স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি

স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি

দৃষ্টি রিপোর্ট: ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন এমপি বলেছেন, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। সরকার জেলা হাসপাতালগুলোকে আরও কার্যকর, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব সেবাকেন্দ্রে পরিণত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। শনিবার(১১ জুলাই) বিকালে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন- হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ব্যবস্থাপনা কমিটির সকল সদস্যের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। চিকিৎসক সংকট, যন্ত্রপাতি, জনবল, টেকনিশিয়ানের অভাব, লিফটসহ অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। টাঙ্গাইল-১(মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ফকির মাহবুব আনাম স্বপন বলেন, জরুরি বিভাগে দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা, রোগীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা এবং হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা- এসব বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। রোগীরা যেন হয়রানির শিকার না হন এবং কাক্সিক্ষত সেবা পান, সে বিষয়ে সবাইকে আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। মন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে। জনগণের আস্থা অর্জনের লক্ষ্যেই আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। জেনারেল হাসপাতালের সহ-সভাপতির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল জেলার পাশাপাশি আশপাশের অঞ্চলের মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি চিকিৎসাকেন্দ্র। তাই চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও মানবিকতার সঙ্গে সেবা নিশ্চিত করতে হবে। সরকার জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে কাজ করছে। জনগণ যেন মানসম্মত ও হয়রানিমুক্ত চিকিৎসাসেবা পায়, সেটিই আমাদের সবার অঙ্গীকার। সভায় রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, চিকিৎসা সরঞ্জামের প্রাপ্যতা, পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এ সময় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক(পদোন্নতিপ্রাপ্ত যুগ্ম-সচিব), পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার সহ ড্যাব এর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগ, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং জেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

১১ জুলাই ২০২৬

হাসপাতালে রোগীবান্ধব উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সভা

হাসপাতালে রোগীবান্ধব উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে সভা

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির এক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকালে হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। সভায় হাসপাতালের সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মানোন্নয়ন, চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকট দূরীকরণ এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিতকরণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান বৃদ্ধি, ওয়ার্ডের পরিবেশ উন্নয়ন, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ এবং অ্যাম্বুলেন্স সেবার আধুনিকায়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনা করা হয়। সভায় অন্যদের মধ্যে আলোচনায় অংশ নেন, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের যুগ্ম-সচিব মো. মুস্তাফিজুর রহমান, জেলা প্রশাসক শরীফা হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মুহাম্মদ মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নূরুল আমিন মিঞা, হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। সভাপতির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলার মানুষ যাতে উন্নত ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পায়, সে লক্ষ্যে আমি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি। হাসপাতালের জনবল সংকট দ্রুত নিরসনের চেষ্টা করা হবে। তবে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান জনবল দিয়েই সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হবে।’ এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। টাঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু আরও বলেন, ‘চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত মানবিক ও দায়িত্বপূর্ণ। মানুষ অসুস্থ হলে সর্বপ্রথম হাসপাতালের শরণাপন্ন হয়। তাই চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সীমিত জনবল থাকলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মানুষের জন্য উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব।’ এ সময় প্রতিমন্ত্রী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

১০ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার(২৮ জুন) সকাল ৯টায় টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সঞ্জয় কুমার মহন্ত, সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু, টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের উপ-পরিচালত ডা. খন্দকার সাদিকুর রহমান সহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। বিপুলসংখ্যক অভিভাবক তাদের শিশুদের নিয়ে ক্যাম্পেইনে অংশ নিয়ে নির্ধারিত বয়সী শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান। সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম জানান, রোববার থেকে জেলায় ৫ লাখ ২৪ হাজার ১৮৮ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে ৬ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী ৫৮ হাজার ৫৩২ জন শিশুকে একটি করে নীল রংয়ের এবং ১ বছর থেকে ৫ বছর পর্যন্ত বয়সী ৪ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫৬ শিশুকে একটি করে লাল রংয়ের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা ও অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং স্বাভাবিক শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা, চিকিৎসক, নার্স এবং সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

২৮ জুন ২০২৬

টাঙ্গাইলে সাংবাদিকের বাবার ইন্তেকাল

টাঙ্গাইলে সাংবাদিকের বাবার ইন্তেকাল

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও দৈনিক আজবেলা পত্রিকার সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন পিন্টুর বাবা আলহাজ আব্দুল হালিম বুধবার (২৪ জুন) রাতে ঢাকার সিএমএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। তিনি স্ত্রী, ৪ কন্যা ও এক ছেলে সহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মরহুম আব্দুল হালিম টাঙ্গাইল পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিপুর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। টাঙ্গাইল পৌরসভার কাজিপুর এলাকার মাদ্রাসা পাড়া গোরস্থান ময়দানে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে মরহুমের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা নামাজে টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, আত্মীয়-স্বজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা নামাজে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এদিকে, আলহাজ আব্দুল হালিমের মৃত্যুতে টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল, সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জল সহ সাংবাদিক মহল এবং বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। তারা মরহুমের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

২৫ জুন ২০২৬

হাসপাতালের উপ-পরিচালককে শোকজ- সব ছুটি বাতিল!

