সর্বশেষ
ভাইরাসের আক্রমনে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে আখ!
কৃষি ২২ জুলাই ২০২৬

ভাইরাসের আক্রমনে ক্ষেতেই পচে যাচ্ছে আখ!

মু. আবিদ মল্লিক জয়: চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় টাঙ্গাইল জেলায় আখের আশাব্যঞ্জক ফলন হয়েছিল। তবে ফসল পরিপক্ক হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে হঠাৎ ভাইরাসজনিত রোগের আক্রমণে পাল্টে গেছে চিত্র। অজ্ঞাত ভাইরাসের কারণে ক্ষেতের পর ক্ষেত আখ পচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এতে চরম লোকসান ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার আখ চাষিরা। জানা যায়- কৃষি বিভাগের হিসেবে চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আখের চাষ হয়েছে। অজ্ঞাত ভাইরাসের কারণে আখের কাণ্ড পচে যাচ্ছে। যেগুলো টিকে আছে, সেগুলোও আশানুরূপ মোটাতাজা হচ্ছে না। বাজারে প্রতি পিস আখ সর্বোচ্চ ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গত বছর প্রতিটি আখ ৩০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। উৎপাদন খরচ না ওঠায় প্রতি পিস আখে কৃষকদের প্রায় ৩০ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে। সরেজমিনে জানা যায়- টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় মাঠের পর মাঠ সবুজ আখের ক্ষেত এখন ভাইরাসের কারণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বছরের একমাত্র আয়ের উৎস হারিয়ে চাষিদের দিন কাটছে চরম হতাশায়। এমন পরিস্থিতিতে স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকারের কাছে জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন। দ্রুত কৃষি বিভাগের কার্যকর পদক্ষেপের পাশাপাশি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সরকারি অনুদান বা ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা। ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় কৃষকরা জানায়, শুরু থেকেই আখের বৃদ্ধি(গ্রোথ) ভালো ছিল। তারা ভালো উৎপাদনের আশা করেছিলেন। কিন্তু কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্ষেতে অজ্ঞাত ভাইরাসের আক্রমণ দেখা দেওয়ায় একের পর এক আখ পচে যেতে থাকে। বিশেষ করে ঈশ্বরদী জাতের পচাদানা আখ সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে। অনেক জমিতে একটি আখও সুস্থ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক সুলতান কবিরের দাবি, সময়মতো রোগ দমনে কার্যকর ব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় কীটনাশক না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বিষয়টি কৃষি বিভাগকে জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তেমন সহযোগিতা পাননি। ক্ষতিগ্রস্ত অপর কৃষক রমজান আলী জানান, তিনি এবার ফলন খুব ভালো হওয়ার আশায় ছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত ভাইরাসে সব শেষ হয়ে গেছে। অনেকের পুরো ক্ষেত পচে গেছে। আখ বিক্রি করে সংসার চালানোর স্বপ্ন ছিল। এছাড়াও এই ফসল চাষ করতে অনেকের কাছে ধার দেনা করেছেন। এখন ঋণ কীভাবে পরিশোধ করবেন সেটাই চিন্তার বিষয়। শফিক আহমেদ জানান, ঈশ্বরদী জাতের আখ সবচেয়ে বেশি নষ্ট হয়েছে। তারা কৃষি বিভাগকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। সরকার যদি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে না দাঁড়ায়, তাহলে তারা বড় সংকটে পড়বেন। সদর উপজেলার খারজানা গ্রামের কৃষক আবু হানিফ জানান, তিনি ১০ শতাংশ জায়গার উপর এইবার আখ চাষ করেছেন। এতে খরচ হয়েছে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। ফলন যা হয়েছিল যদি মোটা তাজা হতো তাহলে হয়তো খরচের টাকা উঠে আসতো। ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ায় সবই শেষ। যা আছে সেগুলো বিক্রি করলে হয়তো হাজার দশেক টাকা পাওয়া যেতে পারে। আবার বিক্রি করতেও কিছু খরচ আছে। পাকুল্ল্যা এলাকার দবির উদ্দিন জানান, গত বছর ৩৩ শতাংশে খরচ হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার টাকা। বিক্রি হয়েছিল এক লাখ ১০ হাজার টাকা। বাগানে আখের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৪০০ পিস। অথচ এবার সেই একই বাগানে ভাইরাস আক্রান্তে আখের সংখ্যা দাড়িয়েছে ১২০০ পিসে। তাহলে সেই আখ বিক্রি করলে কতই আর টাকা আসবে? কৃষক মাহমুদ আলী জানান, প্রায় ১৫০ শতাংশ জায়গার উপর আখের চাষ করেছেন। যে পরিমাণ খরচ হয়েছে তাতে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকা পাবেন কি-না দুশ্চিন্তায় আছেন। আখের শরীরের বেশিরভাগ জায়গায় পচন ধরেছে। বাগানের মাঝ অংশে কিছু আখ ভালো থাকলেও তা মোটাতাজা হয়নি। টাঙ্গাইলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক শোয়েব মাহমুদ জানান, কিছু এলাকায় আখে ভাইরাসজনিত সমস্যার তথ্য তারা জানতে পেরেছেন। বিষয়টি মাঠ পর্যায়ে তদন্ত করে দেখছেন কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। এছাড়া তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ বিষয়ে আক্রান্তের মাত্রা ও কারণ নির্ণয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড
আইন-আদালত ২২ জুলাই ২০২৬

টাঙ্গাইলে দুটি হত্যা মামলায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে পৃথক দুটি হত্যা মামলার রায়ে দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হচ্ছেন- ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামের মফিজুল হকের ছেলে নাজিরুল ইসলাম জিহাদ এবং দেলদুয়ার উপজেলার বর্ণী গ্রামের সোহরাব হোসেন। জেলা ও দায়রা জজ আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ১৮ জুন ভূঞাপুর উপজেলার গাড়াবাড়ী গ্রামে আম পাড়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মেহেদী মোস্তফা রাজীবকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে বুধবার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. হাফিজুর রহমান ওই মামলায় নাজিরুল ইসলাম জিহাদকে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন। অন্যদিকে স্পেশাল জজ আদালত সূত্র জানায়, ২০২১ সালের ৫ মে দেলদুয়ার উপজেলার দক্ষিণপাড়া গ্রামে হাজেরা বেগম ও তাঁর মেয়ে নাসরিন আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করেন স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক দিলারা আলো চন্দ্রনা। এ মামলায় সোহরাব হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং স্পেশাল জজ আদালত পৃথক দুটি মামলার রায়ে ওই দণ্ড ঘোষণা করেন।

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি শেখ রবিউল আলম
আন্তর্জাতিক ২২ জুলাই ২০২৬

জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি শেখ রবিউল আলম

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক বহুপক্ষীয় প্যানেল অধিবেশনে যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। অধিবেশনে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও গুরুতর আহতের সংখ্যা কমাতে শুধু শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান গঠনই যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়ন, সমন্বয় এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও জরুরি। মন্ত্রী পরিবহন, স্বাস্থ্য, পুলিশ, শিক্ষা, অর্থ, পরিবেশ ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাবিদ ও তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন শেখ রবিউল আলম। প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এবং জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী। অনুলিখন: লাবনী সিদ্দিকী

সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে....
স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম ২২ জুলাই ২০২৬

সাংবাদিক নিবন্ধন : সময়ের দাবি, তবে....

