অপরাধ

টাঙ্গাইলে অপরাধের ভয়াবহতা বেড়েছে

টাঙ্গাইলে অপরাধের ভয়াবহতা বেড়েছে

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। গত সাত দিনে জেলার তিনটি উপজেলায় পৃথক ঘটনায় পাঁচটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জেলাজুড়ে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। সর্বশেষ শনিবার(৪ জুলাই) রাতে সদর উপজেলায় এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। জানা যায়- টাঙ্গাইল সদর উপজেলার মগড়া ইউনিয়নের কুইজবাড়ি বাজারে শনিবার (৪ জুলাই) রাতে এক ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (৫ জুলাই) সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাসুদ মিয়া (৪৫) নামে ওই মুদি দোকানির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত মাসুদ মিয়া কুইজবাড়ি গ্রামের লাল মাহমুদের ছেলে। স্থানীয়রা জানান, রোববার ভোরে বিষয়টি ইউপি সদস্য ফরহাদ আলীকে জানানো হলে তিনি জাতীয় জরুরি পরিষেবা ‘৯৯৯’ নম্বরে ফোন করে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। নিহত ব্যবসায়ীর শরীরে অসংখ্য আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। গত ১ জুলাই (বুধবার) নিখোঁজের একদিন পর সখীপুর উপজেলা হাসপাতাল গেটের দক্ষিণে বাড়ির পাশের ডোবা থেকে পারভীন আক্তার নামে এক বিধবা নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি উপজেলার হাতিবান্ধা গ্রামের মৃত হুমায়ুন খানের স্ত্রী। পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহতের ছেলে ফাহাদ ঢাকায় চাকরি করার কারণে পারভীন আক্তার সখীপুর পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি বাসায় একা বসবাস করতেন। এর আগে গত ২৯ জুন (সোমবার) সকালে টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজু নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, স্থানীয় মসজিদের মোয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন ঋণের চাপে পড়ে সোনা লুট করার উদ্দেশ্যে ওই গৃহবধূকে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর মোশারফ হোসেন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে, নাগরপুর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নাগরপুর থানা পুলিশ। গত ১ জুলাই (বুধবার) দুপুরে সহবতপুর ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটখেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে ওই ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত শওকত সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাঘিল ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর মধ্যপাড়ায় গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়াকে কেন্দ্র করে চাচাতো ভাইদের সংঘর্ষে ছানোয়ার মিয়া নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তিনি ওই গ্রামের আবু হানিফের ছেলে। গত ২৮ জুন (রোববার) নিজের গাছ থেকে কাঁঠাল পাড়ার সময় চাচাতো ভাইদের সাথে তার সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহত ছানোয়ারকে প্রথমে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে অন্যত্র স্থানান্তর করা হয়। পরদিন ২৯ জুন(সোমবার) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। সাত দিনের ব্যবধানে জেলায় পরপর পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মনে চরম নিরাপত্তাহীনতা দেখা দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার তদন্ত চলছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্বদ্যিালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ উমর ফারুক জানান, বর্তমান সমাজে সামাজিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয় ঘটেছে। এ অবক্ষয় রোধে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সচেতনতা প্রয়োজন। পরিবার তথা সমাজের তৃণমূল থেকে এসব শিক্ষাগ্রহণ করতে হয়। বর্তমান প্রজন্ম বিভিন্ন মোবাইল ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় সামাজিক মূল্যবোধের এ বিপর্যয় ঘটেছে। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মো. আদিবুল ইসলাম জানান, বর্তমান সমাজে পারিবারিক শিক্ষার অভাবে সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে। আগে সন্ধা হলেই প্রতিটি অভিভাবক তাদের সন্তানদের খোঁজ নিতেন। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা মোবাইলের বিভিন্ন ডিভাইসে আসক্ত হওয়ায় তারা বিভিন্ন অপরাধের সাথে জড়াচ্ছে। সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রত্যেক অভিভাবককে সচেতনভাবে পারিবারিক শিক্ষা দিতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে আইনী পদক্ষেপও নিতে হবে।

০৫ জুলাই ২০২৬

গাঁজা চাষীর স্বপ্নভঙ্গ করল প্রশাসন

গাঁজা চাষীর স্বপ্নভঙ্গ করল প্রশাসন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে পাট ক্ষেতের আড়ালে গাঁজা চাষ করে বেশি লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন আল আমিন(৩৮)। কিন্তু জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ১১টি বড় সাইজের গাঁজা গাছ সহ তাকে গ্রেপ্তার করে লালিত স্বপ্নভঙ্গ করে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের বলরামপুর পশ্চিম পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আল আমিন ওই গ্রামের মৃত বাদশাহ মিয়ার ছেলে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম জানান, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বাড়ির আঙ্গিনায় পাটক্ষেতের মাঝখানে গাঁজা চাষ করছে আল আমিন, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভূঞাপুর উপজেলার বলরামপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ১১টি বড় সাইজের গাঁজা গাছ উদ্ধার এবং আল আমিনকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় ভূঞাপুর থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

