টাঙ্গাইল জেলার সকল সংবাদ

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক শাজাহান সিরাজের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কালিহাতী প্রতিনিধি: মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, বিএনপির সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এবং সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) শাজাহান সিরাজ ফাউন্ডেশন, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ এবং শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের যৌথ আয়োজিত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য শিল্পপতি লুৎফর রহমান মতিন। কর্মসূচির মধ্যে ছিল- মরহুমের কবর জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ, কোরআনখানি, দুঃস্থ শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ, কালিহাতীর বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনা, স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল ইত্যাদি। এদিন সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। কালিহাতীতে মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ প্রাঙ্গণের ‘রাবেয়া সিরাজ একাডেমিক ভবন’ এর হলরুমে বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। শাজাহান সিরাজ কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং মরহুমের কন্যা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার সভাপতিত্বে বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান আলোচক ছিলেন, মরহুমের স্ত্রী ও নারীনেত্রী রাবেয়া সিরাজ। এ সময় উপজেলা বিএনপির নেতা, মরহুমের অনুসারী ও শিক্ষকরা স্মৃতিচারণ করেন। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৭ বছর বয়সে মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শাজাহান সিরাজ অসুস্থাবস্থায় ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

১৪ জুলাই ২০২৬

আগামিকাল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

আগামিকাল মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী

দৃষ্টি রিপোর্ট: মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আগামিকাল মঙ্গলবার(১৪ জুলাই)। ২০২০ সালের এই দিনে ৭৭ বছর বয়সে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন। দিবসটি উপলক্ষ্যে শাজাহান সিরাজ ফাউন্ডেশন, কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজ এবং শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিন সকালে ঢাকার বনানী কবরস্থানে মরহুমের কবর জিয়ারত এবং পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। ঢাকা ও টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে কোরআনখানি, দুঃস্থ শিশুদের মাঝে খাদ্য বিতরণ, কালিহাতীর বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরগুলোতে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থণার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া শাজাহান সিরাজ ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পক্ষ থেকে সকালে কালিহাতীতে মরহুমের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হবে। টাঙ্গাইলের কালিহাতী শাজাহান সিরাজ কলেজের উদ্যোগে কলেজ প্রাঙ্গণের ‘রাবেয়া সিরাজ একাডেমিক ভবন’-এর হলরুমে সকাল ১০টায় এক বিশেষ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। শাজাহান সিরাজ কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি এবং মরহুমের কন্যা সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন। অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন, কলেজের দাতা সদস্য ও পরিচালনা পরিষদের প্রতিনিধি রাবেয়া সিরাজ। এছাড়া জাতীয় ও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আলোচনায় অংশ নেবেন। ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ ৬৬-এর ঐতিহাসিক ছয় দফা ও ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ পল্টন ময়দানে ছাত্র-জনতার উত্তাল সমাবেশে তিনি মহান স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। তিনি স্বাধীনতার পর জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন এবং পরবর্তীতে বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হন। তিনি টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসন থেকে মোট পাঁচবার জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে তিনি অত্যন্ত সততা ও দক্ষতার সাথে সরকারের নৌপরিবহণ প্রতিমন্ত্রী এবং বন ও পরিবেশ মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। শাজাহান সিরাজের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে। কালিহাতী ছাড়াও দিনটি উপলক্ষ্যে পারিবারিকভাবে বিভিন্ন স্থানে মিলাদ মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

১৩ জুলাই ২০২৬

নাগরপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম বন্ধে স্বস্তিতে এলাকাবাসী

নাগরপুরে সড়ক নির্মাণে অনিয়ম বন্ধে স্বস্তিতে এলাকাবাসী

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় একটি গ্রামীণ সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দ্রুত হস্তক্ষেপে তা বন্ধ করা হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা মেলায় নিম্নমানের ইটগুলো বাতিল করে নতুন করে গুণগত মান বজায় রেখে রাস্তা নির্মাণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলজিইডির এই তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে নাগরপুর উপজেলার চামটা থেকে চামটা মির্জাপুর রোড ভায়া মান্নান ভূইয়ার বাড়ি পর্যন্ত ৫০০ মিটার রাস্তা বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই আইআরআইডিপি-৩ প্রকল্পের আওতায় চুক্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১ লাখ ৯৬ হাজার ৯০১ টাকা। সড়কটি নির্মাণে ঠিকাদার হিসেবে দায়িত্ব পায় গোপালপুর উপজেলার মেসার্স কবির ব্রাদার্স এন্টারপ্রাইজ। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি সেখানে এক ট্রাক অত্যন্ত নিম্নমানের ইট নিয়ে আসে। এই নিম্নমানের ইট দিয়েই রাস্তার সাব-বেস বা খোয়ার কাজ করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি টের পেয়ে ফুসে ওঠে এলাকাবাসী। সরকারের লাখ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সড়কটি টেকসই হবে না আশঙ্কায় তারা তাৎক্ষণিকভাবে নির্মাণকাজে বাধা দেন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে দ্রুত চামটা এলাকার ওই প্রকল্প সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তদন্তে তিনি এলাকাবাসীর অভিযোগের সত্যতা পান এবং ব্যবহৃত হতে যাওয়া ইটগুলো রাস্তার কাজের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযোগী হিসেবে চিহ্নিত করেন। এরপর নির্বাহী প্রকৌশলী তাৎক্ষণিকভাবে ওই নিম্নমানের ইট বাতিল ঘোষণা করেন এবং সেগুলো রাস্তা থেকে অনতিবিলম্বে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে শতভাগ গুণগত মান ও সিডিউল বজায় রেখে নতুন ভালো মানের ইট দিয়ে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশনা দেন। নির্বাহী প্রকৌশলীর এই কঠোর ও দ্রুত পদক্ষেপের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি তাদের ভুল স্বীকার করে রাস্তা থেকে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নিয়েছে। বর্তমানে সরকারি সিডিউল অনুযায়ী ইটের গুণগত মান ঠিক রেখে সড়কের নির্মাণকাজ পুনারায় করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, নিম্নমানের ইট দিয়ে রাস্তা করা হলে প্রথম বর্ষাতেই তা ধসে যেত। তাদের অভিযোগের পর নির্বাহী প্রকৌশলী কাজ বন্ধ করে ভালো ইটের ব্যবস্থা করায় তারা অত্যন্ত আনন্দিত। এখন রাস্তার কাজ ভালো হচ্ছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, সরকারের উন্নয়ন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার বরদাশত করা হবে না। নাগরপুরের এই সড়কটির কাজ এখন নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে, যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান নিশ্চিত করে জনসাধারণের চলাচলের জন্য এটি উন্মুক্ত করা যায়।