:: মু. জোবায়েদ মল্লিক বুলবুল :: গুরু নির্ভর পেশা সাংবাদিকতা, সাংবাদিক তৈরি করা যায়না- যুগে যুগে সময়ে সময়ে সময়ের প্রয়োজনে সাংবাদিকরা জন্ম নেয়। তারা কোনো কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নয় বরং ইতিহাসের গর্ভ থেকে উঠে আসা একেকজন অবাধ্য দ্রোহী। লুইজি পিরানদেল্লোর নাটকের চরিত্রের মতো তারা যেন হঠাৎ করেই ইতিহাসের মঞ্চে আবির্ভূত হয়, সমাজকে তার নিজের আসল মুখচ্ছবি দেখাতে। কিন্তু আজকের পচাগলা সময়ে আমরা চারপাশে কী দেখছি? চারদিকে এক অদ্ভুত ও কুৎসিত অন্ধকার। হাতের মুঠোয় একটা সস্তা স্মার্টফোন আর ইন্টারনেটের ডেটা প্যাক থাকলেই রাতারাতি নিজেকে ‘সাংবাদিক’ বলে জাহির করার এক আত্মঘাতী, উন্মত্ত মহোৎসব চলছে। হাল সময়ে সাংবাদিকতার নামে মোবাইল ফোন হাতে যাদের অলিতে-গলিতে, চায়ের দোকানে কিংবা দুর্ঘটনার ভিড়ে দেখা যায়, তাদেরকে ‘মোজো সাংবাদিক’ বা মোবাইল জার্নালিস্ট আখ্যা দিয়ে জাতীয় পর্যায়ে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে হালাল করার এক বিপজ্জনক অপচেষ্টা চলছে। একজন সাংবাদিক হিসেবে স্পষ্টাক্ষরে, কোনো রকম দ্বিধাদ্বন্দ্ব না রেখে বলতে চাই- নিশ্চিতভাবেই তারা ‘সাংবাদিক’ নন। সাংবাদিকতা কোনো যান্ত্রিক কসরত বা স্রেফ বোতাম টেপার চাতুর্য নয়, এটি একটি সুদীর্ঘ সাধনা, একটি আজীবন লালিত আদর্শিক তাড়না। বর্তমানের এই নৈরাজ্যিক ও বিশৃঙ্খল অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা ন্যূনতম মাপকাঠির প্রয়োজন আজ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। এই নির্মম পটভূমিতেই ‘সাংবাদিক নিবন্ধন’ বিষয়টি আজ সময়ের তীব্র ও অলঙ্ঘনীয় দাবি হিসেবে আমাদের সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। তবে এই দাবির সমান্তরালে লুকিয়ে আছে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কিছু গভীর ক্ষত, সংশয় ও জটিল সমীকরণ- যা নির্মোহভাবে উন্মোচন করা অত্যন্ত জরুরি। একদা যে পেশা ছিল সমাজের বাতিঘর, শোষিতের শেষ আশ্রয়স্থল, আজ তা এক শ্রেণির অপেশাদার, সুবিধাবাদী, চাঁদাবাজ ও ব্ল্যাকমেইলারদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। গ্রামে-গঞ্জে, মফস্বলে, এমনকি খোদ রাজধানীর রাজপথেও ‘সাংবাদিক’ পরিচয়টি আজ শ্রদ্ধার চেয়ে ভয়ের এবং আস্থার চেয়ে সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তথাকথিত ‘মোজো সাংবাদিকতা’র নামে ব্যক্তিচরিত্র হনন, ভুঁইফোড় ফেসবুক পেজ ও কতিপয় পোর্টালের মাধ্যমে দিনরাত গুজব ছড়ানো এবং হলুদ সাংবাদিকতার যে নগ্ন বিস্তার আমরা দেখছি, তা রুখতে একটি রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। প্রকৃত সাংবাদিকরা যারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে, খেয়ে না-খেয়ে, বুলেটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সত্যের সন্ধান করেন, তাদের মর্যাদা আজ ভূলুণ্ঠিত। নিবন্ধন প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আসল এবং নকলের মধ্যে একটি সুস্পষ্ট বিভাজন রেখা টানা আজ সময়ের দাবি। একজন চিকিৎসক, প্রকৌশলী বা আইনজীবীর যেমন একটি নির্দিষ্ট একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড ও লাইসেন্স লাগে, সাংবাদিকতায়ও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করা উচিত। ভাষা, সমাজ, রাজনীতি, অর্থনীতি ও আইন সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা না থাকলে সমাজের জটিল ক্ষত নিরূপণ করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। অবাধ স্বাধীনতার নামে স্বেচ্ছাচারিতা বা লম্পট্য চলতে পারে না। নিবন্ধিত ব্যবস্থার মাধ্যমে সাংবাদিকদের একটি নির্দিষ্ট জাতীয় আচরণবিধির (Code of Conduct) আওতায় আনা সম্ভব হবে- যা সাধারণ মানুষকে মিডিয়া ট্রায়াল বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচারের হাত থেকে রক্ষা করবে। সঠিক উপায়ে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং সম্পূর্ণ রাজনীতিমুক্ত নিরপেক্ষভাবে যদি সাংবাদিকদের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়, তবে এর সুফল হবে সুদূরপ্রসারী; মাঠপর্যায়ের প্রকৃত ও সৎ সংবাদকর্মীরা প্রাতিষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাবেন। পরিচয়পত্র বা অ্যাক্রেডিটেশন কার্ডের অপব্যবহার কমলে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ জনগণের কাছে সাংবাদিকদের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়বে। নিবন্ধিত সাংবাদিকদের একটি জাতীয় ডেটাবেজ থাকলে মিডিয়া কর্পোরেট বা মালিকপক্ষের পক্ষে সাংবাদিকদের হুট করে ছাঁটাই করা বা বছরের পর বছর বকেয়া বেতন না দিয়ে পার পাওয়া কঠিন হবে। ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন তখন আইনি বাধ্যবাধকতায় রূপ নেবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া ও উসকানিমূলক খবরের দৌরাত্ম্য নিমেষেই কমে যাবে। সাধারণ মানুষ সহজে জানতে পারবে কোন উৎসটি দায়িত্বশীল এবং কোনটি সমাজের জন্য বিষাক্ত। যে কোনো ভালো উদ্যোগের পেছনেই আমাদের এই উপমহাদেশে থাকে ক্ষমতার লোভ আর অপব্যবহারের কালো কুৎসিত ছায়া। ‘তবে...’ শব্দের ভেতরের মূল আশঙ্কাটি এখানেই লুকিয়ে আছে। নিবন্ধনের ধারণাটি তাত্ত্বিকভাবে যতটা চমৎকার ও সুরম্য, প্রয়োগের ক্ষেত্রে ততটাই বিপজ্জনক ও নিবর্তনমূলক হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সরকার বা অন্ধ আমলাতন্ত্র যদি এই নিবন্ধনের চাবিকাঠি নিজের হাতে নেয়, তবে তা ভিন্নমত দমনের সবচেয়ে বড় মারণাস্ত্রে পরিণত হবে। সরকারের সমালোচক, প্রগতিশীল ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের ‘নিবন্ধন’ বাতিল বা নবায়ন না করার ভয় দেখিয়ে গণমাধ্যমকে পুরোপুরি গৃহপালিত বা তোষামোদকারী সংস্থায় পরিণত করার আশঙ্কা প্রবল। সাংবাদিকতা কোনো লাইসেন্সধারী ব্যবসা বা ঠিকাদারি নয়। এটি মানুষের মৌলিক অধিকার, বিবেক ও মুক্ত মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। নিবন্ধনের নামে যদি কঠোর সেন্সরশিপ বা আমলাতান্ত্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য তৈরি করা হয়, তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা এ দেশে চিরতরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু এখানেই শেষ নয়। আমাদের মুদ্রার অপর পিঠটিও দেখতে হবে। বাস্তবতার রূঢ় জমিনে দাঁড়িয়ে সত্য উচ্চারণ করতে হবে। তথ্যপ্রযুক্তির এই তীব্র জোয়ারে, মোবাইল হাতে ঘুরে বেড়ানো এই বিশাল জনগোষ্ঠীকে ঢালাওভাবে ‘সাংবাদিক’ হিসেবে অস্বীকার করারও সুযোগ কিন্তু আমাদের নেই। আধুনিক বিশ্বে ‘সিটিজেন জার্নালিজম’ বা নাগরিক সাংবাদিকতা আজ একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। মূলধারার গণমাধ্যম যখন করপোরেট স্বার্থে কিংবা ভয়ের সংস্কৃতিতে মুখ বন্ধ রাখে, তখন অনেক সময় এই মোবাইল হাতে থাকা সাধারণ মানুষই টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলের অন্যায়, নিপীড়ন কিংবা প্রশাসনের দুর্নীতির চিত্র ক্যামেরাবন্দী করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। তাদের এই তাৎক্ষণিক প্রচার অনেক বড় বড় অন্যায়ের বিচার নিশ্চিত করেছে। তাই তাদেরকে সমাজ থেকে একেবারে ছুড়ে ফেলে দেওয়ার সুযোগ নেই। তবে সমাধান হলো- তাদেরকে কোনোভাবেই মূলধারার, প্রাতিষ্ঠানিক ‘সাংবাদিক’ হিসেবে স্বীকৃতি বা নিবন্ধন দেওয়া যাবে না। তাদের জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আলাদা একটি প্ল্যাটফর্ম এবং আলাদা নাম। তাদেরকে ‘নাগরিক তথ্যদাতা’, ‘সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট ক্রিয়েটর’ বা ‘নাগরিক সংবাদকর্মী’ (Citizen Reporter) হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। রাষ্ট্র বা তথ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে তাদের জন্য আলাদা একটি নীতিমালার আওতাধীন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বা ফোরাম থাকতে পারে। এর ফলে তারা তথ্যের অবাধ প্রবাহে অবদান রাখতে পারবে, কিন্তু মূলধারার পেশাদার সাংবাদিকতার পবিত্রতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সাথে তাদের গুলিয়ে ফেলে ‘সাংবাদিক’ তকমা হালাল করার আত্মঘাতী অপচেষ্টা বন্ধ হবে। বর্তমানের সবচেয়ে বড় সংকট হলো- বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, যে কোনো নিয়ন্ত্রণকারী বা তদারকি সংস্থাই শেষ পর্যন্ত নগ্ন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তির শিকার হয়। যদি কোনো রাজনৈতিক দলের অনুগত বোর্ডের মাধ্যমে এই নিবন্ধন দেওয়া হয়, তবে প্রকৃত পেশাদার, সৎ ও নিরপেক্ষ সাংবাদিকরা ছিটকে পড়বেন। আর ক্ষমতাসীন দলের তল্পিবাহক, চাটুকার ও পাতিমাস্তানেরা রাতারাতি ‘স্বীকৃত সাংবাদিক’ বনে গিয়ে কার্ড ঝুলিয়ে দাপিয়ে বেড়াবে। প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাহীন, ব্যাকরণহীন একঝাঁক মানুষকে যদি ¯্রফে সস্তা ভিউ ও জনপ্রিয়তার কারণে নিবন্ধনের আওতায় এনে মূলধারার সাংবাদিক হিসেবে ‘হালাল’ করা হয়- তবে তা হবে এ দেশের সাংবাদিকতার কফিনে শেষ পেরেক। এই গভীর সংকট থেকে উত্তরণের পথ কিন্তু সুদূর পরাহত নয়। রাষ্ট্রকে মনে রাখতে হবে, নিয়ন্ত্রণ বা দমন নয়, প্রয়োজন সুশৃঙ্খল, প্রাজ্ঞ ও আধুনিক সমন্বয়। যেমন- ১. স্বাধীন ও নিরপেক্ষ মিডিয়া কমিশন গঠন: সাংবাদিকদের নিবন্ধন বা তদারকির দায়িত্ব কোনো নির্দিষ্ট মন্ত্রণালয় বা সরকারি আমলাদের অধীনে থাকা চলবে না। বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলকে শক্তিশালী ও পুনর্গঠন করে সম্পূর্ণ স্বায়ত্তশাসিত ও স্বাধীন ‘জাতীয় মিডিয়া কমিশন’ গঠন করতে হবে। যেখানে বিচারকের আসনে থাকবেন প্রবীণ সাংবাদিক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞানী ও আইনজ্ঞরা- কোনো দলীয় আমলা বা সক্রিয় রাজনীতিবিদ নয়। ২. শিক্ষাগত ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা: মূলধারার সাংবাদিকতার নিবন্ধন পাওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং স্বীকৃত কোনো গণমাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ের কাজের বাস্তব অভিজ্ঞতা বাধ্যতামূলক করতে হবে। শুধু ‘মোবাইল, ক্যামেরা আর ইন্টারনেট’ থাকলেই কাউকে সাংবাদিক হিসেবে তালিকাভুক্ত করা যাবে না। ৩. অপরাধের বিচার ও আচরণবিধি: কোনো নিবন্ধিত সংবাদকর্মী নৈতিক স্খলন বা অপরাধ করলে তার বিচার প্রেস কাউন্সিল বা প্রচলিত আইনেই হবে, কিন্তু তার জন্য ঢালাওভাবে পুরো সাংবাদিক সমাজকে লাইসেন্সিং-এর শিকলে বাঁধা যাবে না। একই সাথে মোজো বা নাগরিক সাংবাদিকদের প্ল্যাটফর্মকেও একটি সুনির্দিষ্ট সাইবার আচরণবিধির আওতায় আনতে হবে- যেন তারা তথ্যের নামে গুজব ছড়াতে না পারে। সাংবাদিকরা চিরকাল ক্ষমতার অন্ধ দম্ভ ও অশিক্ষার বিরুদ্ধে কলম ধরেছেন। আমাদেরও ভাবতে হবে- সাংবাদিকতা কোনো তৈলাক্ত বাঁশ নয় যে, যোগ্যতা ছাড়া যে কেউ এসে তা বেয়ে ওপরে উঠে যাবে। সাংবাদিকতা হলো তপ্ত অঙ্গার- যা বুকে ধারণ করতে প্রজ্ঞা, সততা, নিষ্ঠা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয়। সাংবাদিকদের ডেটাবেজ বা নিবন্ধন অবশ্যই সময়ের দাবি, তবে তা যেন কোনোভাবেই মুক্ত গণমাধ্যমের টুঁটি চেপে ধরার ‘কালো আইন’ বা স্বৈরাচারী ‘লাইসেন্স রাজ’-এ পরিণত না হয়। রাষ্ট্র, সমাজ এবং মূলধারার সাংবাদিক নেতৃত্বকে এখনই বসে এই আত্মঘাতী ‘মোজো’ সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হবে। একই সাথে মোজোদের একটি সুনির্দিষ্ট ও ভিন্ন আইডেন্টিটির ফ্রেমে বেঁধে, মূলধারার সাংবাদিকতার মর্যাদা অক্ষুণœ রেখে একটি সুস্থ, শিক্ষিত ও দায়বদ্ধ গণমাধ্যমের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে হবে। অন্যথায়, ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের আগামি প্রজন্মের কাছে আসামির মতো দাঁড়িয়ে থাকতে হবে- যার কোনো ক্ষমা নেই।