০২ জুলাই ২০২৬

নাগরপুরে পাটক্ষেত থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নাগরপুরে পাটক্ষেত থেকে অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

নাগরপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুরে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পাটক্ষেত থেকে শওকত মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তির অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, নিহত শওকত উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে। বুধবার(১ জুলাই) দুপুরে ওই ইউনিয়নের বিন্নাওঝা গ্রামের গাজী কবিরের পাটক্ষেত থেকে শওকতের অর্ধগলিত মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের চাচাত ভাই মো. আয়নাল মোল্লা জানান, গত তিন দিন ধরে তার ভাই শওকত মোল্লা নিখোঁজ ছিল। বুধবার দুপুর ১ টার দিকে বিন্নাওঝা গ্রামে একটি মরদেহ পাওয়ার খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে দেখতে পান তার ভাইয়ের মরদেহ পরে রয়েছে। নাগরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জহুরুল ইসলাম স্থানীয়দের বরাতে জানান, উপজেলার নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত জয়েদ আলী মোল্লার ছেলে শওকত মোল্লার অর্ধগলিত মরদেহ পাশ্ববর্তী বিন্নাওঝা গ্রামের জনৈক গাজী কবিরের পাটক্ষেতে স্থানীয়রা পরে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত ব্যক্তির মরদেহ সনাক্ত করে। পরে সংবাদ পেয়ে নাগরপুর থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। তিনি জানান, এ ঘটনার মোটিভ সম্পর্কে এখনও কোনো কিছু জানা যায়নি। তবে তদন্তের পর মোটিভ সম্পর্কে জানা যাবে।

০১ জুলাই ২০২৬

সখীপুরে দুই দিন পর নিখোঁজ বিধবার মরদেহ উদ্ধার :: পরিবারের দাবি খুন

সখীপুরে দুই দিন পর নিখোঁজ বিধবার মরদেহ উদ্ধার :: পরিবারের দাবি খুন

সখীপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের সখীপুরে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর পারভীন আক্তার (৪৬) নামে এক বিধবা নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১ জুলাই) সকালে পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের হাসপাতাল গেট এলাকার দক্ষিণ পাশে বাসার নিকটবর্তী একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত পারভীন আক্তার মৃত হুমায়ন খানের স্ত্রী। পারিবারিক সূত্রে জানাগেছে, পারভীন আক্তার এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী। ছেলে সোহেল রানা ফাহাদ ঢাকার সাভারে চাকরির কারণে সেখানে বসবাস করেন এবং মেয়ের বিয়ে হয়েছে প্রায় দুই মাস আগে। এরপর থেকে পারভীন বাড়িতে একাই থাকতেন। স্বজনরা জানায়, গত ২৯ জুন রাত সাড়ে ৯টার দিকে ছেলের সঙ্গে মোবাইলে তার সর্বশেষ কথা হয়। পরদিন সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা বারবার ফোন করলেও মোবাইল ফোন সচল থাকলেও তিনি আর কোনো কল রিসিভ করেননি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে ছেলে ফাহাদ ঢাকা থেকে সখীপুরে ফিরে এসে থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ ও পরিবারের সদস্যরা রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি চালানোর পর বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের ছেলে সোহেল রানা ফাহাদ দাবি করেন, তার মাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ বিষয়ে বাসাইল-সখীপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) একেএম মামুনুর রশিদ জানান, সুরতহাল প্রতিবেদনে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

০১ জুলাই ২০২৬

সোনা লুটের উদ্দেশ্যে হাতুড়ির আঘাতে গৃহবধূকে খুনের পর সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়