১২ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের গড়াঞ্চলে বন্যপ্রাণির সুরক্ষায় রোপওয়ে করিডোর

টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ সড়কের গড়াঞ্চলে বন্যপ্রাণির সুরক্ষায় রোপওয়ে করিডোর

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়কে মধুপুর গড়াঞ্চল অংশে (পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর) বন্যপ্রাণির নিরাপদ পারাপার নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিশেষ রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। দ্রুতগতির যানবাহনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণির অনাকাক্সিক্ষত মৃত্যু ও দুর্ঘটনা রোধে এই অভিনভ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইল বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের আওতাধীন আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে রাস্তার দুই পাশের সুউচ্চ গাছের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে শক্ত দড়ি সংযুক্ত করে এই রোপওয়েগুলো তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে বানর, হনুমান, কাঠবিড়ালিসহ বিভিন্ন বৃক্ষবাসী প্রাণিরা মাটিতে না নেমেই বনের এক পাশ থেকে অন্য পাশে নিরাপদে যাতায়াত করতে পারছে। বন্যপ্রাণি গবেষকদের মতে, বর্তমানে মধুপুর জাতীয় উদ্যানে প্রায় ১৯০ প্রজাতির বন্যপ্রাণির আবাস রয়েছে। এরমধ্যে ২১ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৪০ প্রজাতির পাখি এবং ২৯ প্রজাতির সাপ ও অন্যান্য প্রাণি রয়েছে। বিশেষ করে, পূর্বে সিলেট ও চট্টগ্রামের চিরহরিৎ বনের অধিবাসী হিসেবে পরিচিত আইইউসিএন (ওটঈঘ) এর লাল তালিকাভুক্ত মহাবিপন্ন ‘বাংলা লজ্জাবতী বানর’-এর (ইবহমধষ ঝষড়ি খড়ৎরং) বিচরণ ইদানীং মধুপুরের শালবনেও লক্ষ্য করা গেছে। নিশাচর ও লাজুক স্বভাবের এই বিরল প্রাণিটি মূলত গাছের মগডালে বা বাঁশঝাড়ে বাস করে। বন সংকোচন ও মহাসড়কের কারণে এদের স্বাভাবিক বিচরণ ও খাদ্য সংগ্রহের পথ সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হচ্ছিল। টাঙ্গাইল বন বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, মধুপুর গড়াঞ্চলের বুক চিরে আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণের ফলে প্রাকৃতিকভাবেই বন্যপ্রাণিদের আবাসস্থল খণ্ডিত হয়ে পড়েছে। খাদ্য সংকট ও বংশবৃদ্ধির প্রয়োজনে রাস্তা পার হতে গিয়ে দ্রুতগতির যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রায়ই লজ্জাবতী বানরসহ বিভিন্ন বিরল প্রজাতির প্রাণি প্রাণ হারাত। নতুন এই রোপওয়ে করিডোর চালুর ফলে এই ঝুঁঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। পরীক্ষামূলকভাবে নির্মিত পাঁচটি রোপওয়ে করিডোরগুলোর কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণের পর ইতিবাচক ফল পাওয়া গেলে বনাঞ্চলের অন্যসব ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে একই ধরনের করিডোর নির্মাণ করা হবে। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এএসএম সাইফুল্লাহ জানান, বনাঞ্চলসংলগ্ন মহাসড়কে এ ধরনের বন্যপ্রাণিবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণ করলে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বন্যপ্রাণির নিরাপদ চলাচলের জন্য রোপওয়ে করিডোর ব্যবহৃত হচ্ছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক ফল পাওয়া গেছে। মধুপুর জাতীয় উদ্যান সদর রেঞ্জের ডেপুটি রেঞ্জার মো. মোশাররফ হোসেন জানান, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণে মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় পঁচিশ মাইল থেকে রসুলপুর বাজার পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে পাঁচটি রোপওয়ে করিডোর নির্মাণ করা হয়েছে। এতে বণ্যপ্রাণির মৃত্যুহার অনেক কমে আসবে। টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন জানান, মধুপুর শালবন প্রতিষ্ঠা প্রকল্পের আওতায় রোপওয়ে করিডোর নির্মাণের ফলে বানর, হনুমান, সিভেটসহ বিভিন্ন বন্যপ্রাণি নিরাপদে চলাচল করতে পারছে। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করা হয়েছে এবং ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত সময়ে পুরোপুরিভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যানবাহনের নিচে পিষ্ট হয়ে বন্যপ্রাণির মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমবে।

১০ জুলাই ২০২৬

মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবকের লাশ ফিরল কফিনে

মালয়েশিয়া প্রবাসী যুবকের লাশ ফিরল কফিনে

দৃষ্টি নিউজ: পরিবারের হাল ধরতে এবং অভাব দূর করতে ঋণ করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন একমাত্র ছেলে জাকির হোসেন (২৫)। স্বপ্ন ছিল কঠোর পরিশ্রম করে বাবার ঋণ শোধ করবেন, সংসারে স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনবেন। কিন্তু তিন বছর পর জীবিত নয়, তিনি ফিরলেন কফিনবন্দি লাশ হয়ে। একমাত্র সন্তানের নিথর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর বাবা-মায়ের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়া এলাকা। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দিনমজুর বাবা মো. মোজাম্মেল ও মা জরিনা বেগমের একমাত্র ছেলে মো. জাকির হোসেন জীবিকার তাগিদে তিন বছর আগে ধার-দেনা করে মালয়েশিয়ায় যান। কৈশোর জীবন থেকেই সংসারের অভাব-অনটন দেখে বড় হওয়া জাকিরের স্বপ্ন ছিল একটি সুন্দর ও সচ্ছল সংসার গড়ার। মৃত্যুর আগে প্রায় এক সপ্তাহ ধরে মালয়েশিয়ায় জ্বরে ভুগছিলেন জাকির। পরে স্ট্রোক করলে গত ২৪ জুন সেখানে তার মৃত্যু হয়। দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও অপেক্ষার পর গত সোমবার(৬ জুলাই) রাতে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছায়। সরেজমিনে জানা যায়, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোরে মরদেহ গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার গজারিয়া দক্ষিণপাড়ায় পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। উঠানের মাঝখানে একমাত্র সন্তানের কফিন জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন বৃদ্ধ বাবা মো. মোজাম্মেল। মা জরিনা বেগম ও একমাত্র বোন শোকে নির্বাক হয়ে গেছেন। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো গ্রামে যেন স্তব্ধতা নেমে এসেছে। এদিকে মালয়েশিয়ায় কম বেতনের চাকরি করায় বাবার নেওয়া ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করতে পারেননি জাকির। বর্তমানে পরিবারের মাথায় এখনো প্রায় ৪ লাখ ৯৮ হাজার টাকা ঋণের বোঝা রয়েছে। একদিকে একমাত্র সন্তানকে হারানোর তীব্র শোক, অন্যদিকে পাওনাদারদের ঋণের বোঝা- সব মিলিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে এই দরিদ্র পরিবারটি। যে ছেলেকে ঘিরে দিনমজুর বাবা-মা ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখেছিলেন, আজ সেই ছেলের নিথর দেহটুকুই তাদের শেষ সম্বল। যে ছেলে সংসারের হাল ধরবে বলে বিদেশে গিয়েছিল, সে-ই আজ কফিনবন্দি হয়ে ফিরে এলো নিজের চিরচেনা গ্রামে।

