জাতীয়

টাঙ্গাইলে ‘নজরুল বর্ষে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে ‘নজরুল বর্ষে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উদ্বোধন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে আয়োজিত জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুহম্মদ আজিজুল হক, জেলা কালচারাল অফিসার সেলিনা সাঈয়েদা সুলতানা আক্তার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

০২ জুলাই ২০২৬

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস :: ১৮৬৭ সালের আইন রহিত

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস :: ১৮৬৭ সালের আইন রহিত

দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে। নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার, বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার। আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পর্যন্ত দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে, অন্য অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে। আইনের অধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা যাবে। এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম ব্লক, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার অর্থে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন। পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে একটি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, নতুন এই আইন কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৩০ জুন ২০২৬

মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ

মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ

দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই পাওয়া যায় মৎস্যচাষ থেকে। বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়া। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে জলজ প্রাণির উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট জলজ প্রাণি উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট উৎপাদনের মধ্যে জলজ প্রাণী ১০ কোটি ৩০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর শৈবাল উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৯২ শতাংশই হয়েছে এশিয়ায়। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল- চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এসব দেশ বিশ্বের ৮৪ শতাংশ মাছ উৎপাদন করেছে। ২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর চাষও রেকর্ড ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এটি বৈশ্বিক জলজ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিই তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশের জোগান দিয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলে মোট উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে। মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশই ছিল পাখনাযুক্ত মাছ। ৯ শতাংশ ছিল খোলসযুক্ত জলজ প্রাণি। আর বাকি অংশ ছিল জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণি। সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণি।

২৭ জুন ২০২৬

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে

দৃষ্টি নিউজ: দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা বা ভিশন নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় এই মহাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে- যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। মঙ্গলবার(১৬ জুন) ঢাকায় র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা ব্যবস্থার এই আমূল রূপান্তরের জন্য প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ চারটি মূল স্তম্ভ এবং একটি আধুনিক উপাদানের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এখন থেকে কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা এগোবে। এর সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের (ফিউচার জবস) উপযোগী বিশেষ শিক্ষা। বর্তমানে দেশে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৭টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ধারা বিদ্যমান রয়েছে। এই ব্যবস্থার সংস্কার এনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রতিটি শিশু মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে সমমানের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে। শিক্ষার এই গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি যোগ্য শিক্ষক ছাড়াও কোনো কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না। দেশের বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ক্যামব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে সরাসরি কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ জুন ২০২৬

ঢাকার সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করার নি‌র্দেশ

ঢাকার সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করার নি‌র্দেশ

দৃষ্টি নিউজ: যানজট নিরসনে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে বৈঠকে তি‌নি এ নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবা‌দিকদের জানিয়েছেন। বৈঠকের বরাতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ঢাকার যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেছেন। এছাড়া রাজধানীর পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনগুলো সরানোর বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে। ফলে, এসব সড়কে যান চলাচলে পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে এবং যানজট সমস্যাও কমছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৫ জুন ২০২৬

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজিরকে আটক করেছে দুবাই পুলিশ :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজিরকে আটক করেছে দুবাই পুলিশ :: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দৃষ্টি নিউজ: পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে দুবাই পুলিশ আটক করেছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (১৪ জুন) বিকালে সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৪ মে বেনজীর আহমেদ দেশ ছেড়েছেন বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। তবে, সেদিন তিনি কোন দেশে গিয়েছিলেন সে ব্যাপারে বিস্তারিত কোনো তথ্য জানা যায়নি। এরপর থেকে লোকচক্ষুর আড়ালে রয়েছেন সাবেক এ আইজিপি। বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি ছিলেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার ও র‌্যাবের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে ২০২১ সালের ডিসেম্বরে র‍্যাবের সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় র‌্যাবের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এই বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তারাও নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন। যার মধ্যে বেনজীর আহমেদের নামও ছিল। যুক্তরাষ্ট্র যখন নিষেধাজ্ঞা দেয়, তখন আইজিপির দায়িত্বে ছিলেন বেনজীর আহমেদ।

১৪ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

টাঙ্গাইলে ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে শিক্ষার্থীদের ভোক্তা অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১০ জুন) দুপুরে শহীদ জাহাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-টাঙ্গাইল ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সভায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শামসুল আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইলের জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল, বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেজাউল করিম প্রমুখ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন- প্রতারণা, ভেজাল পণ্য বিক্রি ও অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের মতো ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধ দমনে আইনগত ব্যবস্থা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভোক্তারা লিখিত অভিযোগ দায়েরের মাধ্যমে প্রতিকার ও জরিমানার অর্থের একটি অংশ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তিনি ভোক্তা অধিকার সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান। আলোচনা শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভোক্তা অধিকার বিষয়ক একটি কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তিন শিক্ষার্থী পুরস্কার অর্জন করেন। তারা হলেন শহীদ জাহাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন, ইভা ও আরাবী। অনুষ্ঠানে শহীদ জাহাঙ্গীর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

১০ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ঢাকা বিভাগে শ্রেষ্ঠ

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক ঢাকা বিভাগের শ্রেষ্ঠ জেলা প্রশাসক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর বিভাগীয় বাছাই কমিটির সভাপতি শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী, ঢাকা বিভাগের প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপ-পরিচালক ও সদস্য সচিব মো. আবদুল আজিজ স্বাক্ষরিত এক সরকারি পত্রে সম্প্রতি এ ঘোষণা দেওয়া হয়। টাঙ্গাইলে যোগদানের পর থেকেই জেলা প্রশাসক শরীফা হক সততা, দক্ষতা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। বিসিএস ২৫তম ব্যাচের এই কর্মকর্তা টাঙ্গাইলের ইতিহাসে দ্বিতীয় নারী জেলা প্রশাসক হিসেবে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। অত্যন্ত সফল ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজনের পাশাপাশি তিনি প্রাথমিক শিক্ষায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। শিশুদের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা আর শিক্ষার মানোন্নয়নে নেওয়া উদ্যোগগুলো ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। নিভৃতচারী শরীফা হক দেশে-বিদেশের নামী প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। জনগণের আস্থা অর্জনই একজন প্রশাসকের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা আর মানবিক প্রশাসন প্রতিষ্ঠায় তিনি সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর মতে, সরকারি সেবা এমন হতে হবে যেন মানুষ মনে করে- রাষ্ট্র তার পাশে আছে। জেলার বিদ্যানুরাগী জেলা প্রশাসক শরীফা হক আশা প্রকাশ করেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে তাঁর গৃহীত কর্মসূচি একদিন সারাদেশে বিস্তৃত হবে।

০৭ জুন ২০২৬

যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে ১৮ কিলোমিটার যানজট

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সেতু এলাকা থেকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার রসুলপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার জুড়ে উত্তরবঙ্গগামকী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। শনিবার(৬ জুন) সকালে যমুনা সেতুর ওপর ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি বিভিন্ন যানবাহন বিকল হওয়ায় মহাসড়কে ওই যানজটের সৃষ্টি হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, যানজটের কারণে অনেক যানবাহন ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে আটকে রয়েছে। বিশেষ করে দূরপাল্লার বাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। এতে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. শরীফ জানান, অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে ও সেতুর ওপর গাড়ি বিকল হওয়ায় এ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বিকল হওয়া যানবাহনগুলো দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে হাইওয়ে ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। দ্রুতই মহাসড়কে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসবে।