জাতীয় সংবাদ

আরও দেখুন »
টাঙ্গাইলে ‘নজরুল বর্ষে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
জাতীয়

টাঙ্গাইলে ‘নজরুল বর্ষে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নজরুল বর্ষ ২০২৬-২৭ উদ্বোধন করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এমপি। বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কক্ষে আয়োজিত জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে বছরব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়। এ সময় টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষ থেকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ভিডিও কনফারেন্স এর মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক শরীফা হক। এ সময় অন্যদের মধ্যে পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা, ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুহম্মদ আজিজুল হক, জেলা কালচারাল অফিসার সেলিনা সাঈয়েদা সুলতানা আক্তার, জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা খন্দকার নিপুণ হোসাইন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু প্রমুখ সহ জেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য ও শিল্পীরা উপস্থিত ছিলেন।

০২ জুলাই ২০২৬

সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস :: ১৮৬৭ সালের আইন রহিত

দৃষ্টি নিউজ: জাতীয় সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬’ পাস হয়েছে। নতুন এ আইনের মাধ্যমে ১৮৬৭ সালের প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো ‘The Public Gambling Act, 1867’ রহিতকরণ করা হয়েছে। আইনে জুয়া, অনলাইন জুয়া, দূরবর্তী জুয়া, বেটিং (বাজি বা পণ), বাজিকর (Bookmaker), ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টোকারেন্সি, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট, মিরর সাইট, ভিপিএনসহ মোট ২৪ ধরনের বিষয়কে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধের ধরন অনুযায়ী ১৪ ধরনের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গত ২৩ জুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জাতীয় সংসদে বিলটি উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। কমিটির সুপারিশের পর মঙ্গলবার বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিলটি উত্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান ‘The Public Gambling Act, 1867’ দেড়শ বছরেরও বেশি পুরোনো আইন এবং বর্তমান সময়ের প্রযুক্তিনির্ভর জুয়ার ধরন মোকাবিলায় এটি আর যথেষ্ট নয়। সংবিধানের ১৮(২) অনুচ্ছেদে রাষ্ট্রকে জুয়া নিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২০১৮ সালের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে আইনটি যুগোপযোগী করে শাস্তির পরিমাণ বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, বর্তমানে অনলাইন জুয়া, স্পোর্টস বেটিং, ভার্চুয়াল ক্যাসিনো, ক্রিপ্টোকারেন্সিভিত্তিক জুয়া, ভুয়া সিম, ভুয়া মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্ট, বায়োমেট্রিক জালিয়াতি, ভিপিএন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মাধ্যমে সংঘটিত জুয়া, অর্থপাচার ও প্রতারণা দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, জননিরাপত্তা এবং তরুণ সমাজের জন্য গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে। এসব অপরাধ প্রতিরোধ এবং রাষ্ট্রের নৈতিক ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় আধুনিক ও সমন্বিত আইন প্রণয়ন প্রয়োজন হওয়ায় নতুন আইনটি আনা হয়েছে। নতুন আইনের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ১৪ ধরনের অপরাধ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়া পরিচালনা, অনলাইন বেটিং, জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ, রক্ষণাবেক্ষণ বা ব্যবহার, জুয়ার সামগ্রী প্রস্তুত, সংরক্ষণ, বিক্রি, বিতরণ বা ব্যবহার, বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনা, ম্যাচ ফিক্সিং ও স্পট ফিক্সিং, জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ও রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা, ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস বা ক্লাউড অবকাঠামো ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা, ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট ও বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনা এবং জুয়ার অর্থ লেনদেন, অর্থপাচার ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার। আইনে সাধারণ জুয়ার অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অনলাইন বা দূরবর্তী জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড এবং এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড, অনলাইন বেটিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। জুয়ার স্থান পরিচালনা, নিয়ন্ত্রণ বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও চার লাখ টাকা অর্থদণ্ডের পাশাপাশি আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট ভবন, কক্ষ, যানবাহন, সার্ভার অবকাঠামো বা সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা যাবে। জুয়ার সামগ্রী সংরক্ষণ, প্রস্তুত, সরবরাহ, বিক্রি, বিতরণ, আমদানি বা ব্যবহারের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং আদালতের মাধ্যমে এসব সামগ্রী বাজেয়াপ্ত বা ধ্বংসের নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রাখা হয়েছে। বাজিকর হিসেবে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও এক কোটি টাকা অর্থদণ্ড এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আদালত দোষী ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অথবা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা, প্রতিযোগিতা বা ক্রীড়া কার্যক্রমে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবেন। একইভাবে জুয়ার বিজ্ঞাপন, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, মিথ্যা লাভের প্রতিশ্রুতি, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বা রেফারেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার জন্য ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটিকে সর্বোচ্চ তিন বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করার বিধান রাখা হয়েছে। ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, হোস্টিং, ডোমেইন সার্ভিস, ক্লাউড অবকাঠামো বা কনটেন্ট ডেলিভারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। ভুয়া সিম, ঘোস্ট সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট বা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর কারাদণ্ড ও ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ অপরাধ সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। জুয়ার অর্থ ব্যাংক, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট, হাওলা, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে লেনদেন, গোপন বা বৈধ করার চেষ্টা করলে তা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর অধীন সম্পৃক্ত অপরাধ (Predicate Offence) হিসেবে গণ্য হবে। আইনে বলা হয়েছে, কোনো কোম্পানি, করপোরেট সংস্থা, ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম, হোস্টিং প্রোভাইডার, পেমেন্ট গেটওয়ে বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট পরিচালক, নির্বাহী কর্মকর্তা, ব্যবস্থাপক, অংশীদার বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে দায়ী করা যাবে, যদি না তিনি প্রমাণ করতে পারেন যে অপরাধটি তার অজ্ঞাতসারে সংঘটিত হয়েছে এবং তা প্রতিরোধে তিনি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছেন। প্রতিষ্ঠানটিকেও পৃথকভাবে অভিযুক্ত করা যাবে এবং আদালত প্রয়োজনে তাদের নিবন্ধন, লাইসেন্স বা কার্যক্রম স্থগিত, বাতিল বা নিষিদ্ধ করতে পারবেন। একই অপরাধ পুনরায় সংঘটিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির দ্বিগুণ পর্যন্ত দণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নতুন আইনে অপরাধে ব্যবহৃত বা অপরাধ থেকে অর্জিত অর্থ, সম্পদ, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট, ক্রিপ্টো সম্পদ, সার্ভার, ডোমেইন, সিম, ডিভাইসসহ অন্যান্য সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা আদালতকে দেওয়া হয়েছে। অনলাইন জুয়া, অনলাইন বেটিং এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার সাইবার ট্রাইব্যুনালে হবে, অন্য অপরাধের বিচার হবে এখতিয়ারসম্পন্ন ফৌজদারি আদালতে। আইনের অধীন সব অপরাধ আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য হিসেবে গণ্য হবে। তদন্তের ক্ষেত্রে সাব-ইন্সপেক্টরের নিচের পদমর্যাদার কোনো পুলিশ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না এবং প্রয়োজন হলে আদালতের অনুমতি নিয়ে অভিযুক্তের ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ওয়ালেট বা ক্রিপ্টো ওয়ালেট সাময়িকভাবে ফ্রিজ করা যাবে। এছাড়া সরকার বা সরকার-নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জনস্বার্থে জুয়া বা বেটিং-সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সার্ভার, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, ইউআরএল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ, চ্যানেল এবং ডিজিটাল গ্যাম্বলিং প্ল্যাটফর্ম ব্লক, অপসারণ বা নিষিদ্ধ করতে পারবে। জুয়ার অর্থে ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, এমএফএস, পেমেন্ট গেটওয়ে, ডিজিটাল ওয়ালেট ও ক্রিপ্টো ওয়ালেট বন্ধের নির্দেশও আদালত দিতে পারবেন। পাশাপাশি জুয়া, অনলাইন জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ প্রতিরোধে একটি জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট ডেটাবেজ প্রণয়ন, এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং সিস্টেম বাস্তবায়ন, বায়োমেট্রিক ও ফেসিয়াল রিকগনিশনভিত্তিক যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। সরকারের মতে, নতুন এই আইন কার্যকর হলে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জুয়া, অনলাইন বেটিং, ডিজিটাল আর্থিক প্রতারণা ও অর্থপাচার প্রতিরোধে কার্যকর আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৩০ জুন ২০২৬
সংসদে জুয়া প্রতিরোধ আইন পাস :: ১৮৬৭ সালের আইন রহিত

মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ

দৃষ্টি নিউজ: ২০২৪ সালে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশের মধ্যে স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদনকারী দেশের অবস্থানও ধরে রেখেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্য ও মৎস্যচাষ খাতে মোট উৎপাদন রেকর্ড ২৩ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জলজ প্রাণীর উৎপাদন ছিল ১৯ কোটি ৫০ লাখ টন এবং শৈবালের উৎপাদন ৪ কোটি টন। ২০২২ সালের তুলনায় মোট উৎপাদন বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। এ উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৬ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট উৎপাদনের ৬৭ শতাংশ এসেছে সামুদ্রিক জলসীমা থেকে। এর মধ্যে ৫১ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ এবং ৪৯ শতাংশ মৎস্যচাষ থেকে এসেছে। বাকি ৩৩ শতাংশ উৎপাদন হয়েছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে, যার ৮৪ শতাংশই পাওয়া যায় মৎস্যচাষ থেকে। বিশ্বের মৎস্য ও জলজ চাষ উৎপাদনে এখনো শীর্ষস্থানে রয়েছে এশিয়া। বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭৬ শতাংশই আসে এই অঞ্চল থেকে। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল ৮ শতাংশ, ইউরোপ ৭ শতাংশ, আফ্রিকা ৬ শতাংশ, উত্তর আমেরিকা ২ শতাংশ এবং ওশেনিয়া ১ শতাংশ। ২০২৪ সালে জলজ প্রাণির উৎপাদন সর্বকালের সর্বোচ্চ ১৯ কোটি ৫০ লাখ টনে পৌঁছায়। এর ৫৩ শতাংশ এসেছে মৎস্যচাষ থেকে এবং ৪৭ শতাংশ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণ থেকে। এই উৎপাদনের প্রাথমিক বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট জলজ প্রাণি উৎপাদনের ৬১ শতাংশ বা ১১ কোটি ৮০ লাখ টন এসেছে সামুদ্রিক অঞ্চল থেকে। বাকি ৩৯ শতাংশ বা ৭ কোটি ৭০ লাখ টন এসেছে অভ্যন্তরীণ জলাশয় থেকে। অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ের মৎস্য আহরণে ২০২৪ সালে ২২ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে শীর্ষে ছিল ভারত। ১৪ লাখ টন উৎপাদন নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালে বিশ্বে মৎস্যচাষ খাতে উৎপাদন রেকর্ড ১৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছেছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩৯ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। মোট উৎপাদনের মধ্যে জলজ প্রাণী ১০ কোটি ৩০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ৩৭ হাজার ১০০ কোটি মার্কিন ডলার। আর শৈবাল উৎপাদন ছিল ৩ কোটি ৯০ লাখ টন, যার মূল্য প্রায় ২ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। বিশ্বের মোট মৎস্য উৎপাদনের ৯২ শতাংশই হয়েছে এশিয়ায়। এরপর রয়েছে লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চল, ইউরোপ, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা এবং ওশেনিয়া। বর্তমানে বিশ্বের শীর্ষ পাঁচ মৎস্যচাষী দেশ হল- চীন, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। এসব দেশ বিশ্বের ৮৪ শতাংশ মাছ উৎপাদন করেছে। ২০২৪ সালে জলজ প্রাণীর চাষও রেকর্ড ১০ কোটি ৩০ লাখ টনে পৌঁছেছে। এটি বৈশ্বিক জলজ খাদ্যের চাহিদা মেটাতে এই খাতের ক্রমবর্ধমান ভূমিকার বিষয়টিই তুলে ধরে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে চীন। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৫৬ শতাংশের জোগান দিয়েছে। এরপর রয়েছে ভারত ১২ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়া ৬ শতাংশ, ভিয়েতনাম ৫ শতাংশ এবং বাংলাদেশ ৩ শতাংশ। এই পাঁচ দেশ মিলে মোট উৎপাদনের ৮২ শতাংশ সরবরাহ করেছে। মৎস্যচাষে উৎপাদিত জলজ প্রাণীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই অভ্যন্তরীণ জলাশয়ে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮৯ শতাংশই ছিল পাখনাযুক্ত মাছ। ৯ শতাংশ ছিল খোলসযুক্ত জলজ প্রাণি। আর বাকি অংশ ছিল জলজ কচ্ছপ, ব্যাঙ, মোলাস্ক ও অন্যান্য অমেরুদণ্ডী প্রাণি। সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মৎস্যচাষে ২০২৪ সালে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন জলজ প্রাণি উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ৫৩ শতাংশ ছিল মোলাস্ক, ২৪ শতাংশ পাখনাযুক্ত মাছ, ২২ শতাংশ খোলসযুক্ত জলজ প্রাণী এবং ২ শতাংশ অন্যান্য সামুদ্রিক অমেরুদণ্ডী প্রাণি।

