্যাণমুখী হয়- তবে তা একদিন বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে। ‘আদর্শের লড়াই হয় বুদ্ধিবৃত্তিক’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে যদি আমরা একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে পারি, তবেই আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অর্থবহ হবে। তাই সংকীর্ণতা আর বিদ্বেষ নয়, মেধা ও যুক্তির লড়াই হোক আদর্শিক বিজয়ের হাতিয়ার। কারণ দিনশেষে ডানাভাঙা পাখির মতো ছটফট করে পেশিশক্তি, আর ঈগলের মতো আকাশে উড়ে বেড়ায় জয়ী আদর্শ। জয় হোক কলমের, জয় হোক সত্য ও সুন্দরের। লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক।
১৮ মে ২০২৬
নিষিদ্ধ আ’লীগের ১৩ ইউপি চেয়ারম্যান স্বপদে পুনর্বহাল
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ১৩টি ইউনিয়ন পরিষদে বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় নির্বাচিত দলীয় চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুনর্বহালের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ওই সব ইউনিয়ন পরিষদে ইতোপূর্বে প্রশাসক নিয়োগ বাতিল করে চেয়ারম্যানদের পুনরায় স্বপদে বহালের এই আদেশ দেওয়া হয়। পুনর্বহালের আদেশ পাওয়া ইউপি চেয়ারম্যানদের সবাই উপজেলা আওয়ামী লীগের পদ-পদবীধারী নেতা এবং সদস্য। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহফুজুল আলম মাসুমের স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে পুনর্বহালের এ তথ্য জানানো হয়। ঘাটাইল উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ দায়িত্ব বুঝে নিয়েছেন। চেয়ারম্যান পুনর্বহাল হওয়া ইউনিয়নগুলো হলো- দেউলাবাড়ি, ঘাটাইল সদর, জামুরিয়া, লোকেরপাড়া, আনেহলা, দিগড়, দেওপাড়া, সন্ধানপুর, রসুলপুর, ধলাপাড়া, সংগ্রামপুর, লক্ষিন্দর এবং সাগরদিঘী। এছাড়া দিঘলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম মটু সেই সময়ে কারাগারে থাকায় তিনি রিটে অংশ নিতে পারেননি। জানা যায়, সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের সংশ্লিষ্ট রিটের আদেশ এবং বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বে জারি করা প্রশাসক নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল করা হয়। বিগত ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর জারি করা স্মারকের মাধ্যমে ঘাটাইল উপজেলার ১৩ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে আদালতের আদেশের আলোকে সে প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুণর্বহাল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জামুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম হেসটিংস, দেউলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজাত আলি খান ঘাটাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি। আনেহলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তালুকদার মোহাম্মদ শাহজাহান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি। দিগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন ফনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। ধলাপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুল আলম শফি, ঘাটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান হিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা ও সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহারকে ছাত্র-জনতার অন্দোলনের সময় মারধরের ঘটনায় বিগত ২০২৪ সালের (১৩ ডিসেম্বর) আটক হন। পরবর্তীতে জামিনে বের হয়ে তিনি বর্তমানে নিজ এলাকাতেই অবস্থান করছেন। এছাড়া সংগ্রামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন বাবু, লক্ষ্মীন্দর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ, সন্ধানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন, দেওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন হেপলু, লোকের পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শহিদুল হক মিলন টাঙ্গাইল-৩ (ঘাটাইল) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আমানুর রহমান খান রানার অনুসারী। সাগরদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুল্লাহ বাহার জানান, মহামান্য হাইকোর্টে রিটের প্রেক্ষিতে আজকে পরিপত্র জারি হওয়ায় তারা স্বপদে পুনরায় বহাল হয়েছেন। তারা উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যান আইনের প্রতি সম্মান জানিয়ে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের স্থানীয় সরকার শাখার উপ-পরিচালক মাহফুজুল আলম মাসুম বলেন, আদালতের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে বিভাগীয় কমিশনার তদন্ত করে সঠিক তথ্য পাওয়ায় চেয়ারম্যানদের স্বপদে পুণর্বহাল করার জন্য নির্দেশ দেন। ফলে চিঠিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১৮ মে ২০২৬
ঘাটাইলের ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত
ঘাটাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার ৯টি স্কুলের অংশগ্রহণে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, পুরষ্কার বিতরণ ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোবববার(১৮ মে) দিনব্যাপী উপজেলার আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ঘাটাইল উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইজরাত জাহানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন, আনেহলা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি কেএইচ মোরশেদ আলম, আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সহ-সভাপতি শাহ্ আজিজুল কদর বাবু, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ ছারওয়ার হোসেন তালুকদার প্রমুখ। এ সময় সিংগুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কালাম আজাদ, যোগীহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাফিজা আক্তার, খায়ের পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএম নুরই আলম, সাইটশৈলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সোনিয়া খাতুন, গৌরাঙ্গী উত্তর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফয়জুন নাহার খানম, গৌরাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জোৎস্না খাতুন, হাট কয়েড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোহরাব হোসেন, মাকেস্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম মোস্তফাসহ ৯টি স্কুলের শিক্ষক- শিক্ষার্থী এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান পরিচালায় ছিলেন, আনেহলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মধ্যে ছিল, ছেলে-মেয়েদের ১শ’ মিটার দৌঁড়, হাইজাম্প, লংজাম্প, নৃত্য ও চিত্রাঅংকন প্রতিযোগিতা। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিযোগীদের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।
১৮ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারনে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(১৭ মে) বিকালে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক প্রমুখ। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে পানিতে ডুবে সহোদর দুই ভাইয়ের মৃত্যু
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পুকুরের পানিতে ডুবে সহোদর দুই ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। রোববার(১৭ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার পোড়াবাড়ি ইউনিয়নের পানিয়াবান্দা গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে তারা মারা যায়। সহোদর দুই ভাইয়ের নাম মোবাশ্বির হোসেন(১০) ও মোস্তাফিজুর রহমান(৬)। তারা পানিয়াবান্দা গ্রামের বজলুর রহমান মজনুর ছেলে। স্থানীয় ইউপি সদস্য আলী আকবর জানান, কয়েকদিন আগে টাঙ্গাইল শহরের বেসরকারি একটি ক্লিনিকে বজলুর রহমান মজনুর একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। দুই ভাই মায়ের সাথে ক্লিনিকেই ছিল। রোববার সকালে তারা ক্লিনিক থেকে বাড়িতে আসেন। এদিন সকাল ১০টার দিকে দুই ভাই বাড়ির পাশেই পকুর পাড়ে খেলতে যায়। এ সময় ছোট ভাই মোস্তাফিজুর রহমান পানিতে পড়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে যায় বড় ভাই মোবাশ্বির। দুইজনেই পানি থেকে আর উঠতে পারেনি। বাড়িতে না পেয়ে অনেক সময় ধরে পরিবারের লোকজন খোঁজাখুঁজি করে। পরে বেলা ১২টার দিকে পুকুরের পানিতে শিশুরদেহ ভাসতে দেখে তাদের উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। টাঙ্গাইল সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তাইজ উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে ছুটে যান। মরদেহ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতাল থেকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
১৭ মে ২০২৬
হাইওয়ে ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি
মু. আবিদ মল্লিক জয়: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলাজুড়ে কোরবানির পশুর রেকর্ড জোগান তৈরি হয়েছে। চাহিদা মিটিয়েও এবার জেলায় প্রায় ৪০ হাজার গবাদি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। তবে এই বিপুল সম্ভাবনা সত্ত্বেও ভারতীয় গরুর অবৈধ অনুপ্রবেশ, পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, জাল টাকার কারবারিদের দৌরাত্ম্য, হাইওয়ে ও হাটে চাঁদাবাজি এবং অজ্ঞান পার্টির খপ্পরে পড়ার আশঙ্কায় চরম উদ্বেগের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন জেলার হাজার হাজার খামারি ও সাধারণ ক্রেতারা। জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, টাঙ্গাইলের ১২টি উপজেলায় গড়ে ওঠা ২৬ হাজার ৭৫৯টি ছোট-বড় খামারে এবার কোরবানির জন্য মোট দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশু সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৃষ্টপুষ্ট ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া। জেলায় এবার কোরবানির পশুর সার্বিক চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি। ফলে স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পরও ৩৯ হাজার ৯৮৩টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। জানাগেছে, কোরবানির