শিল্প ও সাহিত্য
আধুনিকতার আগ্রাসনে কোণঠাসা আদিবাসী কৃষ্টি
বুলবুল মল্লিক: গারো ভাষায় ‘দক’ শব্দের অর্থ শরীর আর ‘মান্দা’ মানে কাপড় বা শাড়ি। এই দুই শব্দের যুগলবন্দী থেকে জন্ম ‘দকমান্দা’র। এটি কেবল সুতা আর রঙের বুননে তৈরি কোনো সাধারণ পোশাক নয়; এটি টাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের শালবনের কোলে বেড়ে ওঠা গারো নারীদের আত্মপরিচয়- হাজার বছরের কৃষ্টি আর জাতিগত ঐতিহ্যের এক জীবন্ত ক্যানভাস। একসময় গারোদের সামাজিক উৎসব, বিয়ে কিংবা ওয়ানগালার আনন্দ-উচ্ছ্বাসে নারীরা একই রঙের দকমান্দা পরে হাজির হতেন। একই রঙে রাঙানো সেই উৎসবের আমেজ যেমন বাড়াত সৌহার্দ্য, তেমনি সগর্বে জানান দিত তাদের নিজস্ব সংস্কৃতির উপস্থিতি। তবে কালের বিবর্তন, আধুনিকতার তীব্র স্রোত আর যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে গারোদের এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও মাতৃভাষা আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, একটি দকমান্দা তৈরি মোটেও সহজ কাজ নয়। এটি তৈরিতে প্রয়োজন হয় নিখুঁত বুননশৈলী, চরম ধৈর্য এবং দীর্ঘ সময়। গারো নারীরা সম্পূর্ণ নিজস্ব কারিগরি জ্ঞানে, কাঠের তৈরি আদি তাঁতযন্ত্রের (কোঁক) সাহায্যে ঘরে বসে এই পোশাক বোনেন। এর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এর পাড় বা বর্ডারের বৈচিত্র্যময় নকশা ও হরেক রঙের সুতার কাজ। বিভিন্ন ফুল, লতা-পাতা ও জ্যামিতিক নকশার বুননে ফুটিয়ে তোলা হয় পাহাড়ের প্রাকৃতিক রূপ। এক একটি আকর্ষণীয় ও ভারী নকশার দকমান্দা তৈরি করতে একজন কারিগরের এক থেকে দুই সপ্তাহ, এমনকি নকশা জটিল হলে এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সম্পূর্ণ হাতে বোনা এই পোশাকটি তৈরিতে যে পরিমাণ কায়িক শ্রম দিতে হয়- সেই তুলনায় এর পেছনে ব্যয়ের পরিমাণও অনেক বেশি। বর্তমানে সুতা, রঙ ও তাঁত তৈরির উপকরণের দাম বাজারে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। ফলে একটি ভালো মানের দকমান্দা তৈরিতে উৎপাদন খরচ যেমন বেড়েছে, তেমনি এর খুচরা বাজারমূল্যও সাধারণের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বর্তমানে বাজারে একটি সাধারণ মানের দকমান্দা ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও আকর্ষণীয় নকশার দামি দকমান্দাগুলো ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা বা তারও বেশি মূল্যে বিক্রি হয়। কিন্তুটাঙ্গাইলের মধুপুর, ঘাটাইল ও সখীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের গারো জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশই নিম্ন আয়ের হওয়ায় এই চড়া মূল্যের পোশাক নিয়মিত কেনা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে এ বস্ত্রের কারিগররা যেমন লোকসানের মুখে পড়ছেন, তেমনি আধুনিক কাপড়ের সহজলভ্যতা ও কম দামের কাছে মার খাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাকটি। টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গায়রা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, আধুনিক সভ্যতার নানামুখী চাপের পরও কিছু মানুষ এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন তাদের পুরনো কৃষ্টি। প্রখর রোদে মাঠে কাজ করার সময়ও অনেক গারো নারী অত্যন্ত স্বাচ্ছন্দ্যের সাথে এক প্যাঁচে জড়িয়ে রেখেছেন নিজস্ব সংস্কৃতির এই দকমান্দা। সেখানেই কথা হয় গায়রা এলাকার গারো কিশোরী বাপ্পি বেডুলকারের সাথে। বাপ্পির চোখেমুখ জুড়ে তার সম্প্রদায়ের প্রতি অগাধ ভালোবাসা। তার কাছে এই দকমান্দা কেবল শরীর ঢাকার আবরণ নয় বরং তার সম্প্রদায়ের পরিচয়, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক পরম প্রতীক। বাপ্পি ও তার সমবয়সী কিশোরীরা আক্ষেপ করে জানান, আধুনিকতার আগ্রাসনে এই ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও তাদের মাতৃভাষা ধীরে ধীরে সমাজ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, ‘দকমান্দা আমাদের ঐতিহ্যের পোশাক। এটি এক প্যাঁচে পরতে হয়। ছোটবেলা থেকেই মা-বানিদের (নানি-দাদি) দেখে আমরা এটি পরা শিখেছি। এটি পরতে আমাদের ভীষণ ভালো লাগে।’ কাজের ক্ষেত্রে এই পোশাকের উপযোগিতা বর্ণনা করে তারা আরও বলেন, ‘পোশাকটি শরীরের সাথে এমনভাবে মিশে ও মানিয়ে যায় যে মাঠের কঠিন কাজ বা ঘরের দৈনন্দিন কাজ করতে কোনো রকম অসুবিধা হয় না। ভাড়ি কোনো পোশাক পরে আছেন- এমন অস্বস্তি কখনোই তৈরি হয় না। তবে এই গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহ্য টিকে থাকার পথটি এখন আর মসৃণ নেই। বর্তমান যুগের তরুণ-তরুণীদের একাংশের অনীহা এবং বাইরের সমাজের অবহেলামূলক দৃষ্টিভঙ্গি একে কোণঠাসা করে ফেলছে। কিশোরীরা অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানান, এখন অনেকেই এটি আর নিয়মিত পরতে চান না। এই পোশাক পরে বাইরে বা শহরে গেলে আমাদের নানা ধরণের আপত্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। অনেকে আমাদের দিকে আলাদা চোখে তাকায়। এর সাথে যোগ হয়েছে আর্থিক সীমাবদ্ধতা। অর্থাভাবের কারণে ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও অনেক গারো কিশোরী বা নারী এখন আর মনের মতো সুন্দর বা দামি দকমান্দা কিনে পরতে পারেন না। মধুপুরের গারো সম্প্রদায়ের সদস্য অঞ্জনা নকরেক জানান, দকমান্দার নকশা ও রঙে পাহাড়ি প্রকৃতি এবং গারো সংস্কৃতির ছাপ ফুটে ওঠে। জীবনের সবচেয়ে বিশেষ দিনটিতে তারা আধুনিক কোনো পশ্চিমা বা ভিনদেশি পোশাক নয় বরং পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া অনন্য সুন্দর একটি দকমান্দা পরেই কনে সাজবেন, বসবেন বিয়ের পিঁড়িতে। আধুনিকতার ঝড়ো হাওয়ায় গারো সংস্কৃতির এই অমূল্য সম্পদ পরম মমতা আর ভালোবাসাই এখনো টিকিয়ে রেখেছে শত বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে। মধুপুরের আচিক মিচিক সোসাইটির পরিচালক সুলেখা ম্রং জানান, গারো সমাজে দকমান্দা শুধু পোশাক নয়, এটি তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ের অন্যতম বাহন। তবে সময়ের পরিবর্তন, কর্মসংস্থানের কারণে বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়া এবং মূলধারার সমাজের সঙ্গে মিশে যাওয়ার ফলে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ঐতিহ্যবাহী পোশাকের ব্যবহার কমছে। তবু তিনি বিশ্বাস করেন, ভাষা ও পোশাকই গারো সম্প্রদায়ের অস্তিত্বের সবচেয়ে বড় পরিচয়। তাই দকমান্দা টিকিয়ে রাখা মানে নিজেদের শিকড় ও সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখা।
২১ জুন ২০২৬
টাঙ্গাইলের দেয়ালে দেয়ালে ‘চাঁনু পাগলা’র ভালোবাসার ক্যানভাস!
মু. আবিদ মল্লিক জয়: ভোর হলেই ঘরের দরজায় তালা ঝুলিয়ে বেড়িয়ে পড়েন তিনি। গন্তব্য অজানা। সারা দিন শহরের এক দেয়াল থেকে অন্য দেয়ালে ছুটে চলা। মুখে স্পষ্ট ভাষা নেই, নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। অথচ ১০-১৫ মিনিটের জাদুকরী ছোঁয়ায় ইটের ধূসর দেয়ালে ফুটিয়ে তোলেন অসাধারণ সব চিত্রকর্ম। তিনি আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে চাঁনু মিয়া (৫১)। স্থানীয়দের কাছে তিনি পরিচিত ‘চাঁনু পাগলা’ নামে। মানসিক ভারসাম্যহীন এই মানুষটির তুলির আঁচড়ে মুগ্ধ এখন টাঙ্গাইল শহরের সর্বস্তরের মানুষ। টাঙ্গাইল শহরের এনায়েতপুর এলাকার বাসিন্দা চাঁনু মিয়া বাবা-মায়ের পাঁচ বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করা চাঁনু ছোটবেলায় বাবার সাথে মাঠে কাজ করতেন। কাজের ফাঁকে কচুরিপানা, মাটির টুকরো আর কয়লা দিয়ে মাটিতেই আঁকিবুঁকি করতেন। সেখান থেকেই মূলত তার ছবি আঁকার হাতেখড়ি। তবে বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। তীব্র একাগ্রতা আর একাকিত্ব থেকে একপর্যায়ে ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। এরপর থেকেই ছবি আঁকাকে নিজের জীবনের একমাত্র সঙ্গী করে নেন তিনি। চাঁনু মিয়ার আঁকা ছবির মূল আকর্ষণ এক জোড়া তরুণ-তরুণী। স্থানীয়দের ধারণা, ছবির ছেলেটি স্বয়ং চাঁনু মিয়া এবং মেয়েটি তার হারিয়ে যাওয়া প্রেমিকা। তবে সেই প্রেমিকার নাম বা পরিচয় আজও রহস্যই রয়ে গেছে। শুধু প্রেম নয়, চাঁনুর তুলিতে ফুটে ওঠে মসজিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের নানা গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। ছবির পাশাপাশি দেয়ালে দেয়ালে তিনি লিখে রাখেন চমৎকার সব উপদেশমূলক বাণী। পেশায় চিত্রশিল্পী না হলেও চাঁনু মিয়ার কাজের গতি ও নিখুঁত শৈলী যেকোনো পেশাদার শিল্পীকে হার মানাবে। কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটে তিনি এঁকে ফেলেন পূর্ণাঙ্গ ছবি। অস্পষ্ট ভাষায় কথা বলা এই মানুষটির ভেতরের সুপ্ত প্রতিভা দেখে প্রতিনিয়ত পথচারীরা থমকে দাঁড়ান, মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন তার সৃষ্টিশীলতা। দিন শেষে অন্ধকার নামলেই আবার ফিরে যান নিজের একাকী ঘরে। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, চাঁনু মিয়ার সঙ্গে একটি বস্তা। বস্তার ভেতরে কয়লা ও কচুরিপানা আর কিছু কাগজের টুকরা পাশে রেখে শহরের পার্ক বাজারের মোড়ে একটি দেয়ালে চাঁনু মিয়া ছবি আঁকছেন। তার এ ছবি আঁকা দেখতে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষজন। আঁকা ছবি দেখে সবাই প্রশংসা করছেন। চাঁনু মিয়ার প্রায় সমবয়সী স্থানীয় বাসিন্দা রাব্বি ইসলাম বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে দেখে আসছি চাঁনু মিয়া কচুরপিানা ও কয়লা দিয়ে শহরের বিভিন্ন দেয়ালে ছবি আর্ট করে রাখেন। তার ছবি আঁকা খুবই সুন্দর। তার ছবি আঁকা দেখে নতুন প্রজন্মের ছেলে-মেয়েরা উৎসাহিত হবেন। পার্কবাজারের ব্যবসায়ী মো. ইদ্রিস আলী বলেন, আমি ছোট বেলা থেকে দেখছি তিনি বিভিন্ন দেয়ালে গাছের পাতা, লকচচুরিপানা, কচুগাছের কাণ্ড, কয়লা ইত্যাদি দিয়ে ছবি আঁকেন। বিভিন্ন দেয়ালে দেখা মিলে একটি ছেলে ও একটি মেয়ের ছবি, সবাই ধারণা করছে মেয়েটি তার প্রেমিকা আর ছেলেটি তিনি। এছাড়াও তিনি স্বাধীনতার ছবিও এঁকে থাকেন। তাকে যদি সরকারিভাবে সুচিকিৎসা দিয়ে সহযোগিতা করা হয়- তাহলে তিনি ভালো চিত্রশিল্পী হতে পারবেন। ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা চালক সেলিম মিয়া বলেন, আমি শহররে বিভিন্ন এলাকায় রিকশা চালাই। চাঁনু পাগলাকে শহরের বিভিন্ন দেয়ালে ছবি আঁকতে দেখি। যখন যাত্রী না থাকে রিকশা চালানো বন্ধ করে তার ছবি আঁকা দেখি, অনেক ভালো লাগে। চাঁনু দেয়ালে দেয়ালে ছবি আঁকেন। যে দেয়ালে ছবি আঁকেন অনেক সময় তাকে বাসার মালকিরা গালিগালাজ করেন। তারপরও চাঁনু মিয়া থেমে যাননি। তার প্রতিভাদেখে সবাই মুগ্ধ। টাঙ্গাইলের কবি মাহমুদ কামাল জানান, যে চিত্র আমরা আঁকতে জানি তার ছায়া স্থাপিত থাকে বিরহের মেঘ মঙ্গলে। পৃিথবীর সকল আনন্দ ডুবে থাকে তাদের নেপথ্য বেদনায়। তাই তার ছবি আঁকা যেন তার বিরহের মেঘ মঙ্গলের। টাঙ্গাইল পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মাহমুদা বেগম জেবু বলেন, আবু বক্কর সিদ্দিক ওরফে চাঁনু