০৬ জুন ২০২৬

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের মাসিক চার্জ প্রত্যাহার

দৃষ্টি নিউজ: বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করেছে সরকার। বুধবার (৩ জুন) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মিডিয়া সেল তাদের ফেসবুক পেজে এ তথ্য জানিয়েছে। পোস্টে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকারের ১০০ দিন-জনদুর্ভোগ লাঘবে প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটারের অতিরিক্ত মাসিক চার্জ প্রত্যাহার করে সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ২৯ মার্চ বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছিলেন, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে মাসিক ভাড়া বা মিটার চার্জ প্রত্যাহার করা হবে। বর্তমানে প্রিপেইড মিটারে প্রতি কিলোওয়াটে মাসিক ডিমান্ড চার্জ ৪২ টাকা এবং সিঙ্গেল ফেজে মিটার ভাড়া ৪০ টাকা। এ চার্জের সঙ্গে অতিরিক্ত ৫ শতাংশ ভ্যাট যুক্ত হয়। এই অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছিল।

০৩ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ঢাকায় ফেরা মানুষের চাপ বেড়েছে

দৃষ্টি রিপোর্ট: ঈদুল আজহার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরছেন রাজধানীমুখী মানুষ। এতে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বেড়েছে যানবাহন ও যাত্রীর চাপ। একই সঙ্গে গণপরিবহনের সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন যাত্রীরা। পুলিশ ও সড়ক সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত কয়েক দিন ধরেই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। রোববার(৩১ মে) দিনগত রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে ৩৫ হাজার ৩৯২টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪০০ টাকা। সোমবার (১ জুন) সকালে সরেজমিনে যমুনা সেতু পূর্ব গোলচত্বর, এলেঙ্গা, রাবনা, নগরজালফৈসহ বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীমুখী যাত্রীদের চাপ রয়েছে। তবে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথাও কোনো যানজট বা যানবাহনের ধীরগতি দেখা যায়নি। কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়ার রফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় যাওয়ার জন্য প্রায় এক ঘণ্টা ধরে বাসস্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছেন। ভালো বাসের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন- প্রচ- গরমে কষ্ট হচ্ছে। এছাড়া আড়াইশ টাকার ভাড়া ৫০০ টাকা চাওয়া হচ্ছে। গাবতলীগামী যাত্রী হেনা বেগম জানান, ঈদের আগেও বাড়তি ভাড়া দিয়ে বাড়িতে এসেছিলেন। এখনো অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। তার মতো সাধারণ মানুষকে সব সময়ই ভোগান্তি পোহাতে হয়- আক্ষেপের সুর তার গলায়। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘœ রাখতে যমুনা সেতুর উভয় পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোলবুথ চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য আলাদাভাবে দুই পাশে দুটি করে বুথ রয়েছে। যানবাহনের চাপ বাড়লেও সেতু এলাকায় কোনো যানজট নেই।

০১ জুন ২০২৬

বাস, ট্রেন ও লঞ্চে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ

বাস, ট্রেন ও লঞ্চে রাজধানীতে ফিরছেন কর্মজীবী মানুষ

দৃষ্টি নিউজ: কোরবানির ঈদের ছুটি শেষে বাস, ট্রেন ও লঞ্চযোগে রাজধানী ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছেন কর্মজীবী মানুষ। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে। রোববার (৩১ মে) সকাল থেকে রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে ফিরতি যাত্রীদের চাপ লক্ষ করা যায়। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে ঢাকায় ফেরা মানুষকে বাস, ট্রেন ও লঞ্চ থেকে নেমে গন্তব্যে পৌঁছাতে রিকশা, সিএনজি ও বাস ব্যবহার করতে দেখা গেছে। দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণাঞ্চল ও পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় ফেরা কর্মজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভোগান্তি এড়িয়ে কর্মস্থলে যোগ দিতে আগেভাগেই ঢাকায় ফিরেছেন তারা। জামালপুর থেকে আসা আরিফুল ইসলাম বলেন, ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। ঈদের ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে সময় কাটিয়েছি। কোরবানি দিয়েছি, আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছি। কাল থেকে অফিস শুরু হবে, তাই আজই ঢাকায় ফিরে এলাম। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে নোয়াখালী থেকে আসা আব্দুর রহিম বলেন, ঢাকায় একটি মার্কেটে চাকরি করি। দু’এক দিনের মধ্যেই দোকান খুলবে। তাই আগেভাগে চলে এসেছি। পরে আরও বেশি ভিড় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীদের চাপ বাড়ার আগেই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় চলে এসেছি। ফিরতি যাত্রীর সংখ্যা বাড়ায় রাজধানীর সড়কেও যানবাহনের উপস্থিতি বেড়েছে। তাছাড়া নগরীতে কর্মচাঞ্চল্যও ফিরতে শুরু করেছে। যদিও এখনও অনেক এলাকায় ঈদের ছুটির আমেজ বিরাজ করছে, তবে কর্মজীবী মানুষের ফেরার কারণে রাজধানী ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামি দু’এক দিনের মধ্যে আরও বেশিসংখ্যক মানুষ রাজধানীতে ফিরে আসবেন। ফলে যানবাহনের চাপ ও নগরীর কর্মব্যস্ততাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।