সোনা লুটের উদ্দেশ্যে হাতুড়ির আঘাতে গৃহবধূকে খুনের পর সিসি ক্যামেরা ভাঙা হয়

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় ঋণের চাপে স্বর্ণালঙ্কার লুটের উদ্দেশ্যে গৃহবধূ নাজমা আলম নাজুকে খুন এবং মৃত্যু নিশ্চিত করার পর সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয় বলে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চৌরাস্তা জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেন। মঙ্গলবার(৩০ জুন) বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খান মোশারফ হোসেনের জবানবন্দি ১৬৪ ধারায় লিপিবদ্ধ করেন। আদালতের পরিদর্শক মো. মুরাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু খুনের ঘটনায় সদর থানা পুলিশ মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে(৪২) দন্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার জন্য মঙ্গলবার বিকালে আদালতে হাজির করে। পরে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. গোলাম মাহবুব খানের কাছে মোশারফ হোসেন জবানবন্দি দেন। আদালত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানাগেছে, জবানবন্দিতে মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন- মোশারফের সঙ্গে নাজমা আলম নাজুর পরিবারের দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে যোগাযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে মোশারফ হোসেন ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বিভিন্ন সময়ে নাজমা আলমের কাছ থেকে তিনি ঋণ নিয়েছেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্নজনের কাছ থেকে ঋণ করেন এবং এনজিও থেকেও ঋণ নিয়ে লোকজনের কাছ থেকে নেওয়া কিছু টাকা পরিশোধ করেন। ঋণের আরও টাকা পরিশোধের জন্য রোববার(২৮ জুন) তিনি আবার নাজমা আলম নাজুর কাছে টাকা চাইলে তিনি দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় ক্ষুব্ধ হয়ে মোশারফ হোসেন পাশের ঘর থেকে হাতুড়ি এনে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। পরে নাজমার হাতে ও গলায় থাকা স্বর্ণালংকার নেওয়ার চেষ্টা করলে নাজমা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় মোশারফ নাজমাকে আবার হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন এবং বাড়ির সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলেন। পরবর্তী সময়ে মোশারফ স্বর্ণসহ হাতুড়ি ও সিসি ক্যামেরার ডিভিডি সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান। এরআগে টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশ চাঞ্চল্যকর গৃহবধূ নাজমা আলম নাজু(৫১) হত্যার ঘটনায় গোপনে খবর পেয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে(৪৫) আটক করা হয়। তার কাছ থেকে চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা এবং ঘটনার আলামত উদ্ধার করা হয়। স্বর্ণ ব্যবসায়ীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্বাস বেতকা চৌরাস্তা মসজিদের মুয়াজ্জিন মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত মোশারফ হোসেন দেলদুয়ার উপজেলার মৃত মোতালেব সরকারের ছেলে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মোশারফ হোসেন গৃহবধূকে খুনের কথা স্বীকার করেন এবং আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করায় তাকে আদালতে নেওয়া হয়। উল্লেখ্য, গত রোববার টাঙ্গাইল শহরের বিশ্বাস বেতকা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে নাজমা আলম নাজুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এসএম রেজওয়ান সিদ্দিকী জানান, তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও সোর্সের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সময় মৃতের গলার স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা নিয়ে যাওয়া হয়। এরসূত্র ধরে প্রথমে স্বর্ণ ব্যবসায়ী সন্তোষ কর্মকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার সন্ধ্যায় হত্যাকারী মোশারফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৩০ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলে হাত বাঁধা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

টাঙ্গাইলে হাত বাঁধা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল শহরের শিবনাথ পাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে হাত বাঁধা, গলায় রশি পেঁচানো রক্তাক্ত অবস্থায় রোববার (২৮ জুন) দুপুরে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ নাজমা আলম (৫১) ওই এলাকার পশু চিকিৎসক শফিউল আলম শাহীনের স্ত্রী। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানায়, রোববার সকালে শফিউল আলম অফিসে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি স্ত্রী নাজমাকে একাধিকবার ফোন কল দিলেও সাড়া না পেয়ে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে তিনি জানতে পারেন, নাজমা আলমের অবস্থা আংশঙ্কাজনক। তিনি ওই বাড়ির তিনতলায় ঘরের ভেতর নাজমার মরদেহ দেখতে পান। পরে পরিবারের সদস্যদের ও পুলিশে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার কারণ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী বলেন, এটি নিঃসন্দেহে হত্যা। ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে তার মৃত্যু কীভাবে হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