০৭ জুলাই ২০২৬

কালিহাতীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

কালিহাতীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপিত

কালিহাতী প্রতিনিধি: ‘উন্নত পল্লী, সমৃদ্ধ দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস উদযাপন বরা হয়েছে। সোমবার(৬ জুলাই) এ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি, আলোচনা সভা, ভিডিও চিত্র প্রদর্শনী ও ঋণ বিতরণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এদিন সকালে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের হলরুমে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফারজানা আক্তারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সায়েদা খানম লিজা, কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ কাইয়ুম খান সিদ্দিকী, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু সাইদ আল সালাউদ্দিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, কালিহাতী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. নাছির উদ্দিন। এসময় ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন পল্লী উন্নয়নমূলক কর্মসূচি, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প, নারীর ক্ষমতায়ন, যুব উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের নানা দিক তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে অগ্রদান শস্য উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় রাজবাড়ী অগ্রদান শস্য দলের ২১ জন সদস্যের মাঝে ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়। দলের সভানেত্রী মোছা. ফরিদা বেগম ও ম্যানেজার মোছা. শাহুনাহার বেগম ঋণের চেক গ্রহণ করেন। এছাড়া উদ্যোক্তা ঋণ কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন ট্রেডে ২৯ জন সদস্যকে ১ লাখ টাকা করে মোট ২৯ লাখ টাকার ঋণ সহায়তা প্রদান করা হয়। মনোহরি ব্যবসা খাতে ১ লাখ টাকার ঋণ সহায়তার চেক গ্রহণ করেন উদ্যোক্তা মো. ইউসুফ আলী। আলোচনা সভায় বক্তারা দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পল্লী অঞ্চলের উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অফিস সহকারী সুমাইয়া খান সুমি।

০৬ জুলাই ২০২৬

সন্তানেরা ছুঁড়ে দিল রাস্তায়- প্রতিমন্ত্রী টুকু নিলেন দায়িত্ব

সন্তানেরা ছুঁড়ে দিল রাস্তায়- প্রতিমন্ত্রী টুকু নিলেন দায়িত্ব

দৃষ্টি রিপোর্ট: জীবনের শেষ বেলায় নিজের রক্ত যখন স্বার্থের টানে হয়ে যায় পাথর, তখন এক পরম মমতার হাত এসে মুছে দিল শতবর্ষী এক পিতার চোখ ফেটে বের হওয়া নোনা জল। টাঙ্গাইলের বৈল্যা এলাকায় অন্ধকার রাতে রাস্তার পাশে পড়ে থাকা অন্ধপ্রায় বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের কান্নার অবসান ঘটেছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপির তাৎক্ষণিক মানবিক হস্তক্ষেপে এবং পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে একবিংশ শতাব্দীর এক চরম অমানবিক অধ্যায়ের পর রচিত হলো এক মানবতার গল্প। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের জনক। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই তার জীবন হয়ে ওঠে নিঃসঙ্গ। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, আর ছোট ছেলে আলাদা সংসার করেন। জীবনের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান ক্রমেই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। এলাকাবাসী জানায়, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত বড় ছেলে শামসুলের বাড়িতেই বসবাস করতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও তার স্বামী থাকতেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দেখাশোনা করতে চাননি। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সন্ধ্যায় তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। এ খবর জানতে পেরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু মানবিকতার হাত বাড়িয়ে দেন। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর কড়া নির্দেশনায় গভীর রাতেই ঘটনাস্থলে ছুটে যায় টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ। সেতুর পাশে অসহায়ভাবে বসে থাকা বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনকে পরম যত্নে উদ্ধার করেন তারা। একই সঙ্গে এই চরম নিষ্ঠুরতার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। ঘটনার মূল কারিগর, বৃদ্ধের সেই পাষাণ নাতনিকে ইতিমধ্যেই থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। নিজের দাদাকে রাতের অন্ধকারে রাস্তায় ফেলে আসার মতো অমার্জনীয় অপরাধের জন্য এখন তাকে আইনের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথমদিকে শতবর্ষী বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে চরম অনাগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন ছোট মেয়ে রিনা বেগম। কিন্তু খোদ প্রতিমন্ত্রী যখন নিজে তার সাথে কথা বলেন এবং একজন অভিভাবকের মতো পাশে দাঁড়ান, তখন গলতে শুরু করে রিনার ভেতরের দ্বিধার বরফ। প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাস ও স্নেহের পর অবশেষে নিজের ভুল বুঝতে পেরে বাবার সেবা ও দেখাশোনার পবিত্র দায়িত্ব নিতে পুরোপুরি সম্মত হন রিনা বেগম। পুলিশ রাতেই মফিজ উদ্দিনকে নিরাপদে তাঁর ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। দীর্ঘ সময় পর এক হতভাগা পিতা ফিরে পান পরম আশ্রয়ের এক টুকরো আঁচল। শুধু উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েই নিজের দায়িত্ব শেষ করেননি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বরং তিনি এই অসহায় পিতার জন্য নিয়েছেন এক অনন্য মানবিক সিদ্ধান্ত। বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থান এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত ব্যয়ভার এখন থেকে ব্যক্তিগতভাবে বহন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া মফিজ উদ্দিনের জন্য অতিদ্রুত সরকারি বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি মেয়ের বাড়িতে কোনো কারণে সমস্যা হয়, তবে বৃদ্ধের থাকার জন্য আলাদা একটি নিরাপদ কক্ষ ভাড়া নেওয়া হবে এবং সেই ভাড়াসহ সব আনুষঙ্গিক খরচ নিয়মিতভাবে প্রতিমন্ত্রী নিজেই পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যে পিতা নিজের শেষ সম্বলটুকুও মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে সন্তানদের নামে লিখে দিয়ে আজ পথের ফকির হয়েছিলেন, সন্তানদের চরম বিশ্বাসঘাতকতার পর আজ রাষ্ট্র এবং একজন জনপ্রতিনিধি তাঁর সেই হারানো সম্মান আর অধিকার ফিরিয়ে দিলেন। এই ঘটনা যেমন আমাদের সমাজের অন্ধকারের এক কুৎসিত রূপকে দেখায়, তেমনি প্রতিমন্ত্রীর এই বিশাল হৃদয়ের ছায়া আমাদের মনে বিশ্বাস জোগায়- পৃথিবীতে এখনো মানবিকতা ফুরিয়ে যায়নি। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।’