৩১ মে ২০২৬

জেনে নিন- এ সপ্তাহের রাশিফল

জেনে নিন- এ সপ্তাহের রাশিফল

দৃষ্টি নিউজ: অধিকাংশ ক্ষেত্রে আপনিই আপনার ভাগ্যনিয়ন্ত্রক। গ্রহ-নক্ষত্রের প্রভাব জীবনে ভূমিকা রাখলেও আপনার সিদ্ধান্ত ও কর্মই চূড়ান্ত পরিণতি নির্ধারণ করে। সাহস, ধৈর্য ও সঠিক মানসিকতা আপনাকে যেকোনো পরিস্থিতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে। প্রতি শনিবার ‘এ সপ্তাহের রাশিফল’ লিখেছেন জ্যোতিষী চিন্ময় বড়ুয়া- মেষ রাশি: এ সপ্তাহে আপনার প্রধান মনোযোগের কেন্দ্র হতে পারে পরিবার, ব্যক্তিগত জীবন ও ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা। পারিবারিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা কিংবা দীর্ঘদিনের কোনো সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বাসস্থান, সম্পত্তি বা পরিবারের কল্যাণসংক্রান্ত বিষয়ে আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। যোগাযোগ, লেখালেখি, ব্যবসায়িক প্রচারণা, অনলাইন কার্যক্রম ও সংক্ষিপ্ত ভ্রমণের ক্ষেত্রে সময়টি অনুকূল। আপনার কথাবার্তা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের দক্ষতা অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। নতুন পরিচয়, গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ কিংবা ভাইবোন ও ঘনিষ্ঠজনদের সহযোগিতা থেকে উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতির ইঙ্গিত রয়েছে। নতুন আয়ের সুযোগ, অতিরিক্ত উপার্জনের পথ অথবা আগের প্রচেষ্টার সুফল পেতে পারেন। শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যোগাযোগনির্ভর পেশাজীবীদের জন্য সপ্তাহটি বিশেষভাবে ফলপ্রসূ হতে পারে। পরিবারকে শক্ত ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করুন, নতুন যোগাযোগ গড়ে তুলুন ও নিজের পরিকল্পনা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে নিন। এই সপ্তাহে গড়ে ওঠা সম্পর্ক ও সুযোগ ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ লাভ এনে দিতে পারে। বৃষ রাশি: আপনার আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ ও বাস্তব সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি পেতে পারে। আপনার উপস্থিতি ও কথাবার্তা অন্যদের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে, ফলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সমর্থন বা সহযোগিতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ব্যক্তিগত কোনো পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্যও সময়টি অনুকূল। আর্থিক বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেখা যাচ্ছে। আয় বৃদ্ধি, নতুন উপার্জনের সুযোগ অথবা আগের কোনো প্রচেষ্টার আর্থিক ফল লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থ ব্যবস্থাপনা, সঞ্চয় ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ব্যবসায়ীদের জন্য বিক্রয় বৃদ্ধি বা নতুন গ্রাহক পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। পারিবারিক পরিবেশ মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে এবং নিজের প্রয়োজন ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য নিয়ে বেশি মনোযোগী হতে পারেন। কর্মক্ষেত্রে ধৈর্য ও বাস্তববাদী মনোভাব আপনাকে এগিয়ে রাখবে। শিক্ষার্থী ও চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ বা ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত রয়েছে। নিজের দক্ষতা ও আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগান। আর্থিক পরিকল্পনা, সঞ্চয় ও ব্যক্তিগত উন্নয়নের জন্য এটি একটি সম্ভাবনাময় সপ্তাহ হতে পারে। মিথুন রাশি: এ সপ্তাহে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, নতুন পরিকল্পনা শুরু করা কিংবা ব্যক্তিগত লক্ষ্য নির্ধারণের জন্য সময়টি অনুকূল। আপনার চিন্তাভাবনা ও মতামত অন্যদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেতে পারে এবং অনেক ক্ষেত্রে আপনি পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে সক্ষম হবেন। আর্থিক বিষয়ে ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। আয় বৃদ্ধি, নতুন উপার্জনের সুযোগ, আগের কোনো প্রচেষ্টার ফল লাভ অথবা সঞ্চয় বৃদ্ধির পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। অর্থ ব্যবস্থাপনায় বিচক্ষণতা দেখালে দীর্ঘমেয়াদে লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখলে আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে। পারিবারিক পরিবেশে উষ্ণতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা কোনো পারিবারিক সিদ্ধান্তে আপনার মতামত গুরুত্ব পেতে পারে। দীর্ঘদিনের ভুল-বোঝাবুঝি দূর হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। যোগাযোগ, লেখালেখি, শিক্ষা, ব্যবসায়িক আলোচনা, বিপণন বা অনলাইন কার্যক্রমের ক্ষেত্রে সময়টি বিশেষভাবে সহায়ক। আপনার কথাবার্তার মধ্যে এমন প্রভাব থাকবে, যা অন্যদের আস্থা অর্জনে সাহায্য করবে। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, সাক্ষাৎকার বা আলোচনায় নিজের অবস্থান শক্তিশালী করতে পারবেন। কর্মক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা ও বুদ্ধিমত্তা প্রদর্শনের সুযোগ আসতে পারে। নতুন দায়িত্ব, নতুন পরিচিতি বা কোনো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য গ্রাহক বৃদ্ধি, নতুন যোগাযোগ বা লাভজনক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য সময়টি অনুকূল। নতুন বিষয় শেখা, পরীক্ষার প্রস্তুতি, গবেষণা বা দক্ষতা উন্নয়নে ভালো অগ্রগতি সম্ভব। মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি তুলনামূলকভাবে ভালো কাজ করতে পারে। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবেশ থাকবে। আপনার আন্তরিকতা ও স্পষ্ট যোগাযোগ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে সাহায্য করবে। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে নতুন পরিচয় বা আকর্ষণ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। কর্কট রাশি: আপনি নিজেকে আগের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, আশাবাদী ও ইতিবাচক মানসিকতার অধিকারী হিসেবে অনুভব করতে পারেন। ব্যক্তিগত জীবন, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং নিজের উন্নয়ন নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ আসবে। অনেক দিন ধরে যে কাজ বা পরিকল্পনা শুরু করার কথা ভাবছিলেন, সেটি বাস্তবায়নের জন্য এটি অনুকূল সময় হতে পারে। আপনার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাস অন্যদের কাছেও স্পষ্টভাবে প্রকাশ পাবে। ব্যক্তিত্বের আকর্ষণ ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাওয়ায় সামাজিক ও পেশাগত ক্ষেত্রে ইতিবাচক সাড়া পেতে পারেন। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা, সাক্ষাৎকার, মিটিং বা নতুন পরিচয়ের ক্ষেত্রে আপনার উপস্থিতি ও কথাবার্তা অন্যদের ওপর ভালো প্রভাব ফেলতে পারে। নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরার সুযোগ এলে তা কাজে লাগানো উচিত। এই সপ্তাহে ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তা করার প্রবণতাও বৃদ্ধি পেতে পারে। অনেক পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ্যে না এনে নীরবে প্রস্তুতি নেওয়া বেশি লাভজনক হতে পারে। বিদেশসংক্রান্ত যোগাযোগ, অনলাইন কার্যক্রম, গবেষণা, সৃজনশীল পরিকল্পনা বা দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার জন্য সময়টি সহায়ক। কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আপাতত নিজের মধ্যেই রাখা ভালো হতে পারে। আর্থিক বিষয়ে আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। প্রয়োজনীয় খরচ বৃদ্ধি পেতে পারে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত উন্নয়ন, শিক্ষা, ভ্রমণ বা পারিবারিক প্রয়োজনের কারণে। তাই আবেগের বশে খরচ না করে পরিকল্পিতভাবে অর্থ ব্যয় করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। কর্মজীবনে নতুন সুযোগের বীজ রোপিত হতে পারে, যদিও সব ফলাফল এই সপ্তাহেই দৃশ্যমান না-ও হতে পারে। নিজের দক্ষতা বৃদ্ধি, নতুন কিছু শেখা এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাঁরা স্বাধীন পেশা, শিক্ষা, পরামর্শ, লেখালেখি বা অনলাইন কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা নতুন ধারণা ও সুযোগ পেতে পারেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে আপনার আন্তরিকতা ও উদার মনোভাব ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের সঙ্গে সময় কাটালে মানসিক শান্তি বৃদ্ধি পাবে। তবে নিজের ব্যক্তিগত চিন্তা ও পরিকল্পনা নিয়ে অতিরিক্ত গোপনীয়তা বজায় রাখলে প্রিয়জনদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হতে পারে, তাই প্রয়োজনীয় বিষয়ে খোলামেলা যোগাযোগ বজায় রাখা ভালো। সিংহ রাশি: আপনার জীবনে দৃশ্যমান সাফল্যের চেয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি, পরিকল্পনা