২৭ জুন ২০২৬
মাছ চাষে বিশ্বসেরা পাঁচে বাংলাদেশ

প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে

দৃষ্টি নিউজ: দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা বা ভিশন নির্ধারণ করেছে সরকার। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র চার মাসের মাথায় এই মহাপরিকল্পনা সাজানো হয়েছে- যার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে সম্পূর্ণ কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করা। মঙ্গলবার(১৬ জুন) ঢাকায় র‌্যাডিসন ব্লু হোটেলে ‘ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেডের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেন। শিক্ষা ব্যবস্থার এই আমূল রূপান্তরের জন্য প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ চারটি মূল স্তম্ভ এবং একটি আধুনিক উপাদানের কথা ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এখন থেকে কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার সমন্বয়ের ওপর ভিত্তি করে প্রাথমিক শিক্ষা এগোবে। এর সঙ্গে সম্পূর্ণ নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের (ফিউচার জবস) উপযোগী বিশেষ শিক্ষা। বর্তমানে দেশে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম কিংবা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৭টিরও বেশি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ধারা বিদ্যমান রয়েছে। এই ব্যবস্থার সংস্কার এনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সব ধারার শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রতিটি শিশু মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে সমমানের সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের বৈষম্য পুরোপুরি দূর করা সম্ভব হবে। শিক্ষার এই গুণগত মান নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতার ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, চাকা ছাড়া যেমন গাড়ি চলতে পারে না, তেমনি যোগ্য শিক্ষক ছাড়াও কোনো কার্যকর শিক্ষাব্যবস্থা চলতে পারে না। দেশের বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের আধুনিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ক্যামব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাকে সরাসরি কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে বলেও তিনি জানান। অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৬ জুন ২০২৬
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে

ঢাকার সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করার নি‌র্দেশ

দৃষ্টি নিউজ: যানজট নিরসনে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (১৫ জুন) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন কক্ষে বৈঠকে তি‌নি এ নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সাংবা‌দিকদের জানিয়েছেন। বৈঠকের বরাতে অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, ঢাকার যানজট নিরসন এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে এটি প্রধানমন্ত্রীর তৃতীয় বৈঠক। ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে দ্রুত এআই ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পন্ন করতে প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্টদের বলেছেন। এছাড়া রাজধানীর পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনগুলো সরানোর বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনায় এসেছে। প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানান তিনি। পরীক্ষামূলকভাবে গত ৭ মে থেকে ঢাকার বিভিন্ন ট্রাফিক পয়েন্টে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক বিভাগ। এআইভিত্তিক ক্যামেরাগুলোতে সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ লঙ্ঘন শনাক্ত করার সফটওয়্যার সংযোজন করা হয়েছে। গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার মোট ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ ক্রসিংয়ে চালু থাকা সিগন্যাল লাইট পয়েন্টে এআই প্রযুক্তির পিটিজেড ক্যামেরা বসিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সফটওয়্যারের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী, আইন লঙ্ঘন হলেই সেই গাড়ি শনাক্ত করছে ক্যামেরা। সে অনুযায়ী ডিজিটাল মামলা দেওয়া হচ্ছে গাড়ির মালিককে। ফলে, এসব সড়কে যান চলাচলে পর্যায়ক্রমে শৃঙ্খলা ফিরে আসছে এবং যানজট সমস্যাও কমছে। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, উত্তরের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

১৫ জুন ২০২৬
ঢাকার সড়কে দ্রুত এআই ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন করার নি‌র্দেশ

টাঙ্গাইল জেলার সকল সংবাদ

সর্বশেষ খবর

আপনার এলাকার খবর পড়ুন
কক্সবাজারের আদি নাম জনে নিন :: আছে সেই 'পালংকি' নামে রেস্তোরা