হাসপাতালের উপ-পরিচালককে শোকজ- সব ছুটি বাতিল!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শন করে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও সেবার মান নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে ঢাকা থেকে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে তিনি জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ, বিভিন্ন ওয়ার্ড ও শৌচাগার পরিদর্শন করেন। এ সময় রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে হাসপাতালের সার্বিক সেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওষুধ সরবরাহ ও ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে খোঁজ-খবর নেন। পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালে ৩৩৫ জন চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফের মধ্যে অর্ধশতাধিক কর্মীকে অনুপস্থিত দেখতে পান। তাদের মধ্যে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মো. কামরুল কিবরিয়াকে তাৎক্ষণিকভাবে শোকজের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে আগামি ১৫ থেকে ২০ দিনের জন্য সব ধরনের ছুটি বাতিলের নির্দেশনা দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘কারও যদি এখানে চাকরি করতে ইচ্ছে না হয়- তাহলে অন্য জায়গায় চলে যাবে, অনিয়ম চলবেনা।’ প্রতিমন্ত্রীর আগমনের খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা তাকে ঘিরে ধরেন। তারা হাসপাতালের নানা অনিয়ম, ভোগান্তি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং কাক্সিক্ষত সেবা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেন। এসব অভিযোগ শোনার পর প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এটি প্রায় পরিত্যক্ত ঘোষণার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পরিদর্শনের সময় হাসপাতালের শৌচাগারের নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। পরে হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুসের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা চান এবং হাসপাতালকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঢেলে সাজানোর নির্দেশ দেন। এ সময় দায়িতপ্রাপ্ত আনসার সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। হাসপাতালে কীভাবে মাদকসেবী ও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ঘটছে- সে বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশনা দেন। হাসপাতালের পরিচালকের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘হঠাৎ করে পরিদর্শনে আসার উদ্দেশই ছিল প্রকৃত অবস্থা দেখা। আমরা এটাকে উন্নত করব- জায়গা আছে। কিন্তু ব্যবস্থাপনা ঠিক রাখতে হবে। হাসপাতালে যদি নেশা বা মাদক গ্রহণের পরিবেশ থাকে, তাহলে সেটা আর হাসপাতাল থাকে না। এতে কেউ নিরাপদ নয়, রোগীরাও অনিরাপদ। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’ পরিদর্শন শেষে বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু সাংবাদিকদের বলেন, ‘টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে ঘিরে অনেক অনিয়মের অভিযোগ ছিল। আকস্মিক পরিদর্শনে এসে সেগুলোর সত্যতা পেয়েছি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অনিয়ম দূর করে মানুষের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত করা হবে। যারা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ সময় টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর ডা. এসএম রোকনুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুব হাসান, প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) এইচএম মাহবুব রেজওয়ান সিদ্দিকী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শম্ভু রাম পাল, টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রুহুল আমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

১৭ জুন ২০২৬

মধুপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা র‍্যালি-আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মধুপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা র‍্যালি-আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মধুপুর প্রতিনিধি: ‘নিজ পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করি, ডেঙ্গু মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি’ প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ডেঙ্গু প্রতিরোধে জন সচেতনতা বিষয়ক র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার(৬ জুন) শনিবার মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ক্যাম্পাসে ওই কর্মসূচি পালন করা হয়। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি শুরু হয়ে উপজেলা সদর ও ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ শেষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১০০ শয্যা বিশিষ্ট মধুপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নঈম উদ্দিন, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. উজ্জ্বল বৈরাগী, আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সজীব কান্তি পাল প্রমুখ। কর্মসূচিতে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ও নার্সসহ বিভিন্ন পর্যায়ের লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

০৬ জুন ২০২৬

টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা

টুং-টাং শব্দে চলছে কামারদের ব্যস্ততা

দৃষ্টি রিপোর্ট: কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন কামাররা। লোহা গরম করে পিটিয়ে তৈরি করছেন দা, বটি, ছুরি ও চাপাতি। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে তাদের নিরবচ্ছিন্ন কাজ। আগুনের তাপে লোহা পিটিয়ে তৈরি হচ্ছে কোরবানির প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। বছরের এ সময়টাতেই সবচেয়ে বেশি কাজ ও আয়ের সুযোগ পান তারা। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কামারশালাগুলোতে চলছে দা, বটি ও চাপাতি তৈরির ব্যস্ততা। ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় দিন যত যাচ্ছে, ততই বাড়ছে কাজের চাপ। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের দা, বটি, কুড়াল ও চাপাতি তৈরি করছেন কামাররা। রূপগঞ্জের পূর্বগ্রাম এলাকার কামারশালার মালিক জাকিরুল ইসলাম জানান, গতবারের তুলনায় এবার কাজের চাপ কিছুটা বেশি। তবে অধিকাংশ মানুষ নতুন সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতিও মেরামত করাচ্ছেন। তিনি বলেন, কয়লা ও লোহার দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের তুলনায় এবার পণ্যের দামও কিছুটা বাড়াতে হয়েছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে একটি বড় দা বা বঁটি আকার ও ওজনভেদে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, চাপাতি ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ছুরি ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কামাররা জানায়, সারা বছর কাজ তুলনামূলক কম থাকলেও কোরবানির ঈদকে ঘিরে তাদের কর্মচাঞ্চল্য বেড়ে যায়। তবে কয়লা, লোহা ও শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে উৎপাদন খরচও অনেক বেড়েছে। একটি ছুরি শান দিতে ৫০ থেকে ১৫০ টাকা এবং নতুন দা বা চাপাতি তৈরি করতে আকারভেদে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। ঈদ মৌসুমে বাড়তি আয়ের মাধ্যমে সারা বছরের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন কামারশিল্পের সঙ্গে জড়িত মানুষরা।