০৩ জুলাই ২০২৬

বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

বিদ্যুতের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

দৃষ্টি রিপোর্ট: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা। রোববার(২৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের ডুবাইল ও জামুর্কি এলাকায় সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে মহাসড়কের উভয় পাশে তীব্র যানজটে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হয়। ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের ডুবাইল ও জামুর্কি এলাকায় স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অবরোধ কর্মসূচিতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার ও মির্জাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের চার শতাধিক সাধারণ মানুষ অংশ নেয়। এর মধ্যে দেলদুয়ার উপজেলার ডুবাইল, নাটিয়াপাড়া, সেহড়াতৈল, ইসলামপুর ও পড়াইখালি এবং মির্জাপুর উপজেলার মহেরা, জামুর্কী, পাকুল্লা সহ বিভিন্ন গ্রামের বিপুলসংখ্যক মানুষ ওই কর্মসূচিতে শামিল হন। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও অসহনীয় লোডশেডিংয়ে জনজীবন পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্ম এক প্রকার স্থবির হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীরা জানায়, বারবার পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগকে বিষয়টি জানিয়েও কোনো কার্যকর সমাধান মেলেনি। কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে তারা মহাসড়কে নামতে বাধ্য হয়েছেন। মহাসড়ক অবরোধের খবর পেয়ে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তারা বিক্ষুব্ধ জনতাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং তাদের দাবির প্রতি সহমত পোষণ করে দ্রুত বিদ্যুৎ বিভ্রাট সমস্যা সমাধানের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দেন। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপের নিশ্চয়তা পেয়ে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেয়। এরপর মহাসড়কে পুনরায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। তবে দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে পরবর্তীতে আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বিদ্যুতের দাবিতে কয়েকটি গ্রামের গ্রাহকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করার খবর পেয়ে তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তারা গিয়ে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়। তাৎক্ষণিক পুলিশি তৎপরতায় মহাসড়কের দু’পাশে যানজট নিরসন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। মির্জাপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মোখলেসুর রহমান জানান, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের দাবিতে স্থানীয়রা ঘণ্টা ব্যাপী ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে। তিনি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে চলে আসেন এবং সমস্যা সমাধানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তাদের দাবি ছিল, টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের সঙ্গে তাদের এলাকার বিদ্যুতের সংযোগ যুক্ত করার জন্য- যাতে তারা লোডশেডিংয়ের কবলে না পড়েন। তিনি জানান, স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় বিএনপির শিশু বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকীর সঙ্গেও এ বিষয়ে কথা হয়েছে। তিনিও এ সমস্যার দ্রুত সমাধান চান। পরে অতিদ্রুত এ সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেওয়ায় আন্দোলনকারীরা অবরোধ তুলে নেয়।

২৮ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইল এলজিইডির ৯ হাজার কিমি সড়কে গ্রামীণ বিপ্লব!

টাঙ্গাইল এলজিইডির ৯ হাজার কিমি সড়কে গ্রামীণ বিপ্লব!