এই বিশাল পশুর সমাগমকে ঘিরে টাঙ্গাইলের পাঁচ শতাধিক স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাটগুলো এখন অনেকটা উৎসবমুখর। এর মধ্যে বিশেষভাবে নজর কাড়ছে ভূঞাপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দাসী গরুর হাট- যা দেশীয় পশুর এক বিশাল সরবরাহ কেন্দ্র এবং দেশের অন্যতম বৃহৎ পশুর হাট হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি টাঙ্গাইল শহরের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত বেবীস্ট্যান্ড পশুর হাট এবং শহরতলির করটিয়া ও রসুলপুর, তোরাপগঞ্জ হাটগুলোতেও ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বেড়েছে। ঐতিহ্যবাহী হাটের পাশাপাশি এবার টাঙ্গাইলে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে অনলাইন পশুর হাট ও ডিজিটাল কেনাবেচা। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের উদ্যোগে এবং বিভিন্ন খামারিদের নিজস্ব উদ্যোগে ফেসবুক পেজ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পশুর ছবি, ভিডিও, ওজন ও দামসহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। এর ফলে ঘরে বসেই অনেক ক্রেতা পছন্দের পশু কিনতে পারছেন- যা হাটের বাড়তি চাপ ও ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। জেলার সামগ্রিক উদ্বৃত্ত পশু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকার পশুর হাটসহ দেশের অন্যান্য জেলার ঘাটতি মেটাতে বড় ভূমিকা রাখবে- যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে কোটি কোটি টাকার তারল্য প্রবাহ সৃষ্টি করবে। খামারিদের সঙ্গে কথা বলে জানাগেছে, জেলার প্রাণি সম্পদের এই বিপুল সম্ভাবনা এখন বড় ধরনের হুমকির মুখে। খামারিদের প্রধান সমস্যা পশুখাদ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি। চড়া দামে খড়, ভুষি ও খৈল কিনে দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে পশু লালন-পালন করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় সবচেয়ে বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ভারতীয় গরুর অবৈধ চোরাচালান। খামারিদের দাবি, সীমান্ত পাড়ি দিয়ে চোরাই পথে ভারতীয় গরু দেশে প্রবেশ করলে দেশীয় পশুর বাজার ধসে পড়বে। এর ফলে জেলার ২৬ হাজারেরও বেশি খামারি তাদের আসল পুঁজি হারিয়ে মারাত্মক লোকসানের মুখে পড়বেন। পাশাপাশি হাটে অতিরিক্ত হাসিল (টোল) আদায়, পকেটমার ও মলম পার্টির উপদ্রব, ক্রেতা-বিক্রেতাদের হঠাৎ অসুস্থতা এবং জাল টাকার চক্রের সক্রিয়তা মাঠপর্যায়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি বন্ধ করা জরুরি। গবাদি পশু বিশেষজ্ঞরা মনে করেন- এই সংকট থেকে দেশীয় খামারিদের রক্ষা, ক্রেতাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সম্ভাবনাময় এই খাতকে বাঁচাতে অবিলম্বে অন্তত ছয়টি সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা ও ওয়াচ টাওয়ার স্থাপন, চিকিৎসা ক্যাম্প ও ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম গঠন, চোরাচালান রোধে কঠোর নজরদারি, হাসিল বা টোল আদায়ে সতর্কতা, জাল টাকা রোধে ব্যাংকের বুথ স্থাপন এবং হাইওয়ে ও পশুরহাটে চাঁদাবাজি বন্ধ করতে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার কাতুলী ইউনিয়নের চৌ-বাড়িয়ায় রহমান এগ্রো ফার্মের মালিক দেওয়ান সুমন আহমেদ জানান, দিন দিন গো-খাদ্যোর বাড়তি দামে খামারিরা হতাশায় ভুগছেন। গত বছর ঈদে তিনি ৩৮টি ষাড় গরু বিক্রি করেছেন। এবছরও ৩৪টি ষাড় গরু বিক্রির ইচ্ছে রয়েছে। কালিহাতী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইম আল সালাউদ্দিন জানান, এ উপজেলায় এক হাজার ৭০৩টি গরু ও ছাগলের খামার গড়ে উঠেছে। ২০ হাজার ৫৬৯টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। চাহিদা রয়েছে ১৭ হাজার ৯৭১টি। এর মধ্যে উদ্বৃত্ত রয়েছে দুই হাজার ৫৯৮টি পশু। খামারিরা কুরবানির ঈদে তাদের পালিত পশু বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছে। সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মেহেদী হাসান জানান, সদরে প্রান্তিক খামারিদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া পশুর হাটে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. মো. শহীদুল আলম জানান, ইতোমধ্যে জেলায় খামারিদের মানসম্পন্ন গরু-ছাগল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে লব্ধ জ্ঞান খামারিরা কাজে লাগিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করেছে। টাঙ্গাইল জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন খান জানান, জেলায় কুরবানির জন্য দুই লাখ ৩৩ হাজার ৯৯৩টি পশুর মধ্যে রয়েছে ষাড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল, ভেড়াসহ অন্যান্য পশু। এবার কুরবানির জন্য চাহিদা রয়েছে এক লাখ ৯৫ হাজার ১৭৮টি পশু। উদ্বৃত রয়েছে ৩৯ হাজার ৯৮৩টি। ইতোমধ্যে জেলার স্থায়ী ও অস্থায়ী কুরবানির হাটগুলোতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া খামারি, পাইকার ও খুচরা ক্রেতাদের সার্বিক নিরাপত্তায় যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থাই করা হচ্ছে।
১৭ মে ২০২৬