মিয়া আমার এলাকার সন্তান। ছোট সময় দেখছি বাবার সাথে মাঠে-ঘাটে কাজ করতেন। তখন থেকেই তার মেধা ছিল তীক্ষè। তবে বাবা মারা যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছিল। পরিবারে সবার ছোট চাঁনু মিয়া। বাড়ির অন্য সদস্যরা আলাদা সংসারে বসবাস করায় তার তেমন কোন পরির্চযা না হওয়ায় এ অবস্থা। তাকে সবাই পাগল বললেও তিনি কিন্তু সে রকম না। সারাদিন ঘুরে ঘুরে দেওয়াল লিখেন। কখন খাচ্ছে, কি খাচ্ছে- কোন খোঁজ নেই। কারো কাছে খাবার চেয়ে খান না। কেউ দিলেও খাবেন না। শুধু কথা কম বলেন। তার ইচ্ছামত কথা বলেন। এই স্বভাবের কারণেই অনেকে তাকে পাগল হিসেবে গণ্য করছে। আসলে তিনি বোবা নন, পাগলও নন- মানসিক ভারসাম্যহীন বলা যেতে পারে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মতে, চাঁনু মিয়াকে যদি সরকারিভাবে একটু সুচিকিৎসা ও সহযোগিতা প্রদান করা যেত, তবে তিনি দেশের একজন প্রথম সারির পেশাদার চিত্রশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারতেন। টাঙ্গাইলবাসী অবহেলায় প্রায় হারিয়ে যাওয়া এই অসাধারণ প্রতিভাকে বাঁচিয়ে রাখতে সুধীসমাজ ও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
১৯ জুন ২০২৬
শিল্পকলায় ৮ দিনের নাট্য উৎসব শুরু
দৃষ্টি বিনোদন: বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে শুক্রবার(১২ জুন) থেকে শুরু হয়েছে ৮ দিনব্যাপী ‘নতুন নাটকের উৎসব-২০২৬’। এই নাট্যউৎসব চলবে আগামি ১৯ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে শুরু হবে উৎসবের আয়োজন। উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হবে দিনাজপুর নাট্য সমিতির নাটক ‘চোরের নাম চরণদাস’। এবারের উৎসবে মোট ৮টি ভিন্ন ভিন্ন নাটক প্রদর্শিত হবে দেশের বিভিন্ন নাট্য দলের পরিবেশনায়। সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথা জানানো হয়েছে। উৎসবের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘নতুন নাটক নতুন সময় - মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’। আয়োজনটি করছে শিল্পকলা একাডেমির নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, প্রতিদিন নাটক শুরুর আগে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত চলবে বিশেষ আয়োজন ‘বাংলা নাটকের গান’। এতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ৮টি নাট্যদল অংশ নেবে। উৎসবে অংশগ্রহণকারী উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রিনা প্লুং’, ‘ইডিপাস’, ‘ক্যাফে দ্যা ভলতে’, ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’, ‘রঙমহাল’, ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’ এবং সমাপনী দিনে ‘দি গ্রেট স্মাগলার’। এছাড়া উদীয়মান নাট্য নির্দেশকদের জন্য ৫ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে সর্বোচ্চ ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেবেন। আয়োজকরা মনে করছেন, এই নাট্যউৎসব দেশের মঞ্চনাটকে নতুন প্রাণ ফিরিয়ে আনবে এবং দর্শকদের আবারও নাট্যমুখী করবে।
১২ জুন ২০২৬
ভাসানী হল সংস্কারের মাধ্যমে ‘মডেল টাঙ্গাইল’ গড়া হবে :: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারক ভাসানী হলকে সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবহার উপযোগী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। শুক্রবার(১২ জুন) সকালে টাঙ্গাইলের জরাজীর্ণ ভাসানী হল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন। তিনি বলেন, ভাসানী হল টাঙ্গাইলের জন্য অত্যন্ত ঐতিহ্যবাহী ও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যারা বিচরণ করেন, তাদের অনুষ্ঠান করার মতো কোনো জায়গা নেই। মওলানা ভাসানী বাংলাদেশের ইতিহাসে এক মহান নেতা। কাজেই তাঁর স্মৃতি বিজড়িত এই ভাসানী হলকে রক্ষণাবেক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের সবার। হলটির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ‘ভাসানী হল’ দীর্ঘদিনের অবহেলায় জৌলুস হারিয়েছে। যেহেতু এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন, তাই এর গুরুত্ব অনেক। অথচ বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ঐতিহাসিক ‘ভাসানী হল’ ভবনটিকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলকে এক সময় সাংস্কৃতিক নগরী বলা হতো। সেই নগরীতে এভাবে একটি মিলনায়তন বছরের পর বছর পরিত্যক্ত পড়ে থাকবে- তা হতে পারে না। টাঙ্গাইলের সাংস্কৃতিক চর্চা ফিরিয়ে আনতে এবং স্থানীয় শিল্পীদের জন্য উপযুক্ত স্থান নিশ্চিত করতে এই হলের সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শুরু করা হবে। আমরা ইতোমধ্যেই এটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছি। যত দ্রুততম সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব- আমরা সেই পদক্ষেপই নেব। একটি ‘মডেল টাঙ্গাইল’ গড়ে তোলার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, গণপূর্ত বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিন মিয়া প্রমুখ। ঐতিহাসিক ভাসানী হল পরিদর্শন শেষ করে প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি টাঙ্গাইল সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে যান। সেখানে তিনি দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত একটি বিজ্ঞান উদ্ভাবনী কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগদান করেন।
১২ জুন ২০২৬
সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তিন মাসের জন্য প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
দৃষ্টি নিউজ: সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বন্যপ্রাণী ও মৎস্যসম্পদের প্রজনন সুরক্ষায় আগামী সোমবার (১ জুন) থেকে টানা তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে বন বিভাগ। এ নিষেধাজ্ঞা আগামি ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়ালী ও পর্যটক কেউই সুন্দরবনের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারবেন না। বন বিভাগ জানিয়েছে, জুন থেকে আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, বন্যপ্রাণী ও উদ্ভিদের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে নদী-খালে মাছ ডিম ছাড়ে, বন্যপ্রাণিদের প্রজনন ঘটে এবং বিভিন্ন গাছের বীজ থেকে নতুন চারা গজায়। তাই প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্বিঘ্নে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও তিন মাসের জন্য এ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বন বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের পাস-পারমিট ইস্যু করা হবে না। কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বনে প্রবেশ করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বন কর্মকর্তারা বলছেন, পর্যটক ও বনজীবীদের নৌযান চলাচলের কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হয়। তিন মাস বনকে নিরবচ্ছিন্ন পরিবেশ দেওয়া গেলে মাছ, গাছপালা ও বন্যপ্রাণীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য আরও সমৃদ্ধ হবে। তবে এ নিষেধাজ্ঞায় সুন্দরবননির্ভর হাজারো জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালী পরিবার আর্থিক সংকটে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বনজীবীদের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়ে বন বিভাগ ও মৎস্য বিভাগ কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে পর্যটননির্ভর নৌযান মালিক ও শ্রমিকরাও দীর্ঘ তিন মাস কর্মহীন সময় পার করবেন বলে জানিয়েছেন। বুড়িগোয়ালিনী এলাকার কাঁকড়া জেলে জামাল হোসেন বলেন, তিন মাস সুন্দরবনে প্রবেশের জন্য পাস বন্ধ করে দেওয়া মানে আমাদের মতো জেলেদের জন্য খুবই কষ্টকর। জেলে আনিসুর বলেন, সুন্দরবনে যেতে না পারলে উপকূলের জেলেদের আর্থিক সংকটে পড়তে হয়। এ সময় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে সংসার চালাতে হয়। নীলডুমুর পর্যটকবাহী ট্রলারের মাঝি রিপন গাজী বলেন, পাস পারমিট বন্ধ থাকায় এই সময়ে সুন্দরবনে কোনো পর্যটক প্রবেশ করতে পারে না। আর এই পাস বন্ধ হওয়ায় আমাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। বনবিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, আগামি ১ সেপ্টেম্বর থেকে পুনরায় সুন্দরবন সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এ সময়ের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বন বিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌপুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করবে।
৩১ মে ২০২৬
অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
২১ মে ২০২৬
টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা
দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কাজ। আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বছরের এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয়ের সুযোগ পান তারা। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে চলছে দা, বটি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করছেন কামাররা। রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকার কামারশালার মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে অধিকাংশ মানুষ নতুন সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতিও মেরামত করাচ্ছেন। তিনি বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি বড় দা বা বঁটি আকার ও ওজনভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কামাররা জানায়, সারা বছর কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তবে কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা।
২১ মে ২০২৬
পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ সোবহানের নেতৃত্বে বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে! তারা ধানবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বিনিময় পরিবহনের তিনটি বাসও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ওই দুই নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তারা মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পকেট কমিটি গঠন করে পরিবহন খাত পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জন মালিকের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত ‘বিনিময় পরিবহন’ -এর তিনটি বাসও জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএরনপির সভাপতিদ্বয়। বর্তমানে ওই বাসগুলোর আয়ের পুরো অর্থ তারা নিজেরা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন মালিক দাবি করেন, বাস মালিক শামসুল আলম ও লিটনের উপর হামলা চালিয়ে পড়ে তাদের সান্ত্বনাও দেন। পরিবহন পরিচালনায় অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধা দিলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলার শিকার বাস মালিক শামসুল আলম জানান, প্রতিবাদ করায় তার উপর হামলা করা হয়। আবার বিএনপির কয়েক নেতা শান্তনাও দেন। তারা যৌথভাবে বাস কিনেছেন। এখন বাসের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। সবকিছু জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কখনো ওই তিন বাস দেখেন নাই এবং জানেনও না। তবে মালিকদের মধ্যে একটা সমস্যা হয়েছিল- সেটা মিমাংসা করার জন্য কয়েকবার উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষই আসেননি।