কক্সবাজারের আদি নাম জনে নিন :: আছে সেই 'পালংকি' নামে রেস্তোরা

দৃষ্টি নিউজ: আপনি যদি কক্সবাজার ভ্রমনে যান, তাহলে কোথায় খাবেন? যেকোনো স্থানে ভ্রমণে গেলে কোথায় কোথায় ঘুরবেন, কোথায় থাকবেন যেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, তেমনি কোথায় খাবেন এবং কি খাবেন; তাও কিন্তু অনেকের আগ্রহের বিষয়। তবে ভ্রমণপ্রিয়দের প্রথম পছন্দ 'কক্সবাজার'। কক্সবাজারের আদি নাম কি এবং কীভারে এর উৎপত্তি তা জেনে নেওয়া যাক। কক্সবাজারের আদি নাম পালংকি। স্থানীয় ভাষায় পাল্কিকে বলা হয় পালংকি। জনশ্রুতি আছে; মুঘল সম্রাট শাহ সুজা এক হাজার পাল্কি নিয়ে আরাকান যাওয়ার পথে এই অঞ্চলের সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন এবং তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে এখানে যাত্রা বিরতি করেন। কালের পরিক্রমায় সহস্র পাল্কির সেই বিশ্রাম স্থলই ‘পালংকি’ নামে পরিচিতি পায়। পরর্তীতে ব্রিটিশ শাসনামলে ইংরেজ শাসক কক্স সাহেব তার নিজের নামে এই অঞ্চলে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন এবং ‘পালংকি’ নাম পাল্টে হয়ে যায় ‘কক্সবাজার’। কিন্তু পালংকি নামটি আবার ফিরে এসেছে। তবে ভিন্নভাবে। এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি হারিয়ে যাওয়া খাটি বাঙালি রন্ধন প্রণালী ও খাবারের সম্ভার নিয়ে আবির্ভূত হয়েছে ‘পালংকি’ রেস্তোরা। পালংকি রেস্তেরার প্রতিটি খাবারে লুকিয়ে আছে বাংলার ঘ্রাণ আর ঐতিহ্য। বাঙালি স্বাদের অতুলনীয় এই আয়োজন যেকোনো ভোজনপ্রিয় বা ভোজন-বিলাসীকে মুগ্ধ করবেই। ইফতার থেকে শুরু করে যেকোনো মৌসুমের রসনাবিলাসি মানুষ এখানে হবে পরিতৃপ্ত। কারণ এইসব খাবারের সাথে মিশে রয়েছে দাদী-নানীর রান্নার ছোঁয়া। কুমড়ো ফুলের ফ্রাই, কলার মোচা দিয়ে তৈরী বিশেষ চপ, লইট্টা মাছের বাহারি সমাহার, ডাব-চিংড়ি, নারিকেলের পুডিং কিংবা পাহাড়ি মোরগের অসাধারণ সব রেসিপি এখানকার নিয়মিত আয়োজনগুলোর মধ্যে অন্যতম। সদ্য ধরা টুনা মাছ, লবস্টার, চিংড়ি, পমফ্রেট, অক্টোপি এবং স্কুইডসহ সামুদ্রিক খাবারও বাছাই করা যেতে পারে। চিনিগুড়া চালের ভাত ও ঘি মিশিয়ে তৈরি ডাল এখানকার খাবারের অন্যতম আকর্ষণ। অষ্টভূজা নাম থেকেই বোঝা যায়, আটটি ভিন্ন ধরণের ভর্তা এবং ভাজির একটি থালা। এই থালাটি সম্ভবত সমগ্র পালংকির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। তবে আপনি আটটি ভর্তা এবং ভাজির মধ্যে কোনটি এবং কখন খেতে চান তা আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে। এখানের খাবার গুলির মধ্যে বিভিন্ন রকম পাতুরি এক অনন্য সংযোজন। পাতুরি হল বাঙালিদের অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি খাবার যা মাছের তৈরি এবং পাতায় মুড়ে অল্প ভাপে রান্না করা হয়। শতবর্ষের প্রাচীন রন্ধন প্রণালীতে তৈরিকৃত ঐতিহ্যবাহী অথেন্টিক ভেটকি পাতুরি, ইলিশ পাতুরিসহ বিভিন্ন রকমের পাতুরি খেতে হলে এখানেই যেতে হবে। গ্রাম্য বা দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খাবারের পাশাপাশি সামূদ্রিক খাবার, বারবিকিউ এবং গ্রিল পাশ্চাত্যের বিভিন্ন খাবারের প্রতি যাদের দুর্বলতা রয়েছে তারা এখানে পাবেন মনের মত রকমারি খাবার। পালংকি নামে কক্সবাজারে দুটি রেস্তোরা রয়েছে। এটার অবস্থান শহরের কেন্দ্রস্থলে। কলাতলির ডলফিন মোড়ে। এক্কেবারেই হাতের নাগালে। মূল সড়কের সাথে লাগোয়া। শহরে অবস্থিত যেকোনো হোটেল থেকে পায়ে হেটে পৌছে যাওয়া যাবে এখানে অনায়াসে। পালংকি'র আরেকটি রেস্তোরার অবস্থান শহর থেকে কিছুটা দূরে। স্থানটির নাম জালিয়াপালং। একান্ত নিরিবিলি পরিবেশে। ইনানী বীচের কাছে এটা অবস্থিত। একারনে এটা পালংকি ইনানী নামে পরিচিত। মেরিন ড্রাইভ ধরে সমূদ্র তীরের সৌন্দর্য দেখতে দেখতে আপনি চলে যাবেন পালংকি ইনানী রেস্তোরায়। সমূদ্র তীরে অবস্থিত এই রেস্তোরায় বসে আপনি একই সাথে সমূদ্রের সৌন্দর্য উপভোগ করবেন এবং পালংকি রেস্তোরার অসাধারণ খাবারের অপূর্ব স্বাদ আস্বাদন করতে পারবেন। এখানকার ভিতর এবং বাইরের পরিবেশ যেকোেনা রুচিশীল-প্রকৃতিপ্রেমীকে মুগ্ধ করবেই। সমুদ্রের নোনা হাওয়া, পাহাড়ের সবুজ, এবং প্লেটে পরিবেশিত ঐতিহ্যের স্বাদ; সব মিলিয়ে আপনার ভ্রমণ হোক ছন্দময় এক আনন্দ অভিজ্ঞতা। তাই কক্সবাজার গেলে শুধু সমুদ্রের সৌন্দর্য নয়, ‘পালংকি’ রেস্তোরাঁর ঐতিহ্যবাহী স্বাদ নিতে ভুলবেন না।

১১ জুলাই ২০২৬

দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

দৃষ্টি নিউজ: ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৬টি অঞ্চলে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে ঢাকাসহ দেশের আট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে। এতে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন এলাকায় সাময়িক জলাবদ্ধতা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৫টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ বা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্র থেকে শুক্রবার (১০ জুলাই) প্রকাশিত ভারী বৃষ্টিপাতের সতর্কবার্তায় বলা হয়, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও ভারী (৪৪–৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারী (৮৮ মিলিমিটারের বেশি) বৃষ্টিপাত হতে পারে। সতর্কবার্তায় আরও বলা হয়, ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের কারণে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কোথাও কোথাও সাময়িক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে অধিদপ্তর জানায়, উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে মধ্য উত্তরপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ আকারে অবস্থান করছে এবং এটি আরও দুর্বল হতে পারে। তবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোকে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকার ওপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

১১ জুলাই ২০২৬
দেশের ১৬ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আশঙ্কা

টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮

মু. আবিদ মল্লিক জয়: যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও উত্তরবঙ্গের গাড়িচালকদের মাত্রাতিরিক্ত ওভারটেকিং প্রবণতা, সার্ভিসলেন আটকে রাখায় দুর্ঘটনা বাড়ছে। গত ছয় মাসে এই মহাসড়কে একের পর এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরে গেছে ১৩০টি তাজা প্রাণ। এই সময়ে ছোট-বড় ১০৮টি দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৮৩ জন। একই সময়ে রেল লাইনের টাঙ্গাইল অংশে ট্রেন দুর্ঘটনায় মারা গেছেন ১৮ জন। পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে। পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের মে মাসে মহাসড়কে দুর্ঘটনার তীব্রতা ছিল সবচেয়ে বেশি। মে মাসেই সর্বোচ্চ ৩৯ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত হন। এর মধ্যে গত ২৫ মে দুপুরে কালিহাতী উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় একটি ট্রাক উল্টে ঘটনাস্থলেই ১৫ জনের মৃত্যু হয়, যেখানে আহত হন ৯ জন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনের বাড়িই ছিল নওগাঁর মান্দা উপজেলার ভারসো ইউনিয়নে। এছাড়া জানুয়ারি মাসে ১২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ১৬ জন, মার্চে ২৩ জন, এপ্রিলে ২৪ জন এবং জুন মাসে ১৬ জন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। আহতদের মধ্যে জানুয়ারিতে ৯ জন, ফেব্রুয়ারি ও মার্চে ৭ জন করে, এপ্রিলে ১৮ জন এবং জুনে ৬ জন রয়েছেন। অপরদিকে, মহাসড়কের পাশাপাশি অরক্ষিত রেলপথেও বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। গত ছয় মাসে টাঙ্গাইলে ট্রেন দুর্ঘটনায় ১৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জানুয়ারি মাসে ১ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২ জন, মার্চে ৮ জন, এপ্রিলে ২ জন এবং মে মাসে ৫ জনের মৃত্যু হয়। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জুন মাসে কোনো ট্রেন দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন টাঙ্গাইলের ঘারিন্দা রেল পুলিশ স্টেশনের মুন্সি আবুল বাশার। এদিকে, দুর্ঘটনা পরবর্তী সরকারি সহায়তার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) মাধ্যমে টাঙ্গাইলের ট্রাস্টি বোর্ড থেকে ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। গত ছয় মাসে মোট ৫২ জন ক্ষতিগ্রস্ত বা তাদের পরিবারকে চেকের মাধ্যমে মোট ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান হস্তান্তর করা হয়েছে বলে বিআরটিএ সূত্র জানিয়েছে। মোটরসাইকেল চালক আব্দুর রহিম, রাফসান জামিল, আরমান শেখ, সাইফুল্লাহ সহ অনেকেই জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়ক অত্যন্ত ঝুঁঁকিপূর্ণ। এটি দুর্ঘটনা প্রবণ এলাকা। এই মহাসড়কের যে অংশে সার্ভিস লেন আছে, সেখানে বিভিন্ন যানবাহন রেখে আটকে রাখা হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে মহাসড়কে উঠে যাচ্ছেন মোটরসাইকেল চালকরা। এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত এখনো কোনো সার্ভিস লেন নেই। মহাসড়কের দুই পাশে বালুর স্তূপ থাকায় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা প্রবল। দুই পাশের বালুর স্তূপ সরিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান তারা। টাঙ্গাইলের বাস কোচ মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম খান শফিক জানান, এই মহাসড়কে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনের দুর্ঘটনার হার বেশি। দুর্ঘটনার জন্য উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেন তিনি। তিনি অভিযোগ করেন, অদক্ষ চালক দিয়ে উত্তরাঞ্চলের যানবাহনগুলো পরিচালিত হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহনের টাঙ্গাইলের সহকারী পরিচালক মাহতাব উদ্দিন আহমেদ জানান, যমুনাসেতু-টাঙ্গাইল-ঢাকা মহাসড়কে বিভিন্ন সময়ে দুর্ঘটনা হচ্ছে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে পরিবহন মালিক-শ্রমিকসহ অংশীজনদের নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তারা সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান করে থাকেন। টাঙ্গাইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) রবিউল ইসলাম পরামর্শ দেন, সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করার জন্য প্রথমত চালককে সচেতন থাকতে হবে। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো যাবেনা। মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে বাঁক রয়েছে। বাঁকগুলোতে অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা ঘটবেই। সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিরোধে নিয়ম মেনে চললে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিয়ে গাড়ি চালাতে হবে। অদক্ষ চালক দিয়ে গাড়ি চালানো যাবে না। পথচারীদের ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে। তিনি জানান, সার্ভিস লেন থেকে মহাসড়কে উঠে অনেক মোটরসাইকেল চালকেরা গাড়ি চালাচ্ছেন। সেটা থেকে তাদেরকে বিরত থাকতে হবে এবং অতিরিক্ত গতি থেকে সরে আসতে হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার বড় একটি কারণ হলো ওভারটেক করা। এ বিষযে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।