বুলবুল মল্লিক: টাঙ্গাইলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নানামুখী উন্নয়ন কর্মকান্ডে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। গ্রামীণ রাস্তাঘাট পাকা করণ, সেতু-কালভার্ট নির্মাণ, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক জনপদের অর্থনৈতিক চিত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে। জেলা এলজিইডি সূত্র জানায়, চলতি বছরের ৩১ মে পর্যন্ত টাঙ্গাইল জেলার আওতায় মোট সড়কের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯,৮২৬.৭০ কিলোমিটারে। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে ইতিমধ্যে ২,৯৪৬.৫০ কিলোমিটার সড়ক বিসি (বিটুমিনাস কার্পেটিং) দ্বারা পাকা করা হয়েছে। অবশিষ্ট ৬,৮৮১.২০ কিলোমিটার কাঁচা সড়ককে ক্রমান্বয়ে পাকা সড়কের আওতায় আনার মেগা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে এলজিইডি। এই বিশাল সড়ক নেটওয়ার্কের মধ্যে উপজেলা সড়ক ৮১৪.৫০ কিলোমিটার, ইউনিয়ন সড়ক ১,০৭৫.৪০ কিলোমিটার এবং গ্রামীণ সড়ক ৭,৯৩৬.৮০ কিলোমিটার। এছাড়া নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত বজায় রাখতে ২৮৬.৭০ কিলোমিটার সড়ক নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে। সূত্রমতে, প্রান্তিক মানুষের যাতায়াত ও পণ্য পরিবহন নির্বিঘœ করতে এলজিইডি এই সড়ক সমূহে আনুমানিক ২,৫০০.০০ মিটার ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণ করেছে। শুধু তাই নয়, চলতি অর্থবছরেই যোগাযোগের পরিধি আরও বাড়াতে ৯৪.৯১৭ কিলোমিটার উপজেলা সড়ক, ৭১.১৭৯ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক এবং ৩৯.০৯১ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলছে। গ্রামীণ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল রাখতে এলজিইডির বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় এ পর্যন্ত ১৬টি আধুনিক হাট-বাজার ও বিভিন্ন ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বাজারে চলে আসছে। পাশাপাশি, সমাজের প্রতিটি শিশুর জন্য শিক্ষার সমান সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রাথমিক শিক্ষার বিকাশমান ধারা অব্যাহত রাখতে বিপুল সংখ্যক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এলজিইডির প্রাথমিক শিক্ষা অবকাঠামো ব্যবস্থাপনা ইউনিটের আওতায় নির্মিত এই আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয়গুলো প্রান্তিক শিশুদের শিক্ষার মানোন্নয়নে রাখছে যুগান্তকারী ভূমিকা। এলজিইডি সূত্র আরো জানায়, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে এলজিইডি পানির উৎস সৃষ্টি ও তার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করেছে। ক্ষুদ্র পানি সম্পদ অবকাঠামো উন্নয়ন এবং দেশব্যাপী পুকুর পুনঃখনন প্রকল্পের আওতায় ইতিমধ্যে ১২ কিলোমিটার খাল এবং ৫টি সরকারি দিঘি/পুকুর সফলভাবে খনন করা হয়েছে। সেই সাথে স্লুইসগেট ও সেচ উপ-প্রকল্পসহ ২টি বড় অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আরও ১টি সেচ উপ-প্রকল্পের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। টাঙ্গাইল শহরের চাকুরিজীবী উম্মুল কাউছার, রাফিউর রহমান, আজিজুল হক, আইনজীবী শামসুদ্দিন, নাজিমুদ্দিন, সাগর আহমেদ, শামীমুল ইসলাম, নাসিমুল হক, রেজাউল করিম বাদশা, হুমায়ুন কবির সহ অনেকেই জানান, জেলা সদরের কেন্দ্রবিন্দু ডিসি অফিস-এলজিইডি মোড়(বৈল্লা) সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় যাতায়াতের অযোগ্য হয়ে পড়েছিল। ওই সড়কে যাতায়াতকারী যানবাহন ও চলাচলকারী মানুষচন চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছিল। সড়কটি এলজিইডি নাকি সড়ক বিভাগ করবে এ নিয়ে জটিলতা ছিল। এলজিইডি সড়কটি পুণ:নির্মাণ করায় সাধারণ মানুষের খুবই উপকার হয়েছে- মানুষ সড়কের সুফল ভোগ করছে। ধনবাড়ীর কৃষক নাজমুল হাসান, পোল্ট্রী খামারের মালিক আজগর আলী, ব্যবসায়ী রহমত হোসেন, আলী ইসলাম, মুদি দোকানদার কায়েম উদ্দিন, শামসুল আলম, আ. কুদ্দুছ সহ অনেকেই জানান, উপজেলার মুশুদ্দী-ঝোপনা সড়কে ব্রিজ নির্মাণ হওয়ায় এখন আর তাদেরকে ৩-৪ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হয়না। কৃষিপণ্য, পোল্ট্রী মুরগি ও ফিড, নিত্যপণ্য সহজেই আনা-নেওয়া করা যায়। ফলে তাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। বাসাইল উপজেলার শিক্ষক আবুল কাশেম, হাসান আলী রেজা, ইসমত আরা, চাকুরিজীবী রাশেদ রহমান, আফজাল হোসেন, ব্যবসায়ী কলিমুল্লাহ, আমির হামজা সহ অনেকেই জানান, ঝিনাই নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণ করায় দাপনাজোর এলাকায় অবস্থিত উন্নতমানের ওয়াটার গার্ডেন ও স্পা’তে বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াতে সুবিধার পাশাপাশি নিত্য ও কৃষিপণ্য এবং শিক্ষার্থী-চাকুরিজীবীদের যাতায়াতের পথ সুগম হয়েছে। টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, গ্রামীণ অবকাঠামোর এই টেকসই উন্নয়ন মূলত প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত করছে। চলমান প্রকল্পগুলো শেষ হলে জেলার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হবে। টাঙ্গাইলে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এলজিইডির সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক নির্দেশনা ও পরামর্শ, বিভিন্ন অংশীজন এবং মাঠ পর্যায়ের সহকার্মীদের সার্বিক সহযোগিতায় জেলার উন্নয়ন কাজ সঠিক ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে স্থানীয় কৃষি-অকৃষিপণ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের খামারি সহ উৎপাদনমুখি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত জনগোষ্ঠি গ্রামীণসড়ক যোগাযোগের সুবিধাগ্রহণ করছে। তাদের উৎপাদিত সকল পণ্যের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তির জন্য কম খরচে সহজে ঢাকা সহ বিভিন্ন জেলার সাথে দ্রুত সময়ে যোগাযোগ করে পণ্য বাজারজাত করে আর্থিকভাবে অধিক লাভবান হচ্ছে।

২৫ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলে উচ্চ জলাধার নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

টাঙ্গাইলে উচ্চ জলাধার নির্মাণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ঈদগাঁ মাঠ সংলগ্ন এলাকায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় একটি উচ্চ জলাধার নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর করা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে ওই ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার পানি সরবরাহ ব্যবস্থার পাশাপাশি আরও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দুইটি ভূ-গর্ভস্থ পানি শোধনাগার (প্রতি ঘণ্টায় ৩৫০ ঘনমিটার পানি পরিশোধন ক্ষমতা সম্পন্ন) এবং দুইটি ৬৮০ ঘনমিটার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পে ১৯ কোটি ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৪ টাকা ব্যয়ে পানি পরিশোধনাগার নির্মাণ এবং ৬ কোটি ৪৯ লাখ ৩০ হাজার ৩১১ টাকা ব্যয়ে উচ্চ জলাধার নির্মাণ করা হচ্ছে। সূত্রমতে, প্রকল্প বাস্তবায়নের পর পৌরসভার ৪, ৫, ৬, ১৫, ১৬ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১৪ কিলোমিটার পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে নিরাপদ পানি সরবরাহ করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের আওতায় ৯টি উৎপাদক নলকূপ স্থাপনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে টাঙ্গাইল পৌর এলাকার দীর্ঘদিনের পানি সংকট অনেকাংশে দূর হবে এবং পৌরবাসী নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির সুবিধা পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) ও টাঙ্গাইল পৌরসভার প্রশাসক সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আদিবুল ইসলাম, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাইসুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু সহ দলীয় নেতাকর্মী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, বর্তমান সরকারের লক্ষ্য নগর ও পৌর এলাকার প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা। টাঙ্গাইল পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড ও আশেকপুর বাইপাস এলাকায় ওভারহেড পানির ট্যাংক নির্মাণ সম্পন্ন হলে স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপদ ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ সুবিধা পাবেন। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলকে যেভাবে উন্নত ও আধুনিক নগরী গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি- সে অনুযায়ী কার্যক্রম শুরু করেছি। আমি নিজে কোনো অন্যায় করব না এবং কোনো অন্যায়কেও প্রশ্রয় দেব না।