ও সঠিক সুযোগের অপেক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। অনেক বিষয় এখনো সম্পূর্ণ প্রকাশ্যে না এলেও পর্দার আড়ালে ইতিবাচক পরিবর্তন শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই তাড়াহুড়া না করে ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে। নতুন যোগাযোগ, বন্ধুমহল ও সামাজিক পরিসরের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ আসতে পারে। এমন কোনো ব্যক্তি বা পরিচয় আপনার জীবনে আসতে পারে, যিনি ভবিষ্যতে পেশাগত বা আর্থিকভাবে উপকারী প্রমাণিত হবেন। দীর্ঘদিনের কোনো আশা, পরিকল্পনা বা লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে অগ্রগতির ইঙ্গিতও দেখা যাচ্ছে। দলগত কাজ, সংগঠনভিত্তিক কার্যক্রম কিংবা পেশাগত নেটওয়ার্কিং থেকে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর্থিক ক্ষেত্রে ধীরে ধীরে উন্নতির সুযোগ তৈরি হতে পারে। নতুন আয়ের উৎস, অতিরিক্ত উপার্জনের সুযোগ অথবা আগে করা কোনো প্রচেষ্টার ফল পেতে শুরু করতে পারেন। তবে একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় খরচও বাড়তে পারে। তাই আয় বাড়লেও অর্থ ব্যবস্থাপনায় সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষ করে ভবিষ্যতের কোনো বড় পরিকল্পনার জন্য সঞ্চয়ের দিকে নজর দেওয়া ভালো হবে। কর্মজীবনে আপাতদৃষ্টিতে খুব বড় পরিবর্তন না এলেও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার ভিত্তি তৈরি হবে। নতুন ক্লায়েন্ট, নতুন প্রজেক্ট, নতুন সহযোগিতা বা নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে। যাঁরা ব্যবসা, অনলাইন কাজ, শিক্ষা, পরামর্শ, বিপণন বা যোগাযোগভিত্তিক পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। বিদেশ, দূরবর্তী যোগাযোগ, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম অথবা আন্তর্জাতিক সংযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্য সময়টি ইতিবাচক হতে পারে। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, যোগাযোগ বা সুযোগ ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ খুলে দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে বিদেশসংক্রান্ত পরিকল্পনা বা প্রস্তুতিও এগোতে পারে। কন্যা রাশি: এ সপ্তাহে আপনার মনোযোগ প্রধানত কর্মজীবনের অগ্রগতি, নতুন সুযোগ ও ভবিষ্যৎ লক্ষ্য বাস্তবায়নের দিকে থাকবে। কর্মক্ষেত্রে আপনার দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও দায়িত্বশীলতা অন্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং, আলোচনা, উপস্থাপনা বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজেকে সফলভাবে তুলে ধরার সুযোগ পাবেন। যাঁরা চাকরিজীবী, তাঁরা নতুন দায়িত্ব, প্রশংসা বা ভবিষ্যৎ উন্নতির ইঙ্গিত পেতে পারেন। দীর্ঘদিন ধরে যে লক্ষ্য বা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, সেগুলোর কিছু ইতিবাচক ফল এই সপ্তাহে দেখা যেতে পারে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি, সিনিয়র কর্মকর্তা, বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষীর সহায়তা আপনার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন পরিচয়, নতুন যোগাযোগ বা পেশাগত নেটওয়ার্ক ভবিষ্যতের জন্য মূল্যবান হয়ে উঠতে পারে। আর্থিক ক্ষেত্রেও আশাব্যঞ্জক সম্ভাবনা রয়েছে। অতিরিক্ত আয়, নতুন কাজের সুযোগ, ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ অথবা আগের প্রচেষ্টার সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন গ্রাহক, নতুন চুক্তি বা লাভজনক যোগাযোগ তৈরি হতে পারে। যাঁরা ফ্রিল্যান্স, পরামর্শমূলক কাজ, বিপণন, শিক্ষা বা যোগাযোগনির্ভর পেশায় যুক্ত, তাঁরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। সামাজিকভাবে আপনি আগের তুলনায় বেশি সক্রিয় থাকতে পারেন। বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি, কোনো গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ বা নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ আসতে পারে। এই যোগাযোগগুলোর কিছু ভবিষ্যতে পেশাগত বা আর্থিকভাবে লাভজনক প্রমাণিত হতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্যও সময়টি অনুকূল। উচ্চশিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ বা ক্যারিয়ার-সংক্রান্ত প্রস্তুতিতে ভালো অগ্রগতি সম্ভব। নতুন কিছু শেখার মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য নিজেকে আরও প্রস্তুত করতে পারবেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ঘনিষ্ঠ মানুষদের সমর্থন আপনার আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উৎসাহ দেবে। তুলা রাশি: এই সপ্তাহে আপনার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হতে পারে কর্মজীবন, সাফল্য, নতুন সুযোগ ও ভবিষ্যৎ উন্নতির পথ তৈরি করা। পেশাগত ক্ষেত্রে নিজের দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রম প্রদর্শনের সুযোগ পাবেন। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, নতুন প্রকল্প, মিটিং কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা বাড়তে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণের সুযোগও তৈরি হবে। ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় পরিসরে ভাবার প্রবণতা বাড়বে। নতুন কিছু শেখা, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ গ্রহণ কিংবা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করার জন্য সময়টি অনুকূল। অভিজ্ঞ ব্যক্তি, শিক্ষক, পরামর্শদাতা বা সিনিয়র কারও পরামর্শ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়ক হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য ও জ্ঞান আপনাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে। দূরবর্তী যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, প্রকাশনা বা আন্তর্জাতিক সংযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের জন্যও ইতিবাচক সম্ভাবনা রয়েছে। নতুন সুযোগ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বা উপকারী যোগাযোগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য নতুন পথ খুলে যেতে পারে। যাঁরা বিদেশসংক্রান্ত শিক্ষা বা পেশাগত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন, তাঁরা কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত পেতে পারেন। আর্থিক ক্ষেত্রে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে, বিশেষ করে পেশাগত সাফল্য বা নতুন দায়িত্বের মাধ্যমে। ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন ক্লায়েন্ট, নতুন বাজার কিংবা দীর্ঘমেয়াদি লাভজনক কোনো চুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে বড় আর্থিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সব দিক ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া উচিত। সামাজিক মর্যাদা ও জনসম্মুখে আপনার ভাবমূর্তি ইতিবাচক হতে পারে। আপনার কাজ, জ্ঞান বা অভিজ্ঞতার কারণে অন্যদের কাছ থেকে সম্মান ও স্বীকৃতি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাঁরা নেতৃত্বমূলক বা দায়িত্বপূর্ণ অবস্থানে আছেন, তাঁরা আরও প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করতে পারেন। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন। কাজের ব্যস্ততা বাড়লেও পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের জন্য সময় বের করতে পারলে মানসিকভাবে আরও স্বস্তি অনুভব করবেন। বৃশ্চিক রাশি: নতুন কিছু শেখা, নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করা বা দীর্ঘদিনের কোনো পরিকল্পনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য অনুপ্রেরণা পাবেন চলতে সপ্তাহে। অনেক ক্ষেত্রে আটকে থাকা কাজ ধীরে ধীরে এগোতে শুরু করবে এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ বৃদ্ধি পাবে। উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণা, প্রকাশনা, আইনগত বিষয় কিংবা দূরবর্তী যোগাযোগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। বিদেশে পড়াশোনা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ বা দূরবর্তী কোনো সুযোগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা গুরুত্বপূর্ণ খবর বা নতুন সম্ভাবনার মুখোমুখি হতে পারেন। অভিজ্ঞ ব্যক্তি, শিক্ষক বা শুভাকাঙ্ক্ষীর পরামর্শ বিশেষভাবে উপকারী হতে পারে। আর্থিক বিষয়ে যৌথ সম্পদ, বিনিয়োগ, বিমা, ঋণ বা করসংক্রান্ত কোনো বিষয়ে অগ্রগতি বা সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। দীর্ঘদিনের জটিল কোনো আর্থিক বিষয় সহজ হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে তাড়াহুড়া না করাই ভালো। সম্পর্কের ক্ষেত্রে গভীরতা ও আন্তরিকতা বৃদ্ধি পাবে। দাম্পত্য বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কোনো জটিল বিষয় খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। মানসিকভাবে আপনি আগের তুলনায় বেশি পরিণত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হবেন। কর্মজীবনে নতুন জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ আসতে পারে। যাঁরা শিক্ষকতা, আইন, পরামর্শদান, গবেষণা, প্রকাশনা বা আন্তর্জাতিক যোগাযোগভিত্তিক পেশার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। বড় চিন্তা করুন, নতুন জ্ঞান গ্রহণ করুন এবং দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যান। এই সপ্তাহে পাওয়া শিক্ষা, পরামর্শ ও সুযোগ ভবিষ্যতের গুরুত্বপূর্ণ সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে। ধনু রাশি: জীবনের গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে আপনার মনোযোগ বেশি থাকবে। আর্থিক দায়িত্ব, যৌথ সম্পদ, বিনিয়োগ, ঋণ, কর বা দীর্ঘদিনের জটিল কোনো সমস্যার সমাধান নিয়ে অগ্রগতি হতে পারে। আগে যেসব বিষয় আপনাকে মানসিক চাপ দিচ্ছিল, সেগুলোর বাস্তবসম্মত সমাধানের পথ ধীরে ধীরে পরিষ্কার হতে শুরু করবে। সম্পর্ক ও অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। দাম্পত্য জীবন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেতে পারে। খোলামেলা আলোচনা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভুল–বোঝাবুঝি দূর হওয়ার সুযোগ রয়েছে। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে নতুন সম্পর্কের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে, বিশেষ করে পরিচিত বা পেশাগত যোগাযোগের মাধ্যমে। কর্মজীবনে একা না এগিয়ে সহযোগিতামূলক মনোভাব গ্রহণ করলে বেশি লাভবান হবেন। গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, আলোচনা, ক্লায়েন্ট মিটিং বা ব্যবসায়িক সমঝোতার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাঁরা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা নতুন অংশীদার, বিনিয়োগকারী বা লাভজনক চুক্তির সুযোগ পেতে পারেন। আর্থিক বিষয়ে সতর্ক ও বিচক্ষণ থাকা প্রয়োজন। নতুন আয় বা আর্থিক সহায়তার সুযোগ এলেও সব তথ্য যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো। পুরোনো আর্থিক দায় বা অসমাপ্ত হিসাব গুছিয়ে নেওয়ার জন্য সময়টি উপযোগী। মানসিকভাবে আপনি আগের তুলনায় বেশি গভীরভাবে চিন্তা করতে পারেন। কোনো বিষয়ে সত্যিকার কারণ খুঁজে বের করা, পরিকল্পনা পুনর্মূল্যায়ন করা বা ভবিষ্যতের জন্য শক্ত ভিত্তি তৈরি করার প্রবণতা বৃদ্ধি পাবে। এই আত্মবিশ্লেষণ দীর্ঘমেয়াদে উপকার বয়ে আনতে পারে। মকর রাশি: সম্পর্ক, অংশীদারত্ব ও দৈনন্দিন কাজের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির সম্ভাবনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের সঙ্গে বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেতে পারে এবং একা করার চেয়ে যৌথভাবে কাজ করলে বেশি সাফল্য পাওয়া যাবে। দাম্পত্য জীবন, ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বা ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। দীর্ঘদিনের কোনো ভুল-বোঝাবুঝি দূর হওয়ারও সুযোগ রয়েছে। কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততা বাড়লেও কাজের গতি ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা, নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করা বা কর্মপরিবেশে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করার সুযোগ পাবেন। সহকর্মীদের সহযোগিতা লাভ করতে পারেন এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিস্থিতিতেও নিজেকে প্রমাণ করার সম্ভাবনা রয়েছে। যাঁরা চাকরি খুঁজছেন বা নতুন দায়িত্বের অপেক্ষায় আছেন, তাঁদের জন্যও সময়টি আশাব্যঞ্জক। স্বাস্থ্য ও দৈনন্দিন রুটিনের দিকে নজর দেওয়ার প্রয়োজন হবে। নিয়মিত জীবনযাপন, পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস আপনাকে আরও কর্মক্ষম করে তুলবে। পুরোনো কোনো শারীরিক অস্বস্তি থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য উপযুক্ত সময় হতে পারে। আর্থিক বিষয়ে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার সুযোগ রয়েছে। কাজের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি, নতুন দায়িত্বের বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা অথবা দীর্ঘদিনের কোনো পাওনা আদায়ের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। তবে খরচের ক্ষেত্রে বাস্তববাদী থাকা ভালো। ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব সবচেয়ে বেশি সুফল দেবে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত সঙ্গী বা বিশ্বস্ত ব্যক্তির সঙ্গে আলোচনা করে নিলে ভালো ফল পাওয়া যেতে পারে। অবিবাহিতদের জন্য নতুন পরিচয় বা সম্পর্কের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। কুম্ভ রাশি: কর্মব্যস্ততা, দায়িত্ববোধ ও সৃজনশীলতার একটি সুন্দর সমন্বয় দেখা যেতে পারে এই সপ্তাহে। দৈনন্দিন কাজের চাপ কিছুটা বৃদ্ধি পেলেও আপনি তা দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে সক্ষম হবেন। কর্মক্ষেত্রে শৃঙ্খলা, পরিকল্পনা ও বাস্তবধর্মী সিদ্ধান্ত আপনাকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখবে। অনেক দিন ধরে ঝুলে থাকা কোনো কাজ সম্পন্ন করার সুযোগও তৈরি হতে পারে। সৃজনশীল কাজ, নতুন ধারণা, শিক্ষা, লেখালেখি, শিল্প-সংস্কৃতি কিংবা ব্যক্তিগত প্রতিভা প্রকাশের জন্য সময়টি অনুকূল। যাঁরা সৃজনশীল পেশা, শিক্ষা, মিডিয়া বা অনলাইন কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত, তাঁরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন। নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেলে তা আত্মবিশ্বাসও বাড়াবে। প্রেম ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হতে পারে। প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা বা ভুল–বোঝাবুঝি দূর করার জন্য সময়টি সহায়ক। অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে নতুন পরিচয় বা আকর্ষণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। সন্তানসংক্রান্ত বিষয়ে সুখবর, অগ্রগতি বা ইতিবাচক পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা যায়। যাঁরা সন্তানদের শিক্ষা বা ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন, তাঁরা আশাব্যঞ্জক খবর পেতে পারেন। স্বাস্থ্য ও কর্মজীবনের ক্ষেত্রে নিয়মিত রুটিন বজায় রাখলে ভালো ফল পাবেন। খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখলে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। কর্মক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা থাকলেও আপনার দক্ষতা ও বিচক্ষণতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে। আর্থিক ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। কাজের মাধ্যমে আয় বৃদ্ধি, নতুন দায়িত্ব বা অতিরিক্ত কাজ থেকে কিছু আর্থিক সুবিধা আসতে পারে, তবে অপ্রয়োজনীয় খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। মীন রাশি: এ সপ্তাহে পরিবার, মানসিক স্বস্তি, ব্যক্তিগত সুখ ও সৃজনশীলতার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব পাবে। ঘরোয়া পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো অথবা দীর্ঘদিনের কোনো পারিবারিক বিষয় সমাধানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। মানসিকভাবে আগের তুলনায় বেশি স্থির ও আশাবাদী অনুভব করবেন। সৃজনশীলতা ও ব্যক্তিগত প্রতিভা প্রকাশের জন্য এটি একটি অনুকূল সময়। শিল্প, সাহিত্য, লেখালেখি, শিক্ষা, বিনোদন বা নিজের পছন্দের কোনো কাজে সাফল্য ও তৃপ্তি লাভ করতে পারেন। যাঁরা নতুন কোনো প্রকল্প শুরু করতে চান, তাঁদের জন্যও সময়টি উৎসাহব্যঞ্জক। নিজের চিন্তা ও প্রতিভা প্রকাশ করলে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। প্রেম ও সম্পর্কের ক্ষেত্রে উষ্ণতা এবং বোঝাপড়া বৃদ্ধি পেতে পারে। প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটানো, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করা বা সম্পর্ককে আরও গভীর করার সুযোগ আসতে পারে। অবিবাহিতদের জন্য নতুন পরিচয় বা আকর্ষণ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে। সন্তানসংক্রান্ত বিষয়েও আনন্দদায়ক খবর বা অগ্রগতি দেখা যেতে পারে। শিক্ষার্থীদের জন্য সময়টি বিশেষভাবে শুভ। পড়াশোনায় মনোযোগ বৃদ্ধি, নতুন কিছু শেখার আগ্রহ ও পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ভালো অগ্রগতি সম্ভব। যাঁরা সৃজনশীল বা একাডেমিক কাজে যুক্ত, তাঁরা নিজের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেতে পারেন। আর্থিক বিষয়ে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত না থাকলেও স্থিতিশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবার, বাসস্থান বা ব্যক্তিগত সুখের জন্য কিছু ব্যয় হতে পারে, তবে সেগুলো প্রয়োজনীয় ও ফলপ্রসূ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। সূত্র: প্রথম আলো