০৯ জুলাই ২০২৬
টাঙ্গাইলে ৬ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১৩০ জনের, রেলে মৃত ১৮

বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

দৃষ্টি রিপোর্ট: বিশ্বকাপ ফুটবলে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ দেখা কেন্দ্র করে টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম একাডেমিক ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে খেলা শুরুর আগে বসার স্থান নিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ এবং ফুড টেকনোলজি অ্যান্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্স (এফটিএনএস) বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। পরবর্তীতে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়। খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে খেলা শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পর আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষ বাধে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় একাডেমিক ভবনের পাশে তিন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তৃতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে এবং এফটিএনএস ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থীরা জননেতা আব্দুল মান্নান হলের সামনে অবস্থান নেন। পরবর্তীতে আইসিটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ বিভাগে ফিরে গেলেও রাত ১টার দিকে প্রথম একাডেমিক ভবনে আইসিটি, এফটিএনএস, পরিসংখ্যান ও রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আবারও তৃতীয় দফায় সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে ভবনের জানালার কাচ ও সামনের ফুলের টব ভাঙচুর করা হয়। পরে রাত ৩টার দিকে প্রক্টরিয়াল বডি ও বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের যৌথ হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সংঘর্ষ থেমে গেলেও বুধবার(৮ জুলাই) সকাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকাল পর্যন্ত এই সংঘর্ষের ঘটনায় আহত সাত শিক্ষার্থী টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় গুরুতর আহত একজনকে মির্জাপুর কুমুদিনী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষার্থীদের শান্ত করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. আবদুল কুদ্দুস আহত হন। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মনির মোর্শেদ বলেন, ‘একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে প্রক্টরিয়াল বডি ও শিক্ষকরা মিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘উপাচার্য মহোদয় এবং এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’

০৮ জুলাই ২০২৬
বিশ্বকাপের খেলা দেখা নিয়ে ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় রণক্ষেত্র

সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

দৃষ্টি রিপোর্ট: টাঙ্গাইলের মধুপুরে এক নারীকে অপহরণ ও সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের চাঞ্চল্যকর মামলায় তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে আরও অতিরিক্ত ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত দুই আসামিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং প্রধান আসামিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আনম ইলিয়াস জনাকীর্ণ আদালতে ওই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- জামালপুর সদর উপজেলার কটারবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে আ. রহিম, ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের মৃত মুকছেদ আলীর ছেলে শফিকুল ইসলাম শফি এবং একই এলাকার ময়েজ উদ্দিনের ছেলে সামছুল হক সামছু। রায়ে কারাদণ্ডের পাশাপাশি আসামিদের বিপুল অঙ্কের অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করা হয়েছে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি আ. রহিমকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭ ধারায় (অপহরণ) ১৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে ওই আইনের ৯(৩) ধারায় (সংঘবদ্ধ ধর্ষণ বা যৌননিগ্রহ) যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রধান আসামির এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে অতিরিক্ত কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। এছাড়া অপরাধে সমানভাবে সহায়তাকারী অপর দুই আসামি শফিকুল ইসলাম শফি ও সামছুল হক সামছুকে যৌননিগ্রহের(ধর্ষণের) ৯(৩) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরও দুই বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু মামলার নথির বরাত দিয়ে জানান, বিগত ২০২৩ সালের ২২ জুন আসামিরা ভুক্তভোগী ওই নারীকে বিয়ের পাত্র দেখানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর তাকে জামালপুর থেকে কৌশলে টাঙ্গাইলের মধুপুরের দোখলা বনাঞ্চলে নিয়ে যাওয়া হয়। নির্জন বনের ভেতর নিয়ে প্রথমে প্রধান আসামি আ. রহিম এবং পরবর্তীতে অপর দুই আসামি শফিকুল ও সামছুল ভুক্তভোগীর উপর সংঘবদ্ধভাবে যৌননিগ্রহ(ধর্ষণ করে) চালায়। এই নৃশংস ঘটনার পর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মধুপুর থানার এসআই আব্দুস সাত্তার ঘটনার তদন্ত শেষে একই বছরের ২৪ ডিসেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া ও সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণ শেষে আদালত মঙ্গলবার ওই রায় প্রদান করেন। রায়ের পর সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের কঠোর নিরাপত্তায় জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রায় ঘোষণার পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দিলু সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, এই রায়ের মাধ্যমে ভুক্তভোগী নারী ন্যায়বিচার পেয়েছেন। এটি সমাজে অপরাধ প্রবণতা কমাতে এবং নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি দৃষ্টান্তমূলক বার্তা দেবে। অপরদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. শাহানশাহ সিদ্দিকী মিন্টু। তিনি জানান, আসামিপক্ষ ন্যায় বিচার পাননি। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে আপীল করা হবে।

০৭ জুলাই ২০২৬
সংঘবদ্ধ যৌননিগ্রহের দায়ে তিন জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
কোয়েলের পর দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা সাংসদের পদত্যাগ
বিনোদন

কোয়েলের পর দেব-রচনা-সায়নীসহ ১৯ তারকা সাংসদের পদত্যাগ

দৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে একসঙ্গে একাধিক তারকা সাংসদের পদত্যাগের খবর। টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা দীপক অধিকারী (দেব), অভিনেত্রী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষসহ মোট ১৯ জন সংসদ সদস্য রাজ্যসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। এমন একটি চিঠি প্রকাশ্যে আসার পর শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও বিতর্ক। ভারতীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, একটি চিঠিতে এই ১৯ জন সাংসদের স্বাক্ষর রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। তালিকায় শুধু টলিউড তারকারাই নন, সাবেক ক্রিকেটার ইউসুফ পাঠানের নামও রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এই ‘গণপদত্যাগ’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বিভ্রান্তি ও বিতর্ক। চিঠির তারিখ ও জমা দেওয়ার সময় নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। একটি পক্ষ দাবি করছে, চিঠিটি স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে আগেই। অন্যদিকে অন্য একটি পক্ষ এর আইনি বৈধতা ও তারিখ নিয়ে আপত্তি তুলেছে। সূত্র অনুযায়ী, চিঠির তারিখে অসঙ্গতি থাকায় বিষয়টি এখন আরও জটিল আকার ধারণ করেছে। একই সঙ্গে স্পিকারের দপ্তরে জমা দেওয়া নথি ও স্বাক্ষর যাচাই নিয়েও চলছে আলোচনা। এদিকে, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, বিষয়টি এখনো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা গ্রহণযোগ্য পদত্যাগপত্রের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি। সব মিলিয়ে দেব-রচনা-সায়নীসহ তারকা সাংসদদের ‘গণপদত্যাগ’ ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

১২ জুন ২০২৬

সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা ও পর্নোসাইটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগ

দৃষ্টি বিনোদন ডেস্ক: ভারতের দক্ষিণী সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা নাগা চৈতন্য নিজের নাম, ছবি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের অপব্যবহারের অভিযোগে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন এই অভিনেতা। নাগা চৈতন্য ও অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর বিয়ে হয়েছিল ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবর। চার বছরের দাম্পত্যজীবনের পর ২০২১ সালের ২ অক্টোবর বিচ্ছেদের ঘোষণা দেন তারা। বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা-সমালোচনার মুখে পড়েন নাগা। বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এমন কনটেন্ট ছড়ানো হচ্ছে যেখানে দাবি করা হচ্ছে, সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা করেছেন নাগা চৈতন্য। এমনকি তার ক্যারিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগও তোলা হচ্ছে। তবে অভিনেতার দাবি, এসব তথ্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং তার ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে। নাগার পক্ষে আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবী বৈভব গগ্গর বলেন, বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অভিনেতার নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও বিকৃত তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে এবং অভিনেতার ব্যক্তিগত ও পেশাগত সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মামলাটির শুনানি করছেন বিচারপতি জ্যোতি সিং। আদালতে নাগার আইনজীবী দাবি করেন, কয়েকটি ওয়েবসাইট অভিনেতার নামকে অশালীন ও আপত্তিকর সার্চ টার্মের সঙ্গে যুক্ত করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়ানোর চেষ্টা করছে। পাশাপাশি এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ভুয়া ও মানহানিকর তথ্যও প্রচার করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হিসেবে পর্নোগ্রাফি-সংক্রান্ত কনটেন্টে নাগা চৈতন্যের ছবি ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে। আদালতে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তার আইনজীবী। সামান্থার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ প্রসঙ্গে বৈভব গগ্গর বলেন, এটা একটা ট্রলের অংশমাত্র, কোনো ন্যায্য সমালোচনা নয়। তিনি আরও দাবি করেন, ডিপফেক প্রযুক্তি, ভয়েস ক্লোনিং সফটওয়্যার এবং অন্যান্য ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন টুল ব্যবহার করে নাগা চৈতন্যকে ঘিরে ভুয়া অডিও-ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করা হচ্ছে। এসব কনটেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। আদালতে নাগাকে নিয়ে তৈরি কয়েকটি মানহানিকর ইউটিউব ভিডিওর অংশও উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে অভিযোগ ওঠার পর ইতোমধ্যে কিছু লিংক সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন নাগা চৈতন্য। প্রযুক্তির অপব্যবহার ও ডিপফেক কনটেন্টের বিরুদ্ধে তাঁর এই আইনি পদক্ষেপ নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

০১ জুন ২০২৬
সামান্থার সঙ্গে প্রতারণা ও পর্নোসাইটে বিকৃত ছবি প্রচারের অভিযোগ

পাত্র খুঁজছেন বাঁধন

দৃষ্টি বিনোদন: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে একটি মাল্টিমিডিয়া অনুষ্ঠানে প্রেম, বিয়ে এবং জীবনের নানা সময় ও অভিজ্ঞতা নিয়ে সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন। অনুষ্ঠানে অভিনেত্রীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, নতুন সম্পর্ক বা বিয়ে নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কি না? উত্তরে বাঁধন বলেন, তিনি বিয়ের কথা চিন্তা করছিলেন। তার মনে হয়েছিল বিয়ে করার মতো একজন মানুষ তিনি খুঁজেও পেয়েছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত সেই সম্পর্কটি পরিণতি পায়নি। বাঁধনের উক্তি, ‘সত্যি বলছি, গত বছর বিয়ের পরিকল্পনা ছিল। পরিকল্পনা থাকলেও আমার পছন্দমতো মানুষ পেতে হবে। বিয়ে করার মতো একজনকে পেয়েও ছিলাম। যার মা আমাকে খুব পছন্দ করেছিল। কিন্তু সে আসলে ভেগে গেছে !’ এখন বিয়ের জন্য উপযুক্ত কাউকে পাচ্ছেন না বলেও জানান তিনি। তবে প্রেম করার মত আছে সেটি অকপটে স্বীকার করেছেন এই অভিনেত্রী। তার কথায়, ‘এখন বিয়ে করার মতো পাত্র আমার আশপাশে পাই নাই। প্রেম করার জন্য দুই একজনকে পেয়েছিলাম। তার মধ্যে একজনের সঙ্গে প্রেমও করেছি। কিন্তু বিয়ে করার জন্য পাত্র আসলেই গুরুত্বপূর্ণ।’ অতীত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বাঁধন বলেন, ‘বিয়ে তো আমি দুইবার করে ফেলেছি। এখন আর নিশ্চয়ই সেই ভুলটা করা যাবে না।’ আলোচনায় তিনি বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ঈদকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতিও তুলে ধরেন। বাঁধন বলেন, ছোটবেলায় কো রবানির ঈদ ছিল অনেক আনন্দের। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে আনন্দমুখর সময় কাটানো। মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বা ড়িতে কাটানো ঈ দের সময় তাঁর আজও মনে জ্বলজ্বল করে। তবে সময়ের সাথে মানুষের অনুভূতি বদলে যায়, দায়িত্ববোধের জায়গাটি বেশি অনুভূত হয়। তারও ঠিক একই রকম হয়েছে। অতীতের আনন্দ এখন বিশেষ স্মৃতি। তিনি বলেন, ‘বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদের আনন্দের চেয়ে দায়িত্ববোধই বেশি অনুভূত হয়। আর রোজার ঈদের সবচেয়ে আনন্দের বিষয় ছিল সিনেমা হলে গিয়ে ছবি দেখা, যা এখনও আমার স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে আছে।’

৩১ মে ২০২৬
পাত্র খুঁজছেন বাঁধন

এফডিসিতে বহিরাগতদের দাপট

দৃষ্টি বিনোদন: জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে প্রাণের টানে এফডিসিতে গিয়ে তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরলেন ঢালিউডের জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক ভিডিও বার্তায় তিনি এফডিসির পরিবেশ, বহিরাগতদের দৌরাত্ম্য এবং সিনিয়র শিল্পীদের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওমর সানী জানান, দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় চলচ্চিত্র দিবসে অংশ নিতে সকালে এফডিসিতে যান তিনি। সেখানে নিজের অভিনীত কালজয়ী সিনেমা ‘চাঁদের আলো’র ব্যানার দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। তিনি জানান, এমডির কক্ষে আলাপকালে হঠাৎ প্রযোজক ও নায়ক হেলাল খান-এর নেতৃত্বে প্রায় ৪০-৫০ জন লোক সেখানে প্রবেশ করেন। একটি কেপিআইভুক্ত স্থানে এমন গণজমায়েত ও শোডাউনকে ‘বিদঘুটে’ ও ‘বিব্রতকর’ বলে উল্লেখ করেন তিনি। এতে অপমানিত বোধ করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন সানী। বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি তারেক রহমানের উদাহরণ দেন। সানী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব এখন কোনো শোডাউন ছাড়াই সাধারণ মানুষের মতো চলছেন, যা পুরো দেশকে চমকে দিচ্ছে। অথচ চলচ্চিত্রের জায়গায় এখনো কেন দলীয় আবহে শোডাউন দেখা যাবে? এটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। তিনি আরও বলেন, খেলোয়াড় ও শিল্পীদের পেশাদার জীবনে দলীয় প্রভাবমুক্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চলচ্চিত্র দিবসে এমন বিশৃঙ্খলা দেখলে প্রধানমন্ত্রী নিজেও ‘মাইন্ড’ করবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। এফডিসির সামনের সারিতে প্রকৃত শিল্পীদের বদলে বহিরাগতদের ভিড় নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে ওমর সানী বলেন, শিবা সানু বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও বহিরাগতরা সামনের কাতার দখল করে রেখেছিল। প্রকৃত শিল্পীদের সম্মান দেওয়ার পরিবর্তে তারা ছবি তোলা ও নিজেদের জাহির করার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত ছিল। তিনি আরও জানান, চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি উজ্জ্বল-সহ অনেক সিনিয়র শিল্পীর উপস্থিতি আশা করেছিলেন। কিন্তু কাউকেই দেখতে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে আসেন। ভিডিওর শেষে আবেগঘন কণ্ঠে ওমর সানী অনুরোধ করেন, চলচ্চিত্রের মানুষকে যেন তাদের মতো করে থাকতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, বাইরে থেকে এসে আমাদের খাবলিয়ে বা চিমটি কাটা ঠিক না। আমরা চলচ্চিত্রের মানুষ, দিনশেষে আমরা চলচ্চিত্রকেই ভালোবাসি। দয়া করে এখানে আর শোডাউন করার চেষ্টা করবেন না। ওমর সানীর এই মন্তব্য ইতোমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই তার বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে এফডিসির সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, জাতীয় চলচ্চিত্র দিবস উপলক্ষে এফডিসিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে হাতেগোনা কিছু পরিচালক ও শিল্পী ছাড়া তেমন পরিচিত মুখ দেখা যায়নি। শিল্পীদের প্রতিনিধি হিসেবে রোজিনা, পলি, সনি ও জয় চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। সাদামাটা আয়োজনে অনেকটাই তারকাশূন্য ছিল চলচ্চিত্র দিবস।

০৪ এপ্রিল ২০২৬
এফডিসিতে বহিরাগতদের দাপট