২১ মে ২০২৬

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

মাত্র ৫ মিনিটের ব্যায়ামেই মিলতে পারে দীর্ঘায়ু

দৃষ্টি ডেস্ক: ব্যস্ত সকাল, ডেস্কে কাজের পাহাড় কিংবা দিনশেষে ক্লান্ত শরীর- এই চক্করে পড়ে জিমের মেম্বারশিপ কার্ডটা হয়তো অনেকেরই ওয়ালেটেই বন্দি হয়ে আছে। প্রতিদিন এক বা দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরানোর কথা ভাবলেই যেখানে অলসতা জেঁকে বসে, সেখানে চিকিৎসাবিজ্ঞান শোনাল এক দারুণ আশার বাণী। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের ছোটখাটো শারীরিক পরিশ্রমই বদলে দিতে পারে আপনার জীবন। দীর্ঘায়ু বা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি এড়াতে পারেন। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে জিম বা দীর্ঘ সময়ের ভারী ওয়ার্কআউট করা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। তবে নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘায়ু পেতে কিংবা অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিটের মাঝারি ধরনের শারীরিক পরিশ্রমই যথেষ্ট ভূমিকা রাখতে পারে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্ক্যান্ডিনেভিয়ার প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর করা এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট দ্রুত হাঁটা, সাইকেল চালানো বা সিঁড়ি বেয়ে ওঠার মতো মাঝারি ব্যায়াম সামগ্রিকভাবে প্রায় ১০ জনের মধ্যে ১ জনের অকাল মৃত্যু রোধ করতে পারে। গবেষকদের মতে, যারা একেবারেই নিষ্ক্রিয় থাকেন, তাদের জন্য এই সামান্য পরিবর্তনও দারুণ উপকারী। পাশাপাশি দৈনিক বসে থাকার সময় থেকে মাত্র ৩০ মিনিট কমাতে পারলেই প্রায় ৭% শতাংশ অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি কমবে। বিশেষজ্ঞরা একে ‘এক্সারসাইজ স্নাকিং’ বা ‘স্ন্যাকটিভিটি’ বলছেন। অর্থাৎ, সারাদিনে একবারে দীর্ঘ সময় ব্যায়াম না করে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নেওয়া। যেমন- রান্না করার সময় বা টিভি দেখার ফাঁকে কয়েকটি স্কোয়াট বা পুশ-আপ দেওয়া, লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করা, গন্তব্যের কিছুটা দূরে গাড়ি পার্ক করে ৫ মিনিট হেঁটে যাওয়া কিংবা ঘরের মেঝে জোরে জোরে মোছা বা নাচ করা। গবেষকদের মতে, এই ছোট ছোট শারীরিক পরিশ্রমগুলো আমাদের মেটাবলিজম বা বিপাক প্রক্রিয়াকে বারবার উদ্দীপিত করে, যা শরীরচর্চা থামানোর পরও কিছুক্ষণ সচল থাকে। এ ছাড়া, ৬০ ও ৭০ এর কোঠায় থাকা মানুষদের ওপর করা এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যারোবিক ব্যায়ামের সঙ্গে পেশি শক্তিশালী করার ব্যায়াম যুক্ত করলে মৃত্যুর ঝুঁকি আরও কমে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সপ্তাহে ১৫০ মিনিটের ব্যায়ামের পরামর্শ এখনো বহাল থাকলেও, গবেষকরা বলছেন- কিছু না করার চেয়ে প্রতিদিন অন্তত ৫ মিনিট নড়াচড়া করাও স্বাস্থ্যের জন্য অনেক বড় অর্জন। তাই আজ থেকেই ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে জীবনে গতি আনুন, সুস্থ থাকুন দীর্ঘদিন। সূত্র: বিবিসি

২১ মে ২০২৬

নিরাপদ লিচু চেনার উপায়

নিরাপদ লিচু চেনার উপায়

দৃষ্টি ডেস্ক: কখনও রোদ, কখনও বৃষ্টি আর ঝড়-ঝাপ্টার আবহাওয়ার মধ্যে বাজারে এসে গেছে রসালো লিচু। পুষ্টিগুণে ভরা এই লাল টুকটুকে এই ফল দেখলেই জিভে পানি আসে অনেকের। তবে শুধু দেখতে সুন্দর হলেই চলবে না- লিচু নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া অনেক বেশি জরুরি। কারণ অনেক সময় লিচুকে বেশি লাল ও টাটকা দেখাতে ব্যবহার করা হয় কৃত্রিম রং বা ক্ষতিকর কেমিক্যাল। এমনকি অপরিপক্ব লিচুকেও বিভিন্ন রাসায়নিক দিয়ে পাকানো হয়। তাই বাজার থেকে লিচু কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। খোসার রং দেখেই অনেকটা বোঝা যায়- লিচু কেনার সময় প্রথমেই খেয়াল করুন এর খোসার রং। বিভিন্ন জাতের লিচুর রং ভিন্ন হতে পারে- কোনোটি গাঢ় লাল, কোনোটি হালকা কমলা বা বাদামি আভাযুক্ত। তবে ভালো ও পরিপক্ব লিচুর রং সাধারণত স্বাভাবিক ও উজ্জ্বল হয়। অস্বাভাবিক চকচকে বা অতিরিক্ত টকটকে লাল রঙের লিচু দেখলে সতর্ক থাকুন। অনেক সময় ক্রেতাকে আকৃষ্ট করতে এসব লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়। বেশি নরম লিচু এড়িয়ে চলুন- লিচু হাতে নিয়ে হালকা চাপ দিয়ে দেখুন। যদি খুব বেশি নরম লাগে, তাহলে সেটি অতিরিক্ত পাকা বা ভেতর থেকে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভালো লিচু হবে টানটান ও সতেজ। অতিরিক্ত নরম লিচুর ভেতরে অনেক সময় পচা অংশ বা টক গন্ধও থাকতে পারে। গন্ধ বুঝে কিনুন- পাকা লিচুর একটি স্বাভাবিক মিষ্টি ও সতেজ গন্ধ থাকে। নাকের কাছে ধরলেই সেই সুগন্ধ টের পাওয়া যায়। অন্যদিকে কেমিক্যাল দেওয়া বা অপরিপক্ব লিচুতে সাধারণত সেই স্বাভাবিক সুবাস থাকে না। যদি লিচুতে অদ্ভুত বা কড়া গন্ধ পাওয়া যায়, তাহলে সেটি না কেনাই ভালো। কৃত্রিম রং আছে কি না পরীক্ষা করুন- অনেক সময় কাঁচা লিচুকে পাকা দেখাতে এর গায়ে রং ব্যবহার করা হয়। তাই বাসায় এনে লিচু কিছুক্ষণ পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। যদি পানির রং লালচে হয়ে যায় বা হাতে রং লাগে, তাহলে বুঝতে হবে লিচুর গায়ে কৃত্রিম রং ব্যবহার করা হয়েছে। দাগ বা ফাটল আছে কি না দেখুন- ভালো লিচুর খোসা সাধারণত পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। খোসায় বাদামি দাগ, ফাটল বা পচা অংশ থাকলে সেই লিচু এড়িয়ে চলুন। বিশেষ করে ডাঁটির অংশ পচা থাকলে ভেতরেও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে। তাই সম্ভব হলে ডালযুক্ত ও টাটকা লিচু কেনাই ভালো। খোসা সহজে ছাড়ালে বুঝবেন পাকা- লিচুর খোসা ছাড়িয়েও এর মান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। পাকা ও মিষ্টি লিচুর খোসা সাধারণত সহজেই খুলে আসে। যদি খোসা শক্তভাবে আটকে থাকে বা ভেতরে বাদামি দাগ দেখা যায়, তাহলে সেটি ভালো নাও হতে পারে। কেনার পর যা করবেন- বাজার থেকে লিচু এনে সরাসরি না খেয়ে আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিন। চাইলে ঘণ্টাখানেক পরিষ্কার পানিতে ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ময়লা বা কৃত্রিম রঙের কিছু অংশ দূর হতে পারে। সতর্কভাবে লিচু কিনলে গরমের এই জনপ্রিয় ফল খাওয়ার আনন্দ যেমন বাড়বে, তেমনই স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব।