১৯ জুন ২০২৬

২০ গ্রামের মানুষের ভরসা নড়বড়ে কাঠের সাঁকো

২০ গ্রামের মানুষের ভরসা নড়বড়ে কাঠের সাঁকো

মু. আবিদ মল্লিক জয়: টাঙ্গাইলের বাসাইলের লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। ফুলকি ইউনিয়নের খাটরা গ্রামে নির্মিত জরাজীর্ণ-ঝুঁকিপূর্ণ-নড়বড়ে কাঠের সাঁকোটিই এখন বাসাইল ও কালিহাতী এ দুই উপজেলার প্রায় ২০টি গ্রামের লাখো মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিন চরম প্রাণঝুঁঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে সাঁকো পার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও শ’ শ’ কোমলমতি শিক্ষার্থী। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি শুনলেও বাস্তবে মেলেনি একটি টেকসই সেতু। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাসাইল উপজেলার ফুলকি, খাটরা, বল্লা, কাজিপুর এবং পাশের কালিহাতী উপজেলার রামপুর, গান্ধিনা, তেজপুরসহ প্রায় ২০টি গ্রামের মানুষের উপজেলা সদরে পৌঁছানোর একমাত্র সহজ মাধ্যম এই পথটি। যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখতে নিরুপায় হয়ে প্রায় ১২ বছর আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে ও অর্থায়নে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর এই কাঠের সাঁকোটি নির্মাণ করেন। দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় বর্তমানে সাঁকোটির কাঠ ও খুঁটি পচে গিয়ে চরম বিপজ্জনক আকার ধারণ করেছে। সরেজমিনে এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সাঁকোটি দিয়ে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করাও এখন দুরুহ হয়ে পড়েছে। এর ওপর দিয়েই অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেলের মতো ছোট যানবাহনগুলো জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করছে। যেকোনো মুহূর্তে সাঁকোটি ভেঙে নদীতে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রধান অর্থনীতি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু যাতায়াত ব্যবস্থা নাজুক হওয়ায় কৃষকরা তাদের উৎপাদিত ধান, সবজি ও বিভিন্ন কাঁচামাল সময়মতো কাউলজানী বোর্ড বাজার বা উপজেলা সদরে নিতে পারছেন না। পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত খরচ ও চরম ভোগান্তির কারণে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন স্থানীয় প্রান্তিক চাষিরা। কাউলজানী বোর্ড বাজার এলাকায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লুৎফা-শান্তা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কাউলজানী নওশেরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় এবং একাধিক ব্যাংকের শাখা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলোর শ’ শ’ শিক্ষার্থী ও গ্রাহকদের প্রতিদিন এই কাঠের সাঁকো পার হতে হয়। নড়বড়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা পা পিছলে নদীতে পড়ে বই-খাতা ভিজিয়ে ফেলছে। যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় অভিভাবকরা সন্তানদের একা স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছেন। এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, লাঙ্গুলিয়া নদীর এই স্থানের সেতু নির্মাণকে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন জনপ্রতিনিধিরা। স্বাধীনতার পর থেকে এখন পর্যন্ত যতগুলো নির্বাচন এসেছে, প্রতিটি নির্বাচনেই বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা এই ঘাটে এসে পাকা ব্রিজ করে দেওয়ার গালভরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু ভোট শেষ হয়ে গেলে আর এলাকার মানুষের খোঁজ নেন না। ফলে খাটরা গ্রামসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি কেবল প্রতিশ্রুতিতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে। ভুক্তভোগী প্রায় ২০টি গ্রামের সাধারণ মানুষের জোর দাবি- হাজারো মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, শিক্ষার্থীদের নির্বিঘেœ চলাচল এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল করতে লাঙ্গুলিয়া নদীর ওপর অবিলম্বে একটি স্থায়ী ও পাকা সেতু। স্থানীয় বাসিন্দা হামেদ আলী মিয়া বলেন, ‘স্বাধীনতার পর অনেক এমপি আইলো-গেল, কেউ এই ব্রিজটি কইরা দেয় না। নির্বাচন আইলে কয়, এই ব্রিজ কইরা দিমু, নির্বাচন যাওয়ার পর আর মনে থাকে না। আমাদের এই ব্রিজটি খুবই দরকার। হাজার হাজার মানুষ নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে চলাচল কইরা থাকে।’ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাচালক রিপন বলেন, ‘এই কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করা ঝুঁঁকিপূর্ণ। যে কোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কাঠের সাঁকোটি অনেক আগেই মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়- স্থানীয়রা টাকা তুলে এই সাঁকোটি মেরামত করে থাকে। মেরামত করতে করতে সাঁকোটি এখন আর মেরামতেরও সুযোগ নেই।’ ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার অপর চালক আজমত আলী বলেন, ‘ব্রিজ করে দেবে বলে অনেকেই কথা দেয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ব্রিজটি কেউ করে দেয়নি। আমাদের কাঠের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এই সাঁকোতে আমি একবার দুর্ঘটনার শিকার হই। তক্তা ভেঙে আমার গাড়ি নিচে পড়ে যায়। পরে ৬ জনে মিলে টেনে উপরে তুলি। কাঠের সাঁকো দিয়ে আমাদের প্রতিনিয়ত ঝুঁঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। আমাদের এখানে ব্রিজ হওয়া অতি প্রয়োজন।’ স্থানীয় বাসিন্দা রাজু আহমেদ, কামাল হোসেন, ইসমাইল সিকদার, জয়নুদ্দিন সহ অনেকেই জানান, এই যে কাঠের সাঁকো তা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। আশপাশের প্রায় ২০ গ্রামের মানুষ এই সাঁকো দিয়ে চলাচল করে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাতায়াত করে থাকে। জনপ্রতিনিধিরা বারবার প্রতিশ্রুতি দিলেও ব্রিজটি কেউ নির্মাণ করে দেয়নি। বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী(এলজিইডি) কাজী ফাত্তাউর রহমান বলেন, ‘বাসাইলের খাটরা ব্রিজটি অনূর্ধ্ব একশ’ প্রকল্পের প্রথম দিকের সিরিয়ালে রাখা হয়েছে। অনূর্ধ্ব একশ’ প্রকল্প শুরু হওয়ার মাত্রাই ব্রিজের টেন্ডার আহ্বান করা হবে।’ টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান জানান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান লাঙ্গুলিয়া নদীর খাটরা অংশে ব্রিজ নির্মাণের বিষয়ে তাগিদ দিয়েছেন। এই ব্রিজটি অনূর্ধ্ব একশ’ প্রকল্পের আওতায় নির্মাণের পরিকল্পণা নেওয়া আছে। ওই প্রকল্প শুরু করতে যদি সময় লাগে, তাহলে টাঙ্গাইলের অন্য প্রকল্প থেকে ব্রিজটি নির্মাণ করার ব্যবস্থা করা হবে।