২৯ জুন ২০২৬

ইউটিউবারের নামে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা

ইউটিউবারের নামে পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক পেইজে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অসত্য সম্মান হানিকর সংবাদ প্রচারে সংক্ষুব্ধ হয়ে হাদি চকদার নামে এক ইউটিউবারের বিরুদ্ধে টাঙ্গাইলের আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার(২৩ জুন) টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট(সদর থানা) আমলী আদালতে ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনের ৮(১) (২)(৩) ধারায় দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা মামলাটি(সিআর ১৩৫১/২০২৬) দায়ের করেন। মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন, ভূঞাপুর উপজেলার বীরহাটি গ্রামের ছোবহান মেকারের ছেলে মো. হাদি চকদার ‘Hady Chakder’ নামীয় ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে নানা নামীয় ফেসবুক গ্রুপে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন, অসত্য, আপত্তিকর, অল্লীল ছবি বিকৃতি ও প্রচার করেছে। এতে তার পারিবারিক ও সামাজিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বিধায় পর্ণোগ্রাফি আইনের ৮(১) (২) (৩) ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা মামলায় পাঁচজন সাক্ষীর নাম-পরিচয় উপস্থাপন করে সুবিচারের আবেদন করেছেন। টাঙ্গাইলের বিজ্ঞ অতিরিক্ত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট(সদর থানা) আমলী আদালতের বিচারক মো. গোলাম মাহবুব খাঁন মামলাটি আমলে নিয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে(ডিবি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। টাঙ্গাইল অ্যাডভোকেট বার সমিতির একাধিক সিনিয়র আইনজীবী জানান, কোন ব্যক্তির আপত্তিকর, অল্লীল ছবি বা ছবি বিকৃতি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করে পারিবারিক ও সামাজিক মান-সম্মান ক্ষুন্ন করলে এবং মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন অসত্য সম্মান হানিকর সংবাদ প্রচার করা হলে ২০১২ সালের পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে দন্ডিত হওয়ার বিধান রয়েছে। এ বিষয়ে দৈনিক টাঙ্গাইল প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ও মামলার বাদী মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা বলেন, আমি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ফেসবুকের মাধ্যমে আমার সামাজিক ও পারিবারিক মান-সম্মান ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। তাই প্রতিকারের আশায় আদালতে মামলা দায়ের করেছি। আইন আইনের গতিতে চললে আমি ন্যায় বিচার পাবো ইনশাল্লাহ।

২৩ জুন ২০২৬

ভূঞাপুরের ফজলু মল্লিক গ্রেপ্তার

ভূঞাপুরের ফজলু মল্লিক গ্রেপ্তার

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল সদর থানায় দায়ের করা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমন সংক্রান্ত মামলার আসামি ও আন্দোলন দমনে অর্থদাতা হিসেবে অভিযুক্ত ভূঞাপুরের বেকু(খননযন্ত্র) ব্যবসায়ী ফজলু মল্লিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (২১ জুন) শহরের বাসটার্মিনাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে দমন-পীড়নে আওয়ামীলীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের অর্থ যোগানদাতা হিসেবে পরিচিত ফজলু মল্লিক। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমাতে তিনি অর্থের যোগান দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সদর থানায় দায়েরকৃত মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমিন জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সংশ্লিষ্ট মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ফজলু মল্লিককে গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ওই মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

২১ জুন ২০২৬

জমির বিরোধে আহত যুবদল নেতার মৃত্যু

জমির বিরোধে আহত যুবদল নেতার মৃত্যু

কালিহাতী প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নে জমির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইপক্ষের সংঘর্ষে আহত যুবদল নেতা শাহ আলম (৪০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি দুর্গাপুর মধ্যপাড়া গ্রামের আলী আজগরের ছেলে এবং ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি ছিলেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, রামদেবপুর উত্তরপাড়া এলাকার একটি আকাশমনি বাগানের জমি নিয়ে নবা সুতার ও বাদশা মিয়ার পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। গত ১৫ জুন(সোমবার) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে বৃষ্টির পানিতে স্থানীয় নবা সুতারের বাড়ির মাটি ধুয়ে বাদশা মিয়ার জমিতে পড়লে বিষয়টি নিয়ে প্রথমে উভয়পক্ষের মধ্যে বাগ্বিত-া হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে যুবদল নেতা শাহ আলম সহ কয়েকজন আহত হন। পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, সংঘর্ষের পর যুবদল নেতা শাহ আলমকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১৬ জুন) দিবাগত রাত ১টার দিকে তিনি মারা যান। বুধবার (১৭ জুন) সকালে শাহ আলমের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছলে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ(তদন্ত) আব্দুস ছালাম জানান, তার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