২০ মে ২০২৬
নিরাপদ লিচু চেনার উপায়
দৃষ্টি ডেস্ক: কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি আর ঝড়-ঝাপ্টার আবহাওয়ার মধ্যে বাজারে এসে গেছে রসালো লিচু। পুষ্টিগুণে ভরা এই লাল টুকটুকে এই ফল দেখলেই জিভে পানি আসে অনেকের। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না- লিচু নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি জরুরি। কারণ অনেক সময় লিচুকে বেশি লাল ও টাটকা দেখাতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। এমনকি অপরিপক্ব লিচুকেও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই বাজার থেকে লিচু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খোসার রং দেখেই অনেকটা বোঝা যায়- লিচু কেনার সময় প্রথমেই খেয়াল করুন এর খোসার রং। বিভিন্ন জাতের লিচুর রং ভিন্ন হতে পারে- কোনোটি গাঢ় লাল, কোনোটি হালকা কমলা বা বাদামি আভাযুক্ত। তবে ভালো ও পরিপক্ব লিচুর রং সাধারণত স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল হয়। অস্বাভাবিক চকচকে বা অতিরিক্ত টকটকে লাল রঙের লিচু দেখলে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে এসব লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। বেশি নরম লিচু এড়িয়ে চলুন- লিচু হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। যদি খুব বেশি নরম লাগে, তাহলে সেটি অতিরিক্ত পাকা বা ভেতর থেকে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভালো লিচু হবে টানটান ও সতেজ। অতিরিক্ত নরম লিচুর ভেতরে অনেক সময় পচা অংশ বা টক গন্ধও থাকতে পারে। গন্ধ বুঝে কিনুন- পাকা লিচুর একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে। নাকের কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ টের পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেমিক্যাল দেওয়া বা অপরিপক্ব লিচুতে সাধারণত সেই স্বাভাবিক সুবাস থাকে না। যদি লিচুতে অদ্ভুত বা কড়া গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। কৃত্রিম রং আছে কি না পরীক্ষা করুন- অনেক সময় কাঁচা লিচুকে পাকা দেখাতে এর গায়ে রং ব্যবহার করা হয়। তাই বাসায় এনে লিচু কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। যদি পানির রং লালচে হয়ে যায় বা হাতে রং লাগে, তাহলে বুঝতে হবে লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। দাগ বা ফাটল আছে কি না দেখুন- ভালো লিচুর খোসা সাধারণত পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। খোসায় বাদামি দাগ, ফাটল বা পচা অংশ থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ডাঁটির অংশ পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে ডালযুক্ত ও টাটকা লিচু কেনাই ভালো। খোসা সহজে ছাড়ালে বুঝবেন পাকা- লিচুর খোসা ছাড়িয়েও এর মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাকা ও মিষ্টি লিচুর খোসা সাধারণত সহজেই খুলে আসে। যদি খোসা শক্তভাবে আটকে থাকে বা ভেতরে বাদামি দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি ভালো নাও হতে পারে। কেনার পর যা করবেন- বাজার থেকে লিচু এনে সরাসরি না খেয়ে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ঘণ্টাখানেক পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ময়লা বা কৃত্রিম রঙের কিছু অংশ দূর হতে পারে। সতর্কভাবে লিচু কিনলে গরমের এই জনপ্রিয় ফল খাওয়ার আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।
২০ মে ২০২৬
ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা
মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল: ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসতেই যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনের চওড়া রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো দ্রুত চলে এলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ মহসড়কে যানজটের আসল নেপথ্য কারণ- যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) যাতায়াত ব্যবস্থা। ফোর লেনের বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ যমুনা সেতুর সরু ওয়ানওয়ে সামলাতে পারেনা। ফলে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও ঈদুল আযহায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে ভোগান্তি বাড়াবে। মহাসড়কে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনাসেতু প্রশস্তকরণ বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি ক্রমশ: জোরদার হচ্ছে। জানাগেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অংশের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮০ শতাংশ। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত। এর ওপর যমুনা সেতুতে দুই দিকে একই সাথে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত লেনের অভাব বা ওয়ানওয়ে যাতায়াতের কারণে ফোর লেনের গতিশীল গাড়িগুলো সেতুর প্রবেশমুখে এসে আটকে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সেতুর না থাকায় পেছনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো তা ৪০ কিমি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবেই এই অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। এদিকে, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে রোববার(১৭ মে) বিকালে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানায়, যমুনা সেতুর ওয়ানওয়ে যাতায়াতের এই ‘বটলনেকে’র কারণে টাঙ্গাইল অংশে প্রতিবছরই যানজট হয়। বরাবরের মতো এবারও নানা কারণে মহাসড়কের ১৩টি নির্দিষ্ট স্পটে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে- যমুনা সেতু, যমুনা সেতু গোলচত্বর, জোকার চর, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, ঘারিন্দা ওভার ব্রিজ, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া বাইপাস, পাকুল্ল্যা, মির্জাপুর শহরের আঞ্চলিক সড়ক, মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যানজট এড়াতে কিছু গাড়িকে ভূঞাপুর হয়ে আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যমুনা সেতু গোল চত্বরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে সেতু পারাপারে বিশেষ ট্রাফিক সমন্বয় এবং হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, তুলা মিয়া, আজমত আলী, রঘুনাথ শীল, পিযুস কান্তি সাহা, হাজী শরিফুল ইসলাম সহ অনেকেই জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন স্পটে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই যমুনাসেতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানো বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জানায়, মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটালে তাৎক্ষণিক মহাসড়কে প্রায় ২০-৩০ বা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। কারণ, মহাসড়ক থেকে ওই গাড়ি সরাতেই অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। ঈদের সময়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে- তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহাসড়কের পাশে বসবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ে- যা যানজট সৃষ্টি করে। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুল লতিফ, রাসেল আহাম্মেদ, হাসু মিয়া, রাকিব হোসেন সহ অনেকেই জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে ছুটি হলে সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একবারে এই মহাসড়কে এসে পড়ে। ঈদের মাত্র দুই-একদিন আগে হঠাৎ সব ছুটি একসঙ্গে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সবার মাঝে আগে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, ঈদযাত্রা উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশেই ফোর লেনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচলের জন্য ফোরলেন সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। তবে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হবে। সেতুর দুই প্রান্তেই ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে দুই প্রান্তেই ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। তবে বর্ধিত জনসংখ্যা ও ফোরলেনের মহাসড়কের গাড়ির চাপ যমুনাসেতুর ওয়ানওয়ে নিতে পারছেনা। ফলে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছেনা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এবার মহাসড়কে যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের পাশে বা আশেপাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফও পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বিএনপি সরকার দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। উত্তরবঙ্গের এবারের ঈদ যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক হয় এবং দুর্ঘটনায় যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে- সেজন্য চালক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, যানজট নিরসনে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে কাজ করবে বিশেষ ‘স্বেচ্ছাসেবী টিম’। মহাসড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা : সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(১৯ মে) সকালে তেজগাঁস্থ ভূমি ভবন থেকে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভূমিসেবা মেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলেও ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং রাজস্ব) মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানু, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে প্রমুখ। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন জনসেবা চত্বরে ১৯ মে থেকে ২১ পর্যন্ত ওই মেলা চলবে।
১৯ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
দৃষ্টি রিপোর্ট: আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে করণীয় নির্ধারনে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার(১৭ মে) বিকালে জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ’র উদ্যোগে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ওই সভা অনুষ্ঠিত হয়। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, টাঙ্গাইল সওজ’র নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক প্রমুখ। সভায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে যানজট নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ মে ২০২৬
ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা
দৃষ্টি রিপোর্ট: বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল আয়োজিত জাতীয় হাইস্কুল প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতা মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের উদ্যোগে ওই প্রতিযোগিতানুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য(ভিসি) অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। শনিবার(১৬ মে) ন্যাশনাল সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সির সহযোগী বাস্তবায়নে দিনব্যাপী প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মেহেদী হাসান তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন, ইঞ্জিনিয়রিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মতিউর রহমান, সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী। এছাড়া বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মোস্তফা কামাল নাসিরসহ অন্যান্য শিক্ষক ও আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসে দেশের মেধাবী তরুণ শিক্ষার্থীদের এমন একটি জ্ঞানভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর আয়োজনে অংশ নিতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত গৌরবের। তিনি বলেন, আমি মনে করি, এটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের সঙ্গে পথচলার এক অনুপ্রেরণাময় শুরু। আজ আমি যাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছি, তোমরাই আগামি দিনের বিজ্ঞানী, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং দেশের নেতৃত্বদানকারী নাগরিক। তিনি আরো বলেন, বর্তমান বিশ্বে প্রযুক্তি ও জ্ঞানই সবচেয়ে বড় শক্তি। যে জাতি প্রযুক্তিতে দক্ষ, সেই জাতিই বিশ্বে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই স্কুল পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের প্রোগ্রামিং, যুক্তিভিত্তিক চিন্তা ও সাধারণ জ্ঞানের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রকাশ, প্রোগ্রামিং ও কুইজ প্রতিযোগিতায় টাঙ্গাইলের বিভিন্ন হাইস্কুলের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম), সেকেন্ডারী (৯ম থেকে ১০ম) ও সিনিয়র একাদশ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির গ্রুপে ২৭ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। কুইজ প্রতিযোগিতায় জুনিয়র (৬ষ্ঠ থেকে ৮ম) ও সিনিয়র (একাদশ থেকে দ্বাদশ) শ্রেণির ১০১ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় ৩টি গ্রুপের বিজয়ী ৮ জনকে এবং কুইজ প্রতিযোগিতায় ২টি গ্রুপের বিজয়ী ২০জনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়।
১৭ মে ২০২৬
সাংস্কৃতিক নগরী গড়ে তুলতে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু
দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, সাংস্কৃতিক নগরী গড়ে তুলতে হলে টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। তবেই টাঙ্গাইল একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক নগরীতে পরিণত হবে। সংস্কৃতিক নগরী গড়ে উঠলে সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলে মানুষের বিচরণ বাড়বে। এতে মাদক-সন্ত্রাস, অন্যায়-অবিচার, অনিয়ম-অনাচার সমাজে কমে আসবে। সাংস্কৃতিক নগরী গড়ে তুলতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী মিলনায়তন সংস্কার করে সংস্কৃতি চর্চার সুযোগ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে শহরের শিশু একাডেমী মিলনায়তনে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি সুন্দর নিরাপদ ও আধুনিক টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। যাতে টাঙ্গাইলকে এমনভাবে গড়ে তুলতে পারি যেন- টাঙ্গাইল হবে সন্ত্রাস মুক্ত, মাদক মুক্ত এবং চাঁদাবাজ মুক্ত একটি নিরাপদ টাঙ্গাইল। রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উৎসবে কবি মতিয়ারা মুক্তার সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, গীতিকার-সুরকার ও সংগীতশিল্পী ফিরোজ আহমেদ বাচ্চু প্রমুখ।
১৫ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল শহরের বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যারয় উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার(১১ মে) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে ওই উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অঅবু জুবায়ের উজ্জলের সঞ্চালনায় বিশিষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আরজুমান্দ বানু, সহকারী পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিক। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক জেড আই খান, কবি ও সাংবাদিক মাহমুদ কামাল, প্রবীণ সাংবাদিক বিমান বিহারী দাস, ওয়াহেদুজ্জামান মতি, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমারদেশের প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন, টাঙ্গাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আব্দুর রহীম, সিএনএন এর প্রতিনিধি আফজাল হোসেন প্রমুখ। সভা শেষে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির ফিতা কেটে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন মিডিয়ার শতাধিক নবীন-প্রবীণ গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।