৩০ মে ২০২৬

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

অবৈধ উপায়ে আসা পশুর কোরবানি কতটা সমীচীন? :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন প্রশ্ন করে এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর আয়োজিত ‘কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম) বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন, এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন। প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। তিনি বলেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় উৎপাদন বেশি থাকা সত্ত্বেও পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধ বা চোরাই পথে পশু প্রবেশের ঘটনা ঘটে। তিনি দেশীয় খামারিদের স্বার্থ রক্ষায় জনগণকে অবৈধভাবে আসা পশু বর্জনের আহ্বান জানান। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে সমস্যা হিসেবে নয়, সম্পদ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। যুবসমাজকে দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি মাদকসহ সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে সচেতন থাকার আহ্বান জানান। বিএনপির প্রচার সম্পাদক টুকু বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রমকে প্রশ্রয় দেওয়া যাবে না। দেশীয় উৎপাদন, খামারি ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সমৃদ্ধ ও সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। কোরবানি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, স্বাগত বক্তব্য দেন অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এবিএম খালেদুজ্জামান। কর্মশালায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

২১ মে ২০২৬

বাংলাদেশকে রীতিমতো ‘বেচে’ দিয়েছেন ড. ইউনূস!

বাংলাদেশকে রীতিমতো ‘বেচে’ দিয়েছেন ড. ইউনূস!

দৃষ্টি রিপোর্ট: শেখ হাসিনার পতনের ঠিক ৩ দিনের মাথায় ড. মুহাম্মদ ইউনূস যখন নিজের হাতে দেশের ক্ষমতা তুলে নিলেন, সবাই ভেবেছিলেন—অবশেষে বেঁচে গেল বাংলাদেশ! এবার শুধু এগিয়ে যাওয়ার পালা। কিন্তু মানুষের সেই স্বপ্ন যেন তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়তে থাকল! বিদায়ের ঠিক কয়েকদিন আগে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান যা করে গেলেন; বিশ্লেষকদের মতে- বাংলাদেশের ইতিহাসের কোনো শাসক এমনটা করেননি। স্পষ্ট করে বলতে গেলে দেশের এমন সর্বনাশ কেউ করেনি বলেই মত বিশ্লেষকদের। ড. ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে নেওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) নামের একটি বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। চুক্তির শর্ত, ভাষাগত কাঠামো এবং দুই দেশের বাধ্যবাধকতার ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, এতে বাংলাদেশের বাজারে কিছু খাতে শুল্ক ছাড়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে নীতি-স্বাধীনতার ওপর চাপও বাড়তে পারে। গত ৯ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র তিন দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি করে মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার। চুক্তিটির নাম অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি)। বাংলায় এর অর্থ পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি। ‘রিসিপ্রোকাল’ শব্দটির অর্থ হলো, দুই পক্ষের মধ্যে সমান আদান-প্রদান। সমতার ভিত্তিতে দেওয়া-নেওয়ার কথা বলা হলেও, ৩২ পৃষ্ঠার দলিলটি হাতে নিয়ে একবার পাতা উল্টালেই চোখ কপালে ওঠার মতো অনেক বিষয় সামনে আসে! দেশে তখন নির্বাচনের হাওয়া। ড. ইউনূসের সরকার বিদায় নিতে যাচ্ছে। ঠিক সেই সময়েই নিঃশব্দে দেশের ভবিষ্যৎকে একটি চুক্তির ভেতরে বেঁধে দিয়ে যাওয়া হয়। যখন দেশের মানুষ বিষয়টি টের পেল, ততক্ষণে যা হওয়ার, তা হয়ে গেছে! এই চুক্তির ভেতরের বিষয় বুঝতে হলে আগে একটি সহজ ব্যাকরণ বুঝতে হবে। ইংরেজি আইনি ভাষায় ‘শ্যাল’ মানে বাধ্যতামূলক, অর্থাৎ এটি করতেই হবে। আর ‘উইল’ মানে ইচ্ছাধীন, চাইলে করা যাবে, না চাইলে বাধ্যবাধকতা নেই। ৩২ পৃষ্ঠার এই চুক্তিতে ‘শ্যাল’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে মোট ১৭৯ বার, আর ‘উইল’ এসেছে মাত্র তিনবার। এখন প্রশ্ন হলো, বাধ্যবাধকতার ভার কার কাঁধে বেশি পড়েছে? চুক্তির এই ১৭৯টি ‘শ্যাল’-এর মধ্যে বাংলাদেশের ওপর বাধ্যবাধকতা এসেছে ১৩১ বার। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে ‘শ্যাল’ ব্যবহৃত হয়েছে মাত্র ছয়বার। অর্থাৎ এই চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে ১৩১টি ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলকভাবে শর্ত মানতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র বাধ্য থাকবে মাত্র ছয়টি ক্ষেত্রে। বিশ্লেষকদের ভাষায়, এটাই তথাকথিত ‘পারস্পরিক’ চুক্তির আসল চেহারা। তাদের মতে, এটি আসলে কোনো সমতার চুক্তি নয়; বরং একটি আধিপত্য প্রতিষ্ঠার দলিলের নমুনা। চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশকে কী কী করতে হবে, সেই তালিকা এত দীর্ঘ যে পুরোটা বলতে গেলে আলাদা একটি বই হয়ে যাবে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের জন্য বাংলাদেশের বাজারে বিশেষ অগ্রাধিকার দিতে হবে। মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশ আমদানির ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন বা কঠোর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চাওয়া যাবে না। এ ছাড়া মার্কিন ডিজিটাল কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্যমূলক কর আরোপ করা যাবে না। রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দেশীয় উৎপাদকদের এমন কোনো ভর্তুকি দিতে পারবে না, যেন মার্কিন পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা কমে যায়। এমনকি পারমাণবিক চুল্লি বা জ্বালানি রড কেনার ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন ডিসির পছন্দের বাইরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়বে। আর যদি বাংলাদেশ ভবিষ্যতে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে নতুন বড় বাণিজ্য চুক্তি করে এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে যে তাদের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাহলে ওয়াশিংটন ডিসি পুরো এআরটি চুক্তি বাতিল করে আগের শাস্তিমূলক শুল্ক পুনর্বহালের ক্ষমতা রাখবে। অর্থাৎ চুক্তিটিও এক ধরনের শর্তসাপেক্ষ ‘অনুগ্রহ’ হিসেবেই কার্যকর থাকবে। এত কিছুর বিনিময়ে বাংলাদেশ কী পেল? মূলত পোশাক ও বস্ত্র খাতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে শূন্য বা কম শুল্কে প্রবেশের সুযোগ। তবে সেটিও নিঃশর্ত নয়। এই সুবিধা পেতে হলে বাংলাদেশকে আমেরিকা থেকেই তুলা, কৃত্রিম তন্তু এবং বিভিন্ন বস্ত্র উপকরণ আমদানি করতে হবে। যত বেশি আমদানি করা হবে, তত বেশি সুবিধা মিলবে। অর্থাৎ সুবিধা পেতে হলেও নির্ভর করতে হবে তাদের ওপরই। গবেষণা সংস্থা সিপিডির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই চুক্তির আওতায় আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশকে ৭১৩২টি মার্কিন পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রায় পুরোপুরি তুলে দিতে হবে। এর মধ্যে ৪৯২২টি পণ্যের ক্ষেত্রে চুক্তি কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুল্ক শূন্যে নেমে আসবে। ফলে বড় ধরনের রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে বাংলাদেশ। ফলে একদিকে বাংলাদেশকে বেশি দামে পণ্য কিনতে হবে, অন্যদিকে নীতিনির্ধারণেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মেনে চলার চাপ তৈরি হবে। এককথায়, লাভ সামান্য হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি, এমনটাই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তবে বিষয়টি এখানেই শেষ নয়। একই দিনে অর্থাৎ নির্বাচনের মাত্র ৬০ ঘণ্টা আগে, আরও একটি বড় চুক্তি সই হয়। সেটি হলো বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়া এভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার রাষ্ট্রীয় চুক্তি করা সরাসরি আইনের লঙ্ঘনের শামিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ মে চুক্তি অনুযায়ী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস আনুষ্ঠানিকভাবে বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন করে। এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে প্রায় ৩.৭ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম উড়োজাহাজটির সরবরাহ শুরু হতে পারে ২০৩১ সালের অক্টোবর থেকে। এরপর ধাপে ধাপে ২০৩৫ সালের মধ্যে পুরো বহর হস্তান্তরের কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এই চুক্তি নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা চলছে। অনেকের মতে, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার সময়ে, যখন বাংলাদেশ নিজেই অর্থসংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন এত বড় অঙ্কের চুক্তি বাস্তবতাবিবর্জিত সিদ্ধান্ত বলেই মনে হচ্ছে। অসম বাণিজ্য চুক্তি বা উড়োজাহাজ কেনার বিষয়ই মুহাম্মদ ইউনূস সরকারের একমাত্র সমালোচিত অধ্যায় নয়। তার শাসনামলে এমন এক ব্যর্থতার ঘটনাও সামনে এসেছে, যা সরাসরি শত শত শিশুর জীবনের ঝুঁকি বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতায় আসার পর সরকার ইউনিসেফের মাধ্যমে হামের টিকা কেনার পুরনো ব্যবস্থা পরিবর্তন করে। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে সরকার উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে ইউনিসেফ আগেই সতর্ক করেছিল, এই পথে গেলে টিকা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে। কিন্তু সেই সতর্কবার্তায় গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফল হিসেবে হাম-রুবেলার টিকার মজুদ ফুরিয়ে যায়। সম্পূরক টিকাদান কর্মসূচি পিছিয়ে দিতে হয়, এমনকি একটি কর্মসূচি পুরোপুরি বাতিলও করা হয়। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাত্র ৫৯ শতাংশ শিশু হামের টিকা পেয়েছে। বাকি ৪১ শতাংশ শিশু টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়। আর এর ভয়াবহ পরিণতি দেশ দেখতে শুরু করে ২০২৬ সালে এসে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে পাঁচ হাজারের বেশি সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। মারা গেছে চার শতাধিক শিশু। ঢাকা সংক্রামক রোগ হাসপাতালে শিশু রোগীতে উপচে পড়ছে। বেড না থাকায় অনেককে মেঝেতে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সরাসরি সতর্ক করে বলেছে, টিকাদান কর্মসূচিতে বাংলাদেশের কয়েক দশকের অর্জন এখন ভঙ্গুর হয়ে পড়েছে। আর আইইডিসিআরের সাবেক উপদেষ্টা মোহাম্মদ মুশতাক হোসেন বলেছেন, শুধু টিকার ঘাটতিই নয়, এই সংকট দেশের গভীরে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতারও প্রতিফলন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে উঠেছে যে জনস্বাস্থ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবিও উঠেছে। একসময় যে দেশে হাম সংক্রমণ প্রায় বিরল হয়ে গিয়েছিল, সেখানে মুহাম্মদ ইউনূসের দেড় বছরের শাসনামলে পরিস্থিতি আবার মহামারির রূপ নিয়েছে, এমন অভিযোগ তুলছেন সমালোচকরা। এখন প্রশ্ন উঠছে, ড. ইউনূসের এই দেড় বছরের শাসনে বাংলাদেশের প্রকৃত অর্জন কী? সেই প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘ করে দেওয়াও কঠিন। কারণ বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, এই দেড় বছরে উল্লেখ করার মতো বড় কোনো অর্জন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বরং বাংলাদেশ কতটা পিছিয়ে গেছে, সেই হিসাব দেখেই তারা বিস্মিত হচ্ছেন। তাদের মতে, মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জাতির সঙ্গে এক ধরনের বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। কোটি মানুষের স্বপ্নকে ধূলিসাৎ করে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির পথে হাঁটতে গিয়ে দেশকে গভীর সংকটের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, এমন অভিযোগই তুলছেন সমালোচকরা। এখন সবার নজর নতুন সরকারের দিকে। তারা এই সংকট থেকে দেশকে কতটা টেনে তুলতে পারে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। সূত্র: বাংলানিউজ টোয়েন্টিফোরডটকম