১৭ জুন ২০২৬

টায়ার পুড়িয়ে নকল তেল তৈরির কারখানা সিলগালা

টায়ার পুড়িয়ে নকল তেল তৈরির কারখানা সিলগালা

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে গাড়ির টায়ার ও পুরনো বৈদ্যুতিক তার পুড়িয়ে অবৈধভাবে নকল তেল তৈরির একটি কারখানায় সিলগালা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বুধবার (১০ জুন) দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পংকজ শর্মার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত সদর উপজেলার শিবপুর এলাকাস্থ ‘আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ’ নামে ওই অবৈধ কারখানায় অভিযান চালায়। জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ ওই অভিযান চালানোকালে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করার অপরাধে কারখানা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়। পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, সরকারি অনুমোদন ছাড়া শিবপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে লোকচক্ষুর অন্তরালে গাড়ির টায়ার ও পুরনো বৈদ্যুতিক তার পুড়িয়ে ‘আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ’ নামক কারখানায় ক্ষতিকারক নকল তেল তৈরি করা হচ্ছিল। কারখানার কালো ধোঁয়া ও দুর্গন্ধে চারপাশের পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার দুপুরে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পংকজ শর্মার নেতৃত্বাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই এলাকায় অভিযান চালায়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পংকজ শর্মা জানান, গাড়ির টায়ার ও পুরনো বৈদ্যুতিক তার পুড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে কারখানা মালিককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং ‘আনোয়ার এন্টারপ্রাইজ’ নামক কারখানাটি সিলগালা করা হয়েছে। পরিবেশ রক্ষায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে ওঠা এ ধরনের অবৈধ কারখানার বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকালে প্রসিকিউটরের দায়িত্ব পালন করেন, টাঙ্গাইল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক তাপস চন্দ্র পাল। অভিযান চলাকালে পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা এইচএম জিয়াউর রহমান সহ অন্যান্য কর্মচারী এবং জেলা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১০ জুন ২০২৬

ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ইয়াবাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাদকবিরোধী অভিযানে ৩৯০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সাথী আকতার (৩৬) নামে এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। রোববার(৭ জুন) সকালে মির্জাপুর উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের মাঝালিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত সাথী আকতার মাঝালিয়া বাজারের মুদি দোকানদার বাদল মিয়ার স্ত্রী। জানা যায়, টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গোপণে খবর পেয়ে মাঝালিয়া বাজারে অভিযান চালায়। অভিযান চলাকালে বাজারের একটি মুদি দোকানে তল্লাশি করে ওই দোকান ঘর থেকে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা ৩৯০ পিস অবৈধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার ও জব্দ করা হয়। টাঙ্গাইল জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মো. সাইফুর রহমান জানান, জব্দ আলামতসহ গ্রেপ্তারকৃত সাথী আকতারের বিরুদ্ধে মির্জাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

০৭ জুন ২০২৬

যমুনায় বালুখেকোর থাবা :: এক লাখ টাকা জরিমানা

যমুনায় বালুখেকোর থাবা :: এক লাখ টাকা জরিমানা

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনা নদীর টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর অংশে অবৈধ ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলনের দায়ে মো. হানিফ আলী নামে এক ড্রেজার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। টাকা অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের অধীনে তাকে ওই জরিমানা করা হয়। দণ্ডপ্রাপ্ত হানিফ আলী একই উপজেলার নিকরাইল ইউনিয়নের সারপলশিয়া গ্রামের সোহরাব আলীর ছেলে। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের খানুরবাড়ী এলাকার নদী ঘাটে শনিবার (৬ জুন) দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসানের নেতৃত্বাধঅন ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই অভিযান চালায়। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান জানান, সরকারি নিয়ম অমান্য করে এক শ্রেণির অসাধু বালু ব্যবসায়ী প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে গোপনে যমুনা নদীতে অবৈধ ও অননুমোদিতভাবে ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করছিল। ভূঞাপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যদের সহযোগিতায় তাদেরকে আটক করা হয়। পরে তারা দোষ স্বীকার করায় বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইনের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ড্রেজার মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এসময় ভূঞাপুর থানা পুলিশ ও ভূঞাপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

০৬ জুন ২০২৬

১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দুই গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর

১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে দুই গ্রামে দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ-ভাংচুর