২০ মে ২০২৬

হামে আক্রান্ত শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পুশ!

হামে আক্রান্ত শিশুকে জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন পুশ!

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক মাস বয়সী ফাতিহা নামে এক শিশুকে নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন(র‌্যাবিক্স) পুশ(প্রয়োগ) করার অভিযোগ উঠেছে। ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শিশুটির পরিবার। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে শিশুটির পরিবারকে চাপ দিচ্ছে। জানা যায়, ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বুধবার(১৩ মে) দুপুর ১২ টার দিকে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম হামে আক্রান্ত ওই শিশুকে ভ্যাকসিন প্রয়োগ করেন। যদিও ভ্যাকসিনটি স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরুর পুশ(প্রয়োগ) করার নিয়ম। অজ্ঞাত কারণে তাকে দিয়ে পুশ না করিয়ে পিআরএলে থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে এনে ভ্যাকসিন পুশ(প্রয়োগ) করার নির্দেশনা দেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ। একমাস বয়সী শিশু ফাতিহার মা মৌ আক্তার জানান, তিনি হামে আক্রান্ত শিশু ফাতিহাকে নিয়ে নিয়মিত টিকা দিতে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে নিয়মিত ভ্যাকসিন বা টিকা দিয়ে থাকেন হাসপাতালের স্বাস্থ্য পরিদর্শক নুরুল ইসলাম নুরু। কিন্তু তিনি উপস্থিত না থাকায় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ পিআরএল-এ(অবসর জনিত ছুটি) থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুমকে ডেকে আনেন। তিনি আরও জানান, হামের ভ্যাকসিন বা টিকা দেওয়ার প্রতিবাদ করলে মোহাম্মদ কাইয়ুম তাদের সাথে রূঢ় আচরণ করেন। নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন(র‌্যাবিক্স) পুশ করায় শিশুটি ক্রমেই নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাফলতিকে দায়ি করে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে পিআরএল-এ(অবসর জনিত ছুটি) থাকা স্বাস্থ্য পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইয়ুম জানান, নিয়মিত টিকার পরিবর্তে জলাতঙ্কের ভ্যাক্সিন (র‌্যাবিক্স) পুশের বিষয়টি ভুল বসত হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। ভূঞাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমান আজাদ নিজের ভুল স্বীকার করে জানান, এটি অসতর্কতামূলক অনাকাঙ্খিত একটি ভুল। আরও সতর্ক হওয়া দরকার ছিল। তবে হামের টিকার বদলে এ ভ্যাকসিন(র‌্যাবিক্স) শিশুর কোনো সমস্যা হবেনা। তারপরও পরিবারের সদস্যদেরকে তিনি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলেছেন। টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. এফএম মাহবুবুল আলম জানান, এক মাস বয়সী একটি শিশুকে ভুল করে অন্য টিকা পুশ করার ঘটনাটি তিনি জানতে পেরে সঙ্গে সঙ্গে শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন। শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছে একমাস বয়সে একটি শিশুকে ভুলবশত যে টিকা দেওয়া হয়েছে তাতে কোন ধরনের ক্ষতির অঅশঙ্কা নেই। তারপরও শিশুটিকে তারা পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিষয়টি তিনি অতিগুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করে সার্বক্ষণিক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাথে যোগাযোগ রাখছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

১৩ মে ২০২৬

চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

চরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে হাসপাতাল গড়ে তোলা হবে :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি রিপোর্ট: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুক এমপি বলছেন, আমরা কাজে বিশ্বাসী। কাজের মধ্য দিয়ে জনগনের আস্থা ও ভালবাসা পুরণ করতে চাই। বিভিন্ন জায়গায় যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছি বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানগুলোতে, ইনশাল্লাহ প্রত্যেকটি প্রতিশ্রুতি নিজে নিজেই চিহ্নিত করে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করছি। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে জেলা পরিষদের হলরুমে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। টঙ্গাইল-৫(সদর) আসনের এমপি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, চরাঞ্চলে মানুষের চিকিৎসার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে একটি হাসপাতাল গড়ে তোলার বিষয়ে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছি। পশ্চিম টাঙ্গাইলে যমুনার নদীর তীর ঘেষা বেশ কিছু ইউনিয়ন রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, টাঙ্গাইলে সবচেয়ে বেশি উন্নয়নে করার চেষ্টা করব। পাঁচ বছর পর যদি উন্নয়নের তালিকা হয় তাহলে টাঙ্গাইল সদর হবে এক নম্বর। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করে দিচ্ছে মাদক। যারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করছেন তাদের সঙ্গে সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ হয়। বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মসজিদ এবং মাদ্রাসাগুলোতে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা মাদক সম্পর্কে কাউন্সেলিং অথবা সচেতনতামূলক কথা বলে যুব সমাজকে সচেতন করতে পারেন। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসিরের সভাপতিত্বে সদর উপজেলার বিভিন্ন প্রকল্পের ওই চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা শামসুন্নাহার স্বপ্না, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন প্রকল্পের প্রায় ৪০ লাখ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