২১ মে ২০২৬

ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা

ঈদযাত্রায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ মহাসড়কে জটের শঙ্কা

মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল: ঈদুল আযহা ঘনিয়ে আসতেই যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩ জেলার মানুষের ঘরমুখী যাত্রা নিয়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ফোর লেনের চওড়া রাস্তা দিয়ে যানবাহনগুলো দ্রুত চলে এলেও এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায়ই যানজট লেগে থাকে। এ মহসড়কে যানজটের আসল নেপথ্য কারণ- যমুনা সেতুর ওপর দিয়ে ওয়ানওয়ে (একমুখী) যাতায়াত ব্যবস্থা। ফোর লেনের বিপুল সংখ্যক গাড়ির চাপ যমুনা সেতুর সরু ওয়ানওয়ে সামলাতে পারেনা। ফলে প্রতি বছরই ঈদ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এবারও ঈদুল আযহায় যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে ভোগান্তি বাড়াবে। মহাসড়কে যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যমুনাসেতু প্রশস্তকরণ বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি ক্রমশ: জোরদার হচ্ছে। জানাগেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই মহাসড়কে জয়দেবপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের কাজ শেষ হওয়ায় গাড়িগুলো নির্বিঘ্নে চলে আসে। কিন্তু এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ এখনও শেষ হয়নি। এই অংশের কাজের অগ্রগতি মাত্র ৮০ শতাংশ। ফ্লাইওভার, আন্ডারপাস এবং সার্ভিস লেনের কাজ চলমান থাকায় রাস্তা এমনিতেই সংকুচিত। এর ওপর যমুনা সেতুতে দুই দিকে একই সাথে গাড়ি চলাচলের পর্যাপ্ত লেনের অভাব বা ওয়ানওয়ে যাতায়াতের কারণে ফোর লেনের গতিশীল গাড়িগুলো সেতুর প্রবেশমুখে এসে আটকে যাচ্ছে। এই অতিরিক্ত গাড়ির চাপ নেওয়ার ক্ষমতা সেতুর না থাকায় পেছনের সাড়ে ১৩ কিলোমিটার জুড়ে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে। কখনো কখনো তা ৪০ কিমি পর্যন্ত দীর্ঘ হয়। চালকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং তদারকির অভাবেই এই অংশের কাজ দীর্ঘদিনেও শেষ হয়নি। এদিকে, ঈদুল আযহায় ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে যানজট নিরসনে রোববার(১৭ মে) বিকালে টাঙ্গাইলে জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী ড. সিনথিয়া আজমিরী খান, যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন, বিআরটিএ টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক শেখ মাহতাব উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানায়, যমুনা সেতুর ওয়ানওয়ে যাতায়াতের এই ‘বটলনেকে’র কারণে টাঙ্গাইল অংশে প্রতিবছরই যানজট হয়। বরাবরের মতো এবারও নানা কারণে মহাসড়কের ১৩টি নির্দিষ্ট স্পটে সবচেয়ে বেশি যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। স্পটগুলো হচ্ছে- যমুনা সেতু, যমুনা সেতু গোলচত্বর, জোকার চর, এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, এলেঙ্গা-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর আঞ্চলিক সংযোগসড়ক, ঘারিন্দা ওভার ব্রিজ, রাবনা বাইপাস, আশেকপুর বাইপাস, করটিয়া বাইপাস, পাকুল্ল্যা, মির্জাপুর শহরের আঞ্চলিক সড়ক, মির্জাপুরের হাটুভাঙ্গা। জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ ট্রাফিক পরিকল্পনা ও বিকল্প রুটের কথাও ভাবছে। এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে যানজট এড়াতে কিছু গাড়িকে ভূঞাপুর হয়ে আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে যমুনা সেতু গোল চত্বরে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হতে পারে। ঈদ যাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে হলে সেতু পারাপারে বিশেষ ট্রাফিক সমন্বয় এবং হাইওয়ে পুলিশের ২৪ ঘণ্টা কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সেতু সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম, সিদ্দিক হোসেন, তুলা মিয়া, আজমত আলী, রঘুনাথ শীল, পিযুস কান্তি সাহা, হাজী শরিফুল ইসলাম সহ অনেকেই জানায়, প্রতিবছর ঈদের আগে ও পরে বিভিন্ন স্পটে যত্রতত্র যানবাহন পার্কিং, মহাসড়কে লক্কর-ঝক্কর মার্কা গাড়ি নামানো এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে যাত্রী ওঠানামা করায় যানজট হয়। যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে সেতুর ধারণক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তাই যমুনাসেতু ওয়ানওয়ে হওয়ায় সেতুর প্রশস্ততা বাড়ানো বা দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের দাবি এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে। তারা জানায়, মহাসড়কে যানজটের প্রধান কারণ হলো ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি গাড়ি চলাচল করা। স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন ১০-১২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের সময় তা বৃদ্ধি পেয়ে ৫০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। তাছাড়া অতিরিক্ত গাড়ির চাপের মধ্যে ফিটনেসবিহীন লক্কর-ঝক্কর কোনো গাড়ি বিকল হলে বা দুর্ঘটনা ঘটালে তাৎক্ষণিক মহাসড়কে প্রায় ২০-৩০ বা ৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত যানজট লেগে যায়। কারণ, মহাসড়ক থেকে ওই গাড়ি সরাতেই অন্তত আধা ঘণ্টা সময় নষ্ট হয়। ঈদের সময়ে যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে যেন কোনোভাবেই ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল করতে না পারে- তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। মহাসড়কের পাশে বসবাসে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জানান, নির্দিষ্ট কিছু স্পট দিয়ে হঠাৎ বড় রাস্তায় ছোট ছোট যানবাহন উঠে পড়ে- যা যানজট সৃষ্টি করে। এদের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি। এছাড়া কোরবানির ঈদের সময় মহাসড়কের বিভিন্ন স্পটে ট্রাকে গরু ওঠানামা করানো হয়। মহাসড়কে চলাচলকারী গাড়ি চালক আব্দুল লতিফ, রাসেল আহাম্মেদ, হাসু মিয়া, রাকিব হোসেন সহ অনেকেই জানান, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো একযোগে ছুটি হলে সবাই একসঙ্গে ঢাকা ছাড়তে মরিয়া হয়ে ওঠে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের ২৩টি জেলার যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ একবারে এই মহাসড়কে এসে পড়ে। ঈদের মাত্র দুই-একদিন আগে হঠাৎ সব ছুটি একসঙ্গে ঘোষণা করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নেয়। সবার মাঝে আগে