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার পাশাপাশি দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার(৪ জুন) সন্ধ্যায় টানা চার ঘণ্টার সংঘর্ষে একজন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রশাসন ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে। প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে শুক্রবারও (৫ জুন) দফায় দফায় সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় ১ জন নিহত ও উভয় গ্রামের অন্তত ৩০জন আহত হয়েছে। এ সময় ১৬টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, গরু-বাছুর, গোলার ধান ও গৃহস্থালী সামগ্রী লুটপাটেরও ঘটনা ঘটে। বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের নলিন বাজারে হামলা চালিয়ে শতাধিক দোকানপাট ভাংচুর ও লুট করা হয়। এতে পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে গত ২২ এপ্রিল গোপালপুর উপজেলার গুলিপেঁচা ও ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার বিকালে দুই পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। টানা চার ঘণ্টার সংঘর্ষে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। এ সময় অন্তত ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকায় দণ্ড বিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এদিকে, শুক্রবার সকালে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্তত পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো হয়। এতে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। সংঘর্ষ আশপাশের এলাকাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা। স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করে জানায়, বৃহস্পতিবার থেকে গোপালপুর ও ভূঞাপুর উপজেলার দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। এতে একজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছে। গোপালপুর অংশে বৃহস্পতিবার রাতে মাইকিং করে অস্ত্র নিয়ে সমবেত হওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে গোপালপুরের নলীন ও ভূঞাপুরের জগৎপুরা এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। এর মধ্যেই শুক্রবার সকালে দুই এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। জগৎপুরার কয়েকটি বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে দুই গ্রামের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন সংঘর্ষের প্রভাব অন্যান্য এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গোপালপুর অংশের লোকজন বৃহস্পতিবার রাতে মাইকিং করে ‘শুক্রবার যার কাছে যে অস্ত্র আছে, তা নিয়ে নলিন বাজারে উপস্থিত হওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়’। এর জেরে রাতেই ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে এই আদেশ কার্যকর থাকবে আর বলবৎ থাকবে পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত। গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শামছুল আলম জানান, মাস খানেক আগে গোপালপুর উপজেলার গুলিপেচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দোকানে বাকি চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওই দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে সংঘর্ষে ২৮-৩০জন আহত হয়। এতে অর্জুনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি নিয়ামত আলী খান আহত হন। পরে জগৎপুরাবাসিরা গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায়। এর প্রতিশোধ হিসাবে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর জগৎপুরা গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ লাঠিসোটা ও রামদা নিয়ে গুলিপেচা গ্রামে হামলা চালায়। তারা ১১টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। গরু-বাছুরসহ সব কিছু লুট করে নিয়ে যায়। হামলায় নারী শিশুসহ অনেকেই আহত হয়। এর মধ্যে হেমনগর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের অবস্থা গুরুতর। অপরদিকে জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দা এবং নলিন বাজারের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এদিন রাত ৮টার পর হেমনগর ইউনিয়নের শাখারিয়া গ্রামের কয়েকশ’ মানুষ নলিন বাজারে হামলা চালায়। তারা বেছে বেছে জগৎপুরা গ্রামের ব্যবসায়ীদের দোকানপাট ভাংচুর ও লুট করে। এতে প্রায় তিন কোটি টাকার পণ্য লুট হয়। এদিন গভীর রাত পর্যন্ত উভয় পক্ষ রণপ্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে হামলার জন্য অপেক্ষা করছে এমন অভিযোগে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই গ্রামের সংঘর্ষে ভূঞাপুরের অর্জুনা ইউনিয়নের জগৎপুরা গ্রামের হাবিবুর রহমান তালুকদারের ছেলে কালাম তালুকদার(৬৫) নিহত হয়েছেন। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, হাসপাতালে পৌঁছার আগেই কালাম তালুকদার মারা গেছেন। ভূঞাপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিমুজ্জামান সেলু জানান, দুই গ্রামের মধ্যে চলমান বিরোধটি মূলত একটি ব্যক্তিগত তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে। কয়েক মাস আগে একটি দোকানে বাকির টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত। পরে বিভিন্ন সময় বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। হঠাৎ আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহবুব হাসান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হচ্ছে। এছাড়া তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন। টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মো. সামসুল আলম সরকার জানান, বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে গোপালপুরের নলীন বাজার, গুলিপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা এলাকায় বিপুল পরিমান পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দুই উপজেলায় এখন থমথমে পরিস্থিতি ও চাপা উত্তেজনা রয়েছে। যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে।

০৫ জুন ২০২৬

নিখোঁজ যুবদল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার : গ্রেপ্তার ৫

নিখোঁজ যুবদল কর্মীর মরদেহ উদ্ধার : গ্রেপ্তার ৫

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে নিখোঁজের চারদিন পর যুবদল কর্মী মিন্টু খানের(৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) গভীর রাতে ঘাটাইল উপজেলার কাউন্টার বিল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত যুবদল কর্মী আমুয়াবাইদ গ্রামের মজিদ মাস্টারের ছেলে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানায়, মিন্টু গত রোববার(৩১ মে) সকালে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান পাননি৷ পরে বুধবার গভীর রাতে বিলের মধ্যে মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়৷ ঘাটাইল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোকছেদুর রহমান জানান, বুধবার গভীর রাতে অর্ধগলিত অবস্থায় মিন্টু খানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