১২ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন

টাঙ্গাইলে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইল শহরের বটতলাস্থ প্রিমিওপ্লাজায় প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যারয় উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার(১১ মে) দুপুরে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির প্রধান অতিথি হিসেবে ফিতা কেটে ওই উদ্বোধন ঘোষণা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অঅবু জুবায়ের উজ্জলের সঞ্চালনায় বিশিষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(শিক্ষা ও আইসিটি) লায়লা আরজুমান্দ বানু, সহকারী পুলিশ সুপার(সদর সার্কেল) মাহবুব রেজুয়ান সিদ্দিক। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক জেড আই খান, কবি ও সাংবাদিক মাহমুদ কামাল, প্রবীণ সাংবাদিক বিমান বিহারী দাস, ওয়াহেদুজ্জামান মতি, টাঙ্গাইল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও দৈনিক দিনকালের প্রতিনিধি শামসাদুল আখতার শামীম, সাধারণ সম্পাদক দৈনিক আমারদেশের প্রতিনিধি মহব্বত হোসেন, টাঙ্গাইল রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও প্রথমআলোর প্রতিনিধি কামনাশীষ শেখর, সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক জনকণ্ঠের প্রতিনিধি ইফতেখারুল অনুপম, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি আব্দুর রহীম, সিএনএন এর প্রতিনিধি আফজাল হোসেন প্রমুখ। সভা শেষে প্রধান অতিথি জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এসএম ওবায়দুল হক নাসির ফিতা কেটে প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের কার্যালয় উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানটি বিভিন্ন মিডিয়ার শতাধিক নবীন-প্রবীণ গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে এক মিলন মেলায় পরিণত হয়।

১১ মে ২০২৬

তামাক পণ্যের কর ও বর্ধিত মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

তামাক পণ্যের কর ও বর্ধিত মূল্যের দাবিতে মানববন্ধন

দৃষ্টি নিউজ: আগামি অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে তামাক পণ্যের উপর কর বৃদ্ধি ও বর্ধিত মূল্য নির্ধারণের দাবিতে টাঙ্গাইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। সোমবার (৪ মে) দুপুরে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সামনে ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দি রুরাল পূয়র (ডরপ) এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে সচেতন নাগরিক ও বিড়ি শ্রমিকরা অংশগ্রহণ করে। মানববন্ধন চলাকালে বক্তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারের হার উদ্বেগজনক, সর্বোচ্চ ৩৫.৩শতাংশ। তামাকজনিত রোগের প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের অকালমৃত্যু ঘটেছে- যা একটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য সংকট নির্দেশ করে। তাছাড়া ২০২৪ সালে তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা- যা এই খাত থেকে অর্জিত আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। এই ক্ষতি কমাতে, তামাক খাতকে শুধু রাজস্ব আয়ের দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে, কার্যকর কর আরোপের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। ওই মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নেন, ডরপ-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জেবা আফরোজা, অ্যাডভোকেসি কো অর্ডিনেটর শিলভানা আক্তার, টাঙ্গাইল আঞ্চলিক বিড়ি শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি নাজমুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম মিয়া, সদস্য জয়নব বিবি, সাংবাদিক বোরহান তালুকদার প্রমুখ।

০৪ মে ২০২৬

টাঙ্গাইলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

টাঙ্গাইলে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

দৃষ্টি নিউজ: টাঙ্গাইলে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালন করা হয়েছে। রোববার (৩ মে) দুপুরে শহরের বটতলায় প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। টাঙ্গাইল প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আবু জুবায়ের উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করা হয়। সভায় বক্তব্য রাখেন, প্রিণ্ট মিডিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি রঞ্জন কৃষ্ণ পন্ডিত, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, কার্যনির্বাহী সদস্য ও ডেইলি অবজারভারের সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন লিংকন, কার্যনির্বাহী সদস্য আনোয়ার হোসেন নয়ন, রুহুল আমীন এবং আবু কাওছার প্রমুখ। বক্তারা বলেন, মুক্ত ও স্বাধীন সাংবাদিকতা গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে সমাজ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে সাংবাদিকদের আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা। সভায় সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