১৫ জুন ২০২৬

নির্বাচনী ইশতেহারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নির্বাচনী ইশতেহারের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: প্রধান মন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী টাঙ্গাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার(১৩ জুন) দুপুরে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপন ও বিতরণের মাধ্যমে ওই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতি মন্ত্রী এবং বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী স্থানীয় জোবায়দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে বনজ, ফলদ ও ওষুধি বৃক্ষের চারা বিতরণ করেন। এ সময় অতিথি হিসেবে টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শনিবার কক্সবাজারে উদ্বোধন করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৪০ লাখ বনজ, ফলদ ও ওষুধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করে।

১৩ জুন ২০২৬

এলজিইডি’র অসমাপ্ত সড়কের কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন

এলজিইডি’র অসমাপ্ত সড়কের কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কে এলজিইডি নির্মাণাধীন উন্নয়ন কাজ শেষ না করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পালিয়ে যাওয়ায় উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন করার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে শিক্ষার্থী-এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (৯ জুন) সকালে ঘাটাইলের আনেহলা ইউনিয়নের খায়েরপাড়া বাজার এলাকায় নির্মাণাধীন বিধ্বস্ত সড়কে দাঁড়িয়ে স্থানীয় কয়েকটি স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। এলাকাবাসী জানায়, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের(এলজিইডি) সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০২৪ সালে লোকেরপাড়া-লুহুরিয়া সড়কের উন্নয়ন কাজ শুরু করলেও নির্ধারিত সময়ে শেষ না করে মাঝপথে বন্ধ করে দেয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় লক্ষাধিক মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। মানববন্ধন কর্মসূচি চলাকালে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্থানীয় শহিদ ছালাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম, খায়েরপাড়া বাজার সমিতির সভাপতি হামিদুর রহমান হিরো, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রহিম খান দুলাল, সমাজ সেবক তাওহিদুল ইসলাম তারেক, হিটলার, মোখলেছুর রহমান খান বেল্লাল প্রমুখ। বক্তারা বলেন, প্রায় দুই বছর ধরে নির্মাণাধীণ সড়কটির বেহাল দশার কারণে শিক্ষার্থী সহ সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শেষ না করে আত্মগোপণে চলে গেছে। শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় ও সাধারণ মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ রাখতে সড়কডিটর নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সড়কের বেহাল দশার কারণে স্থানীয় কয়েকটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যাতায়াতে ব্যাপক কষ্ট করছে। বিশেষ করে বৃষ্টিতে কাদা-পানির কারণে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। এছাড়া যানবাহন চলাচলে সমস্যার কারণে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। তারা দ্রুত নির্মাণাধীন সড়কটির উন্নয়ন কাজ শেষ করার দাবি জানান।

০৯ জুন ২০২৬

‘ও আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি’

‘ও আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি’

মির্জাপুর প্রতিনিধি: স্ত্রী চলে গেছেন এক যুবকের হাত ধরে। স্বামী প্রতিশোধ নিতে সেই যুবকের স্ত্রীকেই বিয়ে করেছেন। টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে এমন ঘটনা ঘটে। উপজেলার পেকুয়া গ্রামের এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা। ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাঁশতৈল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শাজাহান সিরাজ। পরিবার ও এলাকাবাসী জানায়, পেকুয়া গ্রামের সাইজুদ্দীন মিয়ার ছেলে হাসান ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে জহুরা আক্তারকে বিয়ে করেন। তাদের ঘরে এক ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। হাসান মিয়ার বাড়ির পাশে একটি সংস্থায় বাবুর্চির কাজ করতেন সাতক্ষীরা জেলার রাজু মিয়া। ওই অফিসের পাশাপাশি হাসানের বাড়ি থাকায় রাজুর সঙ্গে হাসানের পরিবারের সখ্য হয়। এক পর্যায়ে সেই সম্পর্ক রূপ নেয় পরকীয়ায়। ৭ মে হাসানের স্ত্রী জহুরাকে নিয়ে পালিয়ে যান রাজু। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হাসান প্রতিশোধের পথ বেছে নেন। হাসান মিয়া বলেন, ‘ও আমার বউ নিয়ে গেছে, তাই আমি ওর বউ নিয়ে এসেছি।’ হাসানের ভাষ্য, ‘পরকীয়া প্রেমের শাস্তি দিতেই আমি এমন কাজ করেছি।’ হাসানের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা যায়, নিজের স্ত্রী চলে যাওয়ায় হাসান রাজুর স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। আলাপ-আলোচনার এক পর্যায়ে ৪ জুন সাতক্ষীরা থেকে রাজুর স্ত্রীকে তার তিন বছরের সন্তানসহ মির্জাপুরে আনা হয়। পরে তাকে বিয়ে করেন হাসান মিয়া। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজু মিয়ার নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এদিকে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। কেউ এটিকে প্রতিশোধের ঘটনা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ বলছেন, এ ধরনের ঘটনা পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়েরই প্রতিফলন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে নানা আলোচনা। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে পারিবারিক বন্ধন, নৈতিকতা এবং সামাজিক সচেতনতা নিয়েও।

০৮ জুন ২০২৬

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে :: পানিসম্পদ মন্ত্রী

যমুনার ভাঙন রোধে অচিরেই স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ শুরু হবে :: পানিসম্পদ মন্ত্রী

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল সদর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে অচিরেই স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ কাজ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে সদর উপজেলার কাকুয়া ইউনিয়নের চরপৌলি এলাকার নদীভাঙন কবলিত স্থান পরিদর্শন শেষে নদীতীরবর্তী মিন্টু মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ভাঙন কবলিত মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি বলেন, টাঙ্গাইলের যমুনা নদীর বামতীরে ভাঙন কবলিত এলাকাগুলো সুরক্ষায় প্রায় ৫০কোটি টাকা ব্যয়ে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ এবং জনগণের স্বার্থে আগামি অর্থবছর থেকে যমুনা নদীর ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ শুরু করা হবে। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে। যমুনার ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যেই নিজে সরেজমিনে পরিস্থিতি পরিদর্শনে এসেছেন। যমুনা নদীর ভাঙনে প্রতিবছর নদীতীরের অসংখ্য মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এ দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, আমরা যা বলি তাই করি। নির্বাচনের আগে যমুনার ভাঙন রোধে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম- সরকার তা বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছে। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবের পাশাপাশি এ অঞ্চলের উন্নয়নে সড়ক নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলীর সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কেন্দ্রীয় অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মো. শাহজাহান সিরাজ, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা যুবদল ও ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি খন্দকার আহমেদুল হক সাতিল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, দলীয় নেতাকর্মী এবং ভাঙন কবলিত এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