০৪ জুন ২০২৬

যমুনায় ডাকাতির ষড়যন্ত্রের ছক নস্যাৎ

যমুনায় ডাকাতির ষড়যন্ত্রের ছক নস্যাৎ

ইমরুল হাসান বাবু: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার কুকাদাইর এলাকায় যমুনা নদীতে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একদল ডাকাত। ষড়যন্ত্রের ছক কষতেই চোখে পরে জনতার। স্থানীয় জনতা নৌকাসহ ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে আটক করে থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে। বুধবার (৩ জুন) ভোরে উপজেলার কুকাদাইর এলাকার যমুনা নদী সংলগ্ন কালা সড়কের কাছ থেকে তাদের আটক করা হয়। আটককৃতরা হচ্ছেন- গাজীপুর জেলার আ. রশিদের ছেলে মো. রুবেল(৩৯), একই এলাকার মৃত কালু মিয়ার ছেলে মো. ইব্রাহীম(২১), মৃত আব্দুল মালেকের ছেলে মো. ছাত্তার(৩০), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ধরেরবাড়ী গ্রামের আদম আলীর ছেলে হুমায়ুন(৩৫) এবং ভূঞাপুর উপজেলার মেঘারপটল গ্রামের আমিনুল ইসলামের ছেলে মো. মিলন(২৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এদিন ভোরে যমুনা নদীতে একটি নৌকার চলাফেরা ও গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাদের আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তারা একটি ডাকাত দলের সদস্য বলে প্রতীয়মান হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়দের ধারণা, এসব অস্ত্র ব্যবহার করে তারা নদীপথে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে খবর দিয়ে তাদেরকে ভূঞাপুর থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। ভূঞাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ সাব্বির রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে আটক ব্যক্তিরা একটি ডাকাত দলের সদস্য বলে জানাগেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কালিহাতী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, বুধবার ভোরে যমুনার কুকাদাইর এলাকায় পাঁচজন ব্যক্তির সন্দেহজনক গতিবিধি দেখে স্থানীয়রা তাদের আটক করে। পরে পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

০৩ জুন ২০২৬

এলাকাবাসী মরদেহের ময়নাতদন্ত চায়!

এলাকাবাসী মরদেহের ময়নাতদন্ত চায়!

ইমরুল হাসান বাবু: টাঙ্গাইল শহরের দক্ষিণ থানাপাড়ায় এলাকায় সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাবকাবাসীর অভিযোগ, পরিবারের কয়েক সদস্য দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের কারণে ওই বৃদ্ধর মৃত্যু হয়েছে। তাদের দাবি, ওই বৃদ্ধর মরদেহের ময়নাতদন্ত করলেই প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে। নিহত বৃদ্ধ রতন মিয়া(৭০) দক্ষিণ থানাপাড়া এলাকার মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। তিনি একজন মুদি দোকানদার ছিলেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নিজ দোকানে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয় একাধিক সূত্র ও স্বজনদের দাবি, পারিবারিক সম্পত্তি এবং জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে রতন মিয়ার সঙ্গে পরিবারের কয়েকজন সদস্যের বিরোধ চলছিল। নিহতের স্বজন বাবলু ও স্থানীয় বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম বাবুসহ একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ওই বিরোধের জের ধরে সোমবার(১ জুন) রাতে রতন মিয়াকে মারধর করা হয়। অভিযোগে বলা হয়, মঙ্গলবার সকালে দোকানে অবস্থানকালে রতন মিয়ার সঙ্গে তার পুত্রবধূ রোজিনা আক্তার ও নাতনী নদী আক্তারের তর্কবিতর্ক হয়। একপর্যায়ে তারা দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করলে রতন মিয়া আত্মরক্ষার্থে দোকানের ভেতরে আশ্রয় নেন। এ সময় দোকানের মালামালও ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ঘটনার একপর্যায়ে রতন মিয়া অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় পথেই তার মৃত্যু হয়। নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় কয়েক নারী জানায়, বয়সের ভারে ন্যূব্জ থাকা সত্ত্বেও রতন মিয়া নিজেই উপার্জন করে সংসারের ব্যয় নির্বাহ করতেন। সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে তিনি বিভিন্ন সময়ে মানসিক ও শারীরিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। পরিবারের কয়েক সদস্য এরআগেও তাকে মারধর করেন। মারধরের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়েছিল। এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা এ মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে বৃদ্ধের মরদেহের ময়নাতদন্ত করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থাগ্রহণ করা হোক। এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমীন জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করবেন।

০২ জুন ২০২৬

কালিহাতীতে নিখোঁজের দুইদিন পর ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