১১ মে ২০২৬
এলেঙ্গায় চলন্ত বাস থেকে ৪০০পিস ইয়াবাসহ যাত্রী আটক
দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে কালিহাতী উপজেলার এলেঙ্গায় বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪০০ পিস ইয়াবাসহ শফিকুল ইসলাম ওরফে শফি (৪১) নামে এক যাত্রীকে আটক করেছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। শনিবার (৯ মে) দুপুরে মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে ওই তল্লাশি অভিযানে নেতৃত্ব দেন, টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. সাইফুর রহমান। অঅটককৃত শফিকুল ইসলাম টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার পাঁচটিকরি গ্রামের আনছের আলীর ছেলে। তিনি ঢাকা থেকে আসা ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ নামে একটি বাসের যাত্রী ছিলেন। টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর সাইফুর রহমান জানান, শনিবার দুপুরে মহাসড়কের এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ঢাকা থেকে আসা ‘ঢাকা এক্সপ্রেস’ নামক বাসে থাকা শফিকুল নামে এক যাত্রীর দেহ তল্লাশি করে ২টি নীল রঙের জিপারযুক্ত পলি প্যাকেটে মোড়ানো ৪০০পিস ইয়াবা ও মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। তিনি আরও জানান, জিজ্ঞাসাবাদে শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি যাত্রী সেজে দীর্ঘদিন ধরে মাদক আনা-নেওয়া করছিলেন। তাকে আটকের পর কালিহাতী থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।
০৯ মে ২০২৬
রেড ক্রিসেণ্টের উপকারভোগীদের মাঝে চেক বিতরণ
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে বাংলাদেশ রেড ক্রিসেণ্ট সোসাইটি। শনিবার(৯ মে) সকালে সদর উপজেলার দাইন্যা ইউনিয়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের মাঝে চেক ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে নতুন ঘর নির্মাণের জন্য ৬৫ হাজার টাকা, গরু কেনার জন্য ৪৫ হাজার টাকা এবং ল্যাট্রিন নির্মাণের জন্য ২১ হাজার টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়। এছাড়াও গর্ভবতী নারীসহ মোট ৬৮ জন উপকারভোগীর মাঝে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেণ্ট সোসাইটির ডিসিআরএম বিভাগের পরিচালক মো. রেজাউল করিম, টাঙ্গাইল রেড ক্রিসেণ্ট সোসাইটির সেক্রেটারি জিয়াউল হক শাহীন, নির্বাহী সদস্য মো. সামছুর রহমান চৌধুরী, শাহীন আকন্দ প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেণ্ট সোসাইটি নিয়মিতভাবে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে। এই সহায়তার অর্থ সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে উপকারভোগীদের আত্মনির্ভরশীল হওয়ার চেষ্টা করতে হবে। অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত হলে ভবিষ্যতেও আরও সহায়তা পাওয়া সম্ভব হবে।
০৯ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলে দুঃস্থদের মাঝে জেলা পরিষদের আর্থিক অনুদান বিতরণ
দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দুঃস্থ রোগীর চিকিৎসা ও অসহায় শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের মাঝে ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৭ মে) জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির ওই অনুদানের চেক বিতরণ করেন। এউপলক্ষে জেলা পরিষদের হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, জেলা পরিষদের নিবাহী কর্মকর্তা শামছুন নাহার স্বপ্না। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদে সহকারী প্রকৌশলী সাকিব ইবনে মতিন, হিসাব রক্ষক এসএম তারিকুল হাসানাত প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে ১১ লাখ এবং অসহায় ব্যক্তি ও দুঃস্থ রোগীদের মাঝে ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সুবিধাভোগী সংগঠনের নেতা, অসহায় দুঃস্থ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সমস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
০৭ মে ২০২৬
তামাক পণ্যের কর ও বর্ধিত মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন
দৃষ্টি নিউজ: আগামি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাক পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি ও বর্ধিত মূল্য নির্ধারণের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডরপ) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সচেতন নাগরিক ও বিড়ি শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনক, সর্বোচ্চ ৩৫.৩শতাংশ। তামাকজনিত রোগের প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে- যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট নির্দেশ করে। তাছাড়া ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা- যা এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এই ক্ষতি কমাতে, তামাক খাতকে শুধু রাজস্ব আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন, ডরপ-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জেবা আফরোজা, অ্যাডভোকেসি কো অর্ডিনেটর শিলভানা আক্তার, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, সদস্য জয়নব বিবি, সাংবাদিক বোরহান তালুকদার প্রমুখ।
০৪ মে ২০২৬