২২ মে ২০২৬

যমুনা সেতু মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট

যমুনা সেতু মহাসড়কে ৭ কিলোমিটার যানজট

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় প্রায় ৭ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। শুক্রবার (২২ মে) ভোর থেকে যমুনা সেতুর পূর্বপ্র ন্তের টোলপ্লাজা থেকে কালিহাতী উপজেলার সল্লা পর্যন্ত দীর্ঘ যানবাহনের সারি দেখা যায়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রী ও পরিবহন চালকরা। জানাগেছে, শুক্রবার ভোরে যমুনা সেতুর ওপর দুটি গাড়ি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন সরিয়ে নিতে গিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচলে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। পরে সকাল সাড়ে ৭টার দিকে সেতুর ওপর আরও দুটি দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয় এবং দ্রুত দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। যমুনা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহন উদ্ধার কার্যক্রম চালানোর সময় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটে। এর ফলে সেতুর পূর্বপ্রান্ত থেকে কালিহাতীর সল্লা পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা দ্রুত কাজ করায় অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসে।

২২ মে ২০২৬

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ সোবহানের নেতৃত্বে বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে! তারা ধানবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বিনিময় পরিবহনের তিনটি বাসও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ওই দুই নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তারা মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পকেট কমিটি গঠন করে পরিবহন খাত পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জন মালিকের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত ‘বিনিময় পরিবহন’ -এর তিনটি বাসও জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএরনপির সভাপতিদ্বয়। বর্তমানে ওই বাসগুলোর আয়ের পুরো অর্থ তারা নিজেরা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন মালিক দাবি করেন, বাস মালিক শামসুল আলম ও লিটনের উপর হামলা চালিয়ে পড়ে তাদের সান্ত্বনাও দেন। পরিবহন পরিচালনায় অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধা দিলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলার শিকার বাস মালিক শামসুল আলম জানান, প্রতিবাদ করায় তার উপর হামলা করা হয়। আবার বিএনপির কয়েক নেতা শান্তনাও দেন। তারা যৌথভাবে বাস কিনেছেন। এখন বাসের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। সবকিছু জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কখনো ওই তিন বাস দেখেন নাই এবং জানেনও না। তবে মালিকদের মধ্যে একটা সমস্যা হয়েছিল- সেটা মিমাংসা করার জন্য কয়েকবার উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষই আসেননি।

২০ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা

ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল: ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসতেই যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনের চওড়া রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো দ্রুত চলে এলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ মহসড়কে যানজটের আসল নেপথ্য কারণ- যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) যাতায়াত ব্যবস্থা। ফোর লেনের বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ যমুনা সেতুর সরু ওয়ানওয়ে সামলাতে পারেনা। ফলে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও ঈদুল আযহায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে ভোগান্তি বাড়াবে। মহাসড়কে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনাসেতু প্রশস্তকরণ বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি ক্রমশ: জোরদার হচ্ছে। জানাগেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অংশের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮০ শতাংশ। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত। এর ওপর যমুনা সেতুতে দুই দিকে একই সাথে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত লেনের অভাব বা ওয়ানওয়ে যাতায়াতের কারণে ফোর লেনের গতিশীল গাড়িগুলো সেতুর প্রবেশমুখে এসে আটকে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সেতুর না থাকায় পেছনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো তা ৪০ কিমি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবেই এই অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। এদিকে, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে রোববার(১৭ মে) বিকালে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানায়, যমুনা সেতুর ওয়ানওয়ে যাতায়াতের এই ‘বটলনেকে’র কারণে টাঙ্গাইল অংশে প্রতিবছরই যানজট হয়। বরাবরের মতো এবারও নানা কারণে মহাসড়কের ১৩টি নির্দিষ্ট স্পটে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে- যমুনা সেতু, যমুনা সেতু গোলচত্বর, জোকার চর, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, ঘারিন্দা ওভার ব্রিজ, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া বাইপাস, পাকুল্ল্যা, মির্জাপুর শহরের আঞ্চলিক সড়ক, মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যানজট এড়াতে কিছু গাড়িকে ভূঞাপুর হয়ে আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যমুনা সেতু গোল চত্বরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে সেতু পারাপারে বিশেষ ট্রাফিক সমন্বয় এবং হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, তুলা মিয়া, আজমত আলী, রঘুনাথ শীল, পিযুস কান্তি সাহা, হাজী শরিফুল ইসলাম সহ অনেকেই জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন স্পটে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই যমুনাসেতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানো বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জানায়, মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটালে তাৎক্ষণিক মহাসড়কে প্রায় ২০-৩০ বা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। কারণ, মহাসড়ক থেকে ওই গাড়ি সরাতেই অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। ঈদের সময়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে- তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহাসড়কের পাশে বসবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ে- যা যানজট সৃষ্টি করে। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুল লতিফ, রাসেল আহাম্মেদ, হাসু মিয়া, রাকিব হোসেন সহ অনেকেই জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে ছুটি হলে সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একবারে এই মহাসড়কে এসে পড়ে। ঈদের মাত্র দুই-একদিন আগে হঠাৎ সব ছুটি একসঙ্গে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সবার মাঝে আগে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, ঈদযাত্রা উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশেই ফোর লেনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচলের জন্য ফোরলেন সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। তবে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হবে। সেতুর দুই প্রান্তেই ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে দুই প্রান্তেই ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। তবে বর্ধিত জনসংখ্যা ও ফোরলেনের মহাসড়কের গাড়ির চাপ যমুনাসেতুর ওয়ানওয়ে নিতে পারছেনা। ফলে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছেনা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এবার মহাসড়কে যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের পাশে বা আশেপাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফও পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বিএনপি সরকার দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। উত্তরবঙ্গের এবারের ঈদ যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক হয় এবং দুর্ঘটনায় যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে- সেজন্য চালক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, যানজট নিরসনে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে কাজ করবে বিশেষ ‘স্বেচ্ছাসেবী টিম’। মহাসড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় বুধবার(২০ মে) সকালে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ট্রাক চালক রাসেল মিয়া(২০) ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি যমুনাসেতুমুখী লেনে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া নামকস্থানে পৌঁছলে চালক ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার বিভাজকের(ডিভাইডার) ওপর উঠে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চালক রাসেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২০ মে ২০২৬