০৩ মে ২০২৬

সাংবাদিকতায় আজীবন সম্মাননা পেলেন শফিক রেহমান

সাংবাদিকতায় আজীবন সম্মাননা পেলেন শফিক রেহমান

দৃষ্টি রিপোর্ট: বিশিষ্ট সাংবাদিক যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেছেন, বাংলাদেশে যেন সহিংসতা না থাকে। মানুষ যেন একে অপরকে ভালোবাসে। সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে দেশে বসবাস করতে পারে। সাংবাদিকরা এ জন্য তাদের লেখনীর মাধ্যমে জনসাধারণকে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে এবিএম মূসা-সেতারা মূসা ফাউন্ডেশনের দেয়া আজীবন সম্মাননা গ্রহণ করে শফিক রেহমান এই মন্তব্য করেন। খ্যাতিমান সাংবাদিক ও কলামিস্ট এবিএম মূসার ৯৪তম ও তার স্ত্রী নারী সাংবাদিকতার অন্যতম অগ্রদূত সেতারা মূসার ৮৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এই আজীবন সম্মাননা প্রদান ও স্মারক বক্তৃতা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। স্মারক বক্তব্য দিয়েছেন দি নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক হাসান হাফিজ। সঞ্চালনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস। অনুষ্ঠানের শুরুতে নজরুল সংগীত ‘আমার আপনার চেয়ে আপন’ পরিবেশন করেন শিল্পী মৃদুলা সমাদ্দার। এরপর সাংবাদিক শফিক রেহমানের জীবনী পাঠ করেন অহনা শেখ। শফিক রেহমানকে লাল গোলাপ দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। এরপর তাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন মূসা দম্পতির বড় মেয়ে ও ফাউন্ডেশনের সভাপতি মরিয়ম সুলতানা মূসা। সম্মাননা স্মারক তুলে দেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী সদস্য ও তাদের ছোট মেয়ে ঢাকা ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শারমিন মূসা। পরে এবিএম মূসা ও সেতারা মূসার জীবনী পাঠ করা হয়। সম্মাননা প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে শফিক রেহমান বলেন, ‘এবিএম মূসার সঙ্গে আমার একটা গভীর সম্পর্ক ছিল। তাকে সবাই এবিএম মূসা নামে চিনলেও তার আসল নাম আবু বকর মুস্তফা, তা অনেকের অজানা। তিনি পাকিস্তান অবজারভারে কাজ করার সময় অত্যন্ত সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। তার সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত অনেক স্মৃতি আছে।’ এবিএম মূসার সঙ্গে তার শেষ দিনগুলোর স্মৃতিচারণা করে শফিক রেহমান বলেন, ‘তিনি শেষ পর্যন্ত সাংবাদিক হিসেবেই শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেছেন। তিনি মৃত্যুর আগে আমাকে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের স্বপ্ন দেখেছিলেন, কিন্তু তা হয়তো আর হবে না।’ তিনি বলেন, “হসপিটালে তার শেষ দিনগুলোতে আমি দেখেছি তিনি একা ছিলেন। কারণ, একজন যখন সাহসী হন, তখন তিনি মাঝে মধ্যে একা হয়ে যান। ইদানীং একটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় যে ‘সাহস আগে নাকি সত্য আগে’। আমি মনে করি, সাহস আগে, সত্য পরে। যেমন আবু সাঈদ যদি সাহস দেখিয়ে না দাড়াত, তবে সত্য আজ পরিচিত হতো না।” যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান বলেন, ‘সাংবাদিকদের জীবনে অনেক ক্রান্তিকাল আসে। কিন্তু সাংবাদিকদের সাহসী হতে হবে। আর নির্ভীকভাবে সত্য প্রকাশ করার জন্য সাংবাদিকদের বিকল্প আর্থিক আয়ের ব্যবস্থা থাকতে হবে।’ নিজের দৃষ্টান্ত দিয়ে তিনি বলেন, জীবনের শুরুতেই তিনি এই বিষয়টি উপলব্ধি করতে পেরেছিলেন। বিকল্প ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন বলেই নির্ভীকভাবে সত্য কথা লিখতে পেরেছেন।’ বাংলাদেশে ‘ভালোবাসা দিবস’র প্রবর্তক শফিক রেহমান বলেন, ‘ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। ভালোবাসা থাকলে সহিংসতা থাকবে না।’ তিনি যায়যায়দিন পত্রিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার হাত থেকে ১৮ বছর আগে যা কেড়ে নেয়া হয়েছিল, তা হয়তো ভবিষ্যতে অন্য কেউ কেড়ে নিতে পারে। কিন্তু ভালোবাসার দিন আর কেউ কেড়ে নিতে পারে না। ভালোবাসার মধ্য দিয়ে যদি আমরা সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে না পারি, তবে এই শহরে অনেক হানাহানি হবে। আমি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলব, আপনাদের লেখায় যেন ভালোবাসা ও সহযোগিতার বাণী ফুটে ওঠে।’ শফিক রেহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া আমাকে একুশে পদক দিতে চেয়েছিলেন, কিন্তু আমি তা গ্রহণ করিনি। কারণ, আমি চাইনি আমার সাংবাদিক সত্ত্বার ওপর কোনো দলীয় তকমা লাগুক। দীর্ঘ ২৪ বছর পর অন্তর্র্বর্তী সরকারের সময় এই পদকটি আমি পেয়েছি এবং সেটি আমি কোনো দলীয়ভাবে নিইনি বলে আমার নিরপেক্ষতা রক্ষিত হয়েছে।’ অনুষ্ঠানে ‘জনমুক্তি প্রয়াসী লড়াকু সাংবাদিকতা : বাংলাদেশের সমাজ ও রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রসঙ্গে’ শীর্ষক দীর্ঘ স্মারক বক্তব্য দেন নূরুল কবীর। তিনি বলেন, এবিএম মূসা এ দেশের রাজনীতি-সচেতন সাংবাদিকতার অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব। কোনো রাষ্ট্র যখন তার নির্দিষ্ট কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্যনীতি চর্চা করে, তখন সেই সমাজের সব পরিসরে তার ছায়া ও প্রভাব পড়তে বাধ্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতা-পূর্বকালে, পাকিস্তানি রাষ্ট্র ও তার পশ্চিম ভিত্তিক শাসক শ্রেণি বাঙালি জনগণের বিরুদ্ধে বৈষম্য নীতি গ্রহণ ও চর্চা করেছে। এবিএম মূসা এই বিষয়টি লক্ষ করেছেন এবং সক্রিয় প্রতিবাদ জ্ঞাপন করেছেন। বিভিন্ন পরিসরে এই সব ছোট-বড় প্রতিবাদ সমন্বিত রূপ ধারণ করেই বাংলাদেশের বৈষম্য বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল। নূরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতা মোটেও কোনো রাজনীতি-নিরপেক্ষ নিরীহ পেশা নয়। এবিএম মূসা রাজনীতি-সচেতন ছিলেন, এমনকি নির্দিষ্ট দলীয় আনুগত্যও তার ছিল। তবে সাংবাদিকতা চর্চার পরিসরে তিনি কখনই দলান্ধ ছিলেন না। রাজনৈতিক সাংবাদিকতা ছাড়াও সাংবাদিকতার নানা পরিসরে এবিএম মূসার অবদান অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন শফিক রেহমানের স্ত্রী ও ডেমক্রেসি ওয়াচের নির্বাহী পরিচালক তালেয়া রেহমান। আরো বক্তব্য দেন কবি ও সাংবাদিক সোহরাব হাসান, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান অধ্যাপক অলিউর রহমান, ধন্যবাদ জানান ফাউন্ডেশনের কোষাধ্যক্ষ আফতাব উদ্দিন। সূত্র: যায়যায়দিন