বাড়ি ফেরার প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ায় মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়ে। মহাসড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, ঈদযাত্রা উপলক্ষে মহাসড়কের দুই পাশেই ফোর লেনের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া ফ্লাইওভার ও আন্ডারপাসের কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। ঈদযাত্রায় যানবাহন চলাচলের জন্য ফোরলেন সড়কটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। ফলে এবার মহাসড়কে কোনো যানজট হবে না। তবে যমুনাসেতুর ‘বটলনেক’ এর কারণে কিছুটা সমস্যা হতে পারে। বাসেক’র যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, কোরবানির ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু দিয়ে কোনো বিরতি ছাড়াই ২৪ ঘণ্টা সার্বক্ষণিক টোল আদায় চালু রাখা হবে। সেতুর দুই প্রান্তেই ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে। এর মধ্যে মোটরবাইক চালকদের সুবিধার্থে দুই প্রান্তেই ২টি করে আলাদা বুথ থাকবে। তবে বর্ধিত জনসংখ্যা ও ফোরলেনের মহাসড়কের গাড়ির চাপ যমুনাসেতুর ওয়ানওয়ে নিতে পারছেনা। ফলে যানজট নিরসনের চেষ্টা করেও সফলতা পাওয়া যাচ্ছেনা। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, এবার মহাসড়কে যানজটের কোনো আশঙ্কা নেই। কোরবানির পশুবাহী ট্রাক, পণ্যবাহী গাড়ি এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে। চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতি রোধে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েণ্টগুলোতে বিশেষ নজরদারি ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে মহাসড়কের পাশে বা আশেপাশে কোনো ধরনের অস্থায়ী গরুর হাট বসতে দেওয়া হবে না। এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরীফও পুলিশ সুপারের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, ঈদযাত্রা নিরাপদ ও যানজটমুক্ত রাখতে বিএনপি সরকার দ্বিতীয় যমুনাসেতু নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা করছে। উত্তরবঙ্গের এবারের ঈদ যাত্রা যেন স্বস্তিদায়ক ও আরামদায়ক হয় এবং দুর্ঘটনায় যেন কোনো প্রাণহানি না ঘটে- সেজন্য চালক, যাত্রী, পথচারী ও প্রশাসনসহ সর্বস্তরের মানুষকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। তিনি জানান, যানজট নিরসনে সরকার সব ধরনের আগাম প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি পরিস্থিতি মোকাবিলায় মাঠে কাজ করবে বিশেষ ‘স্বেচ্ছাসেবী টিম’। মহাসড়ক ও পশুর হাট ব্যবস্থাপনার বিষয়ে প্রশাসনকে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

২০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা : সুরক্ষিত ভূমি, সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’ স্লোগানে দেশব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার(১৯ মে) সকালে তেজগাঁস্থ ভূমি ভবন থেকে তিন দিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের ভূমিসেবা মেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলেও ভূমিসেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি এবং রাজস্ব) মোসা. লায়লা আঞ্জুমান বানু, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া, সহকারী কমিশনার (ভূমি) দেওয়ান আসিফ পেলে প্রমুখ। টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসন ও উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সংলগ্ন জনসেবা চত্বরে ১৯ মে থেকে ২১ পর্যন্ত ওই মেলা চলবে।

১৯ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চ দিবস পালিত

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০তম দিবস পালন করা হয়েছে। শনিবার (১৬ মে) মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে মিছিল মানববন্ধন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হয়। এদিন শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে খন্ড খন্ড মিছিল এসে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচতে যোগ দেয়। মানববন্ধন চলাকালে অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, মওলানা ভাসানী ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান খন্দকার নাজিম উদ্দিন, সংগঠনের মহাসচিব মাহমুদুল হক সানু, জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হোসেন মালা, জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুল হক মনির, সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজিম উদ্দিন বিপ্লব। এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক তানভীর আহমেদ সজল, কাগমারী এমএম আলী কলেজের সাবেক ভিপি নুরুল ইসলাম, শহর যুবদলের সভাপতি রাশেদ খান সোহাগ, জেলা ছাত্রদলের সদস্য আজাদ মিয়া এবং সদর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল আলীম প্রমুখ।

১৬ মে ২০২৬

ভোটের সময় গণনা হবে সফটওয়্যারে

ভোটের সময় গণনা হবে সফটওয়্যারে

দৃষ্টি নিউজ: তফসিল ঘোষণার প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করতে ‘ইলেকশন সিডিউল ম্যানেজমেন্ট মডিউল (ইএমএস)’ নামের সফটওয়্যার চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে সকল নির্বাচনের তথ্য ইনপুট দিতে মাঠ কর্মকর্তাদের নির্দেশনাও দিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার (৭ মে) ইসির উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এ সংক্রান্ত চিঠি মাঠ কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহ অর্থাৎ সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের যথাসময়ে তফসিল ঘোষণার সুবিধার্থে নির্বাচনি ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত সফটওয়্যার প্রস্তুত করা হয়েছে। ওই সফটওয়্যারে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানসমূহের সর্বশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ, গেজেট প্রকাশের তারিখ, শপথ গ্রহণের তারিখ ও প্রথম সভার তারিখসহ ওয়ার্ড বিন্যাস, ভোটার তালিকা পুনর্বিন্যাস ও মামলা ইত্যাদি বিষয়ক তথ্য অন্তর্ভুক্ত করে হালনাগাদ করা আবশ্যক। নির্বাচনী ক্যালেন্ডার সংক্রান্ত সফটওয়্যারে (Election Schedule Management Module) (উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসারগণকে প্রয়োজনীয় তথ্য এন্ট্রি করার জন্য নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত প্রদান করেছে। এ অবস্থায় উপজেলা/থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা আগামী ১৫ মে এর মধ্যে আবশ্যিকভাবে তথ্য এন্ট্রি নিশ্চিত করতে হবে।

০৭ মে ২০২৬