কালিহাতীতে নিখোঁজের দুইদিন পর ব্যবসায়ীর বস্তাবন্দী মরদেহ উদ্ধার

কালিহাতী প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের সরাগী গ্রামে নিখোঁজের দুইদিন পর তোফাজ্জল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ বিল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকালে বাড়ির পাশের বিল থেকে মরদেহটি পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত তোফাজ্জল হোসেন(৩৬) সরাগী গ্রামের মৃত মোতালেব হোসেনের ছেলে। এর আগে, তোফাজ্জল ছাগলের ভুষি কেনার জন্য রোববার(২৪ মে) রাত ৮ টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেন নি। সারারাত বাড়িতে না ফেরায় তার স্ত্রী ও পরিবারের লোকজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুজি করেও কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন সোমবার (২৫ মে) সকালে তোফাজ্জলের ব্যবসায়ীক অংশীদার একই গ্রামের ফারুক হোসেন তার(তোফাজ্জলের) বাড়িতে গিয়ে জানায় পুকুর পাড়ে তোফাজ্জলের লাইট, মোবাইল, ভুষি ও রক্ত পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দিনব্যপী সরাগী গ্রামের তিনটি পুকুরসহ আশেপাশের জলাশয়ে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি। পরে মঙ্গলবার বিকালে সরাগী বিলে তার বস্তাবন্দী মরদেহ ভেসে ওঠে। এ বিষয়ে কালিহাতী থানার এসআই আমিনুল ইসলাম জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহের বাম চোখ, কপালের বাম পাশে ও ঘাড়ের উপরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। মামলা দায়ের পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২৬ মে ২০২৬

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

পরিবহন মালিকদের সমিতি বিএনপির দখলে!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ধনবাড়ী উপজেলায় পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করতে উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান ও পৌর বিএনপির সভাপতি এসএমএ সোবহানের নেতৃত্বে বাস-কোচ-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দখলে নেওয়া হয়েছে! তারা ধানবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও বিনিময় পরিবহনের তিনটি বাসও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির ওই দুই নেতা নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে দলীয় ক্যাডারদের ব্যবহার করে ধনবাড়ী বাসস্ট্যান্ড ও পরিবহন কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন। তারা মালিক সমিতির কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে ব্যক্তি উদ্যোগে একটি পকেট কমিটি গঠন করে পরিবহন খাত পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ২২ জন মালিকের যৌথ মালিকানায় পরিচালিত ‘বিনিময় পরিবহন’ -এর তিনটি বাসও জোরপূর্বক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন উপজেলা ও পৌর বিএরনপির সভাপতিদ্বয়। বর্তমানে ওই বাসগুলোর আয়ের পুরো অর্থ তারা নিজেরা নিচ্ছেন। ফলে প্রকৃত মালিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। কয়েকজন মালিক দাবি করেন, বাস মালিক শামসুল আলম ও লিটনের উপর হামলা চালিয়ে পড়ে তাদের সান্ত্বনাও দেন। পরিবহন পরিচালনায় অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও বাঁধা দিলে তাদের মারধর ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। ফলে তারা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। হামলার শিকার বাস মালিক শামসুল আলম জানান, প্রতিবাদ করায় তার উপর হামলা করা হয়। আবার বিএনপির কয়েক নেতা শান্তনাও দেন। তারা যৌথভাবে বাস কিনেছেন। এখন বাসের আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাব পাচ্ছেন না। সবকিছু জোর করে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ধনবাড়ী উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজিজুর রহমান জানান, তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি কখনো ওই তিন বাস দেখেন নাই এবং জানেনও না। তবে মালিকদের মধ্যে একটা সমস্যা হয়েছিল- সেটা মিমাংসা করার জন্য কয়েকবার উভয়পক্ষকে নোটিশ দিয়ে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো পক্ষই আসেননি।

২০ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

টাঙ্গাইলের মহাসড়কে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু

দৃষ্টি রিপোর্ট: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে সদর উপজেলার ভাতকুড়া এলাকায় বুধবার(২০ মে) সকালে ট্রাক উল্টে চালকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত ট্রাক চালক রাসেল মিয়া(২০) ভূঞাপুর উপজেলার সিরাজকান্দি গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে। পুলিশ জানায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ট্রাকটি যমুনাসেতুমুখী লেনে সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের ভাতকুড়া নামকস্থানে পৌঁছলে চালক ঘুমিয়ে পড়েন। এ সময় ট্রাকটি রাস্তার বিভাজকের(ডিভাইডার) ওপর উঠে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই চালক রাসেলের মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। এ বিষয়ে এলেঙ্গা হাইওয়ে থানার সার্জেন্ট সাজিদুল ইসলাম জানান, মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

২০ মে ২০২৬