০৩ মে ২০২৬

টাঙ্গাইল মেডিকেলে মাথায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে রোগীর মৃত্যু

টাঙ্গাইল মেডিকেলে মাথায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে রোগীর মৃত্যু

দৃষ্টি নিউজ: টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে মিজানুর রহমান(৬৫) নামে এক রোগীর মাথায় অক্সিজেন সিলিন্ডার পড়ে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার(৩০ এপ্রিল) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিফটে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মিজানুর রহমান মগড়া ইউনিয়নের নন্দবালা গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ডায়াবেটিসজনিত সমস্যার চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, হাসপাতলের ৯ম তলায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। অক্সিজেনের সিলিন্ডারটি তার বেডের কিনারায় ঝুঁলিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় নিচতলা থেকে লিফট ৯ম তলায় পৌঁছলে রোগী ও স্বজনরা বের হয়ে যাওয়ার সময় অরক্ষিত অক্সিজেন সিলিন্ডারের সঙ্গে ধাক্কা ধাক্কা লাগে। এতে অক্সিজেন সিলিন্ডারটি রোগী মিজানুরের মাথায় পড়ে তিনি গুরুতর অঅহত হন। পরে দ্রুত তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। নিহতের স্বজনরা অভিযোগ করেন, হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা ও অনিরাপত্তার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এবং হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক সহকারী রেজিস্টার (মেডিসিন) ডা. বুলবুল আহমেদ জানান, রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এটি একটি দুর্ঘটনা। চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা ছিল না। লিফটে নেওয়ার সময় অনাকাক্সিক্ষতভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। এ বিষয়ে টাঙ্গাইলের সিভিল সার্জন ডা. ফরাজী মো. মাহবুবুল আলম মঞ্জু জানান, ঘটনাটি যেভাবে ঘটেছে এটি সম্পূর্ণ অব্যবস্থাপনা। তারপরও এ বিষয়টি নিয়ে আমরা একটি তদন্ত কমিটি করব। তদন্ত কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

৩০ এপ্রিল ২০২৬

বিগত সরকার হামের টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

বিগত সরকার হামের টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল :: প্রতিমন্ত্রী টুকু

দৃষ্টি নিউজ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, বিগত সরকার হামের টিকা নিয়ে অবহেলা করেছিল এবং সঠিক সময়ে টিকা আনার ব্যবস্থা করেনি। সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় বর্তমান সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্টরা এই টিকার ব্যবস্থা করেছেন। এ জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বিগত সরকারের দায়িত্বহীনতার কারণে জনগণ ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল। এ ধরনের অবহেলার জন্য তিনি তাদের নিন্দা জানান। তবে বর্তমান সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে সারা দেশে হামের টিকা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া মানুষের জীবনে স্বাস্থ্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাই সবাইকে সচেতন হয়ে স্বাস্থ্যের বিষয়ে কোনো ধরনের অবহেলা না করার পাশাপাশি, আগামি দিনে স্বাস্থ্য সচেতনতা আরো বাড়াতে সকলের প্রতি আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। এসময় জেলা প্রশাসক শরীফা হক, সিভিল সার্জন ডা. এএফএম মাহবুবুল আলম মঞ্জু, পুলিশ সুপার শামসুল আলম সরকার, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহীন মিয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। প্রসঙ্গত, টাঙ্গাইলের ৩৯০টি ওয়ার্ডে হাম-রুবেলার টিকা পাবে তিন লাখ ৮৭ হাজার ৩৬৯ জন শিশু। সোমবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তিন হাজার ১২০টি কেন্দ্রে এই টিকা দেয়া হয়। এ কার্যক্রম আগামি ১০ মে পর্যন্ত চলবে।

২০ এপ্রিল ২০২৬

নববর্ষের জনসমাগমে হাম ছড়ানোর তীব্র ঝুঁকি

নববর্ষের জনসমাগমে হাম ছড়ানোর তীব্র ঝুঁকি

দৃষ্টি রিপোর্ট: বর্তমান সময়ে বাংলাদেশে ভয়াবহ মাত্রায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। দেশজুড়ে নববর্ষের বৈশাখী উৎসব এই পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সচেতনতা বাড়ানো এবং সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। চিকিৎসকরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক (ছোঁয়াচে) একটি রোগ। শরীরে র্যাশ ওঠার আগে ও পরে মিলিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৯ দিন একজন আক্রান্ত রোগী অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। হামে আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস, হাঁচি ও কাশির মাধ্যমে বাতাসে সহজেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়ে। হাম ‘মিজেলস’ নামের অতি-সংক্রামক ভাইরাস দ্বারা শরীরে সংক্রমিত হয়। এতে আক্রান্ত হলে জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া এবং জ্বরের চার দিন পর মুখ ও শরীরে লালচে র্যাশ দেখা দেয়। মিজেলস ভাইরাস শ্বাসনালীর মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে দুর্বল করে দেয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহজনক মোট হাম রোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৬৫৩ জন। একই সময়ে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২ হাজার ৬৩৯ জন। এই সময়ে নিশ্চিত হামে ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১৫১ জনের। ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১০ হাজার ২২৫ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ৭ হাজার ৬৫৬ জন। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গে এক মাসেরও কম সময়ে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১৮ হাজারের বেশি এবং মৃত্যু হয়েছে ১৮৯ জনের। যদিও জনস্বাস্থ্যবিদ ও সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকৃত আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। দেশে অল্প সময়ে এত বেশি মানুষের হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা অত্যন্ত অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যেই মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) উদযাপিত হবে বাংলা বর্ষবরণের উৎসব। এই উৎসবের বিভিন্ন আয়োজন ও ব্যাপক জনসমাগম হামের সংক্রমণ ঝুঁকি আরও বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। পহেলা বৈশাখে হামের সংক্রমণ ঝুঁকি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, যেখানে বেশি লোকসমাগম হয়, সেখানে কোনো শিশু বা ব্যক্তি হামে আক্রান্ত অবস্থায় গেলে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা খুব বেশি থাকে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১৬ থেকে ১৮ জনকে সংক্রমিত করতে পারে। সতর্কতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যাদের শরীরে জ্বর, ঠান্ডা, নাক দিয়ে পানি পড়া, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ রয়েছে, তারা যেন পহেলা বৈশাখের উৎসবে বাইরে না যান। এছাড়া এসব উপসর্গে আক্রান্ত ব্যক্তিদের যারা ঘনিষ্ঠভাবে সেবা দেন, তারাও যেন বাইরে না আসেন। যেসব শিশুর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা রয়েছে বা আশপাশে হাম আক্রান্ত শিশু আছে, তারা যেন মাস্ক পরে বাইরে যায়। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, অসুস্থ বা হামে আক্রান্ত শিশুদের কোনোভাবেই বাইরে মেলা বা জনসমাগমে নেওয়া উচিত নয়। বৈশাখের অনুষ্ঠানে প্রচুর ভিড় হয়, যেখানে সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। শিশুরা একা বের হয় না, তাদের সঙ্গে মা বা পরিবারের সদস্য থাকে, তাদেরও ভিড় এড়িয়ে চলা উচিত এবং সম্ভব হলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত। পাঁচ বছরের আগে মাস্ক পরানো যাবে না। হাসপাতালে থাকলে ভিন্ন কথা। তাই শিশুদের ভিড় থেকে দূরে রাখাই সবচেয়ে ভালো। পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে হামের ঝুঁকি প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, বাসায় কোনো শিশুর জ্বর বা শরীরে লালচে দাগ থাকলে সেটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। এমন শিশুদের কোনোভাবেই মেলা বা ভিড়ের মধ্যে নেওয়া যাবে না। তাদের আলাদা রাখতে হবে, যাতে অন্য শিশুদের সংস্পর্শে না আসে। তিনি আরও বলেন, হামের লক্ষণ প্রকাশের আগে ৩-৪ দিন জ্বর থাকতে পারে, তখন রোগটি বোঝা যায় না। এই সময়েও শিশুদের বাইরে নেওয়া বা অন্যদের সঙ্গে মেশানো উচিত নয়। এই পর্যায়েও সংক্রমণ ছড়াতে পারে। বৈশাখের মতো বড় জনসমাগমে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, তাই এ বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, দেশে বর্তমানে হামের যে উচ্চ প্রাদুর্ভাব চলছে, পহেলা বৈশাখের মতো বড় উৎসবে ব্যাপক জনসমাগম সেই ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে বায়ুবাহিত রোগ। তাই উৎসবের আনন্দ যেন কোনো পরিবারের জন্য বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য ব্যক্তিগত ও সামাজিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

১৩ এপ্রিল ২০২৬

শিশু সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র বিতরণ

শিশু সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ শেষে সনদপত্র বিতরণ

দৃষ্টি নিউজ: দেশের জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের দুই দিনব্যাপী শিশু সাংবাদিকদের কর্মশালা সমাপ্ত হয়েছে। রোববার(১২ এপ্রিল) টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব অডিটোরিয়ামে বিশ্বের প্রথম বাংলা সাইড ‘হ্যালো ডট বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে’র উদ্যোগে আয়োজিত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী শিশু সাংবাদিকদের মাঝে ওই সনদপত্র বিতরণ করা হয়। এর আগে শনিবার(১১ এপ্রিল) সকালে মাধ্যমিকের ২০ জন শিক্ষার্থীর অংশ গ্রহণে কর্মশালা শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম ওবায়দুল হক নাসির। বিশেষ অতিথি ছিলেন, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি জাফর আহমেদ, জেলা কৃষক দলের সভাপতি দিপু হায়দার, বিডিনিউজের সিনিয়র সাংবাদিক আফরিন মিম। দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের দায়িত্বপালন এবং সনদপত্র বিতরণী অনুষ্ঠানের সঞ্চালনায় ছিলেন, বিডিনিউজের জেলা প্রতিনিধি মো. তোফাজ্জল হোসেন। কর্মশালায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা হচ্ছে- শিমরোজ হাসান শিহাদ, সায়ক হোসেন সম্রাট, তৌহিদ আরমান, ফাহাদ, সাজেদুল ইসলাম, আবির ঘোষ, মেহেরাব রিয়ন, শেখ ফরিদ, মো আবির মিয়া, মাইশা আক্তার, আয়শা আক্তার, চৈতি ঘোষ, সুমাইয়া, মাসিরা সিদ্দিক তানহা, রুবাইয়াত তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, তানজিলা ইমরোজ মিহিরা, নদী ইসলাম, রাশি সরকার, মাছিরাত সিদ্দিকী তানহা ও মাহি আক্তার।

১২ এপ্